ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
প্রথম দেখাতেই মন কেড়ে নেয়ার মতো চেহারা
ভিভো এস৫০ প্রো মিনি হাতে নেয়ার পর প্রথম যে অনুভূতিটা হয়, সেটা হলো আরাম আর প্রিমিয়ামনেসের এক অদ্ভুত মিশেল। ৬.৩১ ইঞ্চির ডিসপ্লের এই ফোনটিকে কম্প্যাক্ট না বলে ‘পারফেক্ট সাইজ’ বলাই শ্রেয়। বাজারে যেখানে একের পর এক বড় ও ভারী ফোনের ছড়াছড়ি, সেখানে এই ফোনটি হাতে ধরে সত্যিই ভালো লাগে। ১৯০ গ্রামের কাছাকাছি ওজন এবং স্লিম প্রোফাইল একে একহাতে ব্যবহারের জন্য দারুণ উপযোগী করে তুলেছে, যদিও এটাকে সুপার স্লিমও বলা যাবে না।
এভিয়েশন গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম বডি ও ফাইবার গ্লাস ব্যাক
ফোনটির ফ্রেম তৈরি করা হয়েছে এভিয়েশন গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে, যা হাতে সলিড একটা ফিল দেয়। পেছনের ডিজাইনটি বেশ পরিচিত, দেখলে পিক্সেল ফোনের ভাইজর ডিজাইন এবং আইফোনের ক্যামেরা মডিউলের একটি হাইব্রিড সংমিশ্রণ বলে মনে হতে পারে। তবে পেছনের ম্যাটেরিয়ালটি নিয়ে একটি নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অফিশিয়ালি ভিভো এটাকে বলছে ‘ফাইবার গ্লাস’। চাইনিজ ফোন নির্মাতারা ইদানীং এই ম্যাটেরিয়ালের দিকে বেশি ঝুঁকছে। তাদের দাবি, এটি গ্লাসের মতো প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়, কিন্তু কাঁচের মতো সহজে ভেঙে যায় না। যদিও হাতে ধরার পর সত্যিই বোঝা মুশকিল যে এটি আসলে গ্লাস নাকি ফাইবার গ্লাস, তবুও ট্র্যাডিশনাল গ্লাসের যে ঠান্ডা ও প্রিমিয়াম ছোঁয়া, সেটির অভাব বোধ হয়।
নিখুঁত জায়গায় আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
ডিজাইনের একটি বড় ইমপ্রুভমেন্ট হলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের অবস্থান ও প্রযুক্তি। আগের মডেলে এটি বেশ নিচে ছিল, যা ব্যবহারে একটু অস্বস্তিকর ছিল। এবার এটিকে একদম ঠিকঠাক জায়গায়, ওপরে আনা হয়েছে, যেখানে হাতের বুড়ো আঙুল স্বাভাবিকভাবেই যায়। আরও বড় খবর হলো, এটি এখন অপটিক্যাল নয়, বরং আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, যা আরও দ্রুত ও নির্ভুল আনলকিং নিশ্চিত করে।
ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স
৬.৩১ ইঞ্চির এলটিপিও OLED প্যানেলের জাদু
ফোনটির সামনের দিকটা প্রায় পুরোটাই ডিসপ্লে। ৬.৩১ ইঞ্চির এই প্যানেলটি ১.৫কে রেজোলিউশন এবং ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট অফার করে। এটি একটি এলটিপিও প্যানেল, ফলে কন্টেন্ট দেখার ধরন অনুযায়ী রিফ্রেশ রেট বুদ্ধিমত্তার সাথে কম-বেশি হয়, যা ব্যাটারি সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখে। কোনো ধরণের ১৪৪ বা ১৬৫ হার্জ রিফ্রেশ রেটের অতিরিক্ত দাবি এখানে করা হয়নি, যা আছে তাতেই টাচ রেসপন্স, স্ক্রলিং এবং অ্যানিমেশন এককথায় মসৃণ।
চোখ জুড়ানো ব্রাইটনেস ও ন্যারো বেজেল
ডিসপ্লেটির চারপাশের বেজেলগুলো খুবই সরু এবং সমান, যা সামনের দিকটাকে পিক্সেল ফোনগুলোর মতোই প্রিমিয়াম একটি ভাইব দেয়। পিক ব্রাইটনেস ক্লেইম করা হয়েছে ৫০০০ নিটসের মতো, তবে বাস্তবে HDR কন্টেন্টে এটি অন্তত ১৮০০ থেকে ২০০০ নিটস পর্যন্ত ওঠে বলে ধারণা করা যায়, যা বাইরের রোদেলা পরিবেশেও দারুণ ভিজিবিলিটি দেয়। ডিসপ্লের কালার এক্সপেরিয়েন্স এবং ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলও চমৎকার, যা মাল্টিমিডিয়া কনজাম্পশনের জন্য চোখে আরাম দেয়।
