Vivo আবারও চমক দেখালো তাদের নতুন স্মার্টফোন Vivo Y31d দিয়ে। ফোনটা হাতে নেওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটা মাথায় এসেছে, সেটা হলো—এতদিন পর Vivo একটা মিড-রেঞ্জ ডিভাইসে সত্যিকারের দরকারি ফিচার আর টেকসই পারফরম্যান্সের একটা দারুণ মিশেল ঘটাতে চেয়েছে। একদিকে বিশাল ব্যাটারি, অন্যদিকে দুর্দান্ত ডাস্ট ও ওয়াটারপ্রুফ রেটিং; সাথে পরিচিত সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স। তবে চমকের পাশাপাশি কিছু জায়গায় আবার চোখ কপালে ওঠার মতো সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা। পুরো রিভিউ জুড়ে সেসব নিয়ে বিস্তারিত গল্প করব, যেন ফোনটা কেনার আগে তোমার কাছে ছবিটা একদম ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হয়ে যায়।
Design & Build Quality
Vivo Y31d-এর ডিজাইন দেখে প্রথমে মনে হয়েছে এটা পরিচিত কোনো ফোন। একটু ভেবে খেয়াল করলাম, আরে এটা তো Vivo X200 Pro-র মতোই টেক্সচার আর ফ্রেম স্ট্রাকচার ফলো করছে! ফেস্টিভ রেড কালারটা দেখলেই মনে হবে যেন প্রিমিয়াম কোনো ফ্ল্যাগশিপ ফোন হাতে ধরা। এই কালারটা ছাড়াও স্টারলাইট গ্রে আর গ্লো হোয়াইট অপশন আছে—তবে লালটাতেই সত্যিকারের স্টেটমেন্ট আছে।
ডিজাইনের সবচেয়ে প্রশংসার দিক হলো এর সিম্প্লিসিটি। অহেতুক চটকদার প্যাটার্ন বা ঝলমলে ফিনিশিং না দিয়ে Vivo ক্ল্যাসি লুক রেখেছে। ফোনটা হাতে নিলেই বোঝা যায় বিল্ড কোয়ালিটি সলিড। পেছনের প্যানেলটা পুরোপুরি ফ্ল্যাট না, একটু কার্ভড টাইপের—এতে গ্রিপ দারুণ হয়। ছোটবেলায় যেভাবে হাতের তালুতে পুরোপুরি বসে যাওয়া খেলনা গাড়িগুলো মনে হতো এক্কেবারে নিজের, এই ফোনটা ধরে অনেকটা তেমনই আত্মবিশ্বাসী ফিল আসে।
বডি ম্যাটেরিয়ালের দিকে তাকালে বোঝা যায় পুরো ফোনটাই প্লাস্টিক লবণ, তবে ক্যামেরা মডিউলটা মেটালের তৈরি। মডিউলের চারপাশে সুন্দর ডায়নামিক লাইট রিং আছে, যেটা বিভিন্ন নোটিফিকেশন আর চার্জিংয়ের সময় জ্বলে ওঠে। ফোনের পুরুত্ব 8.39 মিলিমিটার, আর ওজন 220 গ্রাম। স্পেসিফিকেশন শুনে মনে হতে পারে একটু ভারী, কিন্তু ওয়েট ডিস্ট্রিবিউশনটা এত ভালো যে সেটা তেমন বোঝাই যায় না। সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বেশ ফাস্ট, ক্যাপাসিটিভ টাইপ হওয়ায় আলতো ছোঁয়াতেই আনলক হয়ে যায়।
ডিজাইনের খারাপ দিক বলতে গেলে সামনের বেজেল প্রসঙ্গ আসতেই হবে। নিচের দিকের চিনটা আমার চোখে একটু বেশিই মোটা লেগেছে। আর ফোনটা চওড়া হওয়ায় এক হাতে আরামদায়ক অপারেশন কঠিন। তারপরও বলতে হয়, দামের বিচারে সার্বিক ডিজাইন আর প্রিমিয়াম ফিল মিলিয়ে এই জায়গাটা Vivo দারুণভাবে সামলেছে। আর সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ—ফোনটার IP68 এবং IP69 সার্টিফিকেশন আছে। তার মানে ধুলা ময়লা আর পানিতে ডুবিয়েও ফোন বাঁচানো যাবে। এই দামের ফোনে এমন ওয়াটারপ্রুফিং নিঃসন্দেহে বিরাট ব্যাপার।
