বন্ধুরা, একটা ফোনের ব্যাটারি যদি ৭০০০ mAh হয়, তাহলে সেটা শুনেই একটু চমকে ওঠাই স্বাভাবিক। আজকের রিভিউতে তেমনই এক চমক নিয়ে এসেছে Xiaomi Redmi 15। ২০ হাজার টাকার আশপাশের বাজেটে বিশাল ব্যাটারির এই ফোনটা কি শুধু ব্যাটারি দিয়ই মন জয় করতে পারে, নাকি বাকি জিনিসগুলোতেও একই রকম মজবুত? আমার হাতে প্রায় দুই সপ্তাহ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে সবকিছু খোলামেলা বলছি। কেমন লাগলো, কোথায় ভালো, কোথায় হোঁচট খেলাম – সব জানতে শেষ পর্যন্ত পড়তেই হবে।
Design & Build Quality
ফোনটা হাতে নেওয়ার পরই প্রথম যে ব্যাপারটা মাথায় আসে, সেটা হলো এর বিশালত্ব। ৬.৯ ইঞ্চির স্ক্রিন আর ৭০০০ mAh ব্যাটারি থাকায় Redmi 15 কে দেখে একদম ছোটখাটো ট্যাবলেট মনে হবে। ওজনটাও তেমনই – ২২০ গ্রাম। সাধারণত ২০০ গ্রামের নিচেই বেশিরভাগ ফোন থাকে, তাই এই বাড়তি ওজন হাত নেওয়ার সাথে সাথেই টের পাওয়া যায়।
বড়সড় বডি – এক হাতে প্রায় অসম্ভব
আমার হাতের সাইজ একটু ছোট, তাই এক হাতে এই ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে বেশ কসরত করতে হয়েছে। নিচের দিকের নোটিফিকেশন টানতে গিয়ে বারবার ফোন প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যেকোনো কাজে দুই হাত ব্যবহার করতেই হবে – এটা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে ওজন ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক আছে, পুরো ভারটা কোনো একদিকে ঝোঁকে থাকে না। লম্বা সময় ইউজ করলে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, তবে ফোনটা যে হেভিওয়েট, সেটা মনে থাকবে সবসময়।
বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন
ফোনের বডি পুরোটাই প্লাস্টিকের, কিন্তু বিল্ড কোয়ালিটি মোটেও চিপ বা নড়বড়ে নয়। ফিনিশিং পরিষ্কার, কোথাও চাপ দিলে ফ্লেক্স করে না। আমার ইউনিটের কালারটা ছিল “Sandy Purple” – মরুভূমির বালুর ওপর আলো পড়লে যেমন একটা সূক্ষ্ম রিফ্লেকশন হয়, ঠিক তেমনই ঢেউ খেলানো ব্যাক প্যানেল। এই রঙটা সত্যিই ইউনিক এবং চোখে লাগে। বাকি কালারগুলো ফ্ল্যাট হলেও পার্পল ভার্সনটা একটু আলাদা পার্সোনালিটি আনে।
ক্যামেরা মডিউলের ডিজাইনটা এবার লম্বালম্বি, যেখানে তিনটা বৃত্ত দেখা যায়। কিন্তু আসল গল্পটা অন্য – কার্যকরী ক্যামেরা আছে আসলে একটি, আরেকটি সম্ভবত VGA লেন্স, আর তৃতীয়টি পুরোপুরি ডিজাইনের অংশ। এমন ফাঁকিবাজি বাজেট ফোনে নতুন না হলেও খানিকটা হতাশাজনক।
পোর্ট, বাটন ও আনলক
উপরে আছে IR ব্লাস্টার, যা টিভি বা এসি রিমোট হিসেবে কাজে লাগে। কিন্তু ৩.৫ মিলিমিটার অডিও জ্যাক নেই। আমি জানি, অনেক বন্ধুই এখনো ওয়্যার্ড ইয়ারফোন ইউজ করে; তাদের জন্য এটি ডিল-ব্রেকার হতে পারে। যদিও এখন ওয়্যারলেস ইয়ারফোনই ট্রেন্ড, আর USB-C ডঙ্গল দিয়েও ইয়ারফোন চালানো সম্ভব, তবু হেডফোন জ্যাক না থাকাটা বাজেট ফোনে একটা মিস।
