vivo V70 FE রিভিউ: সবার জন্য পারফেক্ট নাকি শুধুই ক্যামেরা প্রেমীদের জন্য?
vivo-র V সিরিজের নাম শুনলেই সবার আগে চোখের সামনে যে জিনিসটা ভেসে ওঠে সেটা হচ্ছে দারুণ সব ক্যামেরা ফিচার আর স্টাইলিশ ডিজাইন। বাংলাদেশের মার্কেটে vivo তাদের V70 সিরিজের দুইটা ফোন লঞ্চ করেছে— একটা V70 আরেকটা V70 FE। FE মানে ফ্যান এডিশন, যেটাকে আমরা একটু সহজভাবে লাইট ভার্সন বা ছোট ভাই বলতে পারি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ছোট ভাই কি বড় ভাইয়ের মতোই ধাক্কা দিতে পারবে? নাকি শুধুই দামি দামি বিজ্ঞাপনের ফাঁদ? দীর্ঘদিন ব্যবহার করে ফোনটার প্রতিটা এঙ্গেল আমি আজ খুলে বলবো। সরাসরি চলে যাই আসল কথায়।
Design & Build Quality
প্রথমবার V70 FE হাতে নিতেই যে ব্যাপারটা আমার চোখে পড়লো, সেটা হচ্ছে এর সলিড ফিল। তবে একটু অবাক লাগবে শুনে, ফোনটার বডি ফ্রেম মেটাল না। এই প্রাইস পয়েন্টে, মানে প্রায় ৫৭ হাজার টাকা দিয়ে আপনি যখন কিনবেন, তখন ফ্রেমে মেটাল আশা করাই স্বাভাবিক। প্লাস্টিক ফ্রেম হওয়াতে প্রিমিয়াম ভাইবস কিছুটা কম লাগে, সেটা বলতেই হবে।
রিয়ার প্যানেলটা আবার বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে আমার কাছে। এটা Glastic টাইপের একটা জিনিস, যেখানে প্লাস্টিক আর গ্লাসের একটা মিক্স ফিল আসে। অনেকটা ফ্রস্টেট গ্লাসের মতো, ফলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পড়ে না একদমই। এই জিনিসটা দারুণ! প্যানেলের উপর একটা সুক্ষ্ম প্যাটার্ন আছে, যেটা লাইটের রিফ্লেকশনে চেঞ্জ হয়। দেখতে আসলেই সুন্দর লাগে। তবে সাবধান, স্ক্র্যাচ পড়ার সম্ভাবনা আছে। আমার সাজেশন, বক্স থেকে বের করেই কেস লাগিয়ে ফেলুন।
থিকনেসের দিক দিয়ে ফোনটা 7.59 মিলিমিটার। খুব মোটা বলবো না, কিন্তু V সিরিজের ফোনগুলোর কাছে আমরা একটু স্লিমনেস আশা করি। আরেকটু স্লিম হলে দেখতে আরো বেশি গর্জিয়াস লাগতো। পাশে থাকা V70 টা কিন্তু এই জায়গায় অনেক বেশি প্রিমিয়াম আর সলিড ফিল দিচ্ছে। ওটার ডিজাইন ধরলেই বোঝা যায় অনেক খরচা করা ফোন।
যাই হোক, ডিজাইনের বিরাট একটা প্লাস পয়েন্ট আছে এই ফোনে, সেটা হচ্ছে IP68 এবং IP69 rating। শুধু স্প্ল্যাশ প্রুফ না, মানে পানির ছিটা নিয়েও চিন্তা নেই। এমনকি চাইলে পানির নিচে অল্প সময়ের জন্য ফটোগ্রাফিও করতে পারবেন। বাংলাদেশে বর্ষাকালে বা ধুলাবালির মধ্যে যারা প্রচুর ঘোরেন, তাদের জন্য এই রেটিংটা অনেক বড় এক ভরসার জায়গা।
Display Experience
