Infinix-এর Hot সিরিজ বাংলাদেশের বাজেট ফোনের জগতে একটা তুমুল পরিচিত নাম। দশ-বারো হাজার থেকে শুরু করে বিশ হাজারের আশেপাশে ‘হট’ মানেই যেন একধরনের ভরসা। সেই ধারাবাহিকতায় এলো নতুন Infinix Hot 70। ফোনটা হাতে নিয়ে কয়েকদিন ধরে অফিস, বাসা আর বাইরের রুক্ষ পরিবেশে ইউজ করেছি। বলতে পারেন, পুরো দমে পরীক্ষা করে ফেলেছি। আজকের এই লেখায় আমি শুধু স্পেসিফিকেশন ঘেঁটে বলব না—নিজের এক্সপেরিয়েন্স থেকে বলব, Hot 70 আসলে কেমন, কার জন্য এটি পারফেক্ট, আর কোথায় গিয়ে খানিকটা আফসোস জাগে।
চলুন, শুরু করা যাক ডিজাইন দিয়ে।
Design & Build Quality
প্রথম ছোঁয়াতেই চোখ ধাঁধানো
Infinix Hot 70-এর ডিজাইন দেখলে মনে হবে, গত বছরের Hot 60 সিরিজেরই পরিণত ভার্সন—কিন্তু কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন ফোনটাকে একটু প্রিমিয়াম চেহারা দিয়েছে। ব্যাক প্যানেলটা সম্পূর্ণ প্লাস্টিকের, কিন্তু ফিনিশিং এমন যে দূর থেকে দেখলে কাঁচের মতোই লাগে। বিশেষ করে কমলা রঙের ভ্যারিয়েন্টটা (যেটা কালার চেঞ্জিং ফিচার সম্বলিত) খুব আক্রমণাত্মক আর ইয়ুথফুল ভাইব দেয়।
এবার যে ব্যাপারটা শুনলে একটু মজা লাগবে—Infinix বলছে, এই কালার চেঞ্জিং ভার্সন 0°C তাপমাত্রায় গাঢ় কমলা আর 65°C-তে হালকা কমলা হয়ে যায়। ভাই, বাংলাদেশে গরমে তো 40°C-ও খুব কমই ছোঁয়। তাহলে এই ফিচার কি বাস্তবে কাজের? আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা ফান এলিমেন্ট; প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শো-অফের জিনিস। তবু আছে, খারাপ কী!
পোর্ট, বাটন ও সার্বিক অনুভূতি
ফোনটার ওজন প্রায় 200 গ্রাম, আর পুরুত্ব স্রেফ 7.49mm। হাতে ধরলে খুব একটা ভারী লাগে না, কিন্তু প্রস্থটা একটু বেশি হওয়ায় ছোট হাতের মানুষদের এক হাতে টাইপ করতে একটু অস্বস্তি হতে পারে। আমি আর আমার টিমের সদস্যরা মিলে ডিজাইন স্কোর দিয়েছি 7/10—কারণ চওড়া ফোনটা লম্বা সময় ধরে এক হাতে নাড়াচাড়া করলে মুঠিতে টান ধরে।
বাটন প্লেসমেন্ট দারুণ। ডান পাশে ভলিউম রকার আর পাওয়ার বাটন, যার মধ্যেই আছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। সেন্সরটা চটজলদি কাজ করে, সাধারণত ভুল করে না। আর বাঁ পাশে আছে সিম ট্রে। নিচে USB Type-C পোর্ট, 3.5mm হেডফোন জ্যাক আর প্রাইমারি স্পিকার গ্রিল। ওপরের দিকে সেকেন্ডারি স্পিকার আর একটি কাস্টমাইজেবল ‘One Tap’ বাটন। এই বাটনটা অনেকটা iPhone-এর Action Button-এর মতো, ইচ্ছেমতো কমান্ড সেট করে ফেলতে পারবেন—যেমন সরাসরি রেকর্ডিং শুরু করা, ক্যামেরা ওপেন বা ফ্ল্যাশলাইট চালু করা।
একটা বড় অনুপস্থিতি: ডেডিকেটেড নয়েজ ক্যান্সেলেশন মাইক্রোফোন নেই। Infinix এটা পুষিয়ে নিতে চেয়েছে Pure Voice নামের AI-নির্ভর ফিচার দিয়ে। আমরা একটা ভিড়ের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কল কোয়ালিটি পরীক্ষা করেছি। প্রথমে Pure Voice বন্ধ রেখে কল করলে আশপাশের হর্ন আর আওয়াজ পরিষ্কার শোনা যাচ্ছিল। তারপর Pure Voice অন করলে দূরের গাড়ির শব্দ কিছুটা কমলেও পুরোপুরি যায়নি; তবে কথা বলার ভয়েস বুঝতে অসুবিধা হয়নি। কল রিসিভারের অভিজ্ঞতা মোটামুটি। কিন্তু ডেডিকেটেড নয়েজ মাইকের অভাবটা একটু খচখচেই লাগে।
