ছোট মরিচের ঝাল বেশি—এই কথাটা স্মার্টফোনের দুনিয়ায় খুব জমে। মানে, সাইজে ছোট কিন্তু ভেতরে পারফরম্যান্সের আগুন। Samsung Galaxy S26 হাতে নেওয়ার পর এই কথাটাই বারবার মনে পড়ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঝালটা কি আসলেই আগের মতো আছে, নাকি শুধু নামটাই বড়?
অনেক দিন ধরে Samsung-এর S সিরিজের বেস মডেলগুলো ছিল compact ফোনপ্রেমীদের কাছে একরকম লুকানো রত্ন। S22, S23, S24, S25—প্রত্যেকটাই নিজের সময়ে দারুণ ফোন ছিল। কিন্তু বাজারের হাওয়া এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। একছত্র রাজত্ব আর নেই। বিশেষ করে A সিরিজ আর flagship দুই জায়গাতেই Samsung কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে। আর S26? এই ফোনটা যেন সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নিজের জায়গা খুঁজছে। চলো, ভেঙে ভেঙে দেখি এই ছোট চ্যাম্পিয়ন আসলে কেমন।
Design & Build Quality
হাতে নেওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটা ভালো লেগেছে, সেটা হলো এর সিম্পল ডিজাইন। তোমার মনে হতে পারে, Samsung-এর Fold সিরিজের একটা অর্ধেক যেন এনে দেওয়া হয়েছে এখানে। এতটাই minimalistic যে একবার তাকালে চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না। গায়ের রংটাও খুব সাবলীল, চ্যাপটা ব্যাক প্যানেলের সাথে মানিয়ে যায় দারুণভাবে।
ফ্রেমটা অ্যালুমিনিয়াম আর সামনে-পেছনে Corning Gorilla Glass Victus 2-এর প্রোটেকশন। durability নিয়ে তাই চিন্তার কিছু নেই। IP68 রেটিং আছে, বৃষ্টিতে ভিজলেও সমস্যা নেই। 6.3 ইঞ্চির ডিসপ্লের কারণে ফোনটা লম্বাটে, চওড়া না। এই কারণেই এক হাতে ইউজ করা অনেক আরামদায়ক। যারা compact perfect সাইজের ফোন খোঁজেন, তাদের জন্য এই জিনিসটা বিশাল প্লাস পয়েন্ট। ওজনও বেশ হালকা আর ব্যালেন্সড।
তবে একদম খুঁতহীনও না। ফ্রেমের ধারগুলো একটু বেশি sharp লাগে হাতে। আমি যদি কাভার ছাড়া ইউজ করি, তাহলে কিছুক্ষণ পরই আঁচড়ের মতো অনুভূতি হয়। অবশ্য কাভার লাগালেই ব্যাপারটা মিটে যায়। কিন্তু এত slim ফোনের গায়ে মোটা কাভার চাপানোও কষ্টের। তারপরও build quality মোটের ওপর superb। ফ্ল্যাগশিপ ফোনের যে প্রিমিয়াম feel থাকা উচিত, সেটা পুরোপুরি আছে। আগের জেনারেশনের চেয়ে ফোনটা ভরাট মনে হয়, হাতে নিয়ে "ওয়াও" না হলেও "হুম, শক্ত আছে" ব্যাপারটা পরিষ্কার বোঝা যায়।
একটা ছোট observation: পেছনের ক্যামেরা মডিউলটা আগের মতোই প্রায় flush লাগে, আলাদা করে কোনো ক্যামেরা আইল্যান্ডের উঁচু প্ল্যাটফর্ম নেই। এই simplicity আমার ব্যক্তিগতভাবে দারুণ লাগে। এখনকার অনেক ফোনে বিশাল বৃত্তাকার মডিউল দেখতে দেখতে চোখ ক্লান্ত হয়ে গেছে।