ডিসপ্লে অন করলেই যে জিনিসটা আপনাকে চমকে দেবে, সেটা হচ্ছে এর সুপার ন্যারো বেজেল। চারপাশের বেজেল এতোটাই চিকন যে ফ্রন্ট থেকে দেখলে মনে হয় পুরোটাই স্ক্রিন। অলমোস্ট সিমেট্রিকাল, তবে নিচের চিবুকটা (chin) একটু মোটা। কিন্তু সেটা নিয়ে এত্তো মাথা ঘামানোর দরকার নেই, কারণ ইউজ করতে গিয়ে সেটা একদমই চোখে পড়ে না। টপে পাঞ্চ-হোল কাটআউট আছে, যেটা আরেকটু ছোট হলে আরো সুন্দর ম্যাচ করতো স্ক্রিনের সাথে।
ডিসপ্লে সাইজ 6.83 ইঞ্চি, মানে বেশ বড়সড় একটা ক্যানভাস পাচ্ছেন মাল্টিমিডিয়া এনজয় করার জন্য। এটা 1.5K resolution-এর প্যানেল, যেখানে 449 PPI ডেনসিটি আছে। এত বড় স্ক্রিনে রেজলিউশনটা এক্কেবারে ঠিকঠাক। ইউটিউব দেখ বা গেমিং কর, স্ক্রিন ভীষণ ভাইব্রেন্ট আর কালারফুল। AMOLED প্যানেলের জাদু বলুন আর যাই বলেন, চোখ জুড়িয়ে যায়। HDR10+ সাপোর্টও আছে, ফলে Netflix বা অন্য প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট দেখতে দারুণ লাগে।
Brightness নিয়ে একটু কনফিউশন ছিল শুনে। পেপারে পিক ব্রাইটনেস 1900 nits, যা শুনতে তেমন জোস লাগে না। কিন্তু আসল কথা হলো, পিক ব্রাইটনেস আর হাই ব্রাইটনেস মোড (HBM) কিন্তু এক জিনিস না। রোদে বাইরে ফোন ইউজ করতে গেলে HBM-এর দরকার, আর সেটা এখানে 1500 plus লেভেলের। আমার এক্সপেরিয়েন্সে ডিরেক্ট রোদের নিচে না দাঁড়ালে, আউটডোরেও স্ক্রিন দেখা মোটামুটি আরামের। রোদে ভিডিও দেখা ঠিক না, তাই সেটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করে লাভ নেই।
Display quality নিয়ে কোনো কম্প্লেইন ফোনে পাইনি। 120Hz refresh rate পুরোপুরি কাজ করছে, স্ক্রলিং স্মুথ। আর যেটা জরুরি, সেটা হলো এই প্রাইসে অনেক ফোনেই Green Tint বা Blue Tint-এর সমস্যা থাকে কম ব্রাইটনেসে, কিন্তু এই প্যানেলে আমি সেটা ফেস করিনি। প্রটেকশনের জন্য কী গ্লাস ইউজ হয়েছে সেটা ক্লিয়ার না, তাই আমার পরামর্শ, কেনার সাথেই একটা ভালো মিনের ডিসপ্লে গার্ড লাগিয়ে নেবেন।
Performance & Gaming
এবার আসি একটু কাঁটার বিষয়ে। ফোনটার হার্টে আছে MediaTek Dimensity 7360 Turbo চিপসেট। আর এই জায়গাটাতেই আমি একটু হতাশ। ৫৭ হাজার টাকা খরচ করে যদি আপনি মনে করেন ফ্ল্যাগশিপ কিলার পাচ্ছেন, তাহলে সেই ধারণা থেকে বের হয়ে আসুন। এটা Snapdragon 6 Gen 4 বা তার আশেপাশের একটি প্রসেসর। CPU ক্লক স্পিডের দিক দিয়ে সেটা Snapdragon 6 Gen 4 থেকে মোটামুটি 9% এগিয়ে আর GPU-তে পার্থক্য 17% মতো, কিন্তু রিয়েল লাইফে সেটা তেমন বুঝবেন না।
