Realme P4R রিভিউ: ২৫ হাজার টাকায় দারুণ ব্যাটারি আর 5G-এর জাদু
ফোনের দুনিয়ায় এখন 5G সবার আগে চায়। আর সাথে যদি বিশাল ব্যাটারি আর টেকসই বিল্ড মিলে কম দামে, তাহলে তো কথাই নেই। Realme ঠিক সেটাই করার চেষ্টা করেছে Realme P4R-এ। গত কয়েক সপ্তাহ এই ফোনটি আমার প্রাইমারি ডিভাইস হিসেবে ছিল। স্কুল-কলেজ, গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, আর বন্ধুদের সাথে আড্ডার ছবি— সবকিছুই করেছি। পুরো এক্সপেরিয়েন্স থেকে যা বুঝলাম, ছোট বাজেটে দারুণ এক অলরাউন্ডার হতে পারে এই ফোনটি। কিন্তু কিছু জায়গায় আপসও আছে। চলো, ফোনটিকে একদম খুঁটিয়ে দেখি।
Design & Build Quality
বক্স খুলে ফোনটা হাতে নিতেই প্রথম যে জিনিসটা ভালো লাগল, সেটা হলো ফিনিশ। পুরো বডি প্লাস্টিকের, কিন্তু ব্যাক প্যানেলে ম্যাট টেক্সচার দেওয়া। আঙুলের ছাপ একদম পড়ে না। 8.8 mm পুরুত্বের ফোনটি বেশ স্লিম মনে হয়, আর ওজনও একদম ভারী না। অনেক্ষণ হাতে ধরে ইউটিউব দেখলেও কবজিতে চাপ পড়ে না।
সাইড ফ্রেমটা ফ্ল্যাট ডিজাইনের, ঠিক ট্রেন্ডি স্টাইলে। পাওয়ার বাটনেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বসানো, যা একদম ইউটিলিটি মাইন্ডেড। আনলক স্পিড বেশ ফাস্ট, কখনো মিসফায়ার হয়নি। ভলিউম বাটন আর সিম ট্রে বাঁ দিকে। নিচে USB Type-C পোর্ট, স্পিকার গ্রিল, আর উপরে সেকেন্ডারি মাইক্রোফোন। 3.5mm হেডফোন জ্যাক আছে, যা এই বাজেটে অনেকের জন্য স্বস্তির।
কিন্তু আসল চমক IP65 রেটিং। ২৫ হাজার টাকার ফোনে ডাস্ট আর ওয়াটার স্প্ল্যাশ প্রোটেকশন পাওয়া সত্যিই দারুণ। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বা একটু পানি পড়লে আর চিন্তা নেই। একবার কলেজের টিফিনের সময় ভুল করে জুস ছিটকে গিয়েছিল, তবু ফোন ঠিকঠাক চলেছে। তবে ভুলেও পানিতে ডুবাবেন না, এটা IP68 নয়।
রং অপশনের মধ্যে আমি যে গ্লেসিয়ার ব্লু ভ্যারিয়েন্ট ব্যবহার করেছি, সেটা লাইটের সাথে দারুণ শিমার দেয়। দেখতে একদম প্রিমিয়াম ফিল আসে। ছোট ভাইবোনদের হাতে ধরিয়ে দিলে চমকে উঠবে।
Display Experience
Realme P4R-এ আছে 6.8 ইঞ্চির Punch Hole Display। বেজেল বেশ পাতলা, বিশেষ করে দুই পাশে। কিন্তু নিচের চিন একটু চওড়া, তবে ভিডিও দেখার সময় সেটা মাথায় থাকে না। পাঞ্চ হোলের আইল্যান্ড কাটআউট ছোট, নোটিফিকেশন বারে খুব বেশি বিরক্ত করে না।
