শান্তিতে বসে বেরিবাদে চা খাচ্ছিলাম। এমন সময় রাফিদ ফোন দিয়ে বলে তানভর জোস একটা ফোন আইছে অফিসে। তাড়াতাড়ি ওইটা রিভিউ করা লাগব। অফিসে গিয়ে দেখি নর্ড সিরিজের নতুন সংযোজন নর্ড ৬। ওয়ানপ্লাস নর্ড সিরিজ বরাবরই পারফরম্যান্স, ব্যাটারি ও ডিসপ্লেতে গুরুত্ব দিয়ে আসছে, নর্ড ৬-ও তার ব্যতিক্রম নয়। অক্সিজেন ওএস-এর মসৃণতা, বিশাল ব্যাটারি আর মাথা ঠান্ডা রাখার সক্ষমতা নিয়ে হাজির হয়েছে ফোনটি। তবে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বাজারে এর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
নর্ড ৬-এর ডিজাইন ওয়ানপ্লাস ১৩-এর সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ, যা একটি সুসংহত ডিজাইন পরিচয় তৈরি করেছে। পেছনের ক্যামেরা মডিউলটি ওয়ানপ্লাস ১৩-এর মতো, ফোনের চারপাশে কর্নার রেডিয়াস বেশি থাকায় হাতে ধরে রাখা বেশ আরামদায়ক। ফোনটির ওজন প্রায় ২২০ গ্রাম, যা বড় ব্যাটারির জন্য প্রত্যাশিত। বিল্ড কোয়ালিটিতে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে উপাদানে। ওয়ানপ্লাস এবার গ্লাসের বদলে প্লাস্টিক বডি ব্যবহার করেছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে, তবে প্রিমিয়াম অনুভূতি কিছুটা হারিয়েছে। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে এই ডিজাইন আকর্ষণীয় লেগেছে, বিশেষ করে আমাদের ইউনিটের কালার ভ্যারিয়েন্টটির বডিতে সুন্দর টেক্সচার রয়েছে। পাওয়ার ও ভলিউম বাটনের অবস্থান পূর্বসূরীর মতোই। বাম পাশে বহুল ব্যবহৃত অ্যালার্ট স্লাইডার বা মাল্টি-ফাংশনাল কি বজায় রাখা হয়েছে। একটি সতর্কতার জায়গা হচ্ছে সিম ট্রে ও মাইক্রোফোনের অবস্থান কাছাকাছি হওয়ায় ভুলবশত মাইক্রোফোনের ছিদ্রে পিন ঢোকানোর ঝুঁকি রয়েছে। আগের মডেলে আইপি৬৫ রেটিং থাকলেও এবার ওয়ানপ্লাস ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্সে বড় আপগ্রেড এনেছে এবং সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। সামনের ডিসপ্লেতে স্ক্র্যাচ প্রতিরোধে নিজস্ব 'ক্রিস্টাল গার্ড' প্রোটেকশন ব্যবহার করেছে, যা প্রায় ২০-২৫ দিনের ব্যবহারে কোনো দাগ বা স্ক্র্যাচ ফেলতে পারেনি।
প্লাস্টিক বডির ব্যবহারিক দিক
প্লাস্টিক বডি নিয়ে অনেকের দ্বিধা থাকলেও এর কিছু সুবিধা স্পষ্ট। গ্লাস ব্যাক প্যানেল দিলে ওজন আরও বেড়ে যেত, বর্তমান ওজন ইতিমধ্যেই প্রায় ২২০ গ্রাম। প্লাস্টিক পতনের ঝুঁকিও কিছুটা কমায়। ওয়ানপ্লাস একটি মানসম্পন্ন ফিনিশিং বজায় রেখেছে, যা বাজেট ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টের মাঝামাঝি একটি অবস্থান তৈরি করে। তবে যারা সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম গ্লাস ও মেটাল ইউনিবডি খুঁজছেন তারা হতাশ হতে পারেন।
ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স
