ঠিক ধরেছেন, ফোনের দুনিয়ায় এবার এল Samsung Galaxy S26 Ultra। গত কয়েক বছর ধরে “এন্ড্রয়েড কিং” খেতাবটা ধরে রেখেছে Samsung-এর S সিরিজ। কিন্তু এবারের আপডেটটা শুনে অনেকেরই চোখ কপালে উঠেছে—চার্জিং 45W থেকে 60W হলো, ফোনটা একটু স্লিম আর হালকা হলো, আর সবচেয়ে বড় কথা, টাইটেনিয়াম ফ্রেম বাদ দিয়ে অ্যালুমিনিয়ামে ফিরে এসেছে কোম্পানি। হ্যাঁ, এটাই S26 Ultra-র বড় চেঞ্জ! তাহলে কি সত্যিই ফ্ল্যাগশিপ ফোন হিসেবে এটা কোনো চমক রাখে? নাকি শুধু পুরনো জিনিসই আরেকবার সাজিয়ে দেয়া হয়েছে? চলুন, একদম সোজা ভাষায় রিয়েল এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি।
Design & Build Quality
আগের S25 Ultra-র সাথে S26 Ultra দেখতে প্রায় একই রকম। চওড়া ফর্ম ফ্যাক্টরটা আমার ব্যক্তিগতভাবে তেমন পছন্দ না—আগের S সিরিজগুলো ছিল চিকন আর লম্বাটে, হাতে দারুণ লাগত। এবার ক্যামেরা লেআউটে একটু গরমিল এসেছে, ফোনের পেছনের দিকটা অনেকটাই Galaxy Z Fold-এর সাথে মিলিয়ে ডিজাইন করা। ভালো দিক হচ্ছে, S25 Ultra-তে যে “ফেক” ক্যামেরা লেন্স লাগানো হয়েছিল (যেটা একটু খোঁচা দিলেই উঠে আসত), সেটা এবার পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। চোখ বন্ধ করে বলতে পারি, S26 Ultra-র বিল্ড কোয়ালিটি কোনোভাবেই হতাশ করবে না।
হাতে নিলে বোঝা যায়, ফোনটা সত্যিই একটু হালকা আর স্লিম। Samsung Gorilla Glass Armor 2 ইউজ করেছে সামনে ও পেছনে। এই প্রটেকশনের কারণে দৈনন্দিন ব্যবহারে স্ক্র্যাচ পড়ার সম্ভাবনা অনেক কম। অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমটা Titanium-এর চেয়ে কিছুটা কম প্রিমিয়াম মনে হলেও, ডিউরেবিলিটিতে কোনো ছাড় দেয়নি। আগের S23 Ultra আর S24 Ultra আমি প্রায় স্ক্রিন প্রটেক্টর ছাড়াই চালিয়েছি—পকেটে চাবি, বালুকণা থাকার পরেও খুব কম স্ক্র্যাচ লেগেছে। S26 Ultra-ও সেই ধারায় আছে, তাই যারা একটু খসখসে পরিবেশে ফোন ইউজ করেন, তারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
পেছনের প্যানেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তেমন চোখে পড়ে না, বিশেষ করে আমাদের টেস্ট ইউনিটের কালারটায়। IP68 রেটিং তো ফ্ল্যাগশিপের জন্য মাস্ট, পানি আর ধুলো থেকে সুরক্ষা পুরোপুরি। তবে একটা জিনিস পাগলের মতো বিরক্ত করেছে—S Pen। এবারের S Pen-টা চ্যাপ্টা সেপের মতো, আগের মতো যেদিক দিয়ে খুশি ঢোকানো যাচ্ছে না। একটা নির্দিষ্ট এঙ্গেলে ঘুরিয়ে ঢোকাতে হয়। আর সবচেয়ে বেদনার বিষয়, S Pen-এ এখনো Bluetooth নেই! রিমোট শাটার বা এয়ার অ্যাকশনের জন্য যারা S Pen ইউজ করেন, তাদের জন্য এটা বড় ধাক্কা। Samsung কেন এতবার S Pen-কে পঙ্গু করে রাখছে, সেটা আমার মাথায় ঢোকে না।
