আজকাল স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ নিয়ে এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা চলছে। ৫০০০mAh তো এখন নরমাল, লোকে ৬০০০mAh, ৭০০০mAh চায়। আর এই ট্রেন্ডে সবচেয়ে সিরিয়াস আপগ্রেড নিয়ে এসেছে Poco। তাদের নতুন M সিরিজের ফোন Poco M7 Plus-এর ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ৭০০০mAh-এর পাহাড়সম ব্যাটারি। জ্বি, আপনি ঠিকই পড়ছেন—সাত হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার! পাওয়ার ব্যাংক ছাড়াই সারাদিন কাটিয়ে দেওয়া, এমনকি নিজের ফোন দিয়ে বন্ধুর iPhone-ও চার্জ করে দেওয়া—এই সবই সম্ভব এই একটা ফোন দিয়ে। তবে শুধু ব্যাটারিই কি এখানে গল্প শেষ? নাকি আরও কিছু চমক আছে? প্রতিদিনের ইউজে ফোনটা কেমন? ক্যামেরা, ডিসপ্লে, পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে আসলেই কি এই টাকা উসুল হবে? চলুন, একদম খোলামেলা আলোচনা করি।
Design & Build Quality
Poco M7 Plus হাতে নেওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটা চোখে লাগে সেটা হলো এর সাইজ। একদম বড় ফোন, একটু যেন ছোটখাটো ট্যাবলেট টাইপের ফিল দেয়। যারা কমপ্যাক্ট ফোন পছন্দ করেন তাদের জন্য না, কিন্তু বড় পর্দার দিওয়ানাদের জন্য এটা একদম পারফেক্ট। আমি নিজে বেশ কিছুদিন ধরে বড় ফোন ইউজ করছি, তারপরও M7 Plus হাতে নিয়ে বলছি—হ্যাঁ, এটা যথেষ্ট বড়। তবে মোটা বা বেহুদা ভারী লাগে না।
ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ও ইন-হ্যান্ড ফিল
ফোনটার পেছনের ডিজাইন একদম ইউনিক। একটা গ্রেডিয়েন্ট ব্লকের মতো সেকশন করা হয়েছে, আর তার চারপাশে লাল ও নীলের সূক্ষ্ম বর্ডার। এই রঙের কম্বিনেশন দেখলেই অন্যরা প্রশ্ন করে—ভাই, এটা কোন ফোন? আমি অফিসে আর রাস্তায় কয়েকবার বের হয়েছি, সত্যিই মানুষ ফোনটা চিনতে চেয়েছে। পিছনের প্যানেলটা কোয়াড-কার্ভ (Quad-Curve) অর্থাৎ চারপাশ থেকে একটু বাঁকানো, যার কারণে হাতে ধরলে দারুণ আরামদায়ক লাগে। ফিনিশিং ম্যাট, আঙুলের ছাপ পড়ে না, পিছলে যাওয়ার ভয়ও কম। ফোনটি তিনটি কালার অপশনে পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে আমার ইউনিটটি স্টাইলিশ নীল-লাল অ্যাকসেন্টের ছিল।
ওজন প্রায় ২২০ গ্রাম আর থিকনেস ৮.৪mm। ৭০০০mAh ব্যাটারির ফোন হিসেবে এটা একেবারেই বেশি ভারী মনে হয় না। ডিজাইন টিম বেশ ভালোভাবেই ব্যালেন্স করেছে। হাতে নিয়ে মেসেজ করা, ভিডিও দেখা—সবকিছুতেই আরাম। ফোনের ডান পাশে সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেওয়া হয়েছে, যা বলতে গেলে চোখের পলকে আনলক করে দেয়। টাচ করতেই ফোন খুলে যায়, একদম ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের স্পিড।
ডিউরেবিলিটি ও এক্সট্রা ফিচারস