পারফরম্যান্স ও গেমিং
স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫: একটি আদর্শ পছন্দ
কম্প্যাক্ট ফোনে পারফরম্যান্সের ব্যাপারটা সবসময়ই স্পর্শকাতর। সবচেয়ে শক্তিশালী চিপ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত গরমের সমস্যা দেখা দেয়। ভিভো এখানে খুব বুদ্ধিদীপ্ত একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডাইমেনসিটি থেকে সরে এসে স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ ব্যবহার করেছে। এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিটের প্রায় কাছাকাছি সামর্থ্যের একটি চিপ, তবে তাপ উৎপাদন ও ব্যাটারি সাশ্রয়ের ভারসাম্যটা দারুণ। এই ফোনের জন্য এটি একটি ফ্ল্যাগশিপ-গ্রেড পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। সাথে আছে LPDDR5x র্যাম এবং সর্বশেষ UFS 4.1 স্টোরেজ, ফলে হার্ডওয়্যারের দিক থেকে এটি একটি পাওয়ারহাউস।
রোমহর্ষক গেমিং পারফরম্যান্স
গেমিং টেস্টে এই ফোনের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় দারুণ। PUBG, Call of Duty: Mobile, এবং Delta Force-এর মতো চাহিদাসম্পন্ন গেমগুলোতে এটি অনায়াসে ১২০ FPS সাপোর্ট করেছে। এক নাগাড়ে ৩০ মিনিট করে গেম খেলেও পারফরম্যান্সে কোনো থ্রটলিং বা বিরক্তিকর ল্যাগ দেখা যায়নি। সবচেয়ে বড় কথা, অনেক ফ্ল্যাগশিপেও PUBG মসৃণ ১২০ FPS দিতে হিমশিম খায়, কিন্তু এখানে তা হয়নি।
হিট ম্যানেজমেন্ট: একটি মিশ্র অভিজ্ঞতা
যদিও গেমিংয়ের সময় ফোনটির তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রেকর্ড করা হয়েছে, যা খুবই নিয়ন্ত্রিত এবং ভালো। কিন্তু বাস্তব জীবনের ব্যবহারে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। আউটডোরে ক্যামেরা ব্যবহার করার সময় বা একটানা কয়েকটি কাজ করার পর ফোনটি ভালো পরিমাণে গরম হয়ে যায়। তাপমাত্রা ‘এক্সেসিভ’ লেভেলে না পৌঁছালেও, এক্সেসিভের ঠিক আগের লেভেলে গিয়ে ঠেকে। এমনকি চার্জিংয়ের পরও ফোন থেকে বেশ গরম অনুভূত হয়। সুতরাং, পারফরম্যান্স টপ-নচ হলেও, হিট ম্যানেজমেন্টে ভিভো আরেকটু ভালো করতে পারতো।
ক্যামেরা সিস্টেম
পরিচিত সেন্সর, মিশ্র আপগ্রেড
ভিভো এস৫০ প্রো মিনির ক্যামেরা সেটআপটি একই সাথে তৃপ্তি ও অতৃপ্তির জায়গা। হার্ডওয়্যারের দিক থেকে এটি তার পূর্বসূরি এস৩০ প্রো মিনির হুবহু কপি। যেখানে একটি বড় আপগ্রেড প্রত্যাশিত ছিল, সেটি না হওয়ায় কিছুটা হতাশ লাগে। পেছনে রয়েছে একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা, একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স এবং একটি ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্স। মূল চাহিদা ছিল আল্ট্রাওয়াইডটিকে একটি ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সরে আপগ্রেড করা, যা এই দামে একটি কমপ্লিট প্যাকেজ হয়ে উঠতে পারতো। ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইডটি এখানে একটি বড় ‘রেড ফ্ল্যাগ’।
প্রাইমারি ও টেলিফটো: নির্ভরযোগ্য পারফর্মার