UFS 3.1 স্টোরেজ থাকার কারণে ডাটা রিড রাইটের স্পীড ঠিক আছে। 8GB এবং 12GB RAM-এর দুইটা ভ্যারিয়েন্ট পাচ্ছেন। দারুণ খবর হচ্ছে, র্যাম ম্যানেজমেন্ট অসম্ভব ভালো। অরিজিন OS-এর অপটিমাইজেশন এখানে কাজে দিচ্ছে। 8GB-র যে বেস ভ্যারিয়েন্ট, সেটাতেই ৬-৭টা অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে অনায়াসে চালাতে পেরেছি আমি। অ্যাপ থেকে অ্যাপে সুইচ করা, নতুন অ্যাপ খোলা—সবকিছুতেই টাইম কম নেয় ফোনটা। কোনো ল্যাগ, জিরিং বা হঠাৎ করে শাটডাউন হওয়ার মতো কোনো প্রবলেম ফেস করিনি।
কিন্তু গেমিং স্মার্টফোন হিসেবে এটাকে কনসিডার করতে পারবেন না। PUBG, COD এই ধরণের গেমগুলো মোটামুটি চলে, তবে সেটা সেটিংস কমিয়ে। PUBG খেলতে গিয়ে HD-তে মোটামুটি প্লে-এবল রেজাল্ট পেয়েছি, তবে সুপার স্মুথ এক্সপেরিয়েন্সের জন্য লোয়ার সেটিংসই বেস্ট। COD Mobile-এ Very High ম্যাক্স গ্রাফিক্সেও চলে, কিন্তু তখন ফোন বেশ হিট নেয় আর ফ্রেম ড্রপ টের পেয়েছি। সুপার স্টেবল গেমিংয়ের দাবি করলেও, হাই সেটিংসে তা নয়। গরমের দিনে চার্জিংয়ের সাথে গেমিং করতে গেলে হাত পুড়ে যাওয়ার জোগাড়। ভালো খবর হলো, 4120mm² VC কুলিং সিস্টেম আছে বলে থার্মাল থ্রটলিং (গরমের জন্য পারফরমেন্স কমে যাওয়া) একেবারেই হয়নি, কিন্তু ফোন বেশ ওয়ার্ম হয় ঠিকই।
তাই সারমর্ম দাঁড়াচ্ছে, ডে টু ডে লাইফে ইউটিউব, ফেসবুক, ফটো এডিটিং আর অফিসের কাজে এটা ফাটাফাটি স্পীড দেবে। কিন্তু হার্ডকোর গেইমার হলে ভালো কুলিং আর শক্তিশালী Snapdragon চিপের ফোন খোঁজা বেটার।
Camera System
এটাই V70 FE-র সবচেয়ে বড় হাইলাইট এবং ভিলেন দুটোই একসাথে। রিয়ার সেটআপে দুটো কাজের শুটার আছে। একটা 200 মেগাপিক্সেলের মেইন সেন্সর যাতে OIS (Optical Image Stabilization) আছে, আরেকটা 8 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড যেটা 120 ডিগ্রি ফিল্ড অফ ভিউ দেয়। সামনে 32 মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।
এই প্রাইস পয়েন্টে ৫৭ হাজার টাকা দিয়ে সবাই তিনটা রিয়ার লেন্স আশা করে। এক্সট্রা একটা টেলিফটো লেন্স যদি থাকতো, যদি সেটা 2.5x বা 2.8x অপটিক্যাল জুম দিত, তাহলেই ফোনটা জাস্ট পরিপূর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু সেটাই এখানে মিসিং! V সিরিজটা ক্যামেরা ফোন এই এক্সপেক্টেশনই সবার, তাই টেলিফটো জুম না থাকাটা কনফিউজিং।
এখন যা আছে তার রেজাল্ট কেমন?
