Samsung Galaxy A37 5G স্মার্টফোন মার্কেটে বেশ আলোচিত একটি নাম। Samsung তাদের জনপ্রিয় A সিরিজে নতুন এই মিড-রেঞ্জ ডিভাইসটি এনেছে, যেখানে 5G কানেক্টিভিটি, দারুণ ডিসপ্লে এবং ক্লিন সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্সকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফোনটি নিজে ব্যবহার করে ঠিক যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটাই সবার সাথে শেয়ার করছি। বন্ধুর মত করে বলছি– সবকিছু ফিচার লিস্টের বাইরে গিয়ে রিয়েল লাইফে কেমন।
Design & Build Quality
বক্স খোলার প্রথম অনুভূতি
ফোনটা হাতে নেওয়ার প্রথম মুহূর্তেই মনে হবে, Samsung তাদের ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজে বেশ ম্যাচিউরড। Galaxy A37 5G এক কথায় স্লিম এবং হালকা। “Symmetrical visual area” বলতে Samsung ক্যামেরা মডিউল ও বেজেলের ব্যালেন্স ঠিক রেখেছে, যাতে ফোনটা সামনে-পেছনে সমান দৃষ্টিনন্দন লাগে। আমি যখন প্রথমবার এটি হাতে নিই, তখন পকেটে রাখার বা একহাতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হয়নি। ফোনের কার্ভড এজ এবং ফ্ল্যাট ফ্রেমের মিশ্রণ গ্রিপ দারুণ করেছে।
বিল্ড ম্যাটারিয়াল ও ফিনিশিং
এই প্রাইস পয়েন্টে গ্লাস ব্যাক আশা না করাই ভালো, Galaxy A37 5G এসেছে প্লাস্টিক ব্যাক প্যানেল দিয়ে। তবে ফিনিশিং এতটাই প্রিমিয়াম যে প্রথম দেখায় চকচকে গ্লাস বলে ভুল হতে পারে। ফ্রেমটাও পলিকার্বোনেট, কিন্তু দারুণ সলিড ফিল দেয়। ডাস্ট বা আঙুলের দাগ একদমই পড়ে না এমন ম্যাট ফিনিশ পেয়েছি, যা স্কুল বা কলেজ পড়ুয়াদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর পাওয়ার বাটনের সাথে ইন্টিগ্রেটেড— আনলক স্পিড দারুণ, রাস্তায় দাঁড়িয়ে এক সেকেন্ডে ফোন ওপেন করা যায়। ওজন প্রায় ১৮৫ গ্রামের মতো, সারাদিন ইউটিউব দেখলেও হাতে ব্যথা ধরবে না।
পোর্ট ও বাটন প্লেসমেন্ট
নিচের দিকে USB Type-C পোর্ট, পাশে স্পিকার গ্রিল এবং উপরে সিম ট্রে। 3.5mm হেডফোন জ্যাক নেই, যা হয়তো কারো কারো কাছে ছোট্ট অসুবিধা লাগতে পারে। তবে এক্সটারনাল স্পিকার লাউড এবং ক্লিয়ার, তাই হেডফোন ছাড়াও কন্টেন্ট এনজয় করা যায়। ডিজাইন সিমেট্রিক্যাল হওয়ায় ফোন টেবিলে রেখে টাইপ করলেও টলমল করে না— এটা আমার বেশ ভালো লেগেছে।
Display Experience
Super AMOLED প্যানেল ও ফুল এইচডি রেজুলিউশন
Samsung Galaxy A37 5G এর ডিসপ্লে অভিজ্ঞতা আমি বলবো এই দামের সেরাদের একটি। 6.6 ইঞ্চি Super AMOLED প্যানেল, FHD+ রেজুলিউশন, আর টপ সেন্টারে ছোট্ট পাঞ্চ-হোল কাটআউট—এই কম্বিনেশনে ভিডিও দেখার আনন্দ আলাদা লেভেলের। AMOLED হবার সুবাদে ডিপ ব্ল্যাক এবং ভাইব্রেন্ট কালার পাবেন, ইনস্টাগ্রাম রিলস বা ইউটিউব ভিডিওর প্রতিটা ফ্রেম যেন জীবন্ত লাগে। PPI (পিক্সেল পার ইঞ্চি ডেনসিটি) যথেষ্ট বেশি, ফলে ছোট ফন্টেও লেখা ধারালো, ই-বুক পড়তে কোনও অসুবিধা হয় না। এক কথায়, কন্টেন্ট কনজাম্পশনের জন্য দারুণ একটি স্ক্রিন।
90Hz রিফ্রেশ রেট কতটা কার্যকর