Display Experience
Samsung-এর ডিসপ্লে মানেই তো একটা আলাদা লেভেলের আস্থা। S26 তেও সেটা ভাঙেনি। 6.3 ইঞ্চির এই Super AMOLED 2X প্যানেলটা এককথায় দুর্দান্ত। 120Hz refresh rate আর LTPO টেকনোলজি মানে স্ক্রিনের refresh ক্ষণে ক্ষণে দরকার মতো বদলে যাবে, তাতে ব্যাটারিও বাঁচবে আবার স্ক্রোলিংয়ের মসৃণতাও থাকবে।
রংগুলো একদম টিপিক্যাল Samsung-স্টাইলে একটু বেশি saturated লাগতে পারে। তবে সেটা কখনো বিরক্তিকর নয়। HDR কনটেন্ট দেখার সময় বা গেমিংয়ে ডিসপ্লেটা সত্যিই প্রাণবন্ত। সূর্যের নিচেও ব্রাইটনেস যথেষ্ট, বাইরে বের করে কনটেন্ট দেখতে সমস্যা হয়নি। bezel গুলো আগের চেয়ে একটু কমিয়েছে বলে মনে হয়। তবে আমি যখন কিছু চাইনিজ ফোন যেমন Infinix-এর Zero সিরিজ বা Tecno-এর কিছু মডেলের bezel দেখি, তখন S26-কে মোটা বলে মন হয়। ওরা সত্যিই একটু বেশি চিকন করে ফেলেছে। তারপরও এটা কোনো deal breaker না, বরং গুড এনাফ বলা যায়।
আরও দারুণ জিনিস হলো ultrasonic fingerprint sensor। ডিসপ্লের মধ্যেই নিচের দিকে ঠিকঠাক জায়গায় আছে। ফোনটা একটু ভেজা হাতে আনলক করলেও কাজ করে। এটা সত্যি সুবিধাজনক।
কিন্তু একটা ইস্যু ছিল: আমি খেয়াল করেছি, বিশেষ কিছু অ্যাপ থেকে বা গ্যালারি থেকে ব্যাক করার সময় display বা UI আটকে যাচ্ছে। return key বেশ কয়েকবার চাপার পর কাজ করছে। এটা খুব ইরিটেটিং। ফেসবুকে ভিডিও দেখার পর বেরিয়ে এলেও অডিও বাজতেই থাকে, যতক্ষণ না সব রিসেন্ট অ্যাপ ক্লিয়ার করছি। মজার ব্যাপার, রিসেন্ট থেকে ফেসবুক সরানোর পরও অডিও চলছিল! এগুলো সফটওয়্যারের বাগ, যা আপডেট দিয়ে ঠিক হবে আশা করছি। তারপরও ফোন ইউজের মধ্যে এই ছোট ছোট জিনিসগুলো মাঝেমধ্যে শান্তি নষ্ট করে দেয়।
Performance & Gaming
এবার আসি সবচেয়ে তুমুল আলোচিত অংশে—Exynos 2600। Samsung যেন নিজের পায়ে কুড়াল মারার কাজটা করে চলেছে। S26 Ultra-তে যেখানে বিশ্বব্যাপী চাপে Snapdragon 8 Elite for Galaxy দিয়েছে, সেখানে S26 কে ধরিয়ে দিয়েছে নিজস্ব Exynos 2600। এটা কিন্তু অনেকের কাছেই বড় একটা deal breaker। কারণ বাংলাদেশের বাজারে বেশিরভাগ মানুষ Snapdragon চিপ খোঁজে, অন্তত flagship বাজেটে।
Exynos 2600-কে 2nm architecture-এ বানানো হয়েছে, মোবাইল চিপসেটের জগতে এটা ফার্স্ট। প্রসেসিং নোড নাম্বার যত ছোট হয়, চিপ তত আধুনিক আর কম পাওয়ার নেয় (এটা একটু ভেঙে বলি: চিপের ভেতরের ট্রানজিস্টরগুলো যত ছোট হয়, কাজ তত দ্রুত ও কম গরম হয়)। এই হিসেবে চিপটা অনেক advance.
Benchmark স্কোরে দেখলাম, Snapdragon 8 Gen 4-এর কাছাকাছি স্কোর আসছে। অঙ্কে তো ভালোই। কিন্তু বাস্তব জীবন কেমন?