Poco M7 Plus IP64 রেটিং নিয়ে আসে, মানে হালকা পানি বা ধুলোবালির ছিটা সহজেই সহ্য করতে পারবে। বৃষ্টির দিনে একটু ভিজে গেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে ডোবানোর চেষ্টা করবেন না। আবার ফোনটিতে উপরের দিকে IR Blaster আছে, যার সাহায্যে টিভি, এসি, ফ্যান ইত্যাদির রিমোট হিসেবে ফোনটা কাজ করবে। বাসায় বসে রিমোট খোঁজার ঝামেলা এখানেই শেষ।
স্পিকার একটাই, সেটাও মনো। তবে ভলিউম যথেষ্ট জোরালো। ঘরের মধ্যে শর্টস, ইউটিউব ভিডিও, রিল দেখার জন্য পারফেক্ট। স্টেরিও ইফেক্ট পাবেন না বটে, কিন্তু বিরক্তির কারণ হবে না। আর হেডফোন জ্যাক? ফোনটিতে ৩.৫mm হেডফোন জ্যাক আছে কি না সেটা নিশ্চিত না, তবে বক্সে চার্জার, ক্যাবল, সিম ইজেক্টর টুল আর একটা ব্যাক কভার দেওয়া আছে, যা বেশ কাজের।
সব মিলিয়ে ডিজাইন আর বিল্ড কোয়ালিটি দারুণ। ইউনিক লুক, মজবুত ফিল, আর হাতের তালুতে একেবারে বসে যাওয়া শেইপ—এটা সত্যিই চোখে পড়ার মতো।
Display Experience
ডিসপ্লে এখন স্মার্টফোনের সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট পার্ট। সারাদিনের স্ক্রলিং, শর্টস, গেমিং, মুভি—সব তো এখানেই। Poco M7 Plus-এর স্ক্রিন সাইজ ৬.৯ ইঞ্চি, যা এই দামের মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলোর একটি। প্যানেল IPS LCD, আর রিফ্রেশ রেট 144Hz। এখন কেউ বলতেই পারেন, এতো দামে AMOLED চাই। কিন্তু আমি সত্যি বলছি, এই IPS প্যানেল দেখে আমি মুগ্ধ।
রং ও ব্রাইটনেস
Poco দারুণ মানের LCD প্যানেল ব্যবহার করেছে। রঙগুলো ভিভিড, স্ক্রলিং স্মুথ। কালার শিফট নেই বললেই চলে, কোরিয়ার থেকে দেখলেও পিকচার কোয়ালিটি নষ্ট হয় না। টিপিকাল ব্রাইটনেস 700 nits, আর HBM (High Brightness Mode)-এ চলে যায় 850 nits পর্যন্ত। বাইরে সূর্যের আলোতে ফোন ব্যবহার করতেও তেমন অসুবিধা হয়নি, টেক্সট পরিষ্কার দেখা যায়। ইনডোরে তো কথাই নেই—দারুণ এক্সপেরিয়েন্স।
রিফ্রেশ রেট ও স্মুথনেস
144Hz রিফ্রেশ রেট আর 288Hz টাচ স্যাম্পলিং রেট—টাকা হিসেব করলে এই ফিচার এক কথায় অসাধারণ। নরমাল স্ক্রলিং, UI নেভিগেশন, সোশ্যাল মিডিয়া ফিড—সব কিছু যেন বাটার স্মুথ। গেমিংয়ের সময় এই হাই টাচ রেসপন্স কাজে দেয়। তবে সব অ্যাপ যে 144Hz-এ চলবে তা না, ফোন নিজে থেকেই ব্যাটারি বাঁচাতে অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট ম্যানেজ করে। তবুও ফ্লুইডিটি চোখে পড়ার মতো।
আবার TÜV সার্টিফাইড ডিসপ্লে হওয়ায় চোখের উপর স্ট্রেন কম পড়ে। অনেক্ষণ ফোন ইউজ করলেও অস্বস্তি তুলনামূলক কম হয়। স্ক্রিন প্রোটেকশন সম্পর্কে অফিশিয়াল কিছু জানানো না গেলেও, বাজারে ভালো টেম্পার্ড গ্লাস পাবেন, লাগিয়ে নেবেন আর নিশ্চিন্তে ইউজ করবেন। একদম বলছি, এত টাকায় এত বড় আর ইউজফুল ডিসপ্লে সত্যিই বিরল।
Performance & Gaming
Poco M7 Plus-এর পারফরম্যান্সের মূল চাবিকাঠি হলো Qualcomm Snapdragon 6S J3 চিপসেট। এটি একটা বাজেট-অরিয়েন্টেড কিন্তু শক্তিশালী প্রসেসর। সাথে LPDDR4X RAM আর UFS 2.0 স্টোরেজ। আমাদের হাতে 6GB RAM ও 128GB স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট ছিল, আরেকটি 8GB RAM অপশনও আছে। প্রতিদিনের ইউজে এই কম্বিনেশন কেমন পারফর্ম করে, দেখে নেওয়া যাক।