Display Experience
ডিসপ্লের ব্যাপারটা বলার আগে মন প্রস্তুত করে নিয়েছি একটু হতাশ হওয়ার জন্য। ফোনটাতে আছে 6.75 ইঞ্চির একটা প্যানেল, সাথে 120Hz রিফ্রেশ রেট। 120Hz ব্যাপারটা নিত্যদিনের স্ক্রলিং আর ইউজারের জন্য বেশ লোভনীয়। কিন্তু সমস্যা হলো এর রেজলিউশন। এই জায়গায় Vivo একটা অদ্ভুত প্লট টুইস্ট দিয়েছে—ডিসপ্লেটা শুধুই HD+। ফুল HD+ নয়।
একথা বলে রাখি, প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার আশেপাশের বাজেটে আমরা এখন AMOLED প্যানেল পর্যন্ত দেখতে পাই। সেখানে HD+ প্যানেল দেওয়াটা একটু অপ্রত্যাশিতই বটে। কাগজে-কলমে এটা বিরাট দুর্বলতা মনে হলেও, বাস্তব জীবনে অধিকাংশ কাজে এটা পেরে যায়। কালার একুরেসি মোটামুটি ঠিক আছে, ইউটিউব দেখতে বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে খুব একটা খারাপ লাগে না। তবে চোখ তীক্ষ্ণ হলে টেক্সট বা ইমেজে একটু নরম ভাব ধরতে পারবে।
ইনডোরে ব্রাইটনেস সমস্যা না করলেও, যখন কড়া রোদের নিচে গেছি, তখনই মূল ঝামেলা বেরিয়েছে। ডিরেক্ট সানলাইটে দেখতে একটু স্ট্রাগল করতে হয়। হাত দিয়ে ছায়া করে দেখতে হয়েছে কয়েকবার। তবে ডে-লাইটে বা ঘরের জানালার পাশে ভিজুয়ালটা যথেষ্ট ভালোই মনে হয়। যে কেউ সারাদিন ঘরেই বেশি থাকে, তার জন্য এটা একদমই কাজের।
Performance & Gaming
Vivo Y31d-এর ভেতরে রয়েছে একেবারে নতুন একটা চিপসেট—Qualcomm Snapdragon 6s Gen 2। নামে "Gen 2" শুনে অনেকে হয়তো ভাববে এটা পুরোনো, কিন্তু না, এটা একেবারেই লেটেস্ট 4G চিপ। 6 ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি, আর এই আর্কিটেকচারের দরুণ থার্মাল ম্যানেজমেন্ট ভালো। চিপটা নিয়ে আমার একটু মিশ্র অনুভূতি কাজ করেছে।
প্রথমে বলি ভালো দিকগুলো। এই প্রসেসরের GPU বেশ চমৎকার। Adreno 16 গ্রাফিক্স ইউনিটের বেস ফ্রিকোয়েন্সি 1260 MHz, যেটা এই মূল্যসীমায় বেশ রেয়ার। তাই গেমিংয়ে তুলনামূলক স্টেবল ফ্রেমরেট পেতে সাহায্য করে। অন্যদিকে আট কোরের ক্লাস্টারটা চারটা Cortex A73 (2.9 GHz) ও চারটা Cortex A53 (1.9 GHz) দিয়ে সাজানো। AnTuTu বেঞ্চমার্কে স্কোর উঠেছে 520,477-এর আশেপাশে। Geekbench সিঙ্গেল কোরে 464 আর মাল্টি কোরে 1563 স্কোর পাওয়া গেছে। খালি চোখে এই পরিসংখ্যান তেমন চোখ ধাঁধানো নয়, কারণ MediaTek Helio G99 বা G100 চিপসেটও এই বাজেটে AnTuTu তে ৬ লাখের ঘর ছোঁয়।