এক ঘণ্টা PUBG খেললাম। 120FPS-এ খুব smooth চলছিল প্রথম 20 মিনিট। কিন্তু তারপরই ফ্রেমের পাশটা গরম হতে শুরু করল আর কিছুটা frame drop দেখতে পেলাম। Genshin Impact-এও একই অবস্থা। 10-15 মিনিট টপ পারফরম্যান্সের পর heat wave এলেই performance-এ দৃশ্যমান কমতি ধরল। ছোট ফোন হওয়ায় গরম হওয়াটা স্বাভাবিক, যেকোনো ব্র্যান্ডের জন্যই। কিন্তু Exynos যেন একটু বেশিই গরম করছে। overheating না, কিন্তু থ্রটলিংয়ের কারণে গেমিংয়ের মজা পুরোটা নেওয়া গেল না।
আরও একটা চমকপ্রদ ঝামেলা পেয়েছি netwrok ও Wi-Fi-তে। এই flagship দামের ফোনের Wi-Fi coverage ৩০ হাজার টাকার একটা Tecno Pova-র চেয়েও দুর্বল মনে হয়েছে। যেখানে সেই ফোনে Wi-Fi সিগন্যাল ধরা যাচ্ছে, সেখানে S26 কোনো নেটওয়ার্কই পাচ্ছে না। এতে মনে হয় Exynos-এর modem দুর্বল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কানেক্টিভিটিতে। এটা ৮৮ হাজার টাকার ফোনের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন।
তবে নেটওয়ার্ক নিয়ে একটা ভালো দিকও দেখলাম। বর্তমানে কিছু জায়গায় যেখানে আগে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল পেতাম, যেমন বেজমেন্ট বা ঘন দালানের ভেতর, সেখানে এখন কিছুটা ভালো সিগন্যাল পাচ্ছি। এটা কিন্তু আসলে গ্রামীণফোনের 700MHz spectrum-এর গুণ। এই spectrum-এর ব্যান্ড দালানের কোনায় কোনায় খুব সহজে ঢুকতে পারে। যারা গ্রামে বা ঢাকার ঘনবসতি এলাকায় থাকেন, তাদের জন্য দারুণ খবর। তবে এটা S26-এর নিজস্ব কোনো কৃতিত্ব নয়, বরং নেটওয়ার্ক ক্যারিয়ারের উন্নতি। তবু ফোন হিসেবে এই সুবিধাটা তো পাচ্ছো। আর VoLTE অন থাকলে কল কোয়ালিটিও দারুণ আসে, ব্যাটারিও কম খরচ হয়। অধিকাংশ আধুনিক ফোনেই এটা থাকে।
Camera System
ক্যামেরা সেটআপটা কিন্তু একদম চেনা। Samsung আবারও একই 50MP main + 12MP ultrawide + 10MP 3x telephoto দিয়ে দিয়েছে। আগের দুই প্রজন্মের মতোই। কোনও hardware upgrade নেই।
তবে main camera দিয়ে বেশ কিছু extraordinary ছবি তুলতে পেরেছি। দিনের আলোয় sharpness, colour science, dynamic range সবই বেশ ভালো। কিছু ফটো একদম জোস লেভেলের উঠেছে। কম আলোতেও main camera ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু একইসঙ্গে telephoto lens নিয়ে খুব একজন সন্তুষ্ট না। ৩x অপটিক্যাল জুমে ছবি ঠিকই ওঠে, কিন্তু detail অনেক সময় নরম হয়ে যায়। আর পোর্ট্রেট মোডে গিয়ে যে একটা ফ্যাকাশে সাদা লেয়ার পড়ে যায়, সেটা S25 বা S24 Ultra-তেও দেখা যেত—হায়, S26-এর বেস ভেরিয়েন্টেও তাই থাকল।
ultrawide আগের চেয়ে তেমন jump করতে পারেনি। অথচ বর্তমানে অনেক ব্র্যান্ড 50MP ultrawide দিচ্ছে, যেগুলো তুলনামূলক অনেক সুপিরিয়র। এক-দুই বছর আগেও বলতাম, এই ultrawide ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের। কিন্তু রেস যেভাবে এগিয়েছে, এখন S26 এর ultrawide বেশ খানিকটা পিছিয়ে।
