Infinix Hot 60 Pro Plus: একেবারে চিকন আর কার্ভড স্ক্রিন, ২৪ হাজারে কী দিচ্ছে সব?
বন্ধুরা, ধরো তুমি এমন একটা ফোন খুঁজছো যা দেখতে একদম প্রিমিয়াম লাগবে, হাতেও আরাম দেবে, কিন্তু পকেটের বাজেট ২৫ হাজারের আশেপাশে। আর তার ওপরে চাই কার্ভড AMOLED ডিসপ্লে, কম ওজন আর বড় ব্যাটারি। এমন সব চাওয়ার লিস্ট মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাজারে সবচেয়ে গুছানো স্মার্টফোনগুলোর একটা হয়ে এসেছে Infinix Hot 60 Pro Plus। চেহারায় চিকন, স্পেকে ভারী – অথচ দাম রাখছে এমন যে প্রতিযোগীদের ঘুম হারাম। কিন্তু আসল ব্যবহারে কি ততটাই ভালো? চলো, একদম খোলামেলা আলোচনা করি।
Design & Build Quality
তোমার হাতে এই ফোনটা ধরলেই প্রথম যে জিনিসটা চমকে দেবে, সেটা হলো এর পুরুত্ব। Infinix Hot 60 Pro Plus-এর বডি মাত্র 5.95mm পাতলা। কলমের মতো ফোন না বললেও, এই দামে এত স্লিম কিছু দেখা সত্যিই বিরল। আর ওজন? মাত্র 155 গ্রাম। মানে, সারাদিন ইউটিউব দেখলেও হাতে ব্যথা ধরবে না, এটা একপ্রকার গ্যারান্টি।
প্লাস্টিক ব্যাক আর প্লাস্টিক ফ্রেম থাকার কারণে শুরুতেই অনেকে ভাবতে পারে বডিটা নরম হবে। কিন্তু বাস্তবে ফোনটা বেশ স্টার্ডি ফিল দেয়। ফ্রস্টেড (Frosted) ফিনিশ হওয়ায় পেছনে আঙুলের ছাপ প্রায় পড়েই না। হালকা স্মাজ পড়লেও তা খুব একটা চোখে পড়ে না। প্রতিদিন ইউজ করার জন্য এই ফিনিশ বেশ প্র্যাক্টিক্যাল।
ফোনটার সামনে আর পেছনে দুই পাশে হালকা কার্ভ দেওয়া। হাতে ধরলেই বোঝা যায় আরাম বাড়ানোর জন্য ডিজাইনটা হয়েছে। তবে একটা কথা না বললেই নয়। এই দামে Corning Gorilla Glass 7i প্রটেকশন থাকাটা একটা বড় প্লাস পয়েন্ট। স্ক্রিনে হালকা আঁচড় বা ছোটখাটো দুর্ঘটনায় এটি কাজে দেবে। তারপরেও, কার্ভড ডিসপ্লের ফোন সবসময়ই একটু যত্নশীল হয়ে ব্যবহার করা উচিত।
আরেকটা চমক হলো IP65 রেটিং। তুমি যতই 25,000 টাকার ফোন কেনো না কেন, IP65 দেখতে সাধারণত এই বাজেটে পাবে না। এর মানে, বৃষ্টির পানির ছিটা বা রান্নাঘরে একটু পানি লাগলে দুশ্চিন্তা নেই। অবশ্য সুইমিংপুলে নেওয়া যাবে না, আর বর্তমান ট্রেন্ডের IP68 এর মতো পুরোপুরি ওয়াটারপ্রুফও নয়। কিন্তু দামের তুলনায় এই প্রটেকশন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
ডিজাইনের আরেকটা মজার জিনিস হলো রিয়ার ক্যামেরা মডিউল। তিনটা ক্যামেরার মতো দেখালেও নিচেরটা আসলে ডামি। আসল ক্যামেরা দুইটা। ব্যাপারটা জেনে একটু হাসি পেতে পারে, কিন্তু ভিজুয়ালি মন্দ লাগে না।
Display Experience
এবার আসি সেই জায়গায়, যেটা এই ফোনের ইউএসপি বলতে পারো। 6.78-ইঞ্চির Curve AMOLED প্যানেল, যার রেজুলেশন 1.5K। প্রতিদিন ভিডিও দেখতে বা গেম খেলতে বসলে যে অভিজ্ঞতা হবে, তা তোমাকে বেশ এনগেজড রাখবে।
রিফ্রেশ রেট ও রেজুলেশন