আর IP রেটিং? এখানে ইনফিনিক্স দিয়েছে IP65, মানে ধুলো থেকে সুরক্ষা আর সামান্য পানির ছিটা সহ্য করতে পারে। কিন্তু এই বাজেটে (বিশ হাজার টাকার আশেপাশে) অন্যান্য ব্র্যান্ড IP68 বা IP69 রেটিং পর্যন্ত দিচ্ছে। তাই IP65 দেখে একটু মন খারাপ হতেই পারে, বিশেষ করে যারা বর্ষায় বাইরে ফোন ইউজ করেন।
সার্বিক বিল্ড কোয়ালিটি মোটামুটি এভারেজ। ড্রপ টেস্টে মিলিটারি গ্রেড সার্টিফিকেশন থাকলেও, হাতে নিলে দামি ফোনের সেই দৃঢ় ব্যাপারটা পাবেন না। তবু এই দামে এমনটাই আশা করা যায়।
Display Experience
বেজেলের বেড়াজাল
ফোনের সামনের দিকে তাকালেই প্রথমে চোখ আটকায় মোটা বেজেলগুলোতে—বিশেষ করে নিচের চিনটা পুরো দশকের পুরোনো ডিজাইনের কথা মনে করিয়ে দেয়। 6.78 ইঞ্চির IPS LCD প্যানেল; রেজোলিউশন HD+ (1600x720 পিক্সেল)। 120Hz রিফ্রেশ রেট দাবি করলেও, আমার চোখে বাস্তবে 90Hz-এর বেশি আরামদায়ক কোনো ফ্লুইডিটি ধরা পড়েনি। হোম স্ক্রিনে তো 90Hz-এই আটকে থাকে, যা ইনফিনিক্সের আগের ফোনেও দেখেছি।
ব্রাইটনেস ও আউটডোর
এই প্যানেলের HBM (High Brightness Mode) ব্রাইটনেস 700 nits পর্যন্ত যায়। ইনডোরে ইউজ করতে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু সরাসরি সূর্যের আলোয় বাইরে গেলে স্ক্রিন পড়তে বেশ কষ্ট হয়। বাজারের অনেক প্রতিযোগী এই দামে 1000 nits-এর আশেপাশে দিচ্ছে, তাই এখানে Hot 70 একটু পিছিয়ে।
কালার পুনরুৎপাদন মোটামুটি নরমাল—কোনো চোখ ধাঁধানো ভাইব্রেন্সি নেই, খুব সাদামাটা। HDR সাপোর্টও অনুপস্থিত। Netflix বা YouTube-এ ভিডিও দেখতে গেলে Widevine L3 সার্টিফিকেশন থাকায় সর্বোচ্চ 480p-তে সীমাবদ্ধ থাকতে হয় (তবে YouTube অ্যাপে 1080p পর্যন্ত প্লেব্যাক করতে পারবেন, কিন্তু মাঝে মাঝে ল্যাগ করতে পারে)। বাজেট ফোনে একটু হলেও Widevine L1-এর আশা করেছিলাম।
ডুয়াল স্পিকার: মিসম্যাচ
বেশিরভাগ স্টেরিও স্পিকার সেটআপে ইয়ারপিস স্পিকারের ভলিউম নিচের স্পিকারের চেয়ে সামান্য কম হয়। কিন্তু এখানে তফাতটা এতটাই প্রকট যে গান শুনতে একপাশ থেকে মনে হয় যেন ফিসফিস করছে। বাজে না, তবে ব্যালেন্সড অডিও পেতে হলে সিঙ্গেল স্পিকারেও সমান তৃপ্তি পেতেন।
সব মিলিয়ে ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্সটা এক কথায় বলতে গেলে—এভারেজ। পড়াশোনার পিডিএফ, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং অথবা ইউটিউব দেখার জন্য ঠিকঠাক, কিন্তু সিনেমা বা গেমিংয়ের আসল মজা এখানে পাবেন না।
Performance & Gaming
চিপসেট আর বাস্তবতা
এতে আছে MediaTek Helio G Ultimate চিপসেট, সাথে LPDDR4x RAM আর UFS 2.2 স্টোরেজ। এই কম্বিনেশনটা গত কয়েক বছর ধরে এন্ট্রি-লেভেল থেকে মিড-রেঞ্জ বাজেট ফোনে আমরা দেখে আসছি। পারফরম্যান্সের দিক থেকে এর সরাসরি প্রতিযোগী Snapdragon 685-ভিত্তিক ডিভাইসগুলো। বেঞ্চমার্কে দুটোর স্কোর কাছাকাছিই—বড় কোনো ব্যবধান নেই।
দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট স্মুথ পারফরম্যান্স দেয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে ৪-৫টা অ্যাপ রেখে ফেসবুক-মেসেঞ্জার-ইউটিউব ঘুরলে তেমন কোনো স্লোডাউন চোখে পড়েনি। তবে 4GB র্যাম ভার্সনে (যেটা 4GB+128GB) ক্যাশ জমতে শুরু করলে কিছুদিন পর পর অ্যাপ ক্লিয়ার করার অভ্যাস থাকতে হবে। তাই আমি রেকমেন্ড করব, অন্তত 6GB র্যাম ভার্সন কেনার। 8GB ভার্সন আরও ভবিষ্যৎ-প্রুফ।
গেমিং টেস্ট
ফ্রি ফায়ার আমাদের টিমের কেউ তেমন খেলে না, তাই ওই পারফরম্যান্স সঠিক বলতে পারব না—কিন্তু সেটিংসে সর্বোচ্চ যে ফ্রেমরেট দেখা যাচ্ছে, তাতে বাড়তি আশা না করাই ভালো। PUBG-তে Smooth Graphics+Extreme Frame Rate সেটিংসে খেলা গেলেও গেমপ্লে পুরোপুরি স্মুথ না। ব্যস্ত জায়গায় ফ্রেম ড্রপ চোখে পড়ে, বিশেষ করে ল্যান্ডিংয়ের পরপর। আরও হালকা গেম যেমন ফুটবল টাইপের গেমগুলো দিব্যি চলে। ২০-২৫ মিনিট খেলার পরও ফোনের গা খুব একটা গরম হয়নি—এটা চিপসেটের পাওয়ার লিমিটেড থাকার সুফল। কিন্তু হেভি গেমারদের জন্য এই ফোন নয়।
একটা গুরুতর বিষয় মাথায় রাখতে হবে: ইনফিনিক্সের আগের হট সিরিজের ফোন কিনে কিছু ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, কয়েক মাস পরেই ফোন ‘স্লো’ ভাব আসে। আমাদের টেস্টিংয়ের সময় তেমন কিছু ধরা পড়েনি। তবে আমি সৎভাবেই বলব, এই দামের ফোনে সময়ের সাথে UI একটু ল্যাগি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কোম্পানির উচিত সফটওয়্যার পলিশ আরও নিয়মিত আপডেট দিয়ে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ধরে রাখা।
Camera System
পেছনের সেটআপ: একটাই আসল ক্যামেরা
পেছনে চোখে পড়ে বিশাল ক্যামেরা বাম্প, তিনটা রিং। কিন্তু আসলে কাজের ক্যামেরা একটাই—50MP সেন্সর। বাকি দুটোর একটি হলো IR Blaster (যা দিয়ে অ্যাপ্লায়েন্স কন্ট্রোল করা যায়), অপরটি আলংকারিক। ক্যামেরা Api2 Level 3 সাপোর্ট নেই, তাই Google Camera বা Gcam ইন্সটল করে ব্যবহার করতে পারবেন না। যারা জিক্যাম-প্রেমী, তাদের জন্য হতাশার খবর।
50MP মূল ক্যামেরা দিনের আলোয় মোটামুটি ভালো ছবি দেয়। ডিটেইল ঠিকঠাক, তবে একটু বেশি ব্রাইট সাবজেক্ট পেলে ক্যামেরা সহজে পুড়িয়ে ফেলে—ডাইনামিক রেঞ্জে ইনকনসিসটেন্সি প্রকট। বিল্ট-ইন AI যখন সাবজেক্ট ডিটেক্ট করে, তখন অনেক সময় কালার টেম্পারেচার বাড়িয়ে দেয়। ফলে আকাশ আরও নীল, ঘাস আরও সবুজ দেখাতে পারে—কিছু মানুষের পছন্দ হবে, কারও কাছে অতিরঞ্জিত মনে হবে।
জুমের জন্য ক্যামেরা UI-তে 1x আর 2x অপশন আছে। 2x-এ তোলা ছবির ডিটেইল কিছুটা কমে যায়, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া আপলোডের জন্য একেবারেই ব্যবহারযোগ্য। আরও ভালো লাগে Live Photo ফিচার, যা এখন অসময়ে স্মৃতি ক্যাপচারে দারুণ কাজ দেয়। ইনফিনিক্সের পুরোনো এই ফিচার এখানেও অটুট।