Display Experience
Samsung-এর AMOLED 2X ডিসপ্লে বরাবরের মতো সুন্দর। ভাই, এই ডিসপ্লেটা দেখার পর অন্য ফোনের দিকে তাকাতে ইচ্ছা করে না। রঙের ভাইব্রেন্সি, ডিপ ব্ল্যাক, HDR10+ কন্টেন্ট দেখার মজাই আলাদা। তবে একটা জায়গায় Samsung-কে ধরা খাইতে হয়েছে—তারা এখনো 8-bit প্যানেল ইউজ করছে। অথচ এই দামের ফ্ল্যাগশিপে অনেক ব্র্যান্ডই 10-bit ডিসপ্লে দিচ্ছে। AMOLED-এর রাজা হয়েও এটা আসলেই হজম হয় না।
এবারের বড় চমক প্রাইভেসি ডিসপ্লে ফিচার। Samsung ডিসপ্লেতে দুই ধরনের পিক্সেল বসিয়েছে—narrow আর wide। আপনি যখন কোনো অ্যাপকে প্রাইভেসি মোডে সেট করেন, তখন ফোন কেবল narrow পিক্সেল গুলো অন করে, wide পিক্সেল বন্ধ রাখে। ফলে পাশে বসা কেউ স্ক্রিন দেখতে পারে না। ব্যাংকিং অ্যাপ, সিক্রেট চ্যাট, এমনকি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ইউজ করার সময় এই ফিচারটা এক কথায় অসাধারণ। iPhone-এ বাইরের প্রাইভেসি গ্লাস কিনতে হয়, এখানে সেটা ইন-বিল্ট।
তবে প্রাইভেসি মোডের ছোট একটা ডার্ক সাইড আছে। ডার্ক মোডে ইউজ করলে স্ক্রিনের রঙ একটু অদ্ভুতভাবে শিফট করে, আর ডিসপ্লের শার্পনেসও স্বাভাবিক মোডের চেয়ে কমে যায়। এটা স্বাভাবিক, তবু যারা সবসময় প্রাইভেসি মোডে থাকবেন, তাদের একটু খটকা লাগতে পারে।
আউটডোরে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস দারুণ, রোদের মধ্যে কন্টেন্ট দেখতে কোনো অসুবিধা হয়নি। স্টেরিও স্পিকার আর হ্যাপটিক ফিডব্যাকও টপ-নচ। সব মিলিয়ে ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স এখনো ফ্ল্যাগশিপ মার্কেটে সেরাদের মাঝে থাকবে, প্রাইভেসি ফিচারটা একটা দারুণ প্লাস পয়েন্ট।
Performance & Gaming
S26 Ultra-র ভেতরে আছে Snapdragon 8 Elite for Galaxy চিপসেট (আসলে Snapdragon 8 Gen 4-কে Elite বলা হচ্ছে)। আরও আছে LPDDR5X RAM আর UFS 4.0 স্টোরেজ। এই হার্ডওয়্যার কম্বিনেশন চরম পারফরম্যান্স দেয়, এবং সবচেয়ে বড় কথা—ওভারহিটিং নিয়ে কোনো প্যারা নাই। আমরা প্রায় এক মাস ধরে ফোনটাকে এক্সট্রিম ইউজ করেছি: ভারী গেম, মাল্টিটাস্কিং, ভিডিও এডিট, একনাগাড়ে ক্যামেরা ইউজ, সবকিছুতেই ফোন ঠান্ডা ছিল। গরম হয় বটে (Snapdragon-এর জন্য স্বাভাবিক), কিন্তু কখনো এমন হয়নি যে হাত পুড়ে যাবে বা ফোন থ্রটল করবে।