নর্ড ৬-এ রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যা রঙ ও উজ্জ্বলতায় চমৎকার। প্যানেলটি ১৬৫ হার্জ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে, তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে সিস্টেম-ওয়াইড ১২০ হার্জই মূল রিফ্রেশ রেট। ১৬৫ হার্জ শুধুমাত্র কল অফ ডিউটি মোবাইলের মতো নির্দিষ্ট গেইমে কার্যকর হয়, যা একটি অতিরিক্ত সুবিধা। তারপরও এই ফিচারটিকে ঘিরে ওয়ানপ্লাসের বিপণন কৌশল স্পষ্ট। ডিসপ্লেটির চারপাশে সরু ও প্রতিসম বেজেল থাকায় ইউটিউব বা নেটফ্লিক্সে কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা চোখের জন্য আরামদায়ক। সার্বিক ব্যবহারে ডিসপ্লে অত্যন্ত ফ্লুয়েন্ট ও রেসপন্সিভ।
ব্রাইটনেস ও সার্টিফিকেশন
উজ্জ্বলতার ক্ষেত্রে পিক ব্রাইটনেস দাবি করা হয়েছে ৩৬০০ নিটস, যা শুধুমাত্র বিপণনের সংখ্যা মাত্র। বাস্তব ব্যবহারে এইচবিএম (হাই ব্রাইটনেস মোড) মোডের উজ্জ্বলতা পাওয়া যায় ১৮০০ নিটস পর্যন্ত। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সরাসরি সূর্যের আলোতেও এটি প্রদর্শনের জন্য যথেষ্ট। কনটেন্ট কনজাম্পশনের জন্য ওয়াইডভাইন এল১ সার্টিফিকেশন রয়েছে, ফলে নেটফ্লিক্স ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ফুল এইচডি স্ট্রিমিং নিশ্চিত। পাশাপাশি নেটফ্লিক্সে এইচডিআর সাপোর্টও উপস্থিত।
ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট
ডিসপ্লের নিচের অংশে অবস্থিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি অপটিক্যাল প্রযুক্তির, আল্ট্রাসনিক নয়। অবস্থান তুলনামূলক নিচুতে হওয়ায় প্রথম দিকে একটু অভ্যস্ত হতে হয়। তবে অপটিক্যাল হওয়া সত্ত্বেও এটি দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে কাজ করেছে। দৈনন্দিন ব্যবহারে অ্যানিমেশন ও আনলকের গতি নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ নেই।
পারফরম্যান্স ও গেইমিং
পারফরম্যান্সের দিক থেকেই নর্ড সিরিজ বরাবর আলাদা পরিচিতি অর্জন করেছে। এবার নর্ড ৬-এ ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮এস৪ (Snapdragon 8s Gen 4) চিপসেট। গত বছরের ৮এস৩ থেকে এটি উল্লেখযোগ্য আপগ্রেড। ন্যানোর স্কোরে প্রায় ১২% ভালো আউটপুটের ইঙ্গিত মেলে। সঙ্গে এলপিডিডিআর ৫এক্স র্যাম এবং ইউএফএস ৪.১ স্টোরেজ থাকায় অ্যাপ ওপেনিং, মাল্টিটাস্কিং ও ফাইল ট্রান্সফার অত্যন্ত মসৃণ। বেস ভ্যারিয়েন্টের স্টোরেজ শুরু হচ্ছে ২৫৬ জিবি থেকে, যা প্রায় ৫৫ হাজার টাকার ফোনে প্রত্যাশিত একটি মান। চিপসেটের ক্ষমতা রেগুলার ব্যবহার থেকে শুরু করে মাঝারি ও ভারী গেইমিং পর্যন্ত পর্যাপ্ত। ওভারহিটিং জনিত কোনো ইস্যু চোখে পড়েনি বলে ওয়ানপ্লাসের উন্নত কুলিং সিস্টেম কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বেঞ্চমার্ক ও বাস্তব গেইমিং পরীক্ষা
সিনথেটিক বেঞ্চমার্কে অ্যান্টুটুতে স্কোর ২৩ লাখের কিছু বেশি, আর গিকবেঞ্চে সিঙ্গেল ও মাল্টি-কোরে যথাক্রমে ২০০০ ও ৬৫০০-এর মতো স্কোর আসে। বাস্তবিক গত ১৫-২০ দিনের গেইমিং পরীক্ষায় পাবজি থেকে শুরু করে জেনশিন ইমপ্যাক্ট পর্যন্ত প্রায় সব গেইমই খেলা হয়েছে। প্রতিটি গেইমেই স্মুথ অভিজ্ঞতা মিলেছে:
- পাবজি: হাই-এন্ড ৯০ এফপিএস সাপোর্ট করে। ২৫ মিনিট টানা খেলার পরও কোনো ফ্রেম ড্রপ বা স্টাটারিং দেখা যায়নি। চার্জ খরচ হয়েছে মাত্র ৬%, আর হিট নিয়েছে প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।