কিন্তু Vivo Y31d-এর আসল কারসাজি লুকিয়ে আছে সাস্টেইনড পারফরম্যান্স আর থার্মালে। ফোনটা দিয়ে আমরা কয়েকটা জনপ্রিয় গেম ট্রাই করেছি। PUBG-এ মিডিয়াম সেটিংসে গেমপ্লে ছিল স্মুথ, মাঝে মাঝে তেমন স্টাটার চোখে পড়েনি। Call of Duty-তে ব্যালান্সড গ্রাফিক্সে চলেছে কোনোরকম বিরক্তি ছাড়াই—খুব হাই সেটিংসে গেলে অবশ্য গ্লিচ করে। আর Free Fire-তে তো কোনো কম্প্রোমাইজই করতে হয়নি, একেবারে ফ্লুইডলি খেলা যায়। গরমের ব্যাপারটাও দারুণ সামলেছে ফোনটা। লম্বা গেমিং সেশনে গরম হলো বটে, তবে খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়ে গেছে—এটাকে বলে দারুণ থার্মাল কন্ডাক্টিভিটি।
তবে একটা বাস্তবিক সত্যি এটাই যে এই ফোন হার্ডকোর গেমিংয়ের জন্য না। এন্ট্রি থেকে মডারেট ইউজার বা শখের গেমারদের জন্য এটা পারফেক্ট। LPDDR4X র্যাম আর UFS 2.2 স্টোরেজ থাকায় অ্যাপ ওপেনিং আর মাল্টিটাস্কিংয়ে গতি ভালো। তবে ১০-১৫টা অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে রাখলে একটু স্লোডাউন আর স্টাটার দেখা যায়। এই দামে UFS 2.2 স্টোরেজ মেনে নেওয়া গেলেও, এক্সটার্নাল SD কার্ড সাপোর্ট না থাকাটা ১২৮ জিবি ইউজারদের জন্য কাল হবে বলে আমার ধারণা। ফোনের কোনো আলাদা মেমোরি কার্ড স্লট নাই—এটা একটা বড় মিস।
Camera System
Vivo স্মার্টফোন ফটোগ্রাফিতে এখন গ্লোবাল লিডার বলা যায়। তাদের ইমেজ প্রসেসিং দারুণ। কিন্তু Vivo Y31d তে এসে সেই উৎকর্ষতা কিছুটা টাল খেয়েছে মনে হচ্ছে। পেছনের ক্যামেরা সেটআপে মেইন যে সেন্সর, সেটা 50 মেগাপিক্সেলের। সাথে আছে 2 মেগাপিক্সেলের একটা ডেপথ ইউনিট, আর সামনে 8 মেগাপিক্সেলের সেলফি শুটার।
দিনের বেলায় তোলা ছবিগুলোর কোয়ালিটি আমার চোখে যথেষ্ট ভালো লেগেছে। ডায়নামিক রেঞ্জ ডিসেন্ট, কালার টোনও ন্যাচারালের কাছাকাছি। তবে জুম করে দেখেছি শার্পনেসে একটু ঘাটতি আছে। যদি আলোর পরিমাণ একটুও কমে, তাহলে ইমেজ প্রসেসিংয়ে নয়েজ দেখা দিতে শুরু করে। লো-লাইট পারফরম্যান্স তাই বিলো স্ট্যান্ডার্ডই বলবো। পোর্ট্রেট ফটো তোলার সময় সাবজেক্ট ডিটেক্ট করে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে, কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড জটিল হলে এজ ডিটেকশনে গণ্ডগোল লেগে যায়। কিছু ছবিতে দেখিয়েছে সাবজেক্টের চুলের অংশ পিষে দিচ্ছে।
সেলফি ক্যামেরার কথা বলতে গিয়ে বলবো, 8 মেগাপিক্সেলে বেশিরভাগ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কাজ চলে যায়, কিন্তু কোনোভাবেই এটাকে দারুণ বলা যাবে না। এখানে Vivo-র কাছে আরেকটু প্রত্যাশা ছিল। সবচেয়ে বড় মিসের জায়গাটা হলো আল্ট্রাওয়াইড লেন্সের অনুপস্থিতি। গ্রুপ ফটো বা ল্যান্ডস্কেপ তুলতে গেলে কষ্ট হয়। অন্তত 8 মেগাপিক্সেলের একটা আল্ট্রাওয়াইড যোগ করলে ক্যামেরা বিভাগটা পূর্ণতা পেত, কারণ ক্যামেরার জন্যই অনেকে Vivo বেছে নেয়। দামের পরিসর বিবেচনায় ক্যামেরা ঠিক আছে, কিন্তু ক্লাস লিডিং কিছু আশা করাটা ভুল হবে।