ডে-টু-ডে ইউজ ও মাল্টিটাস্কিং
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইউটিউব, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, কিছুটা কল, একসাথে ১০-১২টা অ্যাপ ওপেন রাখলাম—ফোন দিব্যি হ্যান্ডেল করছে। খুব একটা ল্যাগ বা স্লোডাউন চোখে পড়েনি। অ্যাপ লোডিং স্পিড যথেষ্ট ফাস্ট। HyperOS-এর অপটিমাইজেশন এখানে কৃতিত্ব দাবি করে। RAM ম্যানেজমেন্ট ভালোই; ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপগুলো ফ্রেশ থাকে, বারবার রিলোড হয় না। এভারেজ ইউজারের জন্য যা দরকার তার পুরোটাই পাবেন।
গেমিং: হালকা-ফুলকা থেকে মিড-রেঞ্জ
Poco তো পারফরম্যান্সের জন্যই বিখ্যাত। কিন্তু এটা রীতিমতো গেমিং ফোন না। তবুও প্রতিদিনের ক্যাজুয়াল গেমিং বাদ দিলে ভুল হবে। Free Fire, PUBG Mobile Lite, Call of Duty Mobile-এর মতো গেমগুলো স্মুথলি চলে। হাই গ্রাফিক্স সেটিংসে কিছু জায়গায় ফ্রেম ড্রপ হতে পারে, তবে মিডিয়াম সেটিংসে দীর্ঘক্ষণ খেলা সম্ভব। আমি একটানা প্রায় ১ ঘণ্টা Free Fire খেললাম, ফোন একটু গরম হয়েছিল, কিন্তু অস্বস্তিকর পর্যায়ে যায়নি। Genshin Impact বা তেমন ভারী গেম খেলতে গেলে অবশ্যই ফোন স্ট্রাগল করবে, সেটা বুঝে নেওয়াই ভালো। কিন্তু যে ছেলে মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে মজা করে গেম খেলে, তার জন্য এটাই যথেষ্ট।
স্টোরেজ ও রিড-রাইট স্পিড
UFS 2.0 স্টোরেজ প্রযুক্তি ফাইল ট্রান্সফার, অ্যাপ ইন্সটলে মোটামুটি ভালো স্পিড দেয়। ৪K ভিডিও তোলার দরকার তো নেই, তাই স্টোরেজ পারফরম্যান্স বাজেট অনুযায়ী ঠিক আছে। এক্সটার্নাল SD কার্ড সাপোর্ট আছে কি না, সেটা কনফার্ম না করে বলতে পারছি না। তবে 128GB স্টোরেজ মোটামুটি অনেকের জন্য প্রচুর।
সবমিলিয়ে Snapdragon 6S J3 আর Poco-র অপটিমাইজেশান মিলিয়ে দামের তুলনায় ঠিকঠাক পারফরম্যান্স দিচ্ছে। ভারী গেইমারদের জন্য না হলেও, বাকি ৯০% ইউজার খুশি হবেন।
Camera System
ক্যামেরা এখন যেকোনো ফোনের মেইন সেলিং পয়েন্ট। Poco M7 Plus-এর রিয়ারে আছে 50MP মেইন সেন্সর, আর সামনে 8MP সেলফি ক্যামেরা। আল্ট্রাওয়াইড, ডেপ্থ বা ম্যাক্রো সেন্সর এখানে অনুপস্থিত। তবে এত কম টাকায় কেমন ছবি ওঠে? আমি অনেকটা সময় বাইরে আর ভেতরে ক্লিক করে দেখলাম।
ডেলাইট ফটোগ্রাফি
দিনের আলোয় এই ফোন সত্যিই চমৎকার ছবি তোলে। পোর্ট্রেট মোড, নরমাল ফটো—দুটোতেই স্কিন টোন ন্যাচারাল থাকে আর এক্সপোজার হ্যান্ডলিং দারুণ। একবার যে ছবিটা আমি কঠিন কন্ডিশনে তুলেছিলাম, পেছন থেকে জোরালো আলো আসছিল, তারপরও ফোনটি আকাশ আর বিল্ডিং ঠিকঠাক এক্সপোজ করে ছবি ধরে রেখেছে। অনেক দামি ফোনেও এটা মুশকিল হয়ে যায়। আউটডোরে আইএনজি ব্লু বট স্কাই কালার একটু বেশি পাঞ্চি হয়ে যায়, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই এটা পছন্দ করে।
ইনডোর ও লো-লাইট