হ্যাঁ, software ও image signal processor দিয়ে Samsung কিছু উন্নতি ঘটিয়েছে। একথা অস্বীকার করব না। কিন্তু দামের তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পিছিয়ে। বিশেষ করে Vivo X300 Pro Mini বা Vivo X200 Pro-র মতো ক্যামেরা-কেন্দ্রিক ফোনের সাথে তুলনা করলেই চোখে পড়ে। ওদের ক্যামেরা এতটা এগিয়ে গেছে যে Samsung যেন নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পিছিয়ে পড়ছে।
Selfie ক্যামেরা flagship হিসেবে ঠিকঠাক আছে বলা যায়। বেশ ভালো ভালো ছবি দেয়। ন্যাচারাল স্কিন টোন, ভালো ডিটেইল। ভিডিওর ক্ষেত্রে, main camera 8K 30fps আর সব লেন্সেই 4K 60fps ভিডিও তোলা যায়। স্ট্যাবিলাইজেশনও দুর্দান্ত। ভিডিওর জগতে iPhone-এর পরপরই Samsung-এর জায়গা। এটা অনস্বীকার্য। ভিডিওগ্রাফারদের জন্য কনফিডেন্ট রেজাল্ট পাওয়া যাবে। কিন্তু তাও বলব, মডার্ন ক্যামেরা সেন্ট্রিক ফোনের ছবি যেভাবে মুগ্ধ করে, S26 ততটা পেরে ওঠেনি। ক্যামেরা খারাপ না, কিন্তু "এই দামে তো এর চেয়েও ভালো পাওয়ার কথা" — এই চিন্তাটা মাথায় ঘুরপাক খায়।
Battery Life & Charging
ব্যাটারি প্রসঙ্গে আসলে একটু হতাশই হতে হয়। S26-এ ব্যাটারি ক্যাপাসিটি 4300mAh। আগের বেস মডেলের চেয়ে 300mAh বেড়েছে বটে, কিন্তু প্রতিযোগীরা 1000, 1500, 2000mAh বেশি ধরে বসে আছে।
ভালো কথা: সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন দারুণ। One UI আর Exynos 2600 মিলে mid to heavy ইউসেজে 6 থেকে 7 ঘণ্টার মতো Screen On Time (SOT) দিচ্ছে। এই ক্যাপাসিটির হিসেবে এটাকে ভালো বলতেই হবে। কিন্তু যথেষ্ট নয়। কারণ একই দামের অন্য ফোনগুলো 8-9 ঘণ্টা SOT আরামে দিয়ে দিচ্ছে। ফলে সন্ধ্যার মধ্যেই চার্জার খুঁজতে হয়। 4300mAh নিয়ে সারাদিন নির্ভার থাকা যাবে না।
চার্জিং স্পিডও Samsung-এর চিরন্তন দুর্বলতা। এখনও 25W wired charging! 2025 সালেও?! ফুল চার্জ হতে এক ঘণ্টা 20 মিনিট লেগে যায়। অথচ অন্যরা 100W, 120W দিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। Wireless charging 15W-তে আটকে আছে। সবমিলিয়ে চার্জিং এক্সপেরিয়েন্সে একেবারে পিছনের সারিতে।
একটু ভালো দিক খুঁজতে গেলে বলব, ব্যাটারি ড্রেনিংয়ে একটু উন্নতি হয়েছে নেটওয়ার্ক স্টেবিলিটির কারণে। কিন্তু তবুও মূল লড়াইয়ে এটা একধাপ পিছিয়ে।
Software & Features
Samsung-এর One UI এখন Android এর দুনিয়ায় আমার মতে সবচেয়ে পছন্দের স্কিন। S26-এ এসেছে One UI 8.5। এটা দারুণ স্মুথ আর feature packed। আর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি: ৭ জেনারেশন OS আপডেট আর ৭ বছরের সিকিউরিটি আপডেট। মানে তুমি চাইলে ফোনটা 2032 সাল পর্যন্ত ইউজ করতে পারবে, আর সেটা অন্য কোনো মেইনস্ট্রিম ব্র্যান্ড দেয় না। এটা ভেবে শান্তি পাওয়া যায়।
কিন্তু সফটওয়্যারে বাগের কথা আগেই বলেছি। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ থেকে ব্যাক আসার সময় আটকে যাওয়া, ফেসবুকের অডিও ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে যাওয়া—এসব ফার্স্ট ইম্প্রেশনে খারাপ প্রভাব ফেলে।