কাগজে-কলমে ফোনটা 144Hz রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। কিন্তু রিয়েল লাইফে বেশিরভাগ সময়ই এটি 120Hz-এ লক করা থাকে, আর কিছু অ্যাপে 90Hz-এ নেমে আসে। 144Hz কেবল কিছু নির্দিষ্ট অ্যাপে মেলে। আমার মতে, এটা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামানোর দরকার নেই। কারণ, অধিকাংশ ফ্ল্যাগশিপ ফোন 120Hz পর্যন্তই চলে। 120Hz আর 144Hz-এর মধ্যে তফাত বোঝা প্রায় অসম্ভব। তাই শুধু বন্ধুকে বলতে পারবে “আমার ফোনে 144Hz ডিসপ্লে আছে” – ব্যস, তাতেই কুল।
1.5K রেজুলেশন হওয়াতে ডিসপ্লেটা বেশ শার্প। ইউটিউবে কোনও কন্টেন্ট দেখলে টেক্সট বা ছবির ধার একেবারে চোখে লাগে না। মিডিয়া কনজাম্পশনের জন্য এই ডিসপ্লে এককথায় দারুণ।
ব্রাইটনেস ও কালার
স্পেসিফিকেশনে বলা আছে 4500 nits পিক ব্রাইটনেস। ইনডোরে তো পুরো উজ্জ্বল, আর বাইরে কড়া রোদের মধ্যেও স্ক্রিন বেশ ভালোই ভিজিবল থাকে। সরাসরি সূর্যের আলোতেও কন্টেন্ট দেখতে তেমন সমস্যা হয় না।
তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এই ফোনের কালার রিপ্রোডাকশন একেবারে ন্যাচারাল নয়। ইয়েলো, গ্রিন, রেড শেডগুলো একটু বুস্টেড বা পপ করা মনে হবে। যেমন টকটকে হলুদ বা লাল দেখতে সোশ্যাল মিডিয়ার ফটোর মতো লাগে। এটা খারাপ বলছি না, বরং প্রথম দেখায় চোখে বেশ লাগে। তবে বাস্তবতার চেয়ে একটু রঙিন প্রেজেন্টেশন পছন্দ না হলে তোমার একটু অস্বস্তি হতে পারে। যারা ফটো এডিটিং করেন, তাদের জন্য এই কালার একুরেসি ইস্যু হতে পারে। কিন্তু সাধারণ ইউজাররা কোনো সমস্যা বোধ করবে না।
সামনের চিন (থুতনি) তুলনামূলক একটু মোটা, কিন্তু কার্ভড ডিসপ্লের কারণে পুরো ফ্রন্ট লুক অনেকটাই ফ্ল্যাগশিপ টাইপ ঠেকে। বন্ধুদের মাঝে ফোন বের করলে প্রশংসা পাবে, একথা বলাই যায়।
Performance & Gaming
Infinix Hot 60 Pro Plus-এর প্রাণভোমরা MediaTek Helio G200 প্রসেসর। যারা খুব টেকি না, তাদের জন্য এক কথায় বললে, এই চিপসেটটা Helio G99-এরই হালকা আপগ্রেডেড ভার্সন। কোর কনফিগারেশন আর ক্লক স্পিড প্রায় একই। তাই থিউরি বলছে, ব্রুট পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটা Helio G100 বা G99 যে রেজাল্ট দেয়, একই রকম দেবে। বাস্তবেও তাই দেখেছি।
সাথে আছে UFS 2.2 স্টোরেজ, যা এই দামে মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ড। 8GB RAM-এর জোরেও অ্যাপ ওপেন-ক্লোজ বেশ ফাস্ট। নিয়মিত ইউটিউব, ফেসবুক, মেসেঞ্জার, কিছু ফটো এডিটিং অ্যাপ একসাথে চালিয়ে বিশেষ হ্যাং বা ল্যাগ পাইনি। তবে Infinix-এর RAM ম্যানেজমেন্ট একটু বেশিই স্মার্টলি ইউটিলাইজ করা বাকি রেখেছে বলে মনে হয়েছে। র্যাম বড়, কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ একটু দ্রুত রিলোড হয় মাঝেমধ্যে। এটাকে আরেকটু পলিশ করলে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স আরও ভালো হতো।
হিটিং ও কুলিং
