ঠিক আছে, ধরো তো একটা ফোন হাতে নিলে, আর সেটা দেখে প্রথমে মনে হলো এটা ফোন না, যেন একটা আস্ত DSLR ক্যামেরা! Vivo X300 Ultra হাতে নেওয়ার পর প্রথম ১০ সেকেন্ড ঠিক এই ফিলিংটাই হয়েছিল। পেছনের দিকে বিশাল বড় গোল ক্যামেরা মডিউল—একদম চোখা ক্যামেরার মতো ভাইব দেয়। এই ফোনটা নিয়ে গত কয়েকদিনে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি ছবি তুলে ফেলেছি (হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছো!), আর প্রতিটা ক্লিকেই মনে হয়েছে, ক্যামেরা প্রেমীদের জন্য এটা একটা স্বপ্নের ডিভাইস। কিন্তু এটা কি শুধুই ক্যামেরার জন্য কেনা উচিত, নাকি পুরো প্যাকেজ হিসেবে এটা একটা ট্রু ফ্ল্যাগশিপ? চলো, একদম ডিটেইলে সব ভেঙে বলি।
Design & Build Quality
ফোনটা হাতে নেওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়ে, সেটা হলো এর ওজন আর সাইজ। এটা হালকা বা ছোট ফোন না, একটু বড়সড় টাইপের। কিন্তু হাতে ধরার পর যে প্রিমিয়াম ফিল আসে, সেটা সত্যিই অসাধারণ। এবারের ডিজাইনে Vivo ডুয়াল টোন ফিনিশ দিয়েছে, যেটা দেখতে একটু ক্যামেরার মতো লাগে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এই ডিজাইনটা দারুণ লেগেছে। অনেকের কাছে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু এটা ইউনিক, আর রাস্তায় বের হলে মানুষ ঘাড় ঘুরিয়ে দেখবেই।
বডি ফ্রেম পুরোটাই মেটালের তৈরি, হাতে ঠান্ডা ঠান্ডা একটা ফিল দেয়। তবে মজার ব্যাপার হলো, ফোনটা যদি একটু নাড়াচাড়া করো, তাহলে ভেতরের লেন্সগুলো নড়ছে বলে হালকা ফিল হবে। এটা আসলে OIS (Optical Image Stabilization) সিস্টেমের কারণে হয়, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। Vivo IP68 এবং IP69 রেটিং দিয়েছে এই ফোনে। এর মানে কী? IP68 মানে ফোনটা ধুলো থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত, আর নির্দিষ্ট গভীরতার পানিতে ডুবিয়েও রাখা যায়। IP69 মানে হাই প্রেশারের পানির স্প্রেও এটা টিকবে। তাই বৃষ্টিতে ভিজুক বা হঠাৎ পানিতে পড়ে যাক, চিন্তা নেই।
আগের Vivo X সিরিজের ফোনে একটা ক্যামেরা বাটন থাকতো, সেটা এখানে তুলে ফেলেছে। সত্যি বলতে, আমার কাছে এটা খারাপ লাগেনি। আগের বাটন দিয়ে ছবি তুলতে গেলে প্রায়ই শেষ মুহূর্তে হাত কেঁপে যেত, ছবিটা শার্প আসতো না। এখন টাচ স্ক্রিনে বা ভলিউম বাটনে ক্লিক করাটাই বেশি কনফিডেন্ট ফিল হয়।
Display Experience
Vivo X300 Ultra-তে আছে 6.82 ইঞ্চির একটা LTPO AMOLED প্যানেল। এটা একটু লম্বা শেইপের, আর ফ্ল্যাট ডিসপ্লে। চারপাশের বেজেল একদম চিকন আর সিমেট্রিক্যাল, দেখতে দারুণ লাগে। টপ সেন্টারে পাঞ্চহোল কাটআউটটা খুব বেশি বড় না, স্ট্যান্ডার্ড সাইজেরই।