Battery Life & Charging
আমার দেখা মতে Vivo Y31d-এর সবচেয়ে বড় কেসপি (Key Selling Point) হলো ব্যাটারি। ফোনটি আছে 7200 mAh-এর ব্লু ভোল্ট ব্যাটারি। এটা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশী বাজারে Vivo-র যেকোনো ফোনের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি। আর বক্স থেকেই দেয়া হয়েছে 44W-এর একটা ফাস্ট চার্জার।
ব্যাটারি নিয়ে আর গল্প করে কী হবে—যে কেউ নরমাল ইউজ করলে তাকে দেড় দিন পর চার্জ খুঁজতে হবে। আর যারা হেভি ইউজার, সারাদিন গেমিং আর ইউটিউব চালিয়েও ফোনের চার্জ শেষ করা কঠিন। এই দামে ব্যাটারি ব্যাকআপের দিকে তাকালে সত্যিই কোনও কম্পিটিশন আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি আমার। বিশাল ব্যাটারি মানেই শুধু নিজের চার্জ বেশিক্ষণ থাকা নয়, সাথে রিভার্স চার্জিং সুবিধাও আছে। মানে জরুরি অবস্থায় বন্ধুর ফোন বা ইয়ারবাড চার্জ দিয়ে দেওয়া যাবে।
আরো একটা জিনিস দারুণ লাগলো—বাইপাস চার্জিং টেকনোলজি। চার্জে বসিয়ে ফোন ইউজ করলে সাধারণত ফোন গরম হয়ে ওঠে। কিন্তু এই টেকনোলজির জন্য ফোন গরম হওয়ার পথে কিছুটা রাশ টানা যায়। তবে 44W চার্জিংয়ে বিশাল ব্যাটারি ভরতে খানিকটা সময় লাগবেই, সেটা মেনে নিতেই হবে।
Software & Features
Vivo Y31d সবুজ সংকেত দেয়ার মতো আরেকটা জায়গা হলো সফটওয়্যার। বক্স থেকেই ফোনটা চলে Android 16 আর তার ওপর Vivo-র নিজস্ব OriginOS 6 দিয়ে সাজানো। OriginOS এখন অনেক পরিণত, এবং এটাকে আমি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা অ্যান্ড্রয়েড UI বলতে দ্বিধা করব না।
ইউজার ইন্টারফেস পুরোপুরি স্মুথ। ফ্ল্যাগশিপের মতো ইনস্ট্যান্ট রেসপন্স না পেলেও, অ্যানিমেশন, ট্রানজিশন আর অ্যাপ সুইচিংয়ে বেশিরভাগ সময় কোনো বিরক্তি কাজ করেনি। শুরুর দিকে কিছু স্টাটার দেখা গেলেও, ফোন সেট আপ হয়ে গেলে মোটামুটি নির্ভার।
কাস্টমাইজেশন অপশনের ছড়াছড়ি। থিম, আইকন, জেশ্চার, হোম স্ক্রিন লেআউট—সবকিছু মন মতো সাজানো যায়। কিছু প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ (ব্লোটওয়্যার) আছে, তবে ভাগ্যবশত সেগুলো ডিলিট বা ডিজেবল করা যায়। আগের দিনের মতো বাঘ-ভাল্লুকের মতো থার্ড পার্টি অ্যাপের উৎপাত নেই বলতে গেলে।
এবার একটু সংযোগ সুবিধার কথা বলা যাক। ভালো দিক হলো ফোনটাতে IR ব্লাস্টার আছে। তার মানে টিভি বা এসি-র রিমোট হারিয়ে গেলে ফোনই হয়ে উঠবে রিমোট কন্ট্রোল। স্পিকার সেটআপ ডুয়াল স্টেরিও, তবে ইয়ারপিসকে সেকেন্ডারি চ্যানেল বানানোয় একদম ৫০-৫০ ব্যালান্স পাবেন না, ৪০-৬০ টাইপের ফিল আসবে। সাউন্ড কোয়ালিটি নিয়ে অবশ্য খুব কম অভিযোগ আছে আমার—ভলিউম বেশ ভালো, খরখরে না।