নিচের দিকে USB-C পোর্ট, প্রাইমারি মাইক্রোফোন আর সিঙ্গেল বটম-ফায়ারিং স্পিকার। স্পিকারটি মনো, স্টেরিও নয়। শব্দের মান মোটামুটি – ভলিউম ২০০% পর্যন্ত বুস্ট করা গেলেও বাড়তি ভলিউম গেলে ডিস্টরশন দেখা দেয়। ১০০% বা তার নিচে নিজের মতো ব্যবহার করলে ঠিকঠাক লাউড। তবু এই দামের ফোনে ডুয়াল স্পিকার থাকলে অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতো।
ডানপাশে ভলিউম রকার আর পাওয়ার বাটন, যার মধ্যে সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার বসানো। আনলক স্পিড ও অ্যাক্যুরেসি চমৎকার – দ্রুত কাজ সারে, কখনো অযথা আটকে যায় না। ফেস আনলকও আছে, তবে সেটি সম্পূর্ণ সফটওয়্যার-বেসড, নিরাপত্তায় অতটা ভরসা করা যায় না।
সামগ্রিকভাবে, Redmi 15 এর ডিজাইন বড় হাতের মানুষদের জন্য আরামদায়ক, আর যারা ছোট হাতেও বড় স্ক্রিন ভালোবাসেন তাদের একটু অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে। বিল্ড কোয়ালিটি ও ভিজুয়াল অ্যাপিয়ারেন্স প্রশংসাযোগ্য।
Display Experience
৬.৯ ইঞ্চির এই বিশাল স্ক্রিন দেখতেই মূল আকর্ষণ। IPS LCD প্যানেল, Full HD+ রেজোলিউশন দিয়ে ইউটিউব দেখা, সিনেমা বা গেমস – জোশের অভিজ্ঞতা দেয়। বড় স্ক্রিনের আনন্দ নির্ভেজাল, সিনেমাপ্রেমী বন্ধুদের তো জাস্ট লুফে নেওয়ার মতো।
রিফ্রেশ রেটের “১৪৪” ধোঁকা
Redmi 15 এর একটি মার্কেটিং টার্ম হলো 144Hz রিফ্রেশ রেট। কিন্তু ভেতরে ঢুকলে বাস্তবতা একটু ফ্যাকাশে। সেটিংস থেকে 60Hz, 90Hz আর 144Hz সিলেক্ট করা যায়, অটো সুইচিংও আছে। আমরা যখন 144Hz বেছে নিয়েছি, তখন হাতে গোনা দু-একটা সিস্টেম অ্যাপ ছাড়া কোথাও সেটা কাজে লাগেনি। ইউআই নেভিগেশন, সোশ্যাল মিডিয়া বা গেম – সবখানেই 120Hz-এই ক্যাপ করেছে। আগের অনেক Redmi ফোনেও একই খেলা দেখা গেছে। বিষয়টি আসলে গিমিক ছাড়া কিছু না। বাস্তবে 120Hz পর্যন্তই যথেষ্ট এবং ওটুকুই পাওয়া যায়। তাই 144Hz রিফ্রেশ রেটের লোভে ফোনটা কেনার কোনো যুক্তি নেই।
ব্রাইটনেস ও কালার কোয়ালিটি
ডিসপ্লের টিপিক্যাল ব্রাইটনেস ৭০০ নিটস এবং এইচপিএম মোডে ৮৫০ নিটস – যা এই সেগমেন্টে যথেষ্ট ভালো। বাইরে রোদের নিচে স্ক্রিনের ভিজিবিলিটি খুব একটা সমস্যা করেনি। ইনডোরে তো Brightness একদম আরামদায়ক।
কালার সেটিংসে ডিফল্ট “Vivid” প্রোফাইল অন থাকে, যে কারণে রঙগুলো বেশ পাঞ্চি লাগে। যারা একটু বেশি উজ্জ্বল রঙ পছন্দ করেন তাদের ঠিকঠাক লাগবে, কিন্তু ন্যাচারাল টোন চাইলে “Standard” মোডে স্যুইচ করে দিলেই হবে। IPS প্যানেল হওয়া সত্ত্বেও কালার একুরেসি মোটামুটি, কোনো বড় রকমের অস্বাভাবিকতা নেই।
ব্যাজেল ও ডিজাইন অপূর্ণতা
বড় স্ক্রিনের পাশাপাশি ব্যাজেলগুলো মোটা, বিশেষ করে নিচের চিনটা বেশ চওড়া। ফার্স্ট ইমপ্রেশনে একটু পুরনো-ধাঁচের মনে হয়। তবে যেহেতু স্ক্রিনের সাইজ অনেক বড়, তাই ব্যবহার করতে করতে এটা আর চোখে লাগে না। মাল্টিমিডিয়ার মজা এই সামান্য অপূর্ণতাকে ঢেকে দেয়।