ডিসপ্লের স্পেসিফিকেশন শুনলে চোখ কপালে উঠবে: 144Hz refresh rate, HDR10+ সাপোর্ট, আর ১ বিলিয়ন কালার। BOE-র তৈরি এই প্যানেলটা সত্যিই ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের। কিন্তু 144Hz-এর পুরো মজা কি সবসময় পাওয়া যায়? উত্তরটা একটু মিক্সড। বেশিরভাগ অ্যাপে ফোনটা 120Hz-এই রান করে, কিছু অ্যাপে 144Hz-এ যায়। তবে 120Hz-ও যথেষ্ট স্মুথ, স্ক্রলিং বা গেমিংয়ে কোন কমতি ফিল হবে না। কিছু অ্যাপ আবার 90 থেকে 120Hz-এর মধ্যে ফ্লাকচুয়েট করে, কিন্তু স্মুথনেস নিয়ে কমপ্লেন করার মতো কিছু নেই।
আউটডোরে ডিরেক্ট সানলাইটের নিচে যখন ক্যামেরা ইউজ করছিলাম, ব্রাইটনেস নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়িনি। স্ক্রিনের কন্টেন্ট পরিষ্কার বোঝা যায়। টাচ রেসপন্সও অসাধারণ। আর একটা জিনিস ভালো লেগেছে—কালার একুরেসি। Vivo-র আগের ফোনগুলোর তুলনায় এবারের কালার অনেক বেশি ন্যাচারাল আর একুরেট মনে হয়েছে। আগে একটু বেশি ভাইব্রেন্ট বা পাঞ্চি লাগতো, কিন্তু X300 Ultra তে সেটা অনেকটাই ব্যালেন্সড। যারা একটু ন্যাচারাল টোন পছন্দ করো, তাদের ভালো লাগবে।
Performance & Gaming
এই ফোনের ভেতরে আছে Qualcomm-এর বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী চিপ—Snapdragon 8 Elite। এটার সাথে আছে UFS 4.1 স্টোরেজ আর LPDDR5X Ultra RAM। আমাদের কাছে যে ইউনিটটা ছিল, সেটা 16GB + 512GB ভেরিয়েন্ট। এই কম্বিনেশনটা পারফরমেন্সের দিক থেকে একদম বিস্ট।
ডে টু ডে লাইফে ফোনটা ব্যবহার করলে একদম ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের এক্সপেরিয়েন্স পাবে। অ্যাপ ওপেন করা, মাল্টিটাস্কিং, RAM ম্যানেজমেন্ট—সব জায়গায় একদম পারফেক্ট। ওভারহিটিং নিয়ে কোনো ইস্যু পাইনি, কিন্তু ক্যামেরা অনেকক্ষণ ধরে ইউজ করলে ফোনটা গরম হয়। বিশেষ করে মেটাল ফ্রেমের কারণে গরমটা হাতে বেশি ফিল হয়। তবে ক্যামেরা অ্যাপ কখনো ক্র্যাশ করেনি, এটা বড় একটা প্লাস পয়েন্ট।
গেমিং নিয়েও বলি। PUBG তে 120 FPS-এ গেমপ্লে করতে পারছি, আর প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সুপার স্টেবল ফ্রেম রেট ধরে রাখতে পেরেছে। তবে গরমের দিনে যদি নন-এসি রুমে বসে খেলো, তাহলে ফোনের টেম্পারেচার ৪১-৪২ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যায়, আর তখন ফ্রেম রেট একটু ফ্লাকচুয়েট করে। যদি গেমিংয়ের সময় রেকর্ডিং অন রাখো, তাহলে হিট আরেকটু আগে জেনারেট হয় আর ফ্রেম ড্রপ একটু বেশি হয়।