- ডেল্টা ফোর্স: ১২০ এফপিএস পর্যন্ত সাপোর্ট করলেও এখানে কিছুটা ফ্রেম ড্রপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ফাইট করার সময় অস্বাভাবিকতা বোঝা যায়। ২৫ মিনিট খেলার পর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির মতো এবং চার্জ ড্রপ ৮%।
- কল অফ ডিউটি মোবাইল: ম্যাক্স সেটিংসে ১৬৫ এফপিএস পর্যন্ত সাপোর্ট করে। এটি একটি অপ্টিমাইজড গেইম হওয়ায় কোনো ল্যাগ বা জড়তা অনুভূত হয়নি। অভিজ্ঞতা ছিল মসৃণ।
- জেনশিন ইমপ্যাক্ট: হাই-এন্ড গ্রাফিক্সে ৬০ এফপিএস টার্গেট রয়েছে, ভিডিও প্রদর্শনে ৫৬-৫৮ এফপিএস এর মধ্যেই লক ছিল। তবে ২৫ মিনিট খেলে চার্জ ড্রপ ১০% এবং তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪১.৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে।
এই পরীক্ষাগুলো শেষে প্রতীয়মান হয় যে, সেগমেন্টের অন্যান্য ফোনের তুলনায় নর্ড ৬-এর হিট ম্যানেজমেন্ট বেশ ভালো। হাই গ্রাফিক্স ডিমান্ডিং গেইমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি স্বাভাবিক, কিন্তু থার্মাল থ্রটলিং অনুভূত না করায় দীর্ঘক্ষণ গেইমিংয়ের জন্য এটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হতে পারে।
ক্যামেরা সিস্টেম
পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক ফোনের ক্ষেত্রে ক্যামেরায় সাধারণত আপস করা হয়, নর্ড ৬-ও এর ব্যতিক্রম নয়। পেছনে রয়েছে দুটি ক্যামেরা: একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি এলটিআইএ ৬০০ (Sony LYT-600) প্রধান সেন্সর এবং একটি ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা। গত বছরের নর্ড ৫-এ সনি এলটিআইএ ৭০০ সেন্সর ছিল, অর্থাৎ এবার কিছুটা ডাউনগ্রেড হয়েছে। তবে ডাউনগ্রেড কতটা প্রভাব ফেলেছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।
মেইন ও আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরার আউটপুট
মেইন সেন্সরের ছবিতে ছোট ছোট বিবরণ যেমন গাছের পাতা, ভবনের টেক্সচার বা টেক্সট স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে। তীক্ষ্ণতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়, ডাইনামিক রেঞ্জও শালীন। তবে কিছু কিছু ছবিতে হাইলাইট ব্যালেন্সিংয়ে সমস্যা দেখা যায়। লাল বা সবুজ সাবজেক্ট এলে কালার কিছুটা বুস্টেড মনে হয়। তারপরও বেশিরভাগ ছবিই চোখের জন্য আরামদায়ক। আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা সম্পূর্ণ এভারেজ মানের, তবে মেইন সেন্সরের সঙ্গে রঙের সামঞ্জস্য বজায় রেখেছে, যা ভালো দিক। এখানে ৮ মেগাপিক্সেলের বদলে আরও উন্নত সেন্সর দেওয়া হলে মান বাড়ত।
পোর্ট্রেট ও সেলফি
ফোনে আলাদা টেলিফটো লেন্স না থাকায় ২x এ পোর্ট্রেট শট নেওয়া যায়। পোর্ট্রেটের ফলাফল মোটামুটি সুন্দর, ফেস ডিটেইলস ভালো থাকে এবং চাইনিজ ফোনগুলির অতিরিক্ত বিউটিফিকেশন নেই। হালকা সফটনিং এফেক্ট থাকলেও স্বাভাবিকতা বজায় থাকে। সামনের ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা ভালো আলোতে শার্প, ডিটেইলড এবং স্কিনটোনের যথাযথ ভারসাম্য ধরে রাখে।
ভিডিও রেকর্ডিং