মোটকথা, ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স রোজকার কন্টেন্ট কনজিউম করার জন্য দারুণ। 144Hz কে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ভাবলেও বাকি সবদিক দিয়ে স্ক্রিন প্রায় নিখুঁত বললেই চলে।
Performance & Gaming
এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় – পারফরমেন্স। Redmi 15 এর ভেতরে আছে Qualcomm Snapdragon 685 (4G) প্রসেসর, সাথে LPDDR4X টাইপের RAM আর UFS 2.2 স্টোরেজ। বাংলাদেশে এই ফোনের দুটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়: 6GB/128GB (অফিশিয়াল দাম ১৯,৯৯৯ টাকা) এবং 8GB/256GB (২৩,৯৯৯ টাকা)। এছাড়া একটি 5G মডেলও আছে যার দাম ২৫,৫০০ টাকা – সেটার প্রসেসর আলাদা হতে পারে, তবে এখানে মূলত Snapdragon 685-এর ভার্সন নিয়েই কথা বলছি।
বাস্তব জীবনের পারফরমেন্স – হোঁচট খায় যেখানে
আমি ফোনটা হাতে পাওয়ার পর প্রথম যে ব্যাপারে অবাক হয়েছি, তা হলো সফটওয়্যার-জনিত ল্যাগ। স্পেসিফিকেশন বলছে, Snapdragon 685 দিয়ে ডেইলি ইউজ পুরোপুরি স্মুথ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে অ্যাপ ওপেন-ক্লোজ করার সময় মাঝেমধ্যে স্টাটার বা ছোটখাটো জড়তা দেখা গেছে। সেটিংস নেভিগেশন, নোটিফিকেশন প্যানেল টানা – সবখানেই একটা খামতির অনুভূতি ছিল। এটা মোটেও হার্ডওয়্যারের দোষ না; দোষ HyperOS 2.0-এর অপ্টিমাইজেশনের।
আমরা স্ট্রেস টেস্টও করেছি। সেখানেও দেখা গেছে, পারফরমেন্স গড়ে ৮০% এর নিচে নেমে গেছে, মাঝে বড় ধরণের ফ্রেম ড্রপ। এটা স্পষ্ট ইঙ্গিত – প্রসেসরটির পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সফটওয়্যার যেন হার্ডওয়্যারকে বেঁধে রেখেছে।
গেমিং – স্বস্তির জায়গা
গেমের বেলায় ছবিটা আশ্চর্যজনকভাবে ভালো। PUBG Mobile, Call of Duty Mobile-এর মতো জনপ্রিয় গেমগুলো 60 FPS-এ একদম ঠিকঠাক চলে। গেমপ্লেতে কোনো ল্যাগ বা হিচকি পাইনি। রিয়েল লাইফ ইউআই-তে যে স্টাটার ছিল, গেমের ভেতরে সেটা নেই। তার মানে গ্রাফিক্স ইনটেনসিভ কাজে প্রসেসর সক্ষম, কিন্তু সফটওয়্যারই রোজকার ব্যবহারের আনন্দ মাটি করছে।
রিসেন্টলি একটি সফটওয়্যার আপডেট এসেছে, যেটার পর কিছু পারফরমেন্স ইম্প্রুভমেন্ট দেখা গেলেও ল্যাগ পুরোপুরি কাটেনি। Xiaomi যদি পরবর্তী আপডেটে HyperOS-কে আরও লাইটওয়েট ও স্ন্যাপি করতে পারে, তাহলে এই ফোনের আসল চেহারা বের হবে।
HyperOS ও ইকোসিস্টেম
হাইপারওএস 2.0 তে কিছু মজার ফিচার আছে, যেমন Interconnectivity। আপনার কাছে Xiaomi-র অন্য ডিভাইস (ট্যাব, ইয়ারবাড, ওয়াচ) থাকলে সহজে কানেক্ট করে ফাইল শেয়ার, ডিসপ্লে মিররিং করতে পারবেন – ইকোসিস্টেমটা মজবুত হচ্ছে। তবে ব্লোটওয়্যারের পরিমাণ একটু বেশি, প্রি-ইনস্টলড কিছু অ্যাপ একেবারে অপ্রয়োজনীয়। ভাগ্যক্রমে বেশিরভাগ আনইনস্টল করা যায়।