পোর্ট্রেট মোডে দিনের আলোয় ইমেজ কোয়ালিটি ভালো। এজ ডিটেকশন মাঝেমধ্যে গোলমাল করলেও, সিংহভাগ ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার সন্তোষজনক। মুখ কিছুটা স্মুথ করার প্রবণতা আছে—চায়নিজ ফোনের সাধারণ ট্রেন্ড। তবু 35mm বা 50mm ফোকাল লেংথের কিছু পোর্ট্রেট পরীক্ষায় চমৎকার বেরিয়েছে।
সেলফি ও ভিডিও
সামনের 8MP ক্যামেরা খুব বেশি কিছু নয়, একেবারে ‘চলনসই’ লেভেলের। বাজেট ফোন হিসেবে এটুকু আশা করা যায়। পেছনের ও সামনের দুদিকেই 2K (1440p) 30fps ভিডিও রেকর্ডিং করতে পারেন—এটা ভালো। কিন্তু ভিডিও কোয়ালিটি কিছুটা নিচুমানের, স্ট্যাবিলাইজেশনও তেমন জোরালো নয়। Ultra Steady মোড অন করে 1080p রেকর্ড করলে ফুটেজ একটু কাজের হয়, তবে তবু দুলুনি থেকে যায়।
ক্যামেরার জন্যই কেউ এই ফোন কিনবেন না। এই বাজেটে আরও ভালো ক্যামেরা ফোন পাওয়া যায়। Hot 70 ক্যামেরা সেকশনে উচ্চ মার্ক পেতে ব্যর্থ।
Battery Life & Charging
6000mAh-এর রাজত্ব
ব্যাটারি হলো এই ফোনের সবচেয়ে শক্তিশালী পয়েন্ট। 6000mAh-এর সেল, 6nm চিপসেট আর হালকা UI—তিনে মিলে ব্যাটারি ব্যাকআপ দারুণ। মিডিয়াম ব্রাইটনেসে Wi-Fi-তে ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া আর কল মিলিয়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা স্ক্রিন-অন টাইম আরামে পাওয়া যায়। হাই ব্রাইটনেসে বাইরে হেভি ইউজ করলে সেটা একটু কমবাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই দিন শেষ হবে না। সাধারণ ইউজারদের জন্য দেড় থেকে দুই দিন আরামে চলবে।
চার্জিং স্পিড
বক্সেই 45 ওয়াট ফাস্ট চার্জার দেয়, যেটা এই প্রাইস সেগমেন্টে প্রশংসার দাবিদার। 0% থেকে 50% চার্জ 30 মিনিটের মধ্যে হয়ে যায়, আর পুরো চার্জ নিতে সময় লাগে এক ঘণ্টার সামান্য কিছু বেশি। Bypass Charging ফিচারটি গেমারদের জন্য দারুণ—চার্জে বসিয়ে গেম খেললে সরাসরি ফোনকে পাওয়ার দেয়, ব্যাটারি গরম হয় না। প্লাস 10 ওয়াটের রিভার্স ওয়ার্ড চার্জিং সুবিধা থাকায় জরুরি মুহূর্তে বন্ধুর ইয়ারবাড বা অন্য ফোন চার্জ করে দিতে পারবেন।
Software & Features
XOS 16 ও বাস্তবতা
Hot 70-এ XOS 16 চলে, Android 14-এর উপর ভিত্তি করে। কাস্টম স্কিন হিসেবে এটি এখন অনেকটাই পরিণত। ব্লোটওয়্যার (প্রি-ইন্সটল করা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ) আগের তুলনায় কমেছে, তবু কিছু অপ্রয়োজনীয় গেম আর টুল অ্যাপ আছে যেগুলো রিমুভ করে নেওয়াই ভালো। UI নেভিগেশন স্মুথ, অ্যানিমেশন হালকা—পুরো এক্সপেরিয়েন্সটা গোছানো।
এবার ভালো দিক: Infinix দিচ্ছে তিন বছরের OS আপডেট আর পাঁচ বছরের সিকিউরিটি আপডেট। বাজেট ফোনে এত লম্বা সাপোর্ট সত্যিই নজিরবিহীন। এতে ভবিষ্যতে ফোন সফটওয়্যারগতভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং নতুন ফিচারও পেতে থাকবেন।
Ultra Link, AI ও অন্যান্য