ইনডোরে পর্যাপ্ত আলো থাকলে ছবি ভালো ওঠে, রঙে জমাট ভাব থাকে। কিন্তু আলো কমে গেলে বা খুব বৈচিত্র্যপূর্ণ লাইটিং হলে ফোন কিছুটা স্ট্রাগল করে। তখন নয়েজ একটু বাড়ে, ডিটেইল কমে। তবুও বলব, এই দামের ফোন হিসেবে পাওয়াটাই অনেক। একেবারে অন্ধকারে ফটো আশা করবেন না, কিন্তু ঘরোয়া আলোতে কাজ চলে। ফ্রন্ট ক্যামেরা 8MP, সেলফি ভালোই আসে। ইনডোরে আর বাইরে বেশ কিছু সেলফি নিলাম, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা যায় দিব্যি। স্কিন স্মুথিং খুব একটা আগ্রাসী না, সেটাও বড় প্লাস পয়েন্ট।
AI ফিচার ও মজার টুলস
ক্যামেরার সাথে Poco HyperOS-এর কিছু AI গুডি দেওয়া হয়েছে। AI Eraser দিয়ে ছবির অপ্রয়োজনীয় জিনিস মুছে ফেলা যায়, যা একেবারে কাজের। আর AI Sky Replacement—আকাশের রং এক ট্যাপে বদলে ফেলুন, ফটোগ্রাফি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করার জন্য দারুণ। এছাড়া Circle to Search ফিচারও পাওয়া যাচ্ছে, স্ক্রিনের যে কোন অংশ গোল করে ঘিরলেই গুগল সার্চ রেজাল্ট দেখায়। পড়ুয়াদের জন্য দারুণ টুল।
মোটকথা, ক্যামেরা প্রাইস টু পারফরম্যান্স রেশিওতে পাশ করছে। ডে লাইটে দুর্দান্ত, বাকি সময়ে চলনসই। এআই ফিচারগুলো মজা যোগ করছে।
Battery Life & Charging
এবার আসি সবচেয়ে বড় হিরোর কথায়—ব্যাটারি। Poco M7 Plus-এর সোল সেই ৭০০০mAh ব্যাটারি। সত্যি বলতে, এই ফোন ব্যাটারি লাইফ নিয়ে সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
সারাদিন নয়, দেড়-দুই দিন
নরমাল ইউজ—যেমন ইউটিউব দেখা, কল, সোশ্যাল মিডিয়া, ক্যাজুয়াল গেমিং—এসবে ফোন আরামে দেড় দিন পার করে দেয়। আমি একবার চার্জ দেবার পর সারা দিন ভারী ইউজ করেও বাসায় ফিরেছি ৪৫% ব্যাটারি নিয়ে। হেভি গেমিং না করলে দু’দিন পর্যন্ত চলে যাওয়া সম্ভব। চিন্তা করুন, রাতে চার্জ দিতে ভুলে গেলেও সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন ফোন এখনও জ্যান্ত। এটা অনেকের জন্যই গেম-চেঞ্জার।
রিভার্স চার্জিং: পাওয়ার ব্যাংক কমপ্লিট
Poco M7 Plus 18W রিভার্স ওয়্যার্ড চার্জিং সাপোর্ট করে। অর্থাৎ আপনি চাইলে এই ফোন দিয়ে অন্য ফোন, ইয়ারবাড, স্মার্টওয়াচ চার্জ করতে পারবেন। ৭০০০mAh-এর বিশাল তোয়ালে থাকায়, একবার ফুল চার্জ করে আমার মতো কেউ তার iPhone কে প্রায় দু’বার চার্জ করে নিতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে পাওয়ার ব্যাংক বহনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া গেল। বাইরে বের হলে শুধু ক্যাবল নিয়ে বের হলেই চলে। দারুণ সুবিধা।
চার্জিং স্পিড
৩৩W চার্জিং ব্রিকে ফোনের বিশাল ব্যাটারি ফুল হতে সময় নেয় প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টার মতো। ব্যাটারি হেলথের দিকে নজর রেখে Poco দাবি করছে, ১৬০০ চার্জ সাইকেল পর্যন্ত ব্যাটারি ৮০% হেলথ ধরে রাখবে। অর্থাৎ চার বছর কিছুটা যত্ন নিয়ে ইউজ করলেও ব্যাটারি ভদ্রস্থ থাকবে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য এটি আরামের।
