বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে এখন ৫জি ফোনের দিকে ঝোঁক বাড়ছে। প্রায় প্রতিটি ব্র্যান্ডই নিজেদের প্রথম ৫জি ডিভাইস নিয়ে হাজির হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ালটন তাদের ‘এক্সএনন’ সিরিজের নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল বাজারে এনেছে— Walton XANON X22 5G। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ফোনটি আমার হাতে ছিল, অফিসের কয়েকজন কলিগ সেকেন্ডারি ডিভাইস হিসেবে ইউজ করেছে। রাফ ইউজ, গেমিং, ক্যামেরা টেস্ট সব মিলিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটাই আজ গল্পের মতো শেয়ার করব।
Design & Build Quality
বক্স কন্টেন্ট ও প্রথম ছোঁয়া
Walton XANON X22 5G হাতে নেওয়ার আগেই বক্সটা নজর কাড়ে। ওয়ালটন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের রিজিওনাল স্পনসর, আর এই ফোনের বক্সে মেসি-মার্টিনেজ-দিবালার ছবি থাকায় আর্জেন্টিনা ফ্যানদের জন্য বাড়তি একটা আকর্ষণ আছে। বক্স খুলতেই চোখে পড়ে একটা গ্রিটিংস কার্ড। এরপর 18W চার্জার, USB টাইপ-এ কেবল, ইজেক্টর পিন, সেমি-ট্রান্সপারেন্ট কেস আর একটা প্রি-ইনস্টলড স্ক্রিন প্রটেক্টর। বাজেট ফ্রেন্ডলি ফোনে এমন ভালো এক্সেসরিজ পাওয়া সবসময় আনন্দের।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
ফোনটার ডিজাইন গতানুগতিক বলতে হবে। পেছনে ম্যাট ফিনিশের প্লাস্টিক ব্যাক, গ্লসি ফ্রেম আর একটা ক্যামেরা প্লাটো— এই কম্বিনেশন আমরা আগেও অনেক ফোনে দেখেছি। তবে ম্যাট ফিনিশের কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তেমন একটা লাগে না, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে ভালো। ফোনটা চওড়া আর একটু মোটা। হাতের পরিমাপে পুরুত্ব প্রায় ৮.৬৮ মিলিমিটারের মতো, ফলে হাতে ধরলে বেশ শক্ত আর বলিষ্ঠ একটা অনুভূতি দেয়।
সামনে আছে Panda Glass প্রোটেকশন, যা একই দামের অনেক ফোনে থাকে না। 3.5mm হেডফোন জ্যাক রাখায় যারা এখনো তারযুক্ত ইয়ারফোন ভালোবাসেন, তাদের জন্য দারুণ খবর। আর ডাস্ট ও স্প্ল্যাশ থেকে বাঁচতে IP64 রেটিং দেওয়া আছে। এর মানে হালকা বৃষ্টি বা পানি ছিটকে কোনো সমস্যা হবে না, কিন্তু পানিতে ডুবিয়ে ফেললে রক্ষা নেই। আমি বলব, পানির আশপাশে একটু সাবধান থাকাই ভালো।
সাইডে পাওয়ার বাটন আর ভলিউম রকার যথেষ্ট ট্যাক্টাইল। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর পাওয়ার বাটনেই এমবেড করা, একবার সেটআপ করলে দ্রুত আনলক হয়। পুরো বিল্ড কোয়ালিটিকে আমি এভারেজ বলব, না খুব প্রিমিয়াম, না আবার সস্তা। প্রতিদিন রাফ ইউজে টিকে যাবে— এমনই মনে হয়েছে।
Display Experience
রেজোলিউশন ও বেসিক ভিজ্যুয়াল
ওয়ালটন এই ফোনে 6.8 ইঞ্চির IPS LCD প্যানেল দিয়েছে, যার রেজোলিউশন HD+। ২৫ হাজার টাকা দামে এসেও ওয়াটারড্রপ নচ দেখা আমার কাছে একটু হতাশার। চারপাশের বেজেল বিশেষ করে নিচের চিনটা চোখে লাগার মতো বড়। তবে IPS প্যানেল হিসেবে কালার রিপ্রোডাকশন ঠিকঠাক, হোয়াইট ব্যালেন্স অনেকটাই ন্যাচারাল। Widevine L1 সাপোর্ট থাকায় Netflix, Amazon Prime-এর মতো OTT প্ল্যাটফর্মে Full HD পর্যন্ত স্ট্রিম করা যায়। ইউটিউবে সর্বোচ্চ 1440p রেজোলিউশন সাপোর্ট করে (অনেকে 144p বলে ভুল করবেন, আসলে এটা 1440p)।