এত পাতলা ফোনের ক্ষেত্রে গরম হওয়ার ব্যাপারটা ভাবনার বিষয়। Infinix এখানে 11-লেয়ারের VC (Vapor Chamber) কুলিং সিস্টেম দিয়েছে, আর বাস্তবে এটা কাজও দিয়েছে। স্বাভাবিক কাজে ফোন অতিরিক্ত গরম হয় না। একটু ওয়ার্ম হয়, যা হাতে ততটা ফিল পাওয়া যায় না। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, পেছনের থেকে বরং ডিসপ্লে সাইডটা একটু বেশি উষ্ণ হয়। কিন্তু তাকে এক্সেসিভ হিট বলার জো নেই। গরমের দিনে একনাগাড়ে ভিডিও দেখলেও অস্বস্তি হয় না।
গেমিং পারফরম্যান্স
হালকা-ফুলকা গেমারদের জন্য সুখবর, Free Fire একদম স্মুথ চলে। ফ্রেমরেট স্টেবল, লো-মিডিয়াম সেটিংসে একদম মজা। কিন্তু PUBG বা Battlegrounds Mobile India খেলতে গেলে হাই গ্রাফিক্সে ফ্রেম ড্রপ খাবে। মিডিয়াম বা লো সেটিংসে বরং ভালো আউটপুট আসে। তবে অ্যাকশন-হেভি মুহূর্তে মাঝে মধ্যে মাইক্রো স্টাটার দেখা যেতে পারে। তাই হাই-এন্ড গেমিংয়ের স্বপ্ন না দেখাই ভালো। কিন্তু দৈনন্দিন আনন্দ আর ক্যাজুয়াল গেমিংয়ের জন্য এটি যথেষ্ট।
তুলনা করলে, এই দামে যারা Helio G99 ইউজ করছে, হট 60 প্রো প্লাস প্রায় সেম এক্সপেরিয়েন্স দেবে, কিন্তু দাম যেহেতু কম (অনেক ক্ষেত্রে), এটাই বড় সুবিধা।
Camera System
আসলে আসল খেলাটা এখানেই। Infinix হট 60 প্রো প্লাস-এর পেছনে 50MP মেইন ক্যামেরা, যার সেন্সর Sony IMX882। এই সেন্সরটা বেশ নামজাদা, এমনকি অনেক ৩০-৪০ হাজার টাকার ফোনেও দেখা যায়। তাত্ত্বিকভাবে এর পারফরম্যান্স দুর্দান্ত হওয়া উচিত। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, Infinix সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনে পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি।
মেইন ক্যামেরা (দিনের আলোয়)
পর্যাপ্ত আলোয় ছবিগুলো শার্পনেসের দিক দিয়ে ঠিক এই দামের অন্যান্য ফোনের মতোই এভারেজ। ডিটেইলস মোটামুটি আছে, কিন্তু IMX882-এর যে লেভেলের আউটপুট আসা সম্ভব, তা আসেনি। ছবিগুলো একটু বুস্টেড কালার দেয় – মানে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি শেয়ার করার মতো উজ্জ্বল। প্রোপার লাইটিংয়ে ডায়নামিক রেঞ্জ মোটামুটি, কিন্তু ফ্রেমে যদি খুব বেশি হাইলাইট আর ডিপ শ্যাডো একসাথে থাকে, তখন ব্যালেন্স করতে বেশ টাল খায়। এক্সপোজার ব্যালেন্সেও কিছুটা ইস্যু থাকে, ফলে কিছু জায়গায় ছবি ওভার-ব্রাইট বা আন্ডার দেখাতে পারে।
পোর্ট্রেট ও অন্যান্য মোড
ডেডিকেটেড ডেপথ সেন্সর নেই, তবু পোর্ট্রেট মোড দুটো ফোকাল লেন্থ অফার করে – এটা ভালো। ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার অতিরিক্ত আর্টিফিশিয়াল না লাগলেও একেবারে ন্যাচারালও মনে হয়নি। সাবজেক্টের কিনারায় এজ ডিটেকশন কিছুটা মিসম্যাচ করে, যা জুম করলে ধরা পড়ে। স্কিন টোনের ব্রাইটনেস কিছুটা বেশি লাগতে পারে, তবে দেখতে খারাপ নয়।
লো লাইট ও নাইট মোড
কম আলোয় মেইন ক্যামেরায় কনট্রাস্টের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়, ফলে ছবি কখনো কখনো শক্ত দেখায়। সফটনেসও বাড়ে। নাইট মোড অন করলেও এই সমস্যা পুরোপুরি যায় না; বরং সামান্য আর্টিফিশিয়াল প্রসেসিং যোগ হয়। ডায়নামিক রেঞ্জ ও ডিটেইল আরও বেশি উন্নত হওয়া দরকার ছিল। মোটকথা, রাতের ছবি তোলার জন্য এটি খুব নির্ভরযোগ্য নয়।