হাই রিফ্রেশ রেট এখন টিনেজারদের কাছে বেসিক চাহিদা। এখানে 90Hz প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। 120Hz না পেলেও আমি বলবো, বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য 90Hz একেবারে আদর্শ। UI স্ক্রোলিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং এবং নরমাল অ্যানিমেশন সবই ফ্লুইড লাগে। One UI 8.5 এর সাথে 90Hz পারফেক্টলি টিউন করা, কোন স্টাটারিং বা ফ্রেম ড্রপ চোখে পড়েনি। গেমিংও এক্সপেরিয়েন্স স্মুথ, তবে ডিম্যান্ডিং গেইমে 90Hz ততটা কার্যকর থাকে না, এটা পরে বলছি।
আউটডোর ভিজিবিলিটি ও টাচ রেসপন্স
সূর্যের নিচে ডিসপ্লের পিক ব্রাইটনেস মোটামুটি। 800 nits-এর আশপাশে উজ্জ্বলতা মাপা যেতে পারে, যা ডিরেক্ট সানলাইটে কিছুটা লড়াই করে। কিন্তু একটু ছায়ায় গেলেই সব পরিষ্কার। ইনডোরে তো দারুণ। টাচ রেসপন্স যথেষ্ট সেনসিটিভ, আমি PUBG-তেও কোন টাচ ল্যাগ ফিল করিনি। গ্লাভ মোড নেই, তবে ভেজা হাতেও টাচ মোটামুটি কাজ করে— বৃষ্টির দিনে এটা ছোট্ট কিন্তু কাজের ফিচার।
Performance & Gaming
প্রসেসর ও দৈনন্দিন ব্যবহার
Galaxy A37 5G-কে পাওয়ার দিচ্ছে একটি মিড-রেঞ্জ 5G প্রসেসর (সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী Dimensity 6300 বা সমতুল্য চিপসেট, কিন্তু মডেল নম্বর সব মার্কেটে নিশ্চিত নয়)। গুরুত্বপূর্ণ হলো এর পারফরম্যান্স। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইউটিউব, গুগল ড্রাইভ— এই সব কাজ একসাথে করলেও ফোন ফাস্ট, কোন রকম ল্যাগ ছাড়াই চলে। মাল্টিটাস্কিংয়ে 6GB/8GB RAM যথেষ্ট ভালো সাপোর্ট দেয়, অ্যাপ রিলোড না করে ব্যাকগ্রাউন্ডে ধরে রাখতে পারে। UFS 3.1 স্টোরেজের কারণে অ্যাপ ওপেন এবং ডেটা ট্রান্সফারের গতি প্রশংসনীয়। আমি যখন ক্লাস নোট শেয়ার করি বা বড় ফাইল ব্লুটুথে পাঠাই, কোনো অপেক্ষা করতে হয়নি।
রিয়েল-ওয়ার্ল্ড গেমিং টেস্ট
এখন আসি গেইমিংয়ে— যেটা বন্ধুরা সবচেয়ে বেশি জানতে চায়। আমি PUBG Mobile এবং Free Fire দুটোই ইনটেন্সলি খেলেছি।
PUBG-তে Balanced গ্রাফিক্স এবং Medium ফ্রেমরেটে গেমপ্লে বেটার, Smooth+Extreme চাইলেও রিয়েলি স্টেবল থাকে না। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট একটানা খেলার পর ফোন গরম হতে শুরু করে এবং পারফরম্যান্সে ছোট ড্রপ আসে। মানে গ্রাফিক্স-হেভি সিচুয়েশনে সামান্য ফ্রেম ড্রপ পাবেন। Free Fire তেমন ডিমান্ডিং না, তাই ম্যাক্স সেটিংসেও স্মুথ চলে, তবে তবুও লম্বা সেশনে ব্যাক প্যানেল গরম হবে। আমি বলব, রেগুলার ক্যাজুয়াল গেইমিংয়ের জন্য ফোনটি দারুণ, কিন্তু যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টুর্নামেন্ট খেলবে বা হাই গ্রাফিক্স অ্যাকশন গেম স্ট্রিম করবে, তাদের জন্য এটি প্রায়োরিটি না। এই বাজেটে চীনা ব্র্যান্ডগুলো গেইমিং পারফরম্যান্সে এগিয়ে আছে, সেটা মেনে নিতেই হবে। তবে হ্যাঁ, দৈনন্দিন স্পিড আর স্কুলের অনলাইন ক্লাসের জন্য একদম ঠিকঠাক।
থার্মাল ম্যানেজমেন্ট ও সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন
One UI 8.5 নিজে থেকেই রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ভালো করে, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলো দরকার মতো স্লিপ করায়। Samsung-এর Game Launcher আলাদা করে পারফরম্যান্স মোড সেট করার সুযোগ দেয় না বটে, কিন্তু এক্সট্রা ফিচারগুলোর মধ্যে স্ক্রিন রেকর্ড ও কল ব্লকিং ভালো। গরম হবার পরও Wi-Fi বা সেলুলার কানেক্টিভিটি স্টেবল ছিল, এটা Samsung ফোনের একটা পজিটিভ পয়েন্ট।
Camera System
প্রধান ক্যামেরা: 50MP সেন্সরের জাদু
Samsung Galaxy A37 5G এর রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ— 50MP প্রধান ক্যামেরা, 8MP আল্ট্রাওয়াইড, এবং 5MP ম্যাক্রো। টেলিফটো লেন্স নেই, কিন্তু আমি মূল ক্যামেরাটি দারুণ এনজয় করেছি। ডে-লাইট ফটোগ্রাফিতে শার্পনেস, ডিটেইল এবং ডাইনামিক রেঞ্জ একসাথে অসাধারণ। ছবির কালার সায়েন্স একটু পাঞ্চি, কিন্তু ন্যাচারালিটি পুরোপুরি নষ্ট হয় না। এই ফোনের মূল ক্যামেরা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া-রেডি ছবি দেয়— আলাদা করে এডিট করতে হয় না বললেই চলে। HDR মোড অটোতে ভালো কাজ করে, আকাশ এবং ছায়ার ডিটেইল দুটোই আলাদা রাখতে পারে।
লো-লাইট কন্ডিশনে কনট্রাস্ট মোটামুটি, নয়েজ কিছুটা দেখা যায়, কিন্তু ফটো গ্রেইনি না। Night Mode ম্যানুয়ালি অন করলে ব্রাইটনেস বাড়ে, তবে ডিটেইল একটু সফট হয়। আমি সন্ধ্যার বাজারের ছবি তুলেছি, তাও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার জন্য যথেষ্ট ভালো এসেছে।
আল্ট্রাওয়াইড ও ম্যাক্রো ক্যামেরা: মিক্সড এক্সপেরিয়েন্স
8MP আল্ট্রাওয়াইড লেন্সে গিয়ে একটু হতাশ হয়েছি যদি সৎভাবে বলি। আউটডোরে পর্যাপ্ত আলো থাকলে ওয়াইড এঙ্গেল শট নেওয়া মজার, কিন্তু ছবির চারপাশে ফিশ-আই ডিস্টরশন বেশ প্রকট। বিল্ডিং বা লম্বা গাছের ছবি তুললে পাশের লাইন বাকা মনে হবে। ইন্ডোরে ওয়াইড শটে শার্পনেস আরও কমে, একটু নয়েজি লাগে। 5MP ম্যাক্রো ক্যামেরা ফান এলিমেন্ট, কিন্তু খুব কাছ থেকে ফুল বা খাবারের ছবিতে যতটা ডিটেইল চাওয়া যায়, ততটা দেয় না। মূল কথা– আল্ট্রাওয়াইডের ডিস্টরশন ইশ্যু ফটোগ্রাফি লাভারদের কাছে বড় সমস্যা, তবে গ্রুপ সেলফি নিতে কাজে লাগে।
পোর্ট্রেট ও সেলফি পারফরম্যান্স
পোর্ট্রেট মোড-এ 1X এবং 2X দুই অপশনই পাবেন। Edge Detection যথেষ্ট ইমপ্রুভড, চুলের কিনারা ব্লার এড়াতে পারে বেটার। ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার ন্যাচারাল, স্তর ভেদে অ্যাডজাস্ট করা যায়। সেলফির জন্য 12MP ফ্রন্ট ক্যামেরা আছে। দিনে দুর্দান্ত বিস্তারিত, স্কিন টোন কিছুটা ওয়ারম, আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেছি। স্যামসাং তাদের বিউটিফিকেশন মোড বাই ডিফল্ট হালকা রাখে, যা বাস্তব চেহারা ধরে রাখে। গ্রুপ সেলফিতেও কোলর ব্যালেন্স ঠিক থাকে— ডার্ক স্কিন টোন উজ্জ্বল কিন্তু কৃত্রিম না।
ভিডিও রেকর্ডিং: 4K 30fps কিন্তু 60fps-এর অভাব