এই প্রাইস পয়েন্টে অনেকেই আশা করবে Super AMOLED প্যানেল। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, কস্ট কাটিং করতে গিয়ে Realme এখানে দিয়েছে HD+ IPS LCD প্যানেল। রেজোলিউশন 1600x720, পিক্সেল ডেনসিটি 260 PPI-র কাছাকাছি। ছোট টেক্সট পড়তে গেলে একটু শার্পনেসের অভাব টের পাবেন। ইউটিউবে 1080p ভিডিও দেখলে অবশ্য চোখে খুব একটা লাগে না। কালার রিপ্রোডাকশন IPS-এর মতোই ন্যাচারাল, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড নয়। স্ক্রিনের Brightness indoor পরিস্থিতিতে যথেষ্ট, কিন্তু কড়া রোদের নিচে স্ক্রিন একটু ফিকে লাগে। তবুও অটো ব্রাইটনেস মোটামুটি ঠিকঠাক অ্যাডজাস্ট করে।
তবে বড় পাওয়া হচ্ছে 90Hz Refresh Rate। এই দামে 90Hz স্মুথনেস পাওয়া দারুণ ব্যাপার। স্ক্রলিং, অ্যানিমেশন, সোশ্যাল মিডিয়া সবকিছু দারুণ ফ্লুইড লাগে। গেমিং লাভাররা এটা খুব মিস করবে না। Adaptive refresh rate সুবিধাও আছে, যা ব্যাটারি বাঁচাতে অটোমেটিক 60Hz-এ নেমে আসে।
কন্টেন্ট কনজাম্পশনের জন্য Widevine L1 সাপোর্ট আছে, ফলে নেটফ্লিক্স আর প্রাইম ভিডিওতে HD কোয়ালিটির স্ট্রিমিং উপভোগ করতে পারবেন। ডিসপ্লের কালার টোন একটু ওয়ার্ম সাইডে, ডিসপ্লে সেটিংস থেকে ঠান্ডা করে নিতে পারবেন। সব মিলিয়ে, কেউ যদি AMOLED-এ অভ্যস্ত হয়, তাহলে একটু খাপ খাওয়াতে সময় লাগবে। কিন্তু সাধারণ ইউজারদের জন্য এই স্ক্রিন একদম ঠিকঠাক।
Performance & Gaming
এবার আসি আসল গেমে। Realme P4R-এর প্রাণভোমরা MediaTek Dimensity 6300 চিপসেট। এটি 6nm ফেব্রিকেশন প্রসেসর, পাওয়ার এফিশিয়েন্সি দারুণ। সাথে আছে 8GB LPDDR4x RAM এবং 128GB/256GB UFS 2.2 স্টোরেজ। ভার্চুয়াল RAM আরও 8GB পর্যন্ত বাড়ানো যায়।
ডে-টু-ডে ইউসেজে ফোনের পারফরম্যান্স চমৎকার। অ্যাপ ওপেন করা, মাল্টিটাস্কিং, ক্যামেরা স্যুইচিং— সবকিছুতেই ফ্লুইডিটি বজায় থাকে। Realme UI-এর অপ্টিমাইজেশন এখানে কাজে লেগেছে।
গেমিংয়ে নামলে সবচেয়ে বেশি খেলা Free Fire। গ্রাফিক্স সেটিংস Smooth-এ রেখে হাই ফ্রেমরেট পেয়েছি, গড় FPS 55-60-এর আশেপাশে ঘোরাঘুরি করেছে। ব্যাটলগ্রাউন্ডে খুব একটা ল্যাগ বা স্টাটার ফিল করিনি। PUBG Mobile-এ গ্রাফিক্স Balanced এবং ফ্রেমরেট Medium-এ গেমপ্লে মসৃণ ছিল। তবে HD গ্রাফিক্সে গেলে ফ্রেম ড্রপ টের পাওয়া যায়। এক ঘণ্টা টানা খেলার পর ফোনের পেছনের দিকের ওপরের অংশ সামান্য গরম হয়, কিন্তু হাত পোড়ানোর মতো না। এই চিপসেটের থার্মাল ম্যানেজমেন্ট সন্তোষজনক।
আসল চমকটা লুকিয়ে Realme-এর "GT Mode"-এ। নোটিফিকেশন ট্রে থেকে এক ক্লিকে এটি অ্যাক্টিভেট করা যায়। এটি চিপের ক্লক স্পিড বুস্ট করে আর RAM ক্লিন করে গেমিং-এর জন্য আলাদা রিসোর্স ডেডিকেট করে। এই ফিচারের সুবাদে গেমের লোডিং টাইমও কমে যায়। ছোট ভাইয়ের সাথে Asphalt 9 খেলার সময় GT Mode অ্যাক্টিভেট করলে এক্সপেরিয়েন্সে চোখে পড়ার মতো উন্নতি লক্ষ করেছি।