ফ্রন্ট ক্যামেরা
13MP ফ্রন্ট ক্যামেরা দিনের আলোয় এবং ইনডোরে ভালো আলো থাকলে দারুণ ছবি তোলে – ভিডিও কলিংয়ের জন্য দিব্যি। কম আলোতে গুণগত মান অনেকটা পড়ে যায়, তখন সফটনেস আর নয়েজ হাজির হয়। সেলফিপ্রেমীদের বলবো – লাইট ঠিকঠাক থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার উপযোগী ছবি পাবে।
সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, ক্যামেরা সিস্টেমটা এই দামের এভারেজ বা তার নিচেই থেকে গেছে। ভালো সেন্সর থাকা সত্ত্বেও সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন বড় বাধা। ভবিষ্যতে আপডেটের মাধ্যমে যদি ইনফিনিক্স ইমপ্রুভ করে, তাহলে এই ফোনের ছবি তোলার ক্ষমতা বদলে যেতে পারে। আপাতত ক্যামেরার জন্য এই ফোন কেনার আগে একটু ভেবে দেখবে।
সর্বোচ্চ ভিডিও রেকর্ডিং 2K 30fps, যা সামাজিক মাধ্যমের জন্য যথেষ্ট।
Battery Life & Charging
যে ফোন মোটেই মোটা না, তাতে 5160mAh ব্যাটারি দেওয়াটা একটা ছোটখাটো বিস্ময়। পাতলা ফোন আর বড় ব্যাটারি – কম্বিনেশনটা দারুণ। আর সাথে বক্সের ভেতর পাচ্ছ 45W চার্জার, আলাদা কিনতে হবে না। চার্জিং স্পিডও বেশ ভালো; মাত্র ২২-২৩ মিনিটে ৫০% চার্জ হয়ে যায়। পুরো দিনের পাওয়ার ৩০ মিনিটেই মোটামুটি পেয়ে যাবে। রেগুলার ইউজে ফোন সহজেই একদিন চলে যায়, কখনো কখনো দেড়দিনও টানে।
তবে ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট নেই। এই দামে সেটা আশা করাটা একটু বাড়াবাড়ি হলেও, কস্ট-কাটিংয়ের জায়গা এখানে। বেশিরভাগ ইউজারের তা না হলেও চলবে।
একটা প্রশ্ন অনেকের মনে ঘুরতে পারে – এত পাতলা ফোনে এত বড় ব্যাটারি, কোনো সেফটি রিস্ক নেই তো? Infinix এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিশেষ স্টেটমেন্ট দেয়নি। ওয়ারেন্টি আছে বটে, তবে পাতলা ফোনে ব্যাটারি সুরক্ষা নিয়ে ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে একটি অতিরিক্ত ঘোষণা আসলে আমাদের মতো ক্রেতারা আরও নিশ্চিন্ত হতাম। যাই হোক, এখন পর্যন্ত এই মডেলে তেমন কোনো দুর্ঘটনার গুঞ্জন শুনিনি। তবু ভবিষ্যতে বড় কোনো আপডেট বা দাবি এলে তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
Software & Features
Infinix Hot 60 Pro Plus রান করছে XOS 15.1, বেস Android 15। ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ৩টি মেজর OS আপডেট আর ৫ বছরের সিকিউরিটি আপডেট। এই দামের ফোনে এত লম্বা সাপোর্ট বেশ প্রশংসনীয়।
ইউজার ইন্টারফেস
আগের তুলনায় XOS-এ অনেকটা বদল এসেছে। বিশেষ করে আইকনগুলো আগের চেয়ে বেশি প্রিসাইজ আর ডায়নামিক লাগছে। সস্তা বা চিপা ভাবটা অনেকটা কেটে গেছে। বড় কোনো এনিমেশন চেঞ্জ না হলেও ছোট এসব টাচ ফোনটাকে চোখে অনেকটাই প্রিমিয়াম করে তুলেছে। প্রথমবার ফোন অন করলে ইন্টারফেসের এই পরিচ্ছন্নতায় চমকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