এই প্রাইস রেঞ্জে Realme-র Narzo সিরিজ কিংবা Samsung Galaxy M/F সিরিজের ফোনগুলোয় Snapdragon 685 বা সমতুল চিপে অনেক বেশি অপ্টিমাইজড ইউআই পাওয়া যায়। যেমন One UI Core বা Realme UI দারুণ স্মুথ। এদিক থেকে Redmi 15 একটু পিছিয়ে।
Camera System
ক্যামেরা নিয়ে Xiaomi সাধারণত বাজেট ফোনেও একটু বেশি আশা জাগায়, কিন্তু Redmi 15 তে সেটা পূরণ হয়নি। পেছনে তিনটা ক্যামেরার ডিজাইন দেখে ভাবা যায় অনেক কিছু, কিন্তু ইউজেবল মেইন ক্যামেরা একটাই। ফ্রন্টে আছে 8 মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।
রিয়ার ক্যামেরা – দিনের আলোতেও অসঙ্গতি
প্রধান ক্যামেরাটি কত মেগাপিক্সেল তা অফিশিয়ালি নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও, সম্ভবত 50MP সেন্সর। কিন্তু পিক্সেল কাউন্ট বড় কথা নয় এখানে। ফলাফল দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি – একই পোজে, একই আলোতে ব্যাক টু ব্যাক তোলা দুটো ছবির আউটকাম সম্পূর্ণ আলাদা। একটাতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি নয়েজ ও গ্রেইন, অন্যটি আবার অস্বাভাবিক সফট এবং ডিটেইল কম। কনসিস্টেন্সির একেবারে অভাব।
যারা ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে ছবি দেবেন, তারা যদি পুরো ছবিটা ছোট স্ক্রিনে দেখেন, সমস্যাটা ধরা পড়বে না। কিন্তু খানিক জুম করলেই বোঝা যায় ছবির ভেতরকার গোলমাল। ডায়নামিক রেঞ্জও আহামরি না – আকাশের উজ্জ্বল অংশ অনেক সময় পুড়ে যায়। পোর্ট্রেট মোডে সাবজেক্ট সেপারেশন মোটামুটি ঠিক আছে, ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার ন্যাচারাল ধাঁচের, তবে খুব বেশি ডেপ্থ তৈরি হয় না। মানুষের বাইরে অন্য সাবজেক্টের বেলায় নয়েজ তুলনামূলক কম, তবুও উন্নতির জায়গা আছে।
লো-লাইট ও ভিডিও
লো-লাইটে ছবি তোলা বাজেট ফোনের জন্য সবসময়েই চ্যালেঞ্জ। Redmi 15-ও ব্যতিক্রম নয়। নাইট শটে প্রচুর নয়েজ, গ্রেইনি টেক্সচার এবং কালার ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ফ্ল্যাট ও কৃত্রিম লাগে ছবিগুলো। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পেছনের ক্যামেরা 1080p 30fps পর্যন্ত সাপোর্ট করে, কিন্তু কোনও ধরনের স্ট্যাবিলাইজেশন নেই। হাতে একটু নড়াচড়া হলেই ভিডিওতে কাঁপুনি ধরা পড়ে। ভালো কোনো ভিডিওগ্রাফির স্বপ্ন এখানে দেখা বৃথা।
ফ্রন্ট ক্যামেরা
8MP সেলফি ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি পেছনের চেয়ে কম গ্রেইনি, যা স্বস্তির। তবে ছবিগুলো সফট, ডিটেইল তুলনামূলক কম। সফটওয়্যার প্রসেসিং আরেকটু শার্পনেস অ্যাড করতে পারতো। পোর্ট্রেট মোডে এজ ডিটেকশন প্রায়ই এলোমেলো হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন ব্যাকগ্রাউন্ড একটু জটিল হয়। ভিডিও এখানেও 1080p 30fps আর স্ট্যাবিলাইজেশন বিহীন। সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড দেওয়ার মতো করেই ছবি ওঠে, কিন্তু সিরিয়াস সেলফি প্রেমীদের মন ভরাবে না।