মেইন ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো বেশ ভালো মানের। ভিভোর স্ট্যান্ডার্ড কালার প্রোফাইল অনুযায়ী ছবিগুলো কিছুটা ব্রাইট এবং কন্ট্রাস্টি হয়। কিছু ক্ষেত্রে শার্পনেসের ঘাটতি এবং কালার বুস্টিংয়ের প্রবণতা চোখে পড়ে, বিশেষ করে সবুজ ও রঙিন সাবজেক্টে। তবুও ছবিগুলো ফ্ল্যাগশিপ এক্স২০০ সিরিজের প্রায় ৮০-৯০% গুণমান কাভার করতে সক্ষম। ৬০-৬২ হাজার টাকা দামের প্রেক্ষিতে এটি একটি সন্তোষজনক পারফরম্যান্স। ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্সটি দিয়ে ৩x জুমে চমৎকার ছবি তোলা যায়। ১০x পর্যন্ত ছবি প্রোপার মানের থাকে এবং ৩০x পর্যন্ত ইউজেবল ইমেজ পাওয়া যায়। তবে মুখের টেক্সচারের ক্ষেত্রে কিছু ইনকনসিস্টেন্সি দেখা যায়, যা পুরো এক্স৩০০ সিরিজের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। ৮৫-১০০ মিলিমিটার ফোকাল লেংথের পোর্ট্রেটগুলো এজ ডিটেকশন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার দারুণ হয়, তবে ফেস কিছুটা স্মুথ করে দেয়ার প্রবণতা আছে।
আল্ট্রাওয়াইড ও ফ্রন্ট ক্যামেরা: দুর্বল লিংক
৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরাটি দিনের আলোতে কোনোরকমে কাজ চালানোর মতো। লো-লাইটে এর পারফরম্যান্স একেবারেই নিম্নমানের। ফ্রন্ট ক্যামেরায় দিবালোকে ভালো সেলফি আসে, তবে লো-লাইটের পারফরম্যান্স বেশ বিরক্তিকর। ভিডিওর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হতাশা হলো, আল্ট্রাওয়াইড লেন্স দিয়ে শুধুমাত্র ১০৮০পি ৩০ FPS-এ ভিডিও তোলা যায়। ৬০ হাজার টাকার ফোনে এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। প্রাইমারি এবং টেলিফটো লেন্স দিয়ে অবশ্য 4K 60 FPS পর্যন্ত ভিডিও করা যায়, যার মান বেশ ভালো এবং স্টেবিলাইজেশন কার্যকর, তবে ভিডিও কোয়ালিটি টপ-নচ বা ‘ওয়াও’ করার মতো নয়।
ব্যাটারি লাইফ ও চার্জিং
৬৫০০mAh: একটানা চালানোর নিশ্চয়তা
একটি ৬.৩১ ইঞ্চির ফোনে ৬৫০০mAh সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি বিশাল একটি পাওয়ার ব্যাংকের অনুভূতি দেয়। এই ব্যাটারি থেকে সহজেই ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা স্ক্রিন-অন-টাইম বের করে আনা সম্ভব, যা একজন অতিভারী ব্যবহারকারীকেও সারাদিন নির্ভাবনায় রাখবে।
চার্জিং পোর্টফোলিও এখন সম্পূর্ণ
ভিভো এবার ৯০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জারের পাশাপাশি ৪০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং যুক্ত করেছে, যা আগের মডেলে একটি বড় শূন্যতা ছিল। এছাড়াও বাইপাস চার্জিং এবং রিভার্স চার্জিং ফিচার বিদ্যমান। গেমিংয়ের সময় বাইপাস চার্জিং ফোনকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, ব্যাটারি হিট কমায় ও লাইফ সাইকেল বাড়ায়। দাম বাড়ানোর সাথে সাথে ভিভো এই আপগ্রেডগুলো নিশ্চিত করায়, ব্যাটারি এবং চার্জিং বিভাগে এটি একটি এ-ক্লাস লেভেলের পারফর্মার।
সফটওয়্যার ও ফিচারস
অরিজিন ওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড ১৬
ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৬ এর ওপর ভিত্তি করে অরিজিন ওএস ৬-এ রান করে। সফটওয়্যারটি দেখতে এবং ব্যবহার করতে ভিভোর নিজস্ব ফ্লেভার স্পষ্ট। অ্যানিমেশনগুলো মসৃণ এবং ফিচারের বাহুল্যে ভরপুর। তবে এই ফোনটি কতদিন সফটওয়্যার আপডেট পাবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। সাধারণত ভিভোর প্রায়-ফ্ল্যাগশিপ সিরিজের ফোনগুলো ৩+ বছরের আপডেট পাওয়ার কথা, কিন্তু চাইনিজ রমের জন্য এই তথ্য বের করা দুরূহ।
চাইনিজ রমের বাস্তবতা: আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?