সারসংক্ষেপে, ব্যাটারি লাইফ ও চার্জিং ফিচার মিলিয়ে এই ফোন একটি ছোটখাটো জাদুর বাক্স। পাওয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য এক কথায় অসাধারণ।
Software & Features
Poco M7 Plus চলে HyperOS-এ, যা বেস করে Android 15। Xiaomi-র নতুন এই ওএস বেশ গোছানো আর কাস্টমাইজেশন-বান্ধব।
UI এক্সপেরিয়েন্স ও কাস্টমাইজেশন
HyperOS-এর লক স্ক্রিনের অ্যানিমেশন, ক্লক স্টাইল, অ্যাপ খোলা-বন্ধের মসৃণতা সত্যিই নজরকাড়া। অনেক অবজ্ঞা করা বাজেট ফোনের থিমের মতো না, বরং প্রিমিয়াম লাগে। কাস্টমাইজেশনের অপশন অনেক, তাই নিজের পছন্দমতো ফোন সাজানো যায়। ব্লোটওয়্যার কিছু প্রি-ইনস্টলড আছে, কিন্তু ভালো ব্যাপার হলো, একেবারে সব আনইনস্টল করে ফেলা যায়। তাই অহেতুক অ্যাপ নিয়ে বিরক্তির কিছু নেই।
আপডেট পলিসি ও ইউজফুল ফিচার
Poco জানিয়েছে ২ বছরের অ্যান্ড্রয়েড OS আপডেট ও ৪ বছরের সিকিউরিটি প্যাচ। এই দামের ফোনের জন্য যথেষ্ট ভাল। এছাড়া কল রেকর্ডিং সুবিধা আছে, যা অনেক ব্যবহারকারী খোঁজেন। Circle to Search, AI ইরেজার, স্কাই রিপ্লেসমেন্ট তো আগেই বলেছি। সব মিলিয়ে সফটওয়্যার খুব পরিণত মনে হয়েছে।
একটা বিষয়: HyperOS-এর কিছু অ্যানিমেশন প্রথম দিকে মনে হতে পারে একটু ভারী, কিন্তু 144Hz ডিসপ্লের জন্য সেটা কাভার হয়ে যায়। সব মিলিয়ে সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা বেশ পরিষ্কার ও তরতাজা।
Final Verdict
এতক্ষণ Poco M7 Plus-এর খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করলাম। এখন সবশেষে প্রশ্ন—এই ফোন কি আপনার জন্য? আর Xiaomi Poco M7 Plus price in Bangladesh বর্তমানে আনঅফিশিয়ালি 6GB/128GB ভেরিয়েন্টের জন্য ২১,৫০০ টাকা।
এই বাজেটে ফোনটি যা অফার করছে তা সত্যি ঈর্ষণীয়। প্রথমত, ৭০০০mAh ব্যাটারি আর রিভার্স চার্জিং—এমন ফিচার ৩০-৪০ হাজার টাকার ফোনেও দেখা যায় না। দ্বিতীয়ত, বিশাল ১৪৪Hz ডিসপ্লে যা গেইমিং আর কন্টেন্ট কনজাম্পশনে আনন্দ দেয়। তৃতীয়ত, ক্যামেরা দিনের বেলা সত্যিই মন ভরাবে। পারফরম্যান্স ক্যাজুয়াল ইউজারদের জন্য যথেষ্ট, আর সফটওয়্যার মসৃণ।
অবশ্যই কিছু আপস আছে—আপনি AMOLED পাবেন না, স্টেরিও স্পিকার নেই, আর একটু কম আলোতে ক্যামেরা চেষ্টা করে। কিন্তু ২১,৫০০ টাকায় এগুলোকে খুব বড় দুর্বলতা বলা যাবে না। প্রতিযোগী ফোনগুলোর (যেমন Samsung Galaxy M14, realme Narzo সিরিজ) তুলনায় Poco M7 Plus ব্যাটারি আর স্ক্রিন সাইজে এগিয়ে থাকবে। যারা সারাক্ষণ চার্জারের পিছনে ছুটতে চান না, বড় পর্দায় ভিডিও দেখতে ভালোবাসেন, আর সময়ে সময়ে গেম খেলেন, তাদের জন্য এটি অসাধারণ এক পছন্দ।
আমার অভিজ্ঞতায় বলছি, এই ফোনটা হাতে নিলে এক ধরনের স্বাধীনতা অনুভূত হবে—পাওয়ার নিয়ে টেনশন ফিনিশড। আর পাশের জনকে বলতে পারবেন, “ভাই, তোমার ফোনের চার্জ শেষ? ধরো, আমারটা দিয়ে চার্জ দিই।” সিরিয়াসলি, Poco M7 Plus একটা ইমোশন সেল করে। তাই দাম আর ফিচারের সমীকরণ মিলিয়ে এটাকে বাজেট কিং বলে দিলে কম বলা হবে না।