তবে কিছু ব্লোটওয়্যার (প্রি-ইনস্টলড অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ) আছে, যা ইচ্ছা করলে আনইনস্টল করে পরিষ্কার ইউজ পেতে পারো।
AI ও অন্যান্য ফিচার
ইনফিনিক্স এখন টুকটাক AI ফিচার দিচ্ছে। এতে বিল্ট-ইন Gemini (জেমিনাই), ট্যাপ টু আস্ক – কাজে লাগতে পারে। ফটো রিসাইজ বা পোর্ট্রেট স্টাইলে কিছু নতুন ইউনিক এফেক্টও পাচ্ছো। এগুলো অতি জরুরি না হলেও মাঝেমধ্যে মজা দেবে।
NFC সাপোর্ট আছে, যা এখন বাংলাদেশে কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট বা ডাটা শেয়ারের জন্য দরকারি। এছাড়া স্টেরিও স্পিকার JBL টিউনড, সাউন্ড ব্যালেন্স ঠিকঠাক কিন্তু একটু থিন বা চিকন শোনায়। লাউডনেস যথেষ্ট, গান বা ভিডিও এনজয় করা যায়।
আন্ডার-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার আছে। ফোন কিছুটা লম্বাটে হওয়ায় সেন্সর একটু নিচের দিকে, কিন্তু অভ্যস্ত হলে দ্রুত ও নিখুঁত কাজ দেয়।
Ultra Link FTP (Infinix to Infinix ব্লুটুথ কলিং) এর মতো ছোট ফিচারও রয়েছে, যা একই ব্র্যান্ডের ইউজারদের যোগাযোগ আরও সহজ করে।
Final Verdict
তাহলে কেমন লাগল Infinix Hot 60 Pro Plus? সত্যি বলতে, ২৫,০০০ টাকার অফিশিয়াল ফোনের বাজারে এটি এক অসাধারণ ডিল। বর্তমানে বাংলাদেশে Infinix Hot 60 Pro Plus price in Bangladesh: 8GB+128GB ভ্যারিয়েন্টের জন্য ২৪,৯৯৯ টাকা, এবং 8GB+256GB মডেলের দাম ২৮,৯৯৯ টাকা (অফিশিয়াল)।
যারা ফোন কিনতে চাও আর চাহিদার প্রথম লাইনে আছে স্টাইলিশ স্লিম ডিজাইন, দারুণ কার্ভড AMOLED ডিসপ্লে, পানি ছিটা প্রতিরোধ আর দীর্ঘস্থায়ী ফাস্ট চার্জিং ব্যাটারি – তাদের জন্য এই ফোন সহজেই রিকমেন্ড করব। প্রতিদিনের পারফরম্যান্স যথেষ্ট, গরমও হয় না তেমন। বিনোদনের জন্য ডিসপ্লে ও স্পিকার জুটি ভালোই।
কিন্তু যদি তুমি ফটোগ্রাফি বেশি করো, কিংবা হাই-এন্ড গেমিংয়ের জন্য ফোন খুঁজছ, তাহলে এই ফোন তোমার জন্য সেরা না-ও হতে পারে। মেইন ক্যামেরা সেন্সর ভালো হলেও আউটপুট সেই লেভেলের নয়, আর গেমিংয়ে তুমি অনেক বেশি ফ্রেম বা গ্রাফিক্স পাবে না।
একটা কথা না বললেই নয় – এমন পাতলা ফোনে এত বড় ব্যাটারি দিয়েছে, অথচ সুরক্ষা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলেনি Infinix। এটা নিয়ে যদি তারা মুখ খোলে, তবেই সম্পূর্ণ আশ্বস্ত হওয়া যাবে। সফটওয়্যার আপডেটের ব্যাপারে তাদের কথায় ওজন আছে, কিন্তু ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের খুঁটিনাটি (যেমন RAM ম্যানেজমেন্ট বা ক্যামেরা অপটিমাইজেশন) উন্নতির জন্য এখনও অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হয়।
সর্বোপরি, ২৫ হাজার টাকার আশেপাশে অফিশিয়ালি এত সুন্দর ও ফিচার-প্যাকড ফোন আর একটা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই তুমি যদি স্পেক-সচেতন হও, আর চটকদার ডিজাইন আর দুর্দান্ত ডিসপ্লের জন্য একটু ক্যামেরা কিংবা গেমিংয়ে আপস করতে রাজি থাকো, তবে Infinix Hot 60 Pro Plus একবার হাতে নিয়ে দেখতেই পারো।