ডে লাইটে মেইন 200MP সেন্সরের ছবি ভীষণ ক্রিস্প। ভাইব্রেন্ট কালার দেয়, মানে একটু পাঞ্চি কিন্তু একদম ওভার-স্যাচুরেটেড না। ডিটেইল আর শার্পনেস অন পয়েন্টে থাকে। আপনি ছবি জুম করেও দেখবেন, ডিটেইল মোটামুটি অক্ষুণ্ণ আছে। Dynamic range ঠিকঠাক, তবে হেভি হার্স লাইটিংয়ে (একদম কড়া রোদের তলায়) এক্সপোজার কন্ট্রোলে একটু হোঁচট খেতে পারে। ছবির কর্নার এরিয়ায় ডিটেইল একটু সফট হয়ে যায় আর শ্যাডোতে গিয়ে কিছু ডিটেইল লস হয়। তবুও ওভারঅল ডে লাইট পারফরমেন্স খুব সন্তোষজনক।
লো লাইটে গিয়ে মেইন ক্যামেরা কিছুটা সফট ছবি দেয়, তবে সেগুলো দেখতে ভালোই লাগে। কন্ট্রাস্ট আরেকটু বাড়িয়ে দেয়, কালারও আরেকটু বেশি বুস্টেড মনে হয়, যা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য একদম রেডিমেড। OIS থাকার সুবিধাটা এখানে দারুণ। হালকা হাত কাঁপলেও ছবি ঝাপসা হয় না, লো লাইটে শাটার টাইম একটু বেশি নিলেও ব্লারি ইমেজ আসার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
পোট্রেট মোডটা মজার। এখানে 23mm, 35mm, 50mm, আর 85mm—এই চারটা ফোকাল লেন্থে ছবি তোলা যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এগুলো সবই ডিজিটালি কাটছাট করে আনা ফিল্ড অফ ভিউ। ডেডিকেটেড টেলিফটো বা ডেপথ সেন্সর কিছুই নাই। 35mm থেকে 50mm-র মধ্যে থাকলে ডিটেইল বেশ ভালোই পাওয়া যায়, স্কিন টোনও সুন্দর দেখায়। কিন্তু 85mm-তে গিয়ে ফোনের স্ক্রিনে ছবি দেখতে দারুণ লাগলেও, একটু বড় করে দেখলেই বোঝা যায় ডিটেইল অনেক সফট করে দিচ্ছে। ফেসকে একটু গ্লো করিয়ে আর হালকা ব্রাইট করে দেখা নেওয়ার প্রবণতা আছে। তবে এজ ডিটেকশন (পেছনের ব্লার আর সাবজেক্টের মাঝের বর্ডার) খুব নিখুঁত। ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার ওয়াও লেভেলের না, কিন্তু আর্টিফিশিয়াল বোঝা যায় না।
আল্ট্রা-ওয়াইড নিয়ে কিছু বলার আগে পূনরায় বলে রাখি, ৩০ হাজার বা ৪০ হাজার টাকার ফোনের আল্ট্রা-ওয়াইডের সাথে তুলনা করবেন না এটাকে। এটি ভেরি ডিসেন্ট। প্রপার লাইটিংয়ে, মানে দিনের বেলায় এই শুটারের রেজাল্টে কালার মেইন ক্যামেরার সাথে বেশ মিলে যায়। শার্পনেসও ভালো। কিন্তু দিনের আলো ফুরোলেই সব শেষ! লো লাইটে আল্ট্রা-ওয়াইড শুটার একদমই স্ট্রাগল করে, ছবি গ্রেইনি আর ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই লো লাইটে শুধু মেইন লেন্সেই শুট করবেন।
ফ্রন্ট ফেসিং 32MP ক্যামেরা এককথায় সেলফি লাভারদের মন জিতে নেওয়ার মত। নিজের সব বিউটিফিকেশন বন্ধ করলেও দেখবেন ফোন আপনাকে একটু ফর্সা করে দিচ্ছে আর স্কিন একটু স্মুথ করছে। এটা খারাপ কিছু না, সফটওয়্যার এমনিতেই একটু এডিট করে দিচ্ছে। ভালো দিক, দাড়ি, চুল বা ভ্রুর ডিটেইল একদম মুছে-ধুয়ে দেয় না, সেগুলো শার্প রাখে। লাইটিং ভালো থাকলে ইনডোরেও অসাধারণ ডিটেইলড ছবি আসে। তবে মেইন ক্যামেরার মত ডাইনামিক রেঞ্জ এতটা ওয়াইড আশা করবেন না।