এবার যে জিনিসগুলোর অভাব বোধ করলাম। ফোনে Wi-Fi 6 সাপোর্ট নেই, শুধু Wi-Fi 5 দিতে হবে কাজ। ব্লুটুথ 5.1 ভার্সন, অথচ এখন 5.4 ভার্সন চলে এসেছে আরো ভালো স্টেবিলিটি ও রেঞ্জের জন্য। আর যে জিনিসটা আমি সবচেয়ে মিস করেছি, সেটা হলো NFC। বাংলাদেশে ধীরে ধীরে মেট্রো রেল, কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট—এসব ক্ষেত্রে NFC-র গুরুত্ব বাড়ছে। ফোন দিয়ে ট্যাপ করে পেমেন্ট বা গেট পার হওয়ার স্বপ্ন এই ফোনে সম্ভব হবে না। এছাড়া AI ফিচার গুলো যেমন AI ম্যাজিক মুভ, AI ইরেজার আর AI ডকুমেন্ট—এগুলো কাজের তবে খুব অ্যাডভান্সড লেভেলের নয়, তবু দৈনন্দিন জীবনে একটু সাহায্য করবেই।
Final Verdict
এতক্ষণ ধরে Vivo Y31d-এর সব দিক তন্ন তন্ন করে দেখার পর এখন আসল প্রশ্ন—তোমার জন্য এটা সঠিক ফোন কি না? বর্তমান বাজারে Vivo Y31d price in Bangladesh হচ্ছে প্রায় BDT 28,999 (ভ্যারিয়েন্ট ও অফারভেদে একটু ওঠাপড়া করতে পারে)। এই দামের বিপরীতে ফোনটা অদ্ভুত কিছু ট্রেড-অফ নিয়ে এসেছে, যেগুলো না বুঝে কিনলে পরে কষ্ট হতে পারে।
যদি তুমি একটা টেকসই, সুন্দর ডিজাইন আর সর্বোপরি অসাধারণ ব্যাটারি লাইফের ফোন খুঁজে থাকো—যে ফোন একবার চার্জ দিয়ে তোমার দেড় দিন কাভার করবে, অথবা কলেজে বা আড্ডায় বন্ধুর ফোনের জরুরি চার্জের কাজে লাগবে—তবে Vivo Y31d এক কথায় দারুণ। সাথে IP68/69 রেটিং বোনাস হিসেবে আছে। এর ওপরে আফটার সেল সার্ভিস অনেক ভালো, সময়ের সাথে UI স্লো হবে না বললেই চলে, আর ফোনটি অফিশিয়ালি কিনলে নির্ভাবনায় ব্যবহার করা যায়।
কিন্তু যদি তুমি ডিসপ্লে প্রেমিক হও, কিংবা ক্যামেরা দিয়ে ক্রিয়েটিভিটি করার নেশা থাকে—তবে এই ফোনে বারবার একই কথা মনে হবে: আরেকটু হলে ভালো হতো। ফুল HD+ প্যানেল আর একটা আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা দিলে এই ফোন অপ্রতিরোধ্য হতে পারতো। স্ন্যাপড্রাগনের 4G চিপসেট দীর্ঘদিন স্থায়ী হলেও, পারফরম্যান্সের নিরিখে আনটুটু স্কোর যাদের কাছে মুখ্য, তাদের জন্য একই বাজেটে বিকল্প আছে। SD কার্ড স্লটের অভাবও অনেকের জন্য বড় ধাক্কা।
সব মিলিয়ে এটা একটা ব্যালান্সড প্যাকেজ, তবে সবার জন্য নয়। যারা এখন পর্যন্ত পুরনো Vivo ফোন ইউজ করছো, আর নির্ভরযোগ্যতা ও ব্যাটারির জন্য আপগ্রেড করতে চাও—তাদের জন্য এক কথায় পারফেক্ট। পাশাপাশি বর্তমানে প্রি-অর্ডার বেনিফিট হিসেবে এক বছরের ফ্রি স্ক্রিন রিপ্লেসমেন্ট ও অন্যান্য গিফট অফারটাও বেশ লোভনীয়। শেষ কথা হলো, চোখ বন্ধ করে কিনলে ব্যাটারি আর চার্জিং তোমাকে হাসাবে, কিন্তু ডিসপ্লে আর ক্যামেরা নিয়ে নখদন্তন চলতেই থাকবে। সিদ্ধান্তটা তাই সম্পূর্ণ তোমার প্রায়োরিটির ওপর ছেড়ে দিলাম।