AnTuTu বেঞ্চমার্ক স্কোর 4,20,000-এর ঘরে থাকে, যা এই সেগমেন্টের জন্য স্ট্যান্ডার্ড। Geekbench সিঙ্গেল-কোর 700-এর ওপরে আর মাল্টি-কোর 1800-এর কাছাকাছি। স্টোরেজ স্পিড UFS 2.2 মোটামুটি, তারপরেও অ্যাপ লোডিং ফাস্ট। 5G ক্যারিয়ার অ্যাগ্রিগেশন ঠিকঠাক কাজ করছে, তবে নেটওয়ার্ক স্পিড নির্ভর করবে অপারেটরের উপর। Wi-Fi 5 ডুয়াল-ব্যান্ড থাকায় হোম নেটওয়ার্কে স্পিড ভালোই।
অনেকক্ষণ গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো হেভি টাস্কের জন্য এই ফোন ডিজাইন করা হয়নি। কিন্তু একদম সাধারণ ইউজার থেকে শুরু করে মিড-লেভেল গেমারদের জন্য Performance যথেষ্ট। দামের নিরিখে Snapdragon 695 বা Helio G99-এর কাছাকাছি লেভেলের স্মুথনেস দিচ্ছে Dimensity 6300।
Camera System
ক্যামেরা সেটআপ দেখলে বাইরে থেকে একটু ধাঁধায় পড়তে পারেন। এখানে বড় গোল বিজোড় মডিউলে ত্রিকোণ ক্যামেরা হাউজিং, কিন্তু সেন্সর আসলে দুইটি: 50MP Main Sensor (f/2.2 অ্যাপারচার) এবং একটি 2MP Depth Sensor। সামনে পাঞ্চ হোলে 8MP Selfie Camera। কোনও আলট্রা-ওয়াইড বা ম্যাক্রো লেন্স নেই।
দিনের আলোয় Main Camera দারুণ ছবি তোলে। 50MP সেন্সর পিক্সেল-বিনিং করে 12.5MP শার্প ইমেজ তৈরি করে। কালার সায়েন্স ন্যাচারাল, একটু পাঞ্চি কিন্তু অতিরঞ্জিত নয়। ডিটেইল বেশ ভালো, তবে ছবির কিনারায় কিছুটা নরম ভাব আসে। Dynamic Range মোটামুটি, একটু শক্তিশালী ব্যাকলাইটে HDR অটোমেটিক অ্যাক্টিভেট হয়, তবে কখনো কখনো শ্যাডো ক্রাশ করে।
ইনডোরে কৃত্রিম আলোয় পারফরম্যান্স আরও ভালো। লাইব্রেরিতে বন্ধুদের সাথে গ্রুপ সেলফি তোলার সময় ক্যামেরা খুব ভালো স্কিন টোন ধরেছে। ফুড ফটোগ্রাফির জন্য আলাদা করে কিছু নেই, তবুও মূল সেন্সর কাছাকাছি গিয়ে ভালো Bokhe তৈরি করতে পারে।
Night Mode ইউজ করলে ছবির ব্রাইটনেস বাড়ে, কিন্তু শার্পনেস কিছুটা কমে যায়। ডেডিকেটেড নাইট স্কেপ মোড আছে, তবে ২-৩ সেকেন্ড স্থির হাতে ধরে রাখতে হয়। আলো একেবারে কম থাকলে নয়েজ চলে আসে, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য যথেষ্ট।
Portrait মোডে Depth Sensor ভালো কাজ করে। সাবজেক্ট আর ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে এজ ডিটেকশন প্রায় নিখুঁত। লোমশ পা-ওয়ালা কুকুরের ছবিতে একটু এজ স্মিয়ার লক্ষ করেছি, তবু অপেক্ষাকৃত ভালো। সেলফি ক্যামেরা 8MP মোটামুটি কোয়ালিটি দেয়। ফেস ডিটেইল ঠিক থাকে, কিন্তু রাতে স্ক্রিন ফ্ল্যাশের উপর ভরসা করতে হয়।
ভিডিও রেকর্ডিং বড় আপসের জায়গা। Main Camera সর্বোচ্চ 1080p 30fps রেকর্ড করতে পারে, 4K সাপোর্ট নেই। আর সামনের ক্যামেরা 720p 30fps-এই সীমাবদ্ধ। বন্ধুদের সাথে চলন্ত ভিডিও তুলতে বা vlog করতে গেলে এই লিমিটেশন বড় ধাক্কা দিতে পারে। তবুও Electronic Image Stabilization (EIS) নেই, যা ভিডিওতে ঝাঁকুনি বাড়ায়। কিছু AI এনহ্যান্সমেন্ট ফিচার আছে, যেমন "AI Unblur" আর "AI Colour Enhancement"— এগুলো ছবির পোস্ট-প্রসেসিংয়ে ছোটখাটো উন্নতি আনে।