এটাই সেই জায়গা যেখানে ফোন একটু আটকে যায়। রিয়ার মেইন ক্যামেরা ও ফ্রন্ট ক্যামেরা দুটোই 4K 30fps ভিডিও রেকর্ড করে, কিন্তু কোন 60fps অপশন নেই। মোশন স্লোমো পছন্দ করলে এটা বড় ধাক্কা। 4K-র শার্পনেস ও স্ট্যাবিলাইজেশন মোটামুটি ঠিকঠাক, দ্রুত হাঁটলে ইলেক্ট্রনিক স্ট্যাবিলাইজেশন চেষ্টা করে কিন্তু একটু জেলো ইফেক্ট থেকে যায়। কালার ভিডিওতে স্টিল ফটোর চেয়ে বেশি ওয়ারম; অনেকের চোখে সেটা প্লেজেন্ট, আবার কারো কাছে ভারসাম্যহীন। 1080p 30fps অপশন আছে, কিন্তু 60fps-এর অনুপস্থিতি কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় মাইনাস পয়েন্ট। যদি তুমি টিকটক বা ইউটিউব শর্টস তৈরি করো যেখানে স্মুথ মোশন জরুরি, তাহলে এটা বিবেচনায় রাখবে।
সামগ্রিক ক্যামেরা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলব— এভারেজ ইউজারের চাহিদা মেটাতে পারদর্শী, বিশেষত মেইন ক্যামেরা। তবে আল্ট্রাওয়াইড ডিস্টরশন আর 60fps-র অভাব তাকে ফটোগ্রাফি কিং বা ভ্লগার ফ্রেন্ডলি বানায়নি।
Battery Life & Charging
5000mAh ব্যাটারির বাস্তব জীবন
5000mAh ব্যাটারি আজকাল মিড-রেঞ্জ ফোনের স্ট্যান্ডার্ড, Galaxy A37 5G তাতে ব্যতিক্রম নয়। আমার টিপিক্যাল ইউসেজে (সারাদিন Wi-Fi, ব্লুটুথ অন, ২-৩ ঘণ্টা ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, মাঝে মাঝে গেইমিং) ফোন সারা দিন শেষে ২০-২৫% চার্জ নিয়ে বেঁচে ছিল। স্ক্রিন-অন টাইম ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সহজেই টাচ করি। কলেজের ছাত্ররা ক্লাস ল্যাপটপের বিকল্পে ফোনে নোট করলেও একদিনের চিন্তা থাকবে না। ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে AMOLED-এর সুবাদে ব্যাটারি সাশ্রয় হয়, ডার্ক মোড আরও বাড়তি সময় দেয়।
চার্জিং স্পিড: ফাস্ট বাট নট আল্ট্রা-ফাস্ট
চার্জিং এর জন্যই 25W ফাস্ট চার্জ সাপোর্ট আছে, কিন্তু বক্সে চার্জার নেই— যা এখন Samsung-এর নীতি। 25W অ্যাডাপ্টার কিনে ব্যবহার করলে ০ থেকে ১০০% ফুল চার্জ হতে সময় নেয় ঘণ্টা দেড়েকের মত। ৫০% চার্জ পেতে ৩০-৩৫ মিনিট লাগে। চীনা প্রতিযোগীরা যেখানে 67W বা 80W চার্জিং দিচ্ছে, সেখানে Samsung কিছুটা পিছিয়ে। তবে স্লো চার্জ ব্যাটারির লং টার্ম হেলথের জন্য ভালো এটা বলা যায়। গরমের দিনে চার্জিং স্পিড কমানোর কোন ঘটনা চোখে পড়েনি, থার্মাল ম্যানেজমেন্ট ঠিকঠাক। ওয়্যারলেস চার্জিং ফিচারটি অনুপস্থিত।
Software & Features
One UI 8.5 ও Android 16-এর স্বাদ
Galaxy A37 5G বক্স থেকেই Android 16-এর ওপর One UI 8.5 রান করছে। স্যামসাং-এর কাস্টম স্কিন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অপটিমাইজড। অ্যানিমেশন স্ন্যাপি, ট্রানজিশন স্মুথ। লক স্ক্রিন কাস্টমাইজেশন, নোটিফিকেশন ম্যানেজমেন্ট, উইজেট পেজ— সবই জেনারেশন জেড-ফ্রেন্ডলি। Good Lock মডিউল ইউজ করে ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে একদম নিজের মত করে সাজানো যায়, আমার নিজের স্কুল শিডিউল আর টাস্ক রিমাইন্ডার সেট করা খুব সহজ ছিল।
