iQOO Z11 হঠাৎ করেই বাংলাদেশের আনঅফিশিয়াল মার্কেটে হাজির। চীনে লঞ্চের পরপরই ফোনটি এখানে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দামটা শুনলে চোখ কপালে উঠবে— iQOO Z11 price in Bangladesh এখন ৪৪,০০০ টাকা (আনঅফিশিয়াল)। গতবারের iQOO Z10-এর দাম শুরু হয়েছিল মাত্র ৩২,০০০ টাকা থেকে। ৮ হাজার টাকার এই লাফ কোনো ছোট ব্যাপার না। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে চীনা ইউয়ানের এক্সচেঞ্জ রেট আর র্যাম-স্টোরেজের বৈশ্বিক সংকট অনেকটাই দায়ী। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, ফোনটা কি সত্যিই এই বাড়তি দামের ন্যায্যতা দিতে পারে? পুরোটা ব্যবহার করার পর আমার মনে হয়েছে, না— এই মুহূর্তে একদমই না। তবে এর কিছু জায়গা আছে যা ভবিষ্যতে দাম কমলে দারুণ হতে পারে। চলো, একদম ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে গোছানো আলোচনা করি।
Design & Build Quality
প্লাস্টিক বডি, কিন্তু ফর্ম ফ্যাক্টরে মজা আছে
প্রথমবার iQOO Z11 হাতে নিতেই বোঝা যায়, পুরোটা প্লাস্টিক। ফ্রেম প্লাস্টিক, ব্যাক প্যানেলও প্লাস্টিক। তবে ফিনিশিংটা চোখ ধাঁধানো না হলেও বেশ পরিপাটি। আমাদের কাছে যে ইউনিট এসেছে, সেটা আকাশী-শাইনি রঙের। ব্যাক প্যানেলে ব্রাশ টাইপের অল্প টেক্সচার আছে, যা আলো পড়লে ঝিলিক দেয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের দাগ প্রায় পড়ে না— এটা প্লাস্টিক ফোন বলেই সম্ভব হয়েছে। আমার কাছে ডিজাইনটা খুব একটা চমকপ্রদ লাগেনি, কিন্তু কাজ চালানোর জন্য যথেষ্ট।
লম্বাটে ফর্ম ফ্যাক্টর, হাতে ভালো বসে
সাম্প্রতিক কালের অনেক বড় ডিসপ্লের ফোন অতিরিক্ত চওড়া হয়, যা আমার একদম পছন্দ না। iQOO Z11 কিন্তু একটু লম্বাটে টাইপের। পুরনো Galaxy S21 Ultra বা S23 Ultra-র মতো চওড়া না হয়ে বরং লম্বার দিকে ফোকাস করেছে। ৬.৮৩ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোন হওয়া সত্ত্বেও হাতে ভালোই ধরে। তবে ওজন হালকা বলা যাবে না— ২১৬ গ্রাম। সাথে ৮.২৫ মিলিমিটার পুরুত্ব, মানে একেবারে স্লিম নয়। কিন্তু হাতে নেওয়ার পর তেমন অস্বস্তি হয়নি; বরং সলিড একটা ভাব এসেছে।
IP68/IP69 এবং মিলিটারি গ্রেড প্রোটেকশন
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো এর ডিউরেবিলিটি। ফোনটিতে IP68/IP69 রেটিং দেওয়া আছে। যারা জানেন না, IP68 মানে ধুলো থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা এবং নির্দিষ্ট গভীরতায় পানিতে ডুবে থাকার পরও টিকে যাবে। IP69 মানে উচ্চচাপের পানি আর স্টিম সহ্য করার ক্ষমতা। পাশাপাশি মিলিটারি গ্রেড ড্রপ প্রোটেকশনের সার্টিফিকেশনও আছে। অর্থাৎ, পড়ে গেলে বা একটু আধটু বাড়াবাড়ি হলে ভাঙার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। এই প্রাইস রেঞ্জে এমন রেটিং খুব একটা দেখা যায় না। প্লাস্টিক বডি হওয়ায় হয়তো কিছুটা শক অ্যাবজর্ভ করবে। তবে ওপরের অংশে Gorilla Glass-এর মতো কোনো নাম শোনা যায়নি, সেটা একটু খটকা লাগে।