সব মিলিয়ে ক্যামেরা এই দামের ফোনের জন্য নিখাদ রোজকার ব্যবহারের উপযোগী। কিন্তু যদি দারুণ ভিডিওগ্রাফি আর নানা রকম লেন্সের শখ থাকে, তাহলে আরেকটু খরচ করে অন্য কিছু ভাবতে হবে।
Battery Life & Charging
এই ফোনের সবচেয়ে হাইলাইটেড পয়েন্ট হলো ব্যাটারি। Realme P4R-এ আছে 6500mAh-এর বিশাল ব্যাটারি। এটা সত্যিই জন্তু। আমার ইউজ প্যাটার্নে (ইউটিউব ৩ ঘণ্টা, ইনস্টাগ্রাম রিলস ১ ঘণ্টা, কিছু ফটোগ্রাফি আর টানা Wi-Fi/5G অন) ফোন সহজেই দেড় দিন চলে গেছে। এমনকি একটু হালকা ব্যবহার করলে দুই দিনও টানা যায়। গেমিং লাভারদের জন্য দারুণ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা Free Fire খেলেও ব্যাটারি শেষ হতে চায় না।
চার্জিং স্পিড একটু ধীরগতির। Realme বক্সে দেয় 18W Fast Charger। এই বিশাল ব্যাটারি চার্জ হতে সময় নেয় প্রায় ২ ঘণ্টার উপরে। গোটা ব্যাটারি 0 থেকে 100% যেতে ১৩০-১৪০ মিনিট লাগে। বর্তমান যুগে যেখানে 33W এমনকি 45W চার্জিং কমন, সেখানে 18W একটু পুরনো লাগে। তবে ব্যাটারির বিশাল ধারণক্ষমতার কাছে এটা মেনে নেওয়া যায়।
বোনাস ফিচার হিসেবে আছে Reverse Wired Charging। অর্থাৎ, ফোনটি দিয়ে বন্ধুর ফোন বা TWS ইয়ারবাড চার্জ করতে পারবেন। প্রয়োজনের সময় ছোট পাওয়ার ব্যাংকের মতো কাজে লাগে। আমি একবার বন্ধুর iPhone চার্জ দিয়েছি, ফোন ২০% খরচ করে ওকে বেশ কিছু পার্সেন্টেজ দিতে পেরেছে। পাওয়ার ডেলিভারি প্রোটোকল ঠিকঠাক কাজ করে।
ব্যাটারি হেলথ অপ্টিমাইজেশন ফিচারগুলো Realme UI 7.0-তে আছে, যেমন নাইট চার্জিং প্রোটেকশন আর অ্যাডাপ্টিভ ব্যাটারি। এতে ব্যাটারির লাইফ দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।
Software & Features
Realme P4R রান করে Realme UI 7.0-এর ওপর, যা বেস Android 15-এর উপর তৈরি। (অনেকে Android 16-এর গুঞ্জন শুনেছেন, কিন্তু এই রিভিউ ইউনিটে Android 15-ই ছিল। ভবিষ্যতে হয়তো Android 16-এ আপগ্রেড পেতে পারে।) ইন্টারফেস ক্লিন আর কাস্টমাইজেবল। প্রি-ইনস্টলড কিছু অ্যাপ ছিল, যেগুলো এক ক্লিকে আনইনস্টল করে ফেলা যায়। ফোল্ডার ওপেন করার অ্যানিমেশন, কন্ট্রোল সেন্টার লে-আউট— সবই রিয়েলমির সিগনেচার স্টাইল।
কিছু স্মার্ট ফিচার দারুণ কাজ দিয়েছে। "One Tap Boost" নামে একটি কুইক টুল আছে, যা ক্লিয়ার মেমোরি আর ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস ক্লিন করে ফোন স্পিড আপ করে। গেম খেলার আগে এটি ট্যাপ করা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। পাশাপাশি Dynamic Island এর মতো নোটিফিকেশন শো করার ফিচার "Realme Island" যুক্ত হয়েছে, যা কপি করা টেক্সট, চার্জিং স্টেটাস, স্টেপ কাউন্ট ইত্যাদি দেখায়। দেখতে মজার আর ইউজফুল।