আমার এক কলিগ এক সপ্তাহ ধরে ফোনটিতে প্রচুর ইউটিউব আর সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করেছে। সে বলছিল, কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা মোটামুটি ভালো, তবে HD+ রেজোলিউশনের কারণে ৬.৮ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লেতে কিছু কিছু সময় পিক্সেলেশন চোখে পড়ে। বিশেষ করে ছোট টেক্সট বা আইকনের ধারগুলো ধারালো লাগে না। যারা রিলস, শর্টস আর মুভি দেখেন, তাদের জন্য ঠিক কাজ চালানোর মতো, কিন্তু একটু বেশি চাহিদাসম্পন্ন ইউজার হতাশ হতে পারেন।
রিফ্রেশ রেট ও আউটডোর ভিজিবিলিটি
একটা বড় প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে ডিসপ্লেটির 120Hz রিফ্রেশ রেট। সেটিংস থেকে অটো সিলেক্ট রাখলে ফোন নিজেই প্রয়োজন অনুযায়ী রিফ্রেশ রেট বাড়ায়-কমায়। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং বা UI নেভিগেশনে 120Hz-এর মসৃণতা বোঝা যায়। অ্যানিমেশনগুলো ফ্লুইড লাগে, যা দামের তুলনায় বেশ প্রশংসনীয়।
এবার আসি ব্রাইটনেসে। কোম্পানি দাবি করছে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ 450 nits, আর High Brightness Mode চালু করলে 630 nits পর্যন্ত উঠতে পারে। এটি শুনে আমি আর আমার টিম একটু অবাক হয়েছিলাম, কারণ সাধারণত HBM পিক ব্রাইটনেস থেকেও বেশি হওয়া উচিত, কিন্তু এখানে উল্টোটা বলা হয়েছে— হয়তো টাইপিং মিসটেক। বাস্তবে আউটডোরে সরাসরি সূর্যের আলোতে ফোনটা ইউজ করতে গিয়ে দেখেছি, HBM মোড চালু না করলে স্ক্রিনে কিছুই বোঝা যায় না। HBM চালু করলে অবস্থা মোটামুটি সহনীয় হয়, তবে তারপরও সরাসরি রোদে কিছুটা সংগ্রাম করতে হয়। অর্থাৎ আউটডোর ভিজিবিলিটি কেবল এইচবিএম অন রাখলে কাজ চালানোর মতো।
ডিসপ্লের কিছু সমস্যা (Green Tint ও Mistouch)
আমাদের ইউনিটে আরও দুটো ইস্যু চোখে পড়েছে। প্রথমত, ডিসপ্লেতে কিছুটা Green Tint ইফেক্ট আছে। বিশেষ করে ফোন একটু কাত করলে বা ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ডে সবুজাভ ছোপ বোঝা যায়। দ্বিতীয়ত, মাঝেমধ্যে স্ক্রিনে Mistouch এর সমস্যা করছে। যেমন, শুধু স্ক্রল করছি অথচ ফোন কোনো একটা অপশন সিলেক্ট করে ফেলছে। অবশ্য এই বাজেটে IPS প্যানেলে এমন ছোটখাটো সমস্যা একেবারে আনকমন নয়, তবু এগুলো ডেইলি ইউসে বিরক্তির কারণ হতে পারে।
Performance & Gaming
প্রসেসর ও প্রতিদিনের পারফরম্যান্স
Walton XANON X22 5G-এর হার্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে MediaTek Dimensity 7100 চিপসেট। এটা আগের থেকে পরিচিত, টেস্টেড একটা প্রসেসর। মিডরেঞ্জে দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য এটার নাম ডাকে। রোজকার কাজকর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ফেইসবুক, ইউটিউব, কল, মেসেজ— এসবে কোথাও বেগ পেতে হয়নি। একসাথে ৬-৭টা অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে কাজ করলেও অ্যাপ সুইচিং ছিল মসৃণ। এর পেছনে বড় কারণ হচ্ছে ফোনটির 8GB LPDDR5 RAM। দয়া করে নোট করবেন, এটি কোনো এক্সটেন্ডেড বা ভার্চুয়াল RAM নয়; ফিজিক্যালি ৮ জিবি র ্যাম আছে। এই জিনিসটা ২৫ হাজার টাকার ফোনে খুব চমৎকার। LPDDR5 RAM-র সুবাদে ডেটা ট্রান্সফার স্পিড ভালো, ব্যাটারিও কম খায়।