Genshin Impact-এর মতো হেভি গেমও দারুণ রান করেছে। প্রায় এক ঘণ্টা গেমপ্লেতে ৫৭-৫৮ FPS ধরে রাখতে পেরেছে, যা খুবই রেসপেক্টেবল। তবে যদি তুমি ডেডিকেটেড গেমিং ফোন খুঁজো, তাহলে RedMagic বা ROG সিরিজের দিকে তাকানো ভালো। এটা একটা ক্যামেরা ফোকাসড ফ্ল্যাগশিপ, আর গেমিং এখানে বোনাসের মতো।
Camera System
এই ফোন কেনার সবচেয়ে বড় কারণ—ক্যামেরা। এটা নিয়ে এত কিছু বলার আছে যে, সাব-হেডিং দিয়ে ভাগ না করলে নয়।
রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ
পেছনে তিনটা ক্যামেরা আছে: 200MP-র মেইন শুটার (Sony LYT-901 সেন্সর, প্রায় ১ ইঞ্চি সাইজের), 200MP-র টেলিফটো (3.5x অপটিক্যাল জুম, Samsung ISOCELL HP9 সেন্সর), আর 50MP-র আল্ট্রাওয়াইড (Sony LYT-818 সেন্সর)। ফ্রন্টেও আছে 50MP-র আল্ট্রাওয়াইড শুটার।
মেইন ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিতে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি চমকে দেয়, সেটা হলো ন্যাচারাল ডেপ্থ। সেন্সর এত বড় যে, পোর্ট্রেট মোড ছাড়াই সাবজেক্ট আর ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে সুন্দর একটা সেপারেশন তৈরি হয়। এটা স্মার্টফোনে খুব রেয়ার। কন্ট্রাস্ট লেভেল দারুণ ব্যালেন্সড, শার্পনেস আর ডিটেইল টপ-নচ, আর ডায়নামিক রেঞ্জ সুপার ওয়াইড। কালার একটু পপ করে প্রেজেন্ট করে, কিন্তু ওভার স্যাচুরেটেড বা আর্টিফিশিয়াল লাগে না। Vivo-র নিজস্ব কালার সায়েন্স এখানে দারুণ কাজ করেছে।
তবে প্রথম দিকে এক্সপোজার কন্ট্রোলে একটু ইস্যু ফেস করছিলাম। কখনো কখনো এক্সপোজার ঠিকমতো কন্ট্রোল করতে পারছিল না। কিন্তু কয়েকটা আপডেটের পর এখন রেজাল্ট অনেক ভালো। এখন ম্যাক্সিমাম ক্লিকেই বেস্ট আউটপুট পাওয়া যায়।
এখন কথা হলো, Galaxy S26 Ultra বা iPhone 17 Pro Max-এর সাথে তুলনা করলে কে এগিয়ে? একসাথে ছবি দেখলে বেশিরভাগ মানুষই Vivo-র ছবিকে ভোট দেবে, কারণ এটা একটু বেশি ভাইব্রেন্ট আর আই-প্লিজিং। iPhone-এর টেক্সচার অনেক সময় বেশি ডিটেইলড লাগে, কিন্তু ছবিটা একটু ডাল বা ফ্যাকাসে মনে হয়। Samsung-এর কিছু ছবি দারুণ আসে, কিন্তু কনসিস্টেন্সির অভাব আছে। Vivo ম্যাক্সিমাম সময় এগিয়ে থাকে, বিশেষ করে পোর্ট্রেটে।
পোর্ট্রেট: কিং অফ দ্য হিল
পোর্ট্রেটের জন্য এই মুহূর্তে এটাই বেস্ট স্মার্টফোন, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শাটার স্পিড এত ফাস্ট যে, চলন্ত সাবজেক্টের ছবিও দারুণ আসে। ধরো, কেউ হেঁটে আসছে বা দৌড়াচ্ছে—সেই অবস্থায় পোর্ট্রেট তুললেও এজ ডিটেকশন একদম নিখুঁত। চুলের এরিয়া হোক বা জটিল কর্নার, সব জায়গায় দারুণ কারেকশন করে। ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লারটা আর্টিফিশিয়াল লাগে না, খুব ন্যাচারাল ভাইব দেয়।