One UI 7-এর সাথে হার্ডওয়্যারের সিনার্জিটা অসাধারণ। গেমিংয়ে ফ্রেম ড্রপ প্রায় নাই, গ্রাফিক্স সেটিংস ম্যাক্সে রেখেও ফ্লুইড পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। Genshin Impact-এর মতো হেভি গেম 60fps-এ অনায়াসে খেলেছি। মাল্টিটাস্কিংয়ে অ্যাপ খোলা বন্ধ করার সময় কোনো ল্যাগ চোখে পড়ে না। এই স্ট্যাবিলিটি আর নির্ভরতা অন্য ফ্ল্যাগশিপে খুব একটা দেখা যায় না। অনেক ফোন স্পেসিফিকেশন যুদ্ধে জিতে গেলেও রিয়েল লাইফে ল্যাগ বা হিটিং ইস্যু ফেস করে। S26 Ultra সেদিক থেকে একদম পাকা খেলোয়াড়। পারফরম্যান্সের জন্য আমরা সত্যি খুশি।
Camera System
এখন ক্যামেরার পালা। স্পেকশিট দেখলে মন খারাপ হতেই পারে—Samsung S25 Ultra-র প্রায় হুবহু ক্যামেরা সেটআপই দিয়েছে S26 Ultra-তে। মেইন 200MP সেন্সর, সাথে আল্ট্রাওয়াইড আর দুইটা টেলিফটো লেন্স (3x ও 5x পেরিস্কোপ)। শুধু অ্যাপারচার ভ্যালুতে সামান্য ইম্প্রুভমেন্ট এসেছে, আর নতুন ISP-এর কারণে প্রোসেসিং একটু বেটার। কিন্তু এটাকে কোনোভাবেই “গেইম চেঞ্জার” বলার উপায় নেই।
রিয়েল ওয়ার্ল্ডে ছবিগুলো আগের থেকে সামান্য ভালো এসেছে—লো-লাইটে আগের চেয়ে বেশি লাইট সোর্সিং করতে পারে, ডিটেইলস ভালো। ডে-লাইটে ছবিগুলো একটু বেশি ব্রাইট, শ্যাডো পার্টে ডিটেইল বেড়েছে। তবে যে জিনিসটা Samsung-কে এখনো স্পেশাল বানায়, সেটা হলো কালার সায়েন্স। Oppo, Vivo-র ফ্ল্যাগশিপগুলো যেখানে ছবিকে বেশি পপি আর প্রসেসড করে তোলে (যেন ফটোশপ করা), Samsung ছবিগুলো ন্যাচারাল লুকের খুব কাছাকাছি রাখে। স্কিন টোন, আকাশের নীল—সবকিছুই বাস্তবের মতো লাগে। যারা ন্যাচারাল ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটা দারুণ খবর। পোর্ট্রেট মোডেও ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার নরম, এজ ডিটেকশন দারুণ।
ভিডিওর দুনিয়ায় S26 Ultra এবার একটা জিনিস এনেছে যা ভ্লগার আর অ্যাকশন ক্যামেরা ইউজারদের টেনে আনবে—Horizontal Lock। আপনি ফোন যেভাবেই ধরুন না কেন, ভিডিও ফ্রেম একটা নির্দিষ্ট হরাইজন্টাল পজিশনে লক থাকে। অ্যাকশন ক্যামেরায় এটা পুরনো ফিচার, কিন্তু Samsung এতটা নিখুঁতভাবে এনেছে যে ছোটখাটো নড়াচড়ায় ভিডিও একদম পেশাদার লাগে। যদিও এখানে একটু ক্রপ হয়, তবু আউটপুট দারুণ। তবে বেশিরভাগ সাধারণ ইউজারের কাছে এই ফিচার তেমন কাজে আসবে না, সেটা বলাই বাহুল্য।
আরও আছে APV Codec সাপোর্ট। যারা Log ভিডিও রেকর্ড করে প্রফেশনাল গ্রেড কালার গ্রেডিং করে, তারা এর গুরুত্ব বুঝবে। এটা কোনো সাধারণ ইউজারের জন্য নয়, কিন্তু সিনেমাটোগ্রাফারদের জন্য দারুণ সংযোজন।
ক্যামেরা অ্যাপের মধ্যে AI-র খেলাও আছে। AI Video Noise Remover বাইরের শব্দ চমৎকারভাবে কাটতে পারে, ফলে ভয়েস অনেক ক্লিয়ার শোনায়। আরও আছে টেক্সট কমান্ড দিয়ে ছবিতে অবজেক্ট যুক্ত করার ফিচার। আমরা টেস্ট করে দেখেছি—একটা বাইক বা গাড়ি যোগ করতে দিলে যথেষ্ট নির্ভুলভাবে বসিয়েছে। কিন্তু প্রায় 30% ক্ষেত্রে ইমেজের কোয়ালিটি একটু ড্রপ করে, পুরোপুরি নিখুঁত নয়। সার্কেল টু সার্চ বা ইমেজ ইরেজারের মতো কমন AI টুলগুলো দারুণ কাজ করে।