একটা জায়গায় খানিকটা পিছিয়ে পড়েছে স্টোরেজ। ফোনে 128GB UFS 2.2 স্টোরেজ আছে। প্রতিদিনের ব্যবহারে এটা যথেষ্ট মনে হলেও দীর্ঘদিন চালানোর জন্য 256GB দিলে সোনায় সোহাগা হতো। ভালো খবর হলো, ডেডিকেটেড microSD কার্ড স্লট আছে, ফলে স্টোরেজ বাড়ানোর পথ খোলা। UFS 2.2 স্টোরেজ হওয়ায় অ্যাপ লোডিং বা ফাইল ট্রান্সফারে খুব গতি পাওয়া যায় না, তবু রেগুলার ইউসে এটি দোষণীয় নয়।
গেমিং এক্সপেরিয়েন্স (PUBG, Free Fire)
গেমিং টেস্টে আমরা PUBG আর Free Fire খেলেছি। Dimensity 7100 গ্রাফিক্স হ্যান্ডেলিংয়ে দক্ষ। PUBG মিডিয়াম গ্রাফিক্স সেটিংসে স্মুথলি চলে, কোনো বড় ফ্রেম ড্রপ দেখা যায়নি। তবে গরমের সময় বা অনেক এনিমি একসাথে চলে এলে মাঝেমধ্যে কিছু ফ্রেম ড্রপ নোটিশ করেছি। ব্যাপারটা খুবই সূক্ষ্ম, ক্যাজুয়াল গেমাররা হয়তো ধরতেও পারবে না। Free Fire-তে ম্যাক্স সেটিংসেও এক্সপেরিয়েন্স ছিল আরামদায়ক। চার্জে লাগিয়ে গেম খেলার সময় হিট ম্যানেজমেন্ট চেক করতে আমরা কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, ফোন অতিরিক্ত গরম হয়নি। ব্যাক প্যানেলের উপরের অংশ সামান্য উষ্ণ হয়েছে, যা স্বাভাবিক। অর্থাৎ গরমের দিনেও একটানা গেমিং করা যাবে, তেমন একটা হাতে অস্বস্তি হবে না।
হিট ম্যানেজমেন্ট ও থ্রটলিং
এক ঘণ্টা টানা গেমিংয়ের পর CPU থ্রটলিং টেস্ট না করলেও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ফোন হিট জেনারেশনে বেশ নিয়ন্ত্রিত। গ্রাফিক্স-ইন্টেনসিভ কাজে পারফরম্যান্স হঠাৎ ধসে পড়ার কোনো ঘটনা চোখে পড়েনি। বড় ব্যাটারি আর নরমাল থার্মাল ডিজাইনের কারণে তাপ ছড়িয়ে পড়ছে ভালোভাবেই। সাধারণ ইউজারদের জন্য এটা যথেষ্ট।
Camera System
ক্যামেরা সেটাপ ও প্রধান সেন্সর
পেছনের ক্যামেরা মডিউলে তিনটা সেন্সর দেখে চমকে যাওয়ার কিছু নেই। এখানে কার্যকরী ক্যামেরা আসলে একটাই— 50MP Sony IMX752 সেন্সর। বাকি একটা 2MP ম্যাক্রো লেন্স, আর তৃতীয়টা ডেপথ সেন্সর বা ডামি হতে পারে (কোম্পানি দ্বিতীয় ক্যামেরা নিয়ে স্পেসিফিক কিছু জানায়নি, তবে ভিড়ের মধ্যে এটা তেমন কাজের নয়)। মেইন সেন্সরটি বাজেটের হিসেবে বেশ ক্যাপাবল।
ডে-লাইট ফটোগ্রাফি
দিনের আলোয় তোলা ছবিগুলো দেখে আমি একটু চমকেই গিয়েছিলাম। ছবিগুলো বেশ ব্রাইট, পাঞ্চি রং আর স্যাচুরেটেড আসে। অনেকের কাছেই এ ধরনের ছবি ভীষণ পছন্দের। বিশেষ করে সবুজ গাছপালা কিংবা রঙিন অবজেক্ট দেখলে স্যাচুরেশন এমনিতেই বাড়িয়ে দেয়। ডিটেইলস সন্তোষজনক, তবে ডায়নামিক রেঞ্জ কিছুটা দুর্বল। আকাশের মেঘ আর জমির ছায়ার মধ্যে ব্যালেন্স করতে গিয়ে হোয়াইট পোর্শন ওভার এক্সপোজ হয়ে যায় কখনো কখনো। তবু ইনস্টাগ্রাম বা ফেইসবুকে শেয়ার করার জন্য এসব ছবি বেশ ইনস্টা-রেডি।