৬০-৬২ হাজার টাকায় এই ফোনটি কেনার একটি বড় মূল্য হলো এর চাইনিজ রম। এটি কিছু জটিলতা তৈরি করে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নোটিফিকেশন বিলম্ব বা ডেলিভার না হওয়া। মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কেউ কল দিলে, অ্যাপে ঢোকার আগে সেটি প্রায়ই রিয়েল টাইমে দেখা যায় না। মেসেজও প্রায়ই দেরি করে আসে, যা স্বাভাবিক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায়। কিছু টোটকা বা সেটিংস পরিবর্তন করলে সমস্যার মাত্রা কিছুটা কমলেও, পুরোপুরি যাওয়া যায় না। যাদের জন্য রিয়েল-টাইম মেসেজ এবং কল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, তাদের জন্য এটি একটি চরম মাথাব্যথা। আর যাদের কাছে এসব তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাদের কাছে এই চাইনিজ রম একধরনের ‘ব্লেসিং’, কারণ একই ফোনের গ্লোবাল ভার্সন (ভিভো এক্স৩০০ এফ) নিতে গেলে খরচ হবে প্রায় দ্বিগুণ!
প্রয়োজনীয় সব ফিচারের ছড়াছড়ি
হার্ডওয়্যার ফিচারের দিক থেকে এই ফোনে কোনো কমতি রাখা হয়নি। অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমে রয়েছে আইআর ব্লাস্টার, যা টিভি বা এসি কন্ট্রোলের কাজে লাগে। কানেক্টিভিটির জন্য আছে সর্বশেষ ওয়াই-ফাই ৭ এবং ব্লুটুথ ৫.৪ এর সাপোর্ট। ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার সাউন্ড আউটপুটে ৬০:৪০ রেশিওতে শব্দ ছড়ায়, যা গেমিং এবং মিডিয়া কনজাম্পশনের জন্য পর্যাপ্ত।
ফাইনাল ভার্ডিক্ট
ভিভো এস৫০ প্রো মিনি একটি নির্দিষ্ট এবং ছোট গোষ্ঠীর জন্য একেবারে আদর্শ ফোন। যারা বাজারের সব ‘ট্যাব-ফোন’ দেখে ক্লান্ত, এবং যাদের কাছে ৬.৩১ ইঞ্চির একটি হাতের তালুতে পুরোপুরি বসে যাওয়া ফোনই শেষ কথা, তাদের জন্য এই মুহূর্তে এটি সেরা পছন্দ। একে কম্প্যাক্ট না বলে ‘পারফেক্ট সাইজ’ বলাই সঙ্গত। এটি শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ প্রসেসর, অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ, ৪০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং, এবং একটি নির্ভরযোগ্য প্রাইমারি ও টেলিফটো ক্যামেরা সিস্টেম অফার করে। ফোনটির হাতের নাগালে আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং আইআর ব্লাস্টারের মতো ইউটিলিটি ফিচারগুলোও প্রশংসার দাবিদার।
তবে বাস্তবতার নিরিখে এই ফোনকে সর্বজনীন সুপারিশ করার পথে বড় বাধা এর চাইনিজ রম এবং দুর্বল আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা। নোটিফিকেশন সমস্যা যাদের কাজের গতি শ্লথ করে দেবে, তাদের জন্য এটি একটি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। আর মূল ক্যামেরার সাথে সাযুজ্য রেখে একটি ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর এই দামে এক প্রকার অপমান। হিট ম্যানেজমেন্টের মিশ্র ফলাফলও একটি চিন্তার জায়গা।
বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ভিভো এস৫০ প্রো মিনির আনঅফিশিয়াল চাইনিজ ভার্সনটির (১২জিবি+২৫৬জিবি) দাম প্রায় ৬৪,০০০ টাকা। এই একই বাজেটে আপনি যদি গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট বা ভিন্ন এক্সপেরিয়েন্স চান, তাহলে Nothing Phone (3) বা OnePlus 13R (যেখানে গ্লোবাল সফটওয়্যার আছে) অনেক বেশি যৌক্তিক কেনাকাটা। এদের সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স নির্ঝঞ্ঝাট এবং ক্যামেরা পারফরম্যান্সও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে মনে রাখতে হবে, এই বিকল্পগুলোর কোনোটিই কম্প্যাক্ট সাইজের নয়।
শেষ সিদ্ধান্ত তাই আপনার হাতে। আপনি যদি গ্লোবাল রমের নিশ্চিন্ততা এবং সাইজকে উপেক্ষা করতে পারেন, তাহলে Nothing বা OnePlus আপনার জন্য। কিন্তু যদি ছোট আকারের একটি দুরন্ত পারফর্মারই একমাত্র আপনার চাওয়া হয়, এবং নোটিফিকেশন সমস্যাকে পাত্তা না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন, তাহলেই শুধু ভিভো এস৫০ প্রো মিনি আপনার জন্য।