তবে Vivo-র একটা ট্রেডমার্ক আছে—ফেস একটু ব্রাইট করে আর স্মুথ করে দেয়। এটা চাইনিজ ভেরিয়েন্টের ফোনগুলোতে বেশি দেখা যায়। কারো কাছে এটা ভালো লাগতে পারে, কারো কাছে না। তবে ওভারঅল কালার প্রেজেন্স এত সুন্দর যে, ছবিটা দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়।
পোর্ট্রেট মোডে বেশ কিছু ফিল্টার আর ZEISS-এর প্রিসেট আছে, যেগুলো ইউজ করে আরো ক্রিয়েটিভ ছবি তোলা যায়। একদম মিররলেস ক্যামেরার মতো ভাইব দিতে পারে এই ফোন।
জুম আর টেলিফটো
3.5x অপটিক্যাল জুম পর্যন্ত একদম লসলেস কোয়ালিটি পাওয়া যায়। 10x পর্যন্ত গেলেও মনে হবে না তুমি জুম করছো, কারণ প্রসেসিং এত ভালো যে ডিটেইল ধরে রাখতে পারে। এরপর আরো জুম করলে ছবি ইউজেবল, কিন্তু ওই লেভেলের শার্পনেস থাকে না।
লেন্স সুইচিং নিয়ে একটু কথা বলা দরকার। অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর মধ্যে Vivo-র লেন্স সুইচিং এখনো সবচেয়ে বেস্ট। কিন্তু iPhone-এর তুলনায় এখনো বেশ কিছুটা পিছিয়ে আছে। iPhone যখন এক লেন্স থেকে আরেক লেন্সে যায়, সেটা এত স্মুথ যে বোঝাই যায় না। Vivo তে একটু জাম্প ফিল হয়। তবে অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এটাই বেস্ট, এটা নিশ্চিত।
আল্ট্রাওয়াইড আর লো লাইট
আল্ট্রাওয়াইড শুটারটা প্রপার লাইটিং কন্ডিশনে দারুণ ছবি তোলে। শার্পনেস, ডিটেইল, ডায়নামিক রেঞ্জ—সবই খুব ভালো। জুম করলেও ডিটেইল ধরে রাখে। লো লাইটে মেইন ক্যামেরা একদম টপ-নচ। কালার একটু বাড়ায়, কন্ট্রাস্টও বাড়ায়, কিন্তু ছবিটা দেখতে অসাধারণ লাগে। একদম রেডি টু পোস্ট টাইপের ছবি।
টেলিফটো লো লাইটেও ভালো পারফর্ম করে। বিশেষ করে লো লাইট পোর্ট্রেট দারুণ আসে। তবে দিনের আলোর তুলনায় রাতের ছবি একটু সফট হয়, কিন্তু দেখতে খারাপ লাগে না। আল্ট্রাওয়াইড লো লাইটে মেইন ক্যামেরার তুলনায় একটু পিছিয়ে পড়ে, কিন্তু তারপরও ম্যাক্সিমাম ক্লিক ইউজেবল আসে।
ফ্রন্ট ক্যামেরা আর ভিডিও
সেলফি লাভারদের জন্য এটা একেবারে পছন্দের ফোন হবে। ফ্রন্ট ক্যামেরা দারুণ ডিটেইল দেয়, ফর্সা করে (এটুকু সিওর থাকো), কিন্তু আনন্যাচারাল লাগে না। আউটডোরে ডিটেইল আরো ভালো, ইনডোরেও যথেষ্ট ভালো।
ভিডিওর ক্ষেত্রে Vivo দারুণ ইমপ্রুভ করেছে। কালার একুরেসি, এক্সপোজার কন্ট্রোল, আর স্ট্যাবিলাইজেশন সব জায়গাতেই ভালো। Vivo দাবি করে, এর OIS জিম্বল লেভেলের। জিম্বল লেভেল না হলেও, অনেক ফোনের OIS-এর তুলনায় এটা অনেক ভালো। উইদাউট জিম্বলেই দারুণ স্টেবল ভিডিও পাওয়া যায়।