পোর্ট্রেট মোড ও সেলফি
পোর্ট্রেট মোডে সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটা চোখে পড়ে, তা হলো ফেস সুন্দর করার টেন্ডেন্সী। গালের দাগ, বলিরেখা প্রায় গায়েব করে ফেলে, ত্বক মসৃণ করে আর একটু ফর্সা করে তোলে। অনেক ব্যবহারকারী এই বিউটিফিকেশন পছন্দ করেন। এজ ডিটেকশনও বাজারের আর দশটা ফোনের মতো, বেশিরভাগ সময় নিখুঁত, তবে ব্যাকগ্রাউন্ড জটিল হলে কিছু স্ট্র্যান্ড মিস হয়।
8MP সেলফি ক্যামেরাও একই কাজ করে। দিনের বেলায় মোটামুটি ভালো রেজাল্ট দেয়, কিন্তু লো-লাইটে এসে দানা বাঁধে। ছবিতে নয়েজ চলে আসে, ডিটেইলস হারায়। সেলফির জন্য নাইট মোড ব্যবহার করলে অনেকটাই উন্নতি হয়, নয়েজ কমে এবং ফেসের ডিটেইল ফিরে আসে।
লো-লাইট ও নাইট মোড
কম আলোয় মেইন ক্যামেরা কিছুটা হোচট খায়। অটো মোডে ছবিতে নয়েজ বেশি থাকে, ডিটেইলস সফট হয়। নাইট মোড চালু করলে হাত স্থির রেখে ছবি তুললে ডিটেইলস অনেকটা ফিরে আসে, নয়েজও কমে। তবে পিক্সেল পিপিং করলে বুঝবেন, এটা সত্যিকারের প্রিমিয়াম নাইট মোড নয়। তারপরও দামের তুলনায় রাতের ছবি মেনে নেওয়ার মতো।
ভিডিও রেকর্ডিং সীমাবদ্ধতা
ভিডিও বিভাগে সর্বোচ্চ 2K 30fps রেকর্ডিং সাপোর্ট করে। কিন্তু আমার পরামর্শ থাকবে 1080p 60fps-এ রেকর্ড করা, কারণ এতে ফুটেজ স্মুথ হয়। ভিডিওতে স্টেবিলাইজেশন খুব ভালো নয়; হাটতে হাটতে রেকর্ড করলে ঝাঁকুনি স্পষ্ট। ভিডিও ব্লগিং বা প্রফেশনাল কাজের জন্য এই ক্যামেরা যথেষ্ট না হলেও, পারিবারিক মুহূর্ত বা ইউটিউব শর্টস বানানোর জন্য কাজ চলে যাবে।
Battery Life & Charging
ব্যাটারি ব্যাকআপ— আসল শক্তি
Walton XANON X22 5G-এর সবচেয়ে বড় সেলিং পয়েন্ট যেটা, সেটা হলো 6000mAh লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। একবার ফুল চার্জ দিয়ে গড়পড়তা ব্যবহারে (কিছু গেমিং, প্রচুর ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া আর কল) আমরা প্রায় দেড় দিন ব্যাটারি পেয়েছি। যারা খুব হেভি ইউজার নন, তারা হয়তো সন্ধ্যার পরও ৩০-৪০% চার্জ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন। ব্যাটারি লাইফ আমার কাছে অভাবনীয় ভালো লেগেছে, আর Dimensity 7100 যেহেতু পাওয়ার এফিশিয়েন্ট, তাই স্ক্রিন-অন টাইমও বেশ চিত্তাকর্ষক।
চার্জিং স্পিড ও বাইপাস চার্জিং
বক্সে দেওয়া 18W চার্জার দিয়ে ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ০ থেকে ১০০% হতে সময় নেয় মোটামুটি ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। খুব তাড়াতাড়ি না বললেও একেবারে ধীরগতিরও না। আরও বড় খবর হলো ফোনটিতে Bypass Charging সাপোর্ট আছে। গেম খেলার সময় চার্জার লাগিয়ে রাখলে ফোন সরাসরি চার্জার থেকে পাওয়ার নেয়, ব্যাটারি গরম হয় না। এতে গেমিং পারফরম্যান্সে উন্নতি হয় আর ব্যাটারির দীর্ঘায়ু বাড়ে। একই দামে এই ফিচার পাওয়া দারুণ ব্যাপার।
Software & Features
Android 16 ও Dido OS