বেজেল, স্টেরিও স্পিকার
সামনের দিকে বেজেল একটু চওড়া মনে হয়েছে আমার কাছে। বিশেষ করে পাঞ্চ হোল ক্যামেরার পাশের কালো বর্ডারটা চোখে লাগে। এই দামের ফোনে চাইলেই আরেকটু ন্যারো বেজেল দেওয়া সম্ভব ছিল। তবে স্টেরিও স্পিকার আছে, শব্দ বেশ জোরালো। গেমিং বা সিনেমা দেখার সময় ভালো অভিজ্ঞতা দেয়। কোনো হেডফোন জ্যাক নেই, টাইপ-সি পোর্টেই সব। ওভারঅল বিল্ড কোয়ালিটি মোটামুটি মানানসই, কিন্তু প্রিমিয়াম বলা যাবে না।
Display Experience
AMOLED প্যানেল, ১.৫কে রেজোলিউশন
ডিসপ্লে মোটামুটি বড়— ৬.৮৩ ইঞ্চি AMOLED প্যানেল। রেজোলিউশন ১.৫কে, যা Full HD+ থেকে একটু বেশি শার্প। টেক্সট আর ভিডিও দেখতে খুবই পরিষ্কার লাগে। AMOLED বলে কালো রং একদম গভীর, কনটেন্ট দেখতে আরামদায়ক। তবে HDR10+ বা Dolby Vision সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়নি। ফলে Netflix-এ HDR কনটেন্ট ঠিকমতো চলে না, শুধু SDR মোডেই দেখতে হবে। YouTube এ অবশ্য কোনো অসুবিধা নেই।
রিফ্রেশ রেট ও আসল অভিজ্ঞতা
কাগজে-কলমে রিফ্রেশ রেট ১৬৫ হার্ৎজ পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবে ৯৯% জায়গায় সিস্টেম ১২০ হার্ৎজেই চালায়, যা এই দামের ফোনের জন্য যথেষ্ট। UI স্ক্রলিং থেকে শুরু করে অ্যাপ ওপেনিং— সবকিছু দারুণ স্মুথ। গেমিংয়েও ১২০ হার্ৎজ অপশন কাজে লাগে। তবে চাইনিজ ফোনগুলো “বেসলেস ক্লেইম” করে থাকে, সেটা মাথায় রাখতে হবে।
ব্রাইটনেস
পিক ব্রাইটনেস ৫০০০ নিটস দাবি করা হলেও সেটা পুরোপুরি অবাস্তব একটা মার্কেটিং সংখ্যা। বাস্তবিক HBM (High Brightness Mode) মোডে ১৬০০ থেকে ১৭০০ নিটস পাওয়া যায়, যা সরাসরি রোদের নিচেও স্ক্রিন পরিষ্কার দেখানোর জন্য যথেষ্ট। আউটডোরে আমার কোনো সমস্যা হয়নি। অটো-ব্রাইটনেসও ঠিকঠাক কাজ করে।
সমতল ডিসপ্লে ও L1 সার্টিফিকেশন
iQOO Z10-এর ডিসপ্লে সামান্য কার্ভড ছিল, কিন্তু এবার পুরোপুরি ফ্ল্যাট। বর্তমানে অনেকেই ফ্ল্যাট স্ক্রিন পছন্দ করে। গেম খেলার সময়, ভিডিও দেখার সময় ফ্ল্যাট স্ক্রিনে এক্সিডেন্টাল টাচের সমস্যা থাকে না। Widevine L1 সার্টিফিকেশন আছে, তাই অ্যামাজন প্রাইম বা Netflix-এ Full HD পর্যন্ত স্ট্রিমিং করা যায়, যদিও HDR সাপোর্ট নেই। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর অপটিক্যাল, ডিসপ্লের নিচে। স্পিড ঠিকঠাক, কিন্তু আল্ট্রাসনিকের মতো ফাস্ট নয়।
Performance & Gaming
MediaTek Dimensity 8500 চিপসেট ও কম্বিনেশন