সব মিলিয়ে S26 Ultra-র ক্যামেরা নির্ভরযোগ্য, ন্যাচারাল, আর ভিডিওতে দুর্দান্ত স্টেবিলিটি দেয়। কিন্তু এই ফ্ল্যাগশিপ থেকে একটা “ওয়াও ফ্যাক্টর” আশা করছিলাম, যেটা পাইনি। প্রতিদ্বন্দ্বীরা যেখানে বড় সেন্সর বা একাধিক টেলিফটো এক করে ইনোভেশন দেখাচ্ছে, Samsung শুধু পুরনো জিনিসে হালকা পলিশ করে চালিয়ে দিয়েছে। এই দামে আরও ইনোভেটিভ ক্যামেরা পাওয়া যায়, সেটা ভুললে চলবে না।
Battery Life & Charging
ব্যাটারি নিয়ে শুরুতে ভয় ছিল। 5000mAh-র একই ক্ষমতা, সিলিকন-কার্বন ব্যাটারির যুগেও Samsung লিথিয়াম-আয়নেই আটকে। তবে রিয়েল ওয়ার্ল্ড ইউসে চমক লেগেছে। আমাদের টিম প্রায় এক মাস ফোনটা মিক্সড ইউসেজে চালিয়েছে—সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং, ক্যামেরা, আর রোজকার কাজ। সারাদিন আরামসে চলে গেছে, দিন শেষে ১৫-২০% চার্জও ছিল। পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে ঘোরার দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। তারপরও বলব, আপনি যদি একদম আল্ট্রা লেভেল ব্যাটারি ব্যাকআপ চান, যেমন সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ওয়ালা ফোনগুলো দিচ্ছে, তাহলে হয়তো একটু কম পাবেন। তবে অপটিমাইজেশনের জোরে Samsung যথেষ্ট ভালো ব্যাকআপ দিচ্ছে।
চার্জিং এখন 60W সুপার ফাস্ট চার্জিং 3.0 (SFC 3.0)। বক্সে চার্জার নেই, কিন্তু একটা QC 67W চার্জার কিনলে ফুল চার্জ হতে এক ঘন্টার মতো লাগে। ওভারহিটিং এর কোনো ঝামেলা পাইনি। ওয়্যারলেস চার্জিং তো আছেই। তবু Samsung-কে বলব, এবার সিলিকন-কার্বনের দিকে হাঁটো, নয়তো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাবে।
Software & Features
S26 Ultra কেনার সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে এর সফটওয়্যার। One UI 7 নিয়ে আলাদা করে ভালোবাসা উগরে দিতে ইচ্ছা করে। UI-টা এতটাই স্মুথ আর ইন্টুইটিভ যে ফোন ইউজ করাটাই একটা প্রশান্তির ব্যাপার হয়ে যায়। Samsung ৭ বছরের OS আপডেট আর সিকিউরিটি প্যাচ দিচ্ছে, মানে এই ফোন আপনি ২০৩১ সাল পর্যন্ত নির্ভাবনায় চালাতে পারবেন। এটা ফ্ল্যাগশিপের সাথে মানানসই।
ছোট ছোট কিন্তু দারুণ সব ফিচার এসেছে। হোম স্ক্রিনেই ফাইন্ডার সার্চ অপশন পাবেন, কোনো কিছু খোঁজা ভীষণ সহজ। স্ক্রিন রেকর্ডার এখন পুরা স্ক্রিনের বদলে নির্দিষ্ট জায়গা সিলেক্ট করে রেকর্ড করতে পারে। ইমেজ এডিটরে Layer এডিটিং সুবিধা এসেছে, যা ফটোশপের মতো ধাপে ধাপে ছবি সাজাতে দেয়। নোটিফিকেশন প্যানেলটা ইচ্ছেমতো সাজানো যায়। এই ছোট জিনিসগুলো প্রতিদিনের ব্যবহারে দারুণ কাজে দেয়।