ইনফিনিক্সের সিগনেচার ফিচার Ultra Link এখানেও আছে। দুটি ইনফিনিক্স ফোনের মধ্যে কোনো নেটওয়ার্ক বা সিম ছাড়াই 1.5 কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত কল এবং মেসেজ আদান-প্রদান করা যায়। পাহাড়ি এলাকা কিংবা নেটওয়ার্ক অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় এটা কাজে আসতে পারে। ক্যামেরা বাম্পের ওপরে ব্লিংকিং নোটিফিকেশন লাইটও রিটেইন করা হয়েছে—কল বা মেসেজ এলে লাইট জ্বলে, বেশ নস্টালজিক।
এছাড়া কিছু AI ফিচার আছে, যেমন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট, এআই ইমেজ এডিটিং ইত্যাদি। তবে বাজেট হার্ডওয়্যারে এই ফিচারগুলো সীমিত ক্ষমতা নিয়েই কাজ করে, তাই বাড়তি প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। কলের Pure Voice AI নয়েজ রিডাকশন একটু আগেই আলোচনা করেছি।
IR Blaster-এর মাধ্যমে এসি, টিভি ইত্যাদি কন্ট্রোল করা যায়। NFC পেমেন্টের জন্য আছে, আর প্রক্সিমিটি সেন্সর ফিজিক্যাল—ভার্চুয়াল নয়। যারা কলের সময় স্ক্রিন অফ হওয়ার ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের জন্য এটা পজিটিভ।
Final Verdict
Infinix Hot 70 কোন সেক্টরে অসাধারণ, আবার কোন সেক্টরে খুব সাধারণ—এই মিশ্র অনুভূতি নিয়েই ফোনটা রাখতে হচ্ছে। ডিজাইনটা সুন্দর, ব্যাটারি লাইফ অসাধারণ, চার্জিং ফাস্ট আর সফটওয়্যার আপডেট পলিসি উদার। ক্যামেরা, ডিসপ্লে ও স্পিকার পরিপাটি পারফরম্যান্স দেয়নি, আর IP রেটিং কম থাকায় দীর্ঘমেয়াদী রাফ ইউজের ভরসা পাবেন না।
পারফরম্যান্স দৈনন্দিন কাজ ঠিকঠাক চালিয়ে নিতে পারবে, কিন্তু গেমিং বা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য সেরা নয়। সময়ের সাথে UI খানিকটা স্লো হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ইনফিনিক্সের আগের ডিভাইসের ইতিহাস বলে। তবে কোম্পানি যদি ভালো সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন বজায় রাখে, তাহলে ঠিকই টিকে থাকবে।
এবার আসি Infinix Hot 70 price in Bangladesh-এ। বাজারে এই মুহূর্তে তিনটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে:
- 4GB+128GB: BDT 18,999
- 6GB+128GB: BDT 21,999
- 8GB+128GB: BDT 25,999
আমার স্পষ্ট মতামত: 6GB র্যাম ভার্সনটাই বেস্ট ভ্যালু। 4GB-তে কিছুদিন পর লিমিটেশন টের পাবেন, আর 8GB-তে দাম বেড়ে যাওয়ায় অন্য ব্র্যান্ডের আরও ভালো অপশন চলে আসে। যদি আপনার প্রায়োরিটি লং ব্যাটারি লাইফ, মোটামুটি টেকসই পারফরম্যান্স আর সুন্দর লুক—তাহলে Hot 70 নির্দ্বিধায় বেছে নিতে পারেন। তবে ক্যামেরা আর ডিসপ্লেতে একটু বেশিই গুরুত্ব দেন, তাহলে বাজারে টাকা বাড়িয়ে রিয়েলমি আর শাওমির কিছু মডেলের দিকে তাকানো ভালো।
ছোট ভাই বা বোনের জন্য উপহার হিসেবে ইনফিনিক্স হট 70 যথার্থ। ফোনটি প্রথম দেখায় প্রিমিয়াম, হাতে নিলে চেনা আরাম আর দীর্ঘদিন সফটওয়্যার সাপোর্টে ভরসা রাখে। কিন্তু বেড়ে ওঠা টিনএজার যে গেম খেলে আর রিল বানায়, তাকে খানিকটা সীমাবদ্ধতায় ফেলবে।
তাই সিদ্ধান্ত আপনার—বাজেটে টিকে থেকে স্মার্টফোন কিনতে চাইলে এটি এখনও ভালো অপশন, কিন্তু চোখ বন্ধ করে ‘হট’-এ লাফ দেওয়ার আগে একটু এনালাইসিস করে নেবেন। বাজেটের প্রতি টাকার সম্মান রাখতে এইটুকু করতেই পারেন।