হার্ডওয়্যারের দিকে তাকালে, ফোনটিতে MediaTek Dimensity 8500 চিপসেট দেওয়া হয়েছে। এটা আসলে Dimensity 8000 সিরিজেরই একটা আপগ্রেডেড ভার্সন। একই চিপসেট Redmi Turbo 5-এও (Dimensity 8500 Ultra) আছে। RAM দেওয়া হয়েছে LPDDR5x টাইপের, আর স্টোরেজ UFS 3.0 বা 3.1 (অফিশিয়ালি জানানো হয়নি, বেঞ্চমার্কিংয়ে স্পিড দেখে অনুমান করছি)। iQOO Z10-এ UFS 2.2 ছিল, সেই জায়গায় এবার বেশ ভালো আপগ্রেড দেওয়া হয়েছে। অ্যানটুটু স্কোর প্রায় ২২ লাখের কাছাকাছি, যা মিডরেঞ্জ-প্রিমিয়াম সেগমেন্টে ভালোই বলতে হবে।
দৈনন্দিন পারফরম্যান্স ও থ্রটলিং
রিয়েল লাইফ ইউসেজে ফোনটা একদম স্মুথ। অ্যাপ খোলা, মাল্টিটাস্কিং, সোশ্যাল মিডিয়া— সবকিছুতে ল্যাগের নামগন্ধ নেই। OriginOS 6 অ্যানিমেশনগুলো সুন্দর, তাই ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা প্রিমিয়াম লাগে। থ্রটলিং টেস্টে আমি দেখেছি, চিপসেট একটানা লোড নেওয়ার সময় কিছুটা গরম হয়ে পারফরম্যান্স ড্রপ করে, তবে ভয়ানক কিছু নয়।
গেমিং এক্সপেরিয়েন্স ও হিট ম্যানেজমেন্ট
গেমিং টেস্টই আসল মজার জায়গা। শুরু করি PUBG দিয়ে। PUBG-তে চাইনিজ রমের কারণে সর্বোচ্চ ৬০ fps সাপোর্ট করে, ৯০ fps অপশন আসে না। গেমপ্লে একদম স্মুথ, আধ ঘণ্টা খেলায় ব্যাটারি ড্রপ হয়েছে মাত্র ৬%। আর ফোন গরম হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, যা দুর্দান্ত বলতে হবে।
Delta Force চালাতে গিয়ে সমস্যা ধরা পড়ল। গেমটি ১২০ fps পর্যন্ত সাপোর্ট করলেও, ১৫ মিনিটের পর থেকেই ফ্রেম ড্রপ করতে থাকে। ফাইটের সময় স্টাটারিং নোটিস করেছি পরিষ্কার। ২৫ মিনিট খেলার পর তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হয়তো এখনো ডিভাইসটির সঙ্গে গেমটির অপটিমাইজেশন ঠিকমতো হয়নি, কিন্তু অভিজ্ঞতা ভালো লাগেনি।
Call of Duty Mobile ছিল দারুণ। ১৪৪ fps পর্যন্ত অপশন দেখিয়েছে আর একদম স্টেবল চলেছে। গরমও তুলনামূলক কম হয়েছে। মনে হয় অপটিমাইজড গেমগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।
Genshin Impact চালালাম। অত্যন্ত ডিমান্ডিং এই গেমে ৬০ fps সেটিংসে ফোন ৫৬-৫৭ fps ধরে রাখতে পেরেছে, খুব একটা নিচে নামেনি। কিন্তু তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা এই সেগমেন্টের অন্যান্য ফোনের চেয়ে কিছুটা বেশি। ব্যাটারি ড্রপ ২৫ মিনিটে ৮%। এতটুকু গরম তো অবশ্যই হবে, কিন্তু কয়েকটা প্রতিযোগী ফোনে আমরা ১-২ ডিগ্রি কম গরম হতে দেখেছি।
আমার কাছে পুরো গেমিং সেশনের পর মনে হয়েছে, iQOO Z11-এর কুলিং সলিউশনটা (যাকে “Ice Dome Seven” বলা হচ্ছে) অতটা কার্যকর নয়। একটানা হেভি গেম খেললে ফোন বেশ গরম হয়। ক্যাজুয়াল গেমারদের জন্য যথেষ্ট; কিন্তু যারা দীর্ঘক্ষণ AAA টাইটেল খেলতে চান, তাদের জন্য এই হিট ইস্যু একটা কনসার্ন।
RAM, স্টোরেজ ও কানেক্টিভিটি
RAM ও স্টোরেজ কম্বিনেশন নিয়ে অভিযোগ নেই। UFS 3.1 স্পিড অ্যাপ লোডিংয়ে কাজে আসে। WiFi 6, Bluetooth 5.4, আর NFC সাপোর্ট আছে। সাথে আছে IR ব্লাস্টার, যা দিয়ে টিভি বা এসি কন্ট্রোল করা যায়।
Camera System
একটাই মাত্র কাজের ক্যামেরা?