মজার ব্যাপার হলো, সব ক্যামেরা দিয়েই 4K 120fps ভিডিও রেকর্ড করা যায়। আল্ট্রাওয়াইড দিয়েও 120fps-এ শুট করতে পারবে, আর চাইলে জুম ইন-আউটও করতে পারবে। ভিডিওতে ন্যাচারাল বোকেহ (ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার) দারুণ লাগে, বিশেষ করে টেলিফটো দিয়ে রেকর্ড করলে একদম প্রফেশনাল ক্যামেরার মতো ভাইব আসে।
ম্যাক্রো
আলাদা কোনো ডেডিকেটেড ম্যাক্রো শুটার নেই। কিন্তু টেলিফটো ম্যাক্রো ইউজ করে যে লেভেলের ম্যাক্রো ছবি তোলা যায়, সেটা অনেক ডেডিকেটেড ম্যাক্রো লেন্সের চেয়েও ভালো। বেশি আলোরও দরকার পড়ে না। ম্যাক্রো ফটোগ্রাফির জন্যও এটা ওয়ান অফ দ্য বেস্ট ডিভাইস।
Battery Life & Charging
এই ফোনে আছে 6000mAh-র বিশাল ব্যাটারি। ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন হিসেবে এটা দারুণ। নরমাল ইউজাররা সহজেই সারাদিন চালাতে পারবে, ৭-৮ ঘণ্টার স্ক্রিন-অন-টাইম আশা করা যায়। তবে হেভি ইউজারদের জন্য ব্যাপারটা একটু আলাদা। যদি টানা ভিডিও শুট করতে থাকো, তাহলে ফোন গরম হবে আর ব্যাটারিও বেশি বার্ন করবে।
চার্জিংয়ে আছে 100W ওয়্যার্ড চার্জিং, যা খুবই ফাস্ট। 40W ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্টও আছে। ফ্ল্যাগশিপ স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে এটা একদম ঠিক আছে, বরং কিছু প্রতিযোগীর চেয়ে এগিয়ে।
Software & Features
Vivo X300 Ultra রান করছে Android 16-এর উপর ভিত্তি করে OriginOS 6। OriginOS নিয়ে আমাদের আলাদা ডিটেইলড আলোচনা আছে, তবে এখানে সংক্ষেপে বলি—এটা আগের চেয়ে অনেক বেশি কাস্টমাইজড আর দেখতে অনেকটা iOS-এর মতো গ্লাসি ফিল দেয়। ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ফ্ল্যাগশিপ লেভেলেরই।
কিন্তু চাইনিজ ভেরিয়েন্টের কিছু ছোটখাটো ইস্যু আছে। প্রথমত, প্রচুর চায়না ব্লোটওয়্যার (অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ) প্রি-ইনস্টলড থাকে, যেগুলো আনইনস্টল করে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, নোটিফিকেশন ডিলে আছে। কিছু অ্যাপের নোটিফিকেশন টাইমমতো আসে না, এটা একটু বিরক্তিকর। যারা Samsung বা iPhone থেকে আসছো, তাদের কাছে এটা বড় একটা ডিলব্রেকার হতে পারে।
এছাড়া ওভারঅল সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে একটা কথা বলি। Vivo-র ক্যামেরা যতই ভালো হোক, একটা ট্রু ফ্ল্যাগশিপের যে "মজা" বা ইকোসিস্টেমের ইন্টিগ্রেশন, সেটা এখনো Samsung বা iPhone-এর লেভেলে পৌঁছায়নি। AI ফিচার, ডে টু ডে টাস্কের স্মুথনেস, আর লং টার্ম ইউজের পর যে কনফিডেন্স আসে, সেটা Vivo-তে একটু কম। আমার পরিচিত একজন আগে Galaxy S23 Ultra ইউজ করতেন, পরে Vivo X200 Ultra কিনেছিলেন, কিন্তু কিছুদিন পর আবার বিক্রি করে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে বলেছিলেন, ক্যামেরা নিয়ে তিনি খুবই খুশি ছিলেন, কিন্তু ফোনটা যেভাবে তার ডেইলি লাইফকে সহজ করবে বা যে ফ্ল্যাগশিপ ফিল দেবে, সেটা পাননি। এটা Vivo-র একটা জায়গা যেখানে উন্নতি করা দরকার।