ভিডিওর মজার ব্যাপার হলো, ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়েও 4K 30fps ভিডিও তোলা যায়। রিয়ার ক্যামেরা 4K 30fps করে, কিন্তু 60fps সাপোর্ট নাই দুঃখজনকভাবে। ভিডিও স্টেবিলাইজেশন ভালোই কাজ করে, ছোটখাটো ঝাঁকুনি ম্যানেজ করতে পারে। তবে 4K-তে একটু jitter (হালকা কম্পন) চোখে পড়েছে কিছু জায়গায়।
ক্যামেরার বাকি জিনিসের মধ্যে আছে ইন-বিল্ট AI ম্যাজিক ওয়েদার ফিচার। ছাদে দাঁড়িয়ে একটা পোর্ট্রেট তুলে সেটার ব্যাকগ্রাউন্ডে বরফ পড়া আকাশ লাগিয়ে দিতে পারবেন। অরিজিন OS-এ এই ইন-বিল্ট এডিটিংয়ের বড় সুবিধা হলো, ছবির রেজলিউশন লস কম হয়, যা অন্য থার্ড পার্টি অ্যাপে অনেক সময় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পোর্ট্রেটের জন্য রিয়ার লাইট আছে, যেটা ওয়ার্ম আর কুল অ্যাডজাস্ট করা যায়।
সোজা কথায়, মেইন ক্যামেরা আর সেলফি ক্যামেরা নিয়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট। আল্ট্রা-ওয়াইড জাস্ট প্রয়োজন মেটায়। কিন্তু একটা টেলিফটো জুমের জায়গা এই ফোনকে পুরা ফুল মার্কস পাওয়া থেকে আটকালো।
Battery Life & Charging
এটাই সম্ভবত এই ফোনটার সবচেয়ে স্ট্রং পিলার, যার উপর ভর করে অনেকেই এই ফোনটা কিনতে রাজি হয়ে যাবেন। 7000mAh-এর BlueVolt ব্যাটারি আর বক্সে 90Watt-এর চার্জার—এই কম্বোটা জাস্ট অসাধারণ!
আমি যখন ফোনটাকে একটু হেভি ইউজ করছি, সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, কিছু গেমিং, ১ ঘণ্টা জিপিএস, অফিস মেইল—সব মিলিয়ে পেয়েছি প্রায় ৯ ঘণ্টার মতো স্ক্রিন-অন-টাইম (SOT)। যারা সারাদিন টুকটাক ইউজ করেন, তারা দেড় দিন আরামে চালিয়ে নিতে পারবেন। একেবারে ফোন-পাগল যারা, সারাক্ষণ ফোন নিয়ে পড়ে থাকেন, তারাও দিন শেষে ১৫-২০% চার্জ বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন রিলেক্সে। ব্যাটারি লাইফ এককথায় ফাটাফাটি।
90Watt চার্জিং এর সুবাদে বিশাল এই ব্যাটারিও ভরতে খুব বেশি সময় নেয় না। পুরো চার্জ হতে সময় লাগে আন্দাজ ৪০-৪৫ মিনিট। তবে চার্জিং-এর সময় ফোন একটু বেশিই গরম হয়, বিশেষ করে ফাস্ট চার্জিং মোডে।
Software & Features
vivo V70 FE বক্স থেকেই Android 16-এর উপর ভিত্তি করে Origin OS চালায়। এটি অফিশিয়াল ডিভাইস, এবং vivo কথা দিচ্ছে চারটা মেজর OS আপডেট দেবে। এই জায়গাটায় তারা এখন বেশ সিরিয়াস।