মেইন ও ফ্রন্ট ক্যামেরায় ৪কে ৩০ এফপিএস-এ ভিডিও তোলা যায়, যা বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট। সমস্যা হচ্ছে আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা সর্বোচ্চ ১০৮০পি ৩০ এফপিএস পর্যন্ত সাপোর্ট করে। ফলে ভিডিও রেকর্ডিং চালু অবস্থায় ৪কে মোডে মেইন ও আল্ট্রাওয়াইডের মধ্যে সুইচ করতে হলে আগে থেকে ১০৮০পি সেট করে রাখতে হবে। ভিডিও কোয়ালিটি আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে, মূল সেন্সরের ফুটেজে বিবরণ ও স্থিতিশীলতা প্রশংসনীয়। বাহিরের কিছু ভিডিওতে ক্যামেরা নিয়ে যে অতিরঞ্জিত প্রশংসা সৃষ্টি হয়েছে, বাস্তবে তা মেনে নেওয়া কঠিন। ক্যামেরা আউটপুট এভারেজের ঘরেই থাকবে, অসাধারণ কিছু নয়।
ব্যাটারি ও চার্জিং
নর্ড ৬-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক বিশাল ৯০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। এই ব্যাটারি ক্যাপাসিটি হেভি গেইমিং থেকে শুরু করে একটানা কনটেন্ট কনজাম্পশনেও দেড় থেকে দুই দিন পর্যন্ত সহজেই ব্যাকআপ দিতে পারে। বক্সে ৮০ ওয়াটের চার্জার দেওয়া আছে যা পুরো ফোন চার্জ করতে সময় নেয় এক ঘণ্টার কিছু বেশি। এছাড়া ৬.৫ ওয়াটের রিভার্স চার্জিং সমর্থন থাকলেও ওয়্যারলেস চার্জিং অনুপস্থিত। ব্যাটারি এত বড় যে ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের অভাব অনুভূত হওয়ার কথা নয়।
ভারতীয় বনাম গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্টের পার্থক্য
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ব্যাটারি ক্যাপাসিটিতে ভ্যারিয়েন্টভেদে পার্থক্য রয়েছে। গ্লোবাল মার্কেটে নর্ড ৬-এর গ্লোবাল সংস্করণে ব্যাটারি ৭৫০০ এমএএইচ। অন্যদিকে ভারতীয় বাজার ও আমাদের এখানে আনঅফিশিয়ালি আসা ইউনিটে ৯০০০ এমএএইচ ব্যাটারি রয়েছে। তাই বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংগ্রহ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
সফটওয়্যার ও ফিচারস
নর্ড ৬ অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এর ওপর ভিত্তি করে অক্সিজেন ওএস ১৬ (OxygenOS 16) রান করে। অক্সিজেন ওএস বরাবরই প্রিয় ইউআইগুলির তালিকায় থাকে কারণ এটি স্মুথনেস ও ক্লিন এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে। নর্ড ৬-এ এসে আরও বেশি ফিচার ও কাস্টমাইজেশন অপশন যোগ হয়েছে। হোমস্ক্রিনে ইউটিউব সার্চ শর্টকাট, সেটিংসের এক্সট্রা শর্টকাট বেশ উপকারী। ইউআইয়ে কোনো বাড়তি বাজে অ্যাপ বা বিজ্ঞাপনের হয়রানি নেই। নেটওয়ার্ক, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ হ্যান্ডলিং সবকিছুই ঠিকঠাকভাবে চলছে। এই দামের আশেপাশে অন্যান্য চাইনিজ ইউআইয়ের ভিড়ে একটি ক্লিন গ্লোবাল ইউআই সত্যিই স্বস্তিদায়ক।
এআই ফিচার ও আপডেট পলিসি
সিস্টেমে একগুচ্ছ এআই টুল উপস্থিত, যেমন এআই সার্চ, এআই রাইটার, এআই ট্রান্সলেটর ইত্যাদি। তবে নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া এগুলোর ব্যবহার সীমিত। একটি অনুপস্থিত ফিচার হলো অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে (AoD) কাস্টমাইজেশন, যা অনেক ব্যবহারকারী পছন্দ করেন। আশা করা যায় পরবর্তী আপডেটে এটি সংশোধন করা হবে। আপডেট নীতির ক্ষেত্রে ওয়ানপ্লাস চারটি বড় ওএস আপডেট ও ছয় বছর পর্যন্ত সিকিউরিটি প্যাচ দেবে, যা এই সেগমেন্টে যথেষ্ট।