এআই ফিচারগুলোর মধ্যে AI Video Noise Remover দারুণ কাজের, বাইরের ঝিঁঝি পোকার শব্দ বা যানবাহনের আওয়াজ কেটে ভয়েস ক্লিয়ার রাখে। টেক্সট দিয়ে ছবিতে নতুন জিনিস যোগ করাটা মজার, তবে ৩০% সময় কোয়ালিটি ড্রপ খায়। সার্কেল টু সার্চ, ইমেজ ইরেজার, ইন-অ্যাপ ভয়েস কমান্ড—এই জিনিসগুলো অসম্ভব স্মুথ। কিন্তু Samsung একক কোনো মাইন্ডব্লোয়িং এআই ফিচার আনেনি, যেটা দেখে লোকে বলবে “বাহ, এই কারণেই S26 Ultra কিনব।”
মূল কথা, ওয়ান ইউআই এখনো Android স্কিনের সোনার মানদণ্ড। যে কারণে মানুষ S24 Ultra থেকে আপগ্রেড না করে আটকে আছে, কারণ ওই একই নিরাপদ, পরিচিত, আর প্রফেশনাল UI সে পাচ্ছে। সফটওয়্যার ইজ দ্যা বিগেস্ট স্ট্রেংথ।
Final Verdict
Samsung Galaxy S26 Ultra নিঃসন্দেহে একটা চমৎকার ফোন। বিল্ড কোয়ালিটি টপ-নচ, ডিসপ্লে দুর্দান্ত, পারফরম্যান্স নির্ভরযোগ্য, আর সফটওয়্যার রাজ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটাই কি যথেষ্ট? এক লাখ বিশ হাজার টাকার আশেপাশে দাম পড়বে অফিশিয়ালি অ্যানাউন্স না হলেও (Samsung Galaxy S26 Ultra price in Bangladesh: এখনো অফিশিয়ালি ঘোষিত হয়নি, তবে প্রত্যাশিত দাম প্রায় ১,২০,০০০ টাকা)। এই বাজেটে আপনি আরও অনেক ফ্ল্যাগশিপ পাবেন, যারা চার্জিং, ক্যামেরা, ব্যাটারি টেকনোলজির দিকে আরও বড় ইনোভেশন এনেছে। Oppo, Vivo, এমনকি iPhone 17 Pro-এর দিকেও অনেকে ঝুঁকছে।
হ্যাঁ, যারা Samsung-এর ইকোসিস্টেমে আছেন, যারা One UI ছাড়া অন্যকিছু ভাবতে পারেন না, তাদের জন্য এখনো এটাই বেস্ট। কিন্তু গত তিন-চার বছরে S সিরিজে যে “রোমাঞ্চ” ছিল, সেটা ক্রমশ ফিকে হচ্ছে। S24 Ultra এখনো পর্যন্ত সেরা S সিরিজ বলে মনে হয় আমাদের টিমের অনেকের কাছে। S25 Ultra ছিল একই রকম, এবং S26 Ultra সেই ধারাতেই টেনে নিয়ে গেছে, শুধু চার্জিং 60W, একটু স্লিম ডিজাইন আর প্রাইভেসি ডিসপ্লে যোগ করে।
আপনি যদি S22 Ultra বা তার আগের কোনো ফোন ব্যবহার করেন, তাহলে আপগ্রেড করলে কিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন। কিন্তু যদি S23 Ultra বা S24 Ultra ব্যবহারকারী হন, তাহলে নতুন কিছু পাবেন না—এটাই নির্মম সত্য। Samsung আগামী S27 Ultra দিয়ে যদি বড় কোনো চমক না দেখায়, তাহলে “এন্ড্রয়েড কিং” খেতাবটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। তবে দিন শেষে, S26 Ultra এখনো একটা সেফ বেট—যেখানে আপনাকে হতাশ হতে হবে না, কিন্তু চোখ ধাঁধানো কোনো বিস্ময়ও অপেক্ষা করছে না। আপনার টাকা, আপনার পছন্দ। আমরা শুধু আয়না ধরে দেখাতে পারি আসল চেহারাটা।