সিকিউরিটির জন্য সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আর ফেস আনলক আছে। ফেস আনলক বেশ ফাস্ট, তবে নিরাপত্তা একটু কম। প্রাইভেসি ফিচার হিসেবে App Lock, Private Safe, আর System Cloner দেওয়া আছে। স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা বিশেষ অ্যাপ গোপন রাখতে এগুলো কাজে লাগাতে পারে।
স্পিকার সিঙ্গেল বটম-ফায়ারিং। সাউন্ড যথেষ্ট জোরে, কিন্তু বাসের গভীরতা অনুপস্থিত। ইয়ারফোন ছাড়া গান শুনতে মন্দ লাগে না, তবুও Dolby Atmos-এর কোনো সাপোর্ট নেই। ফোনে 3.5mm জ্যাক থাকায় হাই-রেজ ওয়্যার্ড ইয়ারফোন উপভোগ করা যায়।
কানেক্টিভিটি টার্মে আছে 5G SA/NSA, Wi-Fi 5, Bluetooth 5.3, আর সাইড-লোডেড GPS। সবই এভারেজ ইউজারের জন্য যথেষ্ট। শুধু NFC নেই, কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট করতে চাইলে আফসোস হতে পারে।
Final Verdict
Realme P4R বর্তমান বাজেট সেগমেন্টে একটি ব্যালেন্সড প্যাকেজ, বিশেষ করে যারা বিশাল ব্যাটারি, 5G কানেক্টিভিটি আর টেকসই বিল্ড চান তাদের জন্য। IP65 রেটিং, 6500mAh ব্যাটারি এবং Dimensity 6300-এর ডিপেন্ডেবল পারফরম্যান্স দৈনন্দিন জীবনকে অনেক স্মুথ করে তোলে। ডিসপ্লে AMOLED না হওয়া আর ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সীমাবদ্ধতা কিছুটা আফসোস জাগায়, কিন্তু দামের নিরিখে এসব মেনে নেওয়া কঠিন না।
আমার মতে, যে কেউ দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ, টেকসই ফোন আর ফ্লুইড ডে-টু-ডে পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য এটি বাজেটের সেরা অপশনগুলোর একটি। বিশেষত স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণরা, যারা গেমিং আর কন্টেন্ট কনজিউম করেন, তাদের জন্য দারুণ। আর যাদের বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য IP65 একটি বাড়তি অ্যাসুরেন্স।
“Realme P4R price in Bangladesh” বর্তমানে মাত্র BDT 25,000 (8GB+128GB ভ্যারিয়েন্ট)। এই দামে Samsung Galaxy M16 বা Redmi Note 14 4G-এর মতো প্রতিযোগীদের কথা ভাবা যায়, কিন্তু সেই ফোনগুলোর ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ছোট, প্রসেসর কিছুটা পুরনো, আর বিল্ড কোয়ালিটি অতোটা রোবাস্ট নয়। Realme P4R যেন একসাথে পারফরম্যান্স আর এন্ডুরেন্সের একটা দারুণ সমন্বয়। যদি ক্যামেরা ভ্লগিং আর AMOLED ডিসপ্লে আপনার কাছে প্রথম প্রায়োরিটি না হয়, তাহলে এই ফোনে হাত রাখা মোটেও ভুল হবে না।