ক্যামেরা প্রসেসিংয়ের এই দুর্বলতা পুরোপুরি সফটওয়্যারের ব্যাপার। আপডেটের আগে ও পরে একই সমস্যা থেকে গেছে। Xiaomi চাইলে এটাকে ফিউচার আপডেটে ফিক্স করতে পারে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি।
Battery Life & Charging
এবার আসছি সেই জায়গায় যেখানে Redmi 15 সবাইকে চমকে দেয় – ব্যাটারি। ৭০০০ mAh সেল আসলেই ম্যাসিভ। আমাদের অর্ডিনারি ফোনগুলোতে ৫০০০ mAh থাকতে আমরা আরাম বোধ করি, সেখানে এই দানব ব্যাটারি থিওরিটিক্যালি দুইদিন খুব সহজেই পার করে দেওয়ার কথা।
বাস্তবিক ব্যাকআপ
সফটওয়্যার আপডেটের আগে ব্যাটারি ড্রেন ইস্যু থাকা সত্ত্বেও আমরা স্ক্রিন-অন-টাইম পেয়েছি প্রায় ১২ ঘণ্টা। মিক্সড ইউসে (Wi-Fi, ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া, কিছু গেমিং) ফোন টানা দুই দিন অনায়াসে চলে। কেউ যদি একটু কম ইউজ করেন, তাহলে আড়াই দিনও পেয়ে যেতে পারেন। ব্যাটারি-প্রথম-চিন্তা-যাদের, তাদের জন্য এটি স্বপ্নের মতো। আমি নিজে যারা সারাদিন বাইরে কাটান, পাওয়ার ব্যাংক সাথে ঘোরার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় – তাদের জন্য দারুণ সাথি।
চার্জিং স্পিড ও রিভার্স চার্জ
বক্সে দেয়া 33W চার্জার দিয়ে ৭০০০ mAh ফুল চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। এই সময়টা খুব ফাস্ট না, আবার ৭০০০ mAh এর তুলনায় খুব স্লোও না। জরুরি মুহূর্তে ২০-৩০ মিনিটে বেশ খানিকটা চার্জ পেতে পারেন।
আরেকটি কাজের ফিচার হলো রিভার্স ওয়্যার্ড চার্জিং। অন্য কোনো ছোট ডিভাইস বা বন্ধুর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে আপনি USB কেবল দিয়ে নিজের ফোন থেকে চার্জ শেয়ার করতে পারবেন। ব্যাটারির এই বিশাল ক্যাপাসিটি তখন পাওয়ার ব্যাংকের মতো কাজে আসে।
কল কোয়ালিটি আর নেটওয়ার্ক রিসেপশন নিয়েও কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়নি। কথা বলতে বা ইন্টারনেট ইউজ করতে বড় কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি।
Software & Features
Redmi 15 অ্যান্ড্রয়েড ১৫ এর ওপর ভিত্তি করে HyperOS 2.0 রান করে। ইউজার ইন্টারফেস দেখতে বেশ রঙিন এবং কাস্টমাইজেশন অনেক। থিম, আইকন প্যাক, কন্ট্রোল সেন্টার – যা ইচ্ছা সাজাতে পারবেন।
ইউআই এক্সপেরিয়েন্স ও ইকোসিস্টেম
যেমনটা আগেই বলেছি, এই ইন্টারফেসের ওপর দিয়ে ভারী একটা ভাব আছে। Xiaomi এর বাজেট ফোনে অপটিমাইজেশনের ঘাটতি পুরোনো কথা। HyperOS আসলে তাদের ইকোসিস্টেমকে কানেক্ট করার ওপর জোর দিয়েছে। আপনার যদি Xiaomi বা Redmi-র ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা ইয়ারবাড থাকে, তাহলে Interconnectivity ফিচার দিয়ে ডিভাইসগুলোর মধ্যে ফাইল ট্রান্সফার, নোটিফিকেশন সিঙ্ক, এমনকি স্ক্রিন মিররিংও করতে পারবেন সহজে। এটা ফিউচারিস্টিক এবং স্মার্ট, কিন্তু যাদের শুধু একটা ফোন ছে, তাদের জন্য এই ভারী সফটওয়্যার শুধুই বাড়তি বোঝা।