তবে Samsung Galaxy AI ফিচারগুলো সত্যি চমৎকার। ফটো এডিটিং, কল ট্রান্সলেশন, সামারাইজ—এসব এআই জিনিস ইউজ করে বেশ মজা পাইছি। iPhone তো এই জায়গায় এখনো অনেক পিছিয়ে। ক্যামেরায় Horizon Lock নামে একটা দারুণ জিনিস এসেছে Ultra-র পর বেস মডেলে, ভিডিও শুটিংকে দারুণ স্টেবল করে।
কিন্তু Ultra-র সাথে বেস মডেলের বৈষম্যটাও প্রকট। Anti reflective coating যা S26 Ultra-তে আছে, সেটা এখানে দেওয়া হয়নি। প্রাইভেসি ডিসপ্লের ফিচারটাও Ultra-তেই এক্সক্লুসিভ। অথচ এই ফিচারগুলোই সাধারণ ইউজারদের বেস মডেলের দিকে টানতে পারত। এখন শুধু কম্প্যাক্ট সাইজ আর One UI-ই বড় টান, যা ভিন্ন কিছু নয়।
Final Verdict
Samsung Galaxy S26—এই ফোনটা আসলে একটা ভীষণ confusing অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। ছোট আকারের ফ্ল্যাগশিপ ফোন হিসেবে একে সরাসরি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, এটা বড় সত্য। কিন্তু বাকি সব জায়গায় এত বেশি আপস করতে হয়েছে যে কিনতে ইচ্ছে করবে কিনা, সেটাই ভাববার বিষয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে Samsung Galaxy S26 price in Bangladesh অফিশিয়ালি প্রায় BDT 128,499। তবে আনঅফিসিয়াল বাজারে 12GB+256GB ভেরিয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে BDT 88,000-এর আশেপাশে। এই ৮৮ হাজার টাকায় কিন্তু বাজারে বেশ কিছু দারুণ বিকল্প আছে। Vivo S50 Pro Mini (যার গ্লোবাল ভার্সন X300 Pro) একই ক্যাটাগরির কম্প্যাক্ট ফোন, আবার কম টাকায়ও পাওয়া যায়। একইভাবে Vivo X300 Pro, Oppo Find X9, এমনকি Pixel সিরিজের সাথেও কঠিন টক্কর দিতে হবে S26-কে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা Exynos 2600-এর কারণে অতিরিক্ত গরম করা আর নেটওয়ার্কের দুর্বলতা। এর সঙ্গে ক্যামেরায় কোনো বড় আপগ্রেড নেই, ব্যাটারি ও চার্জিং স্পিডে প্রতিযোগিতার ধারেকাছেও নেই। সফটওয়্যার আর ডিজাইন ভালো হলেও, একটা flagship ফোন শুধু দেখতে ভালো আর মসৃণ UI দিয়ে বাজারে টিকে থাকে না। দরকার consistent পারফরম্যান্স আর ভ্যালু। আর সেটা S26 দিতে পারছে কিনা, সেই সংশয় থেকে যাচ্ছে।
যদি তুমি একান্তই ছোট ফোনপ্রেমী হও, এক হাতে ইউজ করার মজাটা অন্য কিছুর বিনিময়ে দিতে চাও না, দীর্ঘদিন আপডেট দরকার, আর Samsung-এর ইকোসিস্টেম পছন্দ করো—তবেই S26 তোমার জন্য ভাবা যেতে পারে। কিন্তু এটাও মনে রেখো, প্রথম কিছু মাস দাম চড়া থাকবে। এরপর সম্ভবত দাম একটু পড়লে "হিডেন জেম" হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। আপাতত অবস্থায়, দাম আর পারফরম্যান্সের যে মেলবন্ধন থাকা দরকার, সেটা পুরোপুরি অনুপস্থিত। Samsung-এর উচিত সামনেরবার এস সিরিজে সত্যিকারের ভ্যালু ও বড় আপগ্রেড নিয়ে আসা। নইলে “দুমস ডে” এখন আর গল্পের বিষয় থাকবে না।