এই ফোনে সবচেয়ে বিস্ময়কর জিনিস হলো এটি Android 16-এ রান করে, যার ওপর ওয়ালটনের নিজস্ব স্কিন Dido OS দেওয়া আছে। বর্তমান বাজারে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ চালানো ফোন খুঁজে পাওয়া কঠিন, ফলে সফটওয়্যার সাপোর্টের দিক থেকে ফিউচার-প্রুফ বলতে পারেন। Dido OS দেখতে অনেকটা স্টক অ্যান্ড্রয়েডের কাছাকাছি, তবে কিছু কাস্টমাইজেশন আইকন আর দ্রুত সেটিংস টগলে দেখা যায়। UI পরিষ্কার, ব্লোটওয়্যার তুলনামূলক কম। কিছু প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ যেমন ওয়ালটনের নিজস্ব কিছু অ্যাপ আর থার্ড পার্টি গেম আছে, তবে আনইনস্টল করা যায়। সার্বিকভাবে সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স রেসপন্সিভ আর বাগ-মুক্ত মনে হয়েছে।
প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ ও ব্লোটওয়্যার
কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ প্রথমবার ফোন খোলার পর দেখতে পাবেন। কিন্তু এগুলো খুব বেশি জায়গা নেয় না, আর আনইনস্টলও করা যায়। তাই আমি এটাকে বড় কোনো বিরক্তি বলব না। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সিস্টেম স্লো হয়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ আমরা পাইনি— 8GB RAM এর জাদা এখানে কাজে দেয়।
সেন্সর, নেটওয়ার্ক ও কানেক্টিভিটি
ফোনটিতে ফিজিক্যাল প্রক্সিমিটি সেন্সর, নয়েজ ক্যান্সেলেশন মাইক সবই আছে। কল কোয়ালিটি বেশ পরিষ্কার। Dual Band WiFi দ্রুত স্পিড দেয়, আর Bluetooth 5.4 কানেক্টিভিটি নিখুঁত। 5G নেটওয়ার্ক সাপোর্টের কারণে বাংলাদেশে 5G চালু হলে ফোনটি প্রস্তুত থাকবে। আমরা নেটওয়ার্ক নিয়ে কোনো সমস্যা পাইনি, এমনকি লিফটের ভেতরেও সিগন্যাল তেমন হারায়নি।
Final Verdict
Walton XANON X22 5G-এর দাম বর্তমানে বাংলাদেশে ২৫,৯৯৯ টাকা। এই দামে ফোনটি বেশ কিছু জায়গায় চমক দেখিয়েছে, আবার কিছু জায়গায় আবার পিছিয়েও আছে। আমার ব্যক্তিগত মতামত শুনতে চাইলে বলব— আপনি যদি দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ, মসৃণ ডেইলি পারফরম্যান্স এবং 5G ফিউচার-প্রুফিং চান, তাহলে ফোনটি একবার ভেবে দেখা যেতেই পারে। 8GB LPDDR5 RAM আর Dimensity 7100 প্রসেসর মিলে দৈনন্দিন জীবনে গতি বজায় রাখে। গেমিংও চলে গ্রহণযোগ্য। ক্যামেরা দিনের আলোয় ভালো, পোর্ট্রেট বিউটিফিকেশন পছন্দ হলে খুশি হবেন।
কিন্তু কিছু ইস্যুও আছে। ওয়াটারড্রপ নচের জন্য ২০২৫-এ এসে পুরোনো লাগে, HD+ ডিসপ্লে অনেকের কাছেই পছন্দ না-ও হতে পারে। আবার Green Tint আর Mistouch-এর মতো সমস্যা বিট করে ইউজ করা কিছুটা বিরক্তিকর। মাইক্রোএসডি স্লট থাকলেও 128GB স্টোরেজই কোম্পানি রেখেছে, যেখানে 256GB দিলে সবার মন জিতত।
যদি আপনি ডিসপ্লে আর আধুনিক ডিজাইনকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাহলে একই বাজেটে পাঞ্চ-হোল AMOLED ডিসপ্লে সম্বলিত Realme Narzo 70x 5G বা Redmi Note 13 5G-এর দিকে তাকাতে পারেন। তবে ব্যাটারি আর র ্যামের নিরিখে Walton XANON X22 5G অনেকটাই এগিয়ে। সবশেষে বলব, ওয়ালটন তাদের আগের XANON সিরিজের তুলনায় স্টেবিলিটির দিকে এগোচ্ছে, আর ভবিষ্যতে আরও আগ্রাসী প্রতিযোগিতা করবে— এমন প্রত্যাশা করাই যায়।