Knox সিকিউরিটি সিস্টেম থাকায় প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি ফিচার যথেষ্ট; সিকিউর ফোল্ডারে প্রাইভেট ফাইল রাখতে পারো। Samsung Pay/Wallet কিছু দেশে সাপোর্ট করলেও বাংলাদেশে সীমিত, তারপরও কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্টে কাজে আসতে পারে। আর সফটওয়্যার আপডেটের ক্ষেত্রে Samsung এখন মার্কেট লিডার— ৪ বছরের বড় অ্যান্ড্রয়েড আপডেট আর ৫ বছরের সিকিউরিটি প্যাচের প্রতিশ্রুতি তো একে ফিউচার-প্রুফ ফোন বানায়। অর্থাৎ, Galaxy A37 কেনার পরেও Android 20 পর্যন্ত দেখতে পারবে কিনা বলা মুশকিল, তবে অন্তত তিন থেকে চার বড় আপডেট আশা করাই যায়।
অডিও ও কিছু দরকারি ফিচার
সিঙ্গেল বটম-ফায়ারিং স্পিকার থাকলেও সাউন্ড বেশ লাউড এবং ক্লিয়ার। ক্লাসরুমে বন্ধুদের ভিডিও দেখাতে বা গান শোনাতে কোন অসুবিধা হয়নি। Dolby Atmos সাপোর্ট হেডফোনেই কাজে লাগে, বিল্ট-ইন ইকুয়ালাইজার দিয়ে প্রোফাইল সেট করতে মজা। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও ফেস আনলক দুটোই বিদ্যুৎ গতির। ব্লুটুথ 5.3 আর Wi-Fi 6 স্ট্যান্ডার্ড থাকায় রেঞ্জ এবং কানেক্টিভিটি দারুণ। আর হ্যা, এই ফোনে Samsung-এর কিছু কাস্টম জেস্চার আছে যেমন হাতের তালু দিয়ে স্ক্রিনশট নেওয়া, এক হাতে অপারেশন— ছোটবেলা থেকে Samsung ব্যবহার করা যে কেউ এগুলো চেনে।
Final Verdict
Samsung Galaxy A37 5G একটা ব্যালেন্সড মিড-রেঞ্জ 5G ফোন, যেখানে ব্রিলিয়ান্ট Super AMOLED display, ক্লিন One UI 8.5 সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স, নির্ভরযোগ্য ক্যামেরা আর সারাদিনের ব্যাটারি লাইফ মূল আকর্ষণ। ছবি তোলার মজা মূলত মেইন ক্যামেরায়, আর দৈনন্দিন পারফরম্যান্স স্টুডেন্ট প্রোফাইলের জন্য যথেষ্ট ফাস্ট। গেমিং নিয়ে যদি খুব বেশি প্যাশনেট না হও, তাহলে অভিযোগ তেমন কিছু পাবে না।
তবে ফোনের দুটো দুর্বলতা স্পষ্ট— প্রথমত, আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরায় ফিশ-আই ডিস্টরশন ইরিটেটিং হতে পারে; দ্বিতীয়ত, 4K 60fps এবং 1080p 60fps ভিডিও রেকর্ডিং-এর অনুপস্থিতি ভিডিও ক্রিয়েটরদের জন্য হতাশাজনক। চার্জিং স্পিড 25W, যা প্রতিদিনের জীবনে যথেষ্ট হলেও চীনা প্রতিযোগীদের তুলনায় স্লো।
এখন দামের প্রশ্ন— Samsung Galaxy A37 price in Bangladesh আনঅফিশিয়ালি শুরু হয়েছে BDT 41,000 থেকে। এই প্রাইস পয়েন্টে রেডমি, রিয়েলমি কিংবা ওয়ানপ্লাস-এর ফোনে হয়তো বেশি রিফ্রেশ রেট, ফাস্ট চার্জিং বা গেইমিং চিপসেট পাবে, কিন্তু সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স আর দীর্ঘ আপডেট সাপোর্টের জায়গাটাতে Samsung ক্লাস লিড করে। তুমি যদি ট্রেন্ডি স্পেসিফিকেশনের চেয়ে স্টেবল ডেইলি ড্রাইভার ফোন চাও যেটা অন্তত ৩-৪ বছর নির্ভেজাল চলবে, Galaxy A37 5G এক্সেলেন্ট চয়েস। কিন্তু ভ্লগিং বা ক্লাসরুমের ফান প্রোজেক্টের জন্য প্রচুর ভিডিও শুট করতে চাইলে হয়তো আরও একটু ভাবতে হবে। সামগ্রিকভাবে, ফোনটা কিনলে আমি বলবো— “ভালো একটা ফ্রেন্ড পাবে, যে তোমাকে কখনো হ্যাং করিয়ে বিপদে ফেলবে না।”