স্পিকার কোয়ালিটি খুবই ভালো। যথেষ্ট লাউড আর ক্লিয়ার সাউন্ড দেয়, ডেপ্থও ভালো। কোনো ডিসটরশন চোখে পড়েনি। হ্যাপটিক ফিডব্যাক একদম দুরন্ত—খুব টাইট আর স্ট্রং। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার আল্ট্রাসনিক, পজিশন ঠিকঠাক আর সুপার ফাস্ট। কল কোয়ালিটি আর নেটওয়ার্ক রিসেপশন নিয়ে কোনো কমপ্লেন নেই। WiFi 7 সাপোর্ট আছে, যা ফিউচার প্রুফিংয়ের জন্য দারুণ। NFC-ও আছে।
Final Verdict
Vivo X300 Ultra বর্তমানে বাংলাদেশের আনঅফিশিয়াল মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে। দাম শুরু হয়েছে 12GB+256GB ভেরিয়েন্টের জন্য ৳.134,000 টাকা থেকে। 12GB+512GB ভেরিয়েন্টের দাম ৳.140,000 টাকা, আর আমাদের হাতে থাকা 16GB+512GB ভেরিয়েন্টের দাম ৳.144,000 টাকা। ফ্ল্যাগশিপ ফোনের দাম এমনই হয়, এটা মেনে নিতেই হবে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই টাকা দিয়ে এটা কেনা উচিত? যদি তুমি ডেডিকেটেডলি ক্যামেরার জন্য ফোন কিনতে চাও, তাহলে এটা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। পোর্ট্রেট, মেইন ক্যামেরা, জুম—সব জায়গায় এটা বর্তমান মার্কেটের বেস্ট ফোনগুলোর একটা, যদি না বেস্টই হয়। পারফরম্যান্স, ব্যাটারি, ডিসপ্লে—সব জায়গাতেই টপ-নচ। প্যাকেজটা পুরোটাই দারুণ।
কিন্তু যদি তুমি Samsung বা iPhone-এর ইকোসিস্টেম থেকে আসো, তাহলে ইউজার এক্সপেরিয়েন্সে একটু পার্থক্য ফিল করতে পারো। OriginOS-এর নোটিফিকেশন ডিলে, চায়না ব্লোটওয়্যার, আর ফ্ল্যাগশিপের যে "মজাটা" Samsung বা iPhone দেয়, সেটা এখানে একটু কম। ক্যামেরা নিয়ে কোনো আফসোস হবে না, কিন্তু ডে টু ডে লাইফের ছোট ছোট সুবিধাগুলোতে একটু পিছিয়ে।
শেষ কথা—যদি ক্যামেরাই তোমার একমাত্র প্রায়োরিটি হয়, আর বাকি সবকিছু "ভালো" লেভেলে থাকলেই চলে, তাহলে Vivo X300 Ultra অনায়াসে তোমার চয়েস লিস্টের একদম ওপরের দিকে থাকবে। এটা একটা ক্যামেরা বিস্ট, যেটা পকেটে রেখে তুমি প্রায় প্রফেশনাল লেভেলের ছবি তুলতে পারবে। কিন্তু যদি তুমি চাও একটা অল-রাউন্ডার ফ্ল্যাগশিপ, যেখানে ইকোসিস্টেম আর সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্সও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।