Origin OS নিয়ে আমার ভালোলাগা-খারাপলাগার একটা মিক্সড ফিলিংস আছে। ভালো দিক, এটা আগের চেয়ে অনেক বেশি রিফাইন। ইউআই-এর পুরো ফিলটা একদম গ্লাস লাইক বা ফ্লুইড। ফোনের অ্যানিমেশনগুলো খুব স্মুথ আর চোখের আরামদায়ক। ব্লটওয়্যার (অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ) একটু আছে, কিছু প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ পাবেন। সেগুলো আনইনস্টল করে নিলেই ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ঝকঝকে হয়ে যায়।
র্যাম ম্যানেজমেন্ট অসম্ভব ভালো, আগেও বলেছি। স্পিকার কোয়ালিটি লাউড এন্ড ক্লিয়ার। কিন্তু অডিও ডেপথ আরেকটু বেটার হলে আরো জমতো। ইয়ারপিসেও কথা পরিষ্কার শোনা যায়। নেটওয়ার্ক নিয়ে কোনো ঝামেলা নাই। তবে হ্যাপটিক ফিডব্যাক (ভাইব্রেশন) মোটামুটি ওকে টাইপের; খুব স্ট্রং বা প্রিমিয়াম ফিল দেয় না, কিন্তু একেবারে ফালতুও না।
ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার আছে। পজিশনটা একটু নিচের দিকে, প্রথম প্রথম থাম্ব চালাতে কষ্ট হতে পারে। তবে স্ক্যানারটা একুরেট রেজাল্ট দেয় প্রতিবার। শুধু অ্যানিমেশনের জন্য একটু স্লো মনে হতে পারে, তবে তাল মিলিয়ে নিতে পারলে সমস্যা নাই। ফেস আনলকও দ্রুত কাজ করে, কিন্তু সেটা এতটা সিকিওর না।
Final Verdict
vivo V70 FE আসলে কোন ধরণের ইউজারের জন্য?
আপনি যদি সারাদিন অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ চান, কোনো টেনশন ছাড়াই ৯-১০ ঘণ্টা স্ক্রিন অন টাইম পেতে চান, এবং আপনার প্রথম প্রায়োরিটি যদি হয় অসাধারণ মেইন ক্যামেরা আর সেলফি ক্যামেরা—তাহলে এই ফোন আপনার জন্য পারফেক্ট। IP68/69 রেটিং নিয়ে ফোনটা যেখানে দুর্ভেদ্য সেখানেই ডিসপ্লে দেখতে অসাধারণ।
কিন্তু আমি একটুও ইতস্তত না করে বলবো, বর্তমানে বাংলাদেশে এর অফিশিয়াল প্রাইস যথাক্রমে 8GB+256GB ভ্যারিয়েন্টের জন্য ৳.56,999 এবং 12GB+256GB ভ্যারিয়েন্টের জন্য ৳.65,999। ৫৭ হাজার টাকা দিয়ে আপনি যদি হার্ডকোর গেমিং বা টেলিফটো জুম চান, তাহলে মনে হবে দামটা একটু বেশিই হয়ে গেছে। প্রসেসরটা এই সেগমেন্টের তুলনায় একটু আন্ডারপাওয়ার্ড। আমার কেন জানি বিশ্বাস, এখানে একটি টেলিফটো লেন্স থাকলে অথবা Snapdragon 7 সিরিজের চিপ থাকলে ফোনটা তার দামের প্রতি ইন্টাফ ইজ্জত রাখতে পারতো। সবচেয়ে বড় যে শূন্যতা চোখে লাগে, সেটা হচ্ছে ডেডিকেটেড টেলিফটো ক্যামেরার অনুপস্থিতি। ক্যামেরা ফোকাসড একটা সিরিজে এটা ভীষণ মিস করবেন।
শেষ কথা, বড় ভাই V70 কিন্তু হাতে নিলেই প্রিমিয়াম ডিজাইন আর জার্মানির ZEISS-এর লোগো দিয়ে আলাদা ইমপ্রেশন দেয়। আপনার বাজেট যদি একটু বেশি থাকে, তাহলে ওদিকেও চোখ রাখতে পারেন। আর যারা V70 FE-তে মনস্থির করে ফেলেছেন, তাদের জন্য বাজারে এখন আকর্ষণীয় প্রি-অর্ডার গিফট বা EMI সুবিধাও চলছে (যদিও EMI-তে গিফট নাও মিলতে পারে), সেই হিসেব কষে নিতে ভুলবেন না।