ক্যামেরা বিভাগে iQOO Z11 যে চরম হতাশ করবে, সেটা প্রথম দেখাতেই বোঝা গিয়েছিল। পেছনে দুটো বা তিনটে সেন্সর আছে মনে হলেও বাস্তবে একটাই কাজের— ৫০ মেগাপিক্সেলের Sony IMX882 (বা LYT-600 ধাঁচের) প্রাইমারি ক্যামেরা। কোনো আল্ট্রাওয়াইড লেন্স দূরের কথা, একটা খেলনা ম্যাক্রো লেন্সও রাখা হয়নি। চাইনিজ ফোনে সাধারণত ক্যামেরা উপেক্ষা করা হয়, কিন্তু এখানে একেবারে ব্যাকরণগত ভুল করা হয়েছে।
প্রাইমারি ক্যামেরার ছবি
দিনের আলোতে তোলা ছবি দেখলে প্রথমে তেমন খারাপ লাগে না, কারণ কালার পপ-টপে বুস্ট করা থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য বেশ লাগে। কিন্তু একটু বড় করে দেখলেই ডিটেইলের অভাব আর ডায়নামিক রেঞ্জের ইনকনসিস্টেন্সি পরিষ্কার বোঝা যায়। আকাশের দিকে তাকালে ওভারএক্সপোজ হয়ে যায়, আবার ছায়া অংশে ডিটেইল হারায়। কম আলোতে তো অবস্থা আরও খারাপ— নয়েজ আসে, ডিটেইল সফট হয়ে যায়।
পোর্ট্রেট ও সেলফি
পোর্ট্রেট মোডে ১x, ১.৫x আর ২x অপশন আছে। ২x জুমে তোলা পোর্ট্রেট ছবিগুলো কিছুটা অ্যাপিলিং লাগে, এজ ডিটেকশনও মোটামুটি। কিন্তু ওভারঅল কোয়ালিটি গড়পড়তার উপরে নয়। সামনের ১৬ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা একটু বেশি মেকআপ টাইপ কালার বুস্ট করে, তবুও সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য। তবে ক্যামেরাকে কোনোভাবেই স্ট্রেংথ বলা যাবে না।
ভিডিও রেকর্ডিং
ভিডিওতে একটি চমক আছে— পেছনের ক্যামেরা দিয়ে 4K 60fps রেকর্ডিং করা যায়। রেজোলিউশন হাই, কিন্তু ভিডিও কোয়ালিটি মোটামুটি গড়পড়তা। স্ট্যাবিলাইজেশন বিশেষ জোরালো না। সামনের ক্যামেরায় 1080p 30fps সর্বোচ্চ।
ক্যামেরা-প্রেমী যে কেউ এই ফোন থেকে দূরে থাকাই ভালো। যদি ছবি তোলা তোমার কাছে ফোন কেনার বড় কোনো কারণ হয়, তাহলে স্ট্রেইট আপ এই মডেল বাদ দিয়ে দাও।
Battery Life & Charging
সিলিকন কার্বন ব্যাটারির জাদু
এই ফোনটা ব্যাটারি লাইফের দিক দিয়ে রাজা। ৯২০০ mAh সিলিকন কার্বন ব্যাটারি। সিলিকন কার্বন প্রযুক্তি লিথিয়াম-আয়নের চেয়ে বেশি এনার্জি ডেনসিটি দেয়, ফলে একই সাইজে অনেক বড় ব্যাটারি বসানো যায়। আর এই ৯২০০ mAh ব্যাটারি সেটাই প্রমাণ করেছে।
আমার ইউসেজ টেস্টে, একটানা HD ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং, আর নরমাল ইউসেজ মিলিয়ে easily ১১-১২ ঘণ্টা Screen On Time (SOT) পেয়েছি। তুমি যদি অফিস-বাসা রুটিনে চালাও, সহজেই আড়াই দিন যাবে। যারা টানা গেম খেলো বা ভিডিও দেখো, তাদের জন্যও এটা একদিন পুরো চলে যাওয়ার মতো ফোন। এই সেগমেন্টে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যাটারি। তুলনা করলে, Redmi Turbo 5-এ আছে ৭০০০ mAh কাছাকাছি, যা অনেক কম। শুধু ব্যাটারির জন্য এই ফোনকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।
চার্জিং স্পিড
বক্সে ৯০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার দেওয়া আছে। পুরো ফোন ০ থেকে ১০০% হতে সময় নেয় প্রায় ১ ঘণ্টার একটু বেশি। সকালে তৈরি হওয়ার সময় চার্জে বসিয়ে দিলেই যথেষ্ট। ওয়্যারলেস চার্জিং নেই, তবে এত বড় ব্যাটারিতে সেটা আশাও করা যায় না।
Software & Features
OriginOS 6 ও Android 16