কানেক্টিভিটি ও অন্যান্য
কানেক্টিভিটির দিক থেকে এটি সম্পূর্ণ আধুনিক। ব্লুটুথ ৬, ওয়াই-ফাই ৭ এবং এনএফসি সমর্থন রয়েছে। ইনফ্রারেড ব্লাস্টার উপস্থিত। সব মিলিয়ে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ফিচারে ফোনটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। তবে বাজারে ওয়ানপ্লাস টার্বো ৬ নামে একটি চাইনিজ ভ্যারিয়েন্ট বিদ্যমান, যার মূল্য নর্ড ৬-এর চেয়ে কম। দুটোর মধ্যে সফটওয়্যার ছাড়া তেমন পার্থক্য নেই। গ্লোবাল রম ও দ্রুত নোটিফিকেশন সমস্যা এড়াতে হলে নর্ড ৬ নেওয়াই শ্রেয়, তবে বাজেট কম রাখতে চাইলে টার্বো ৬ বিবেচ্য।
চূড়ান্ত রায়
ওয়ানপ্লাস নর্ড ৬ নিয়ে শুরুতে যে মাতামাতি চোখে পড়ে, বাস্তবে দাঁড়িয়ে তা কিছুটা অতিরঞ্জিত। যদি নর্ড ৫-এর সঙ্গে স্পেসিফিকেশন তুলনা করা হয়, তবে আইপি রেটিং ও ব্যাটারির বাইরে বড় কোনো আপগ্রেড চোখে পড়ে না। এমনকি ক্যামেরা সেন্সর ও বিল্ড ম্যাটেরিয়ালে কিছুটা ডাউনগ্রেড আছে। অথচ ভারত ও বাংলাদেশে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন বাংলাদেশের আনঅফিশিয়াল বাজারে ওয়ানপ্লাস নর্ড ৬-এর মূল্য ৮জিবি+২৫৬জিবি ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্টের জন্য ৫৫,০০০ টাকা এবং ১২জিবি+২৫৬জিবি ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্টের জন্য ৬১,০০০ টাকা। প্রাইস টু ভ্যালু অনুপাত বিবেচনায় এই দামে এ নিয়ে নাচার মতো অবস্থা নেই।
তবুও বাজারের বাস্তবতা স্বীকার করে নিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নতুন বাস্তবতায় নর্ড ৬-এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর গ্লোবাল ইউআই। ৫০-৬০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে অধিকাংশ পারফরম্যান্স ফোন চাইনিজ ইউআই নিয়ে আসে, যার বিজ্ঞপ্তি বিলম্ব, ব্লোটওয়্যার বা ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশনের নানাবিধ সমস্যা অনেকেই নিতে চান না। সেই জায়গায় একটি পরিপাটি, দ্রুত এবং দীর্ঘমেয়াদী আপডেট সুবিধাসহ ফোন খুঁজতে গেলে নর্ড সিক্স একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে। ফোনটি কোনো বড় ফাঁকফোকর রাখেনি। ক্যামেরা নিয়ে অভিযোগ তোলা গেলেও, এটি একটি পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক ফোন এবং সেই প্রত্যাশার নিরিখে ক্যামেরা গ্রহণযোগ্য।
যাদের একান্তই গ্লোবাল রম সমেত একটি শক্তিশালী পারফরম্যান্স ফোন প্রয়োজন, তারা নিঃসন্দেহে ওয়ানপ্লাস নর্ড ৬-কে তালিকায় রাখবেন। তবে দাম আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করে ৫০,০০০ টাকার কাছাকাছি নামলে তা হবে ক্রয়ের জন্য একটি আদর্শ সময়। সার্বিকভাবে, ওয়ানপ্লাস নর্ড ৬ সেই ব্যবহারকারীর জন্যই আদর্শ, যিনি বিরক্তিহীন অক্সিজেন ওএস, অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ ও নির্ভরযোগ্য গেইমিং একসঙ্গে চান।