আপডেট ও ভবিষ্যৎ
Xiaomi সম্প্রতি একটি বড় সাইজের আপডেট রোল আউট করেছে, যাতে ব্যাটারি ড্রেন ও কিছু রিফ্রেশ রেট সংক্রান্ত বাগ ফিক্স হয়েছে। পারফরমেন্স ইম্প্রুভমেন্ট সামান্য হয়েছে। তবে এখনো এই ফোনের সফটওয়্যার পুরোপুরি স্মুথ বলা চলে না। আশা করতে হবে, আরও কয়েকটা আপডেটের পর অবস্থা বদলাবে। কিন্তু কোনো গ্যারান্টি নেই।
এছাড়া ফোনে IR ব্লাস্টার বোনাস, যা রিমোট কন্ট্রোল হিসেবে কাজে লাগানো যায়। সিকিউরিটির জন্য সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট ফাস্ট ও দারুণ, আর ফেস আনলক সুবিধাজনক হলেও সেটি 2D, তাই একটু সাবধান।
Final Verdict
Redmi 15 এমন একটা ফোন যা দারুণ সম্ভাবনা নিয়েও পা হড়কায় যেন। এটার তিনটি জিনিস মনে রাখার মতো:
এক, ব্যাটারি লাইফ অসাধারণ। ৭০০০ mAh-র জাদুতে আপনি নিশ্চিন্তে ভুলে যেতে পারেন চার্জারের কথা। দুই, ডিসপ্লে বড়, ব্রাইট এবং মাল্টিমিডিয়া এনজয় করার জন্য চমৎকার। তিন, বিল্ড কোয়ালিটি ও ইউনিক ডিজাইন চোখে লাগে।
কিন্তু অন্যদিকে, পারফরমেন্স পুরো বিপরীত। সাধারণ অ্যাপ ইউজেই যেখানে ল্যাগ করে, সেটা স্পেসিফিকেশন দিয়ে মানিয়ে নেওয়া যায় না। সফটওয়্যারই আসল অপরাধী, আর ক্যামেরা অপ্টিমাইজেশনের অভাবে ভালো হার্ডওয়্যার থাকা সত্ত্বেও খারাপ রেজাল্ট দেয়। গেইমিং ঠিকঠাক থাকলেও রোজকার জীবনের ছোটখাটো কাজে যে জড়তা, সেটা বিরক্তির কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশের বাজারে Redmi 15 এর অফিশিয়াল মূল্য 6GB/128GB ভ্যারিয়েন্টের জন্য ১৯,৯৯৯ টাকা, 8GB/256GB ভ্যারিয়েন্ট ২৩,৯৯৯ টাকা, আর 5G মডেল (ভিন্ন চিপসেটসহ) ২৫,৫০০ টাকা। এই দামে আপনি যদি ব্যাটারি আর বড় স্ক্রিনকেই সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেন, তাহলে ফোনটা একবার ভেবে দেখা যেতে পারে। তবে যদি পারফরমেন্স কিংবা ক্যামেরা আপনার কাছে সামান্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে একই বাজেটে Realme Narzo 70x, Samsung Galaxy M15 বা একটু বেশি বাজেটে Poco M6 Pro-র দিকে তাকানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সেসব ফোনে সফটওয়্যার অনেক বেশি স্মুথ, ক্যামেরা কনসিস্টেন্ট এবং মোটামুটি একই রকম ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয়।
আমার মনে হয়, Xiaomi যদি ভবিষ্যত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে পারফরমেন্স ও ক্যামেরার এই ইস্যুগুলো গুছিয়ে নিতে পারে, তাহলে এই ফোন একটা সলিড অল-রাউন্ডার হয়ে হাজির হবে। কিন্তু আজকের দিনে, আপনি যদি এখনই একটি ফোন কিনতে চান, তাহলে Redmi 15 কে নিয়ে একটু ধৈর্য ধরা উত্তম – হয় আপডেটের অপেক্ষা করুন, নয়তো অন্য অপশন খুঁজুন।