ফোনটি OriginOS 6 দিয়ে চলে, যা Android 16-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। ইউজার ইন্টারফেস দেখতে অনেক সুন্দর, আইফোনের মতো “Liquid Glass” ইফেক্ট আছে। অ্যানিমেশনগুলো স্মুথ আর প্রিমিয়াম ফিল দেয়। ব্লোটওয়্যার একটু আছে, চাইনিজ রমের নিয়ম মতোই। সব মিলিয়ে সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স কিন্তু মসৃণ।
চাইনিজ রমের চিরন্তন যন্ত্রণা
যন্ত্রণা যেটা, সেটা হলো চায়নিজ রমের নোটিফিকেশন ইস্যু। ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের নোটিফিকেশন সময়মতো আসে না, প্রায়ই ডিলে করে। কল এলে পপ-আপ দেখায় না, যা একেবারে বিরক্তিকর। কিছু টোটকা বা সেটিংস বদল করে আংশিক সমাধান হয় ঠিকই, কিন্তু সবসময় কাজ করে না। যারা অফিস-কাজের জন্য ইনস্ট্যান্ট মেসেজের ওপর নির্ভর করেন, তাদের এই ধরনের চাইনিজ রমের ফোন নেওয়া উচিত না। এতে কাজের ক্ষতি হতে পারে।
আরেকটা বড় অসুবিধা হলো সফটওয়্যার আপডেট গ্যারান্টি নেই। iQOO চীনে কতগুলো বড় Android আপডেট দেবে, তার কোনো নিশ্চয়তা বাংলাদেশের আনঅফিশিয়াল ইউজাররা পায় না। ডার্ক মোড বা থার্ড পার্টি লঞ্চারে কিছু বাগ মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে।
অতিরিক্ত ফিচার
প্রি-ইন্সটল কিছু AI ফিচার আছে, যেমন AI Eraser, AI Photo Enhancement। এগুলো কাজের তবে খুব একটা দরকারি নয়। কল রেকর্ডিং সুবিধা আছে, এমনকি ওয়ার্নিং ছাড়াই— চাইনিজ ফোনের প্যাকেজ ডিল। IR ব্লাস্টার কাজের, আর স্টেরিও স্পিকার সাউন্ড ভালো।
Final Verdict
iQOO Z11-এর iQOO Z11 price in Bangladesh এখন দাঁড়িয়েছে ৪৪,০০০ টাকায় (আনঅফিশিয়াল), যা ফোনটির সত্যিকারের মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে হয়েছে। যদি তুমি এত টাকা খরচ করো, তাহলে এর বিনিময়ে একটা দারুণ ব্যাটারি লাইফ, জল-ধুলো-সুরক্ষার IP68/IP69 রেটিং, আর মোটামুটি স্মুথ পারফরম্যান্স পাবে। কিন্তু একইসঙ্গে পাওয়া যাবে প্লাস্টিক বডি, একা-একটা ক্যামেরা (যা সত্যিই দুর্বল), বেশি গরম হওয়ার প্রবণতা, আর চাইনিজ রমের নোটিফিকেশন বিড়ম্বনা।
এই মুহূর্তে ৪৪,০০০ টাকায় এটি কেনা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ না। বরং এই বাজেটে OnePlus Nord CE4, Samsung Galaxy A55, অথবা Redmi Note 13 Pro+ (গ্লোবাল) এর দিকে তাকালে তুমি ক্যামেরা আর নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার পাবে, যদিও ব্যাটারি এত বড় হবে না। আর যারা চাইনিজ রমের ঝামেলা জানেন, তাদের জন্য Redmi Turbo 5-টা আরেকটু ঠান্ডা মাথার অপশন হতে পারে।
কিন্তু অপেক্ষা করাই এখানে সবচেয়ে ভালো কৌশল। সময়ের সাথে এই ফোনটির দাম যদি ৩৫,০০০ টাকার আশেপাশে নেমে আসে, তখন ব্যাটারি-প্রেমীদের জন্য এটা একটা সুপার হিট হয়ে উঠতে পারে। যাদের ক্যামেরা নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই, যারা সারাদিন ফোন নিয়ে বাইরে কাটান আর চার্জার খুঁজতে চান না— তাদের জন্য তখন iQOO Z11 দারুণ একটা পছন্দ হবে। কিন্তু এখনই কিনতে যেও না।
ব্যাটারি কিংবদন্তি হতে পারে, কিন্তু সিংহাসন দখল করতে বাকি জায়গাগুলোও জোরালো হতে হবে। iQOO Z11 সেই পরীক্ষায় এখনো পুরোপুরি পাশ করেনি।



