রিয়েলমি বাংলাদেশের স্মার্টফোন মার্কেটে আবারও আলোচনায়—এবার তাদের নার্জো সিরিজের নতুন সদস্য নিয়ে। মডেলটা হলো Realme Narzo 90। নার্জো লাইনআপের শুরুটা হয়েছিল পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক বাজেট ফোন দিয়ে, যেখানে দামের তুলনায় র স্পিডটা একটু বেশিই পাওয়া যেত। কিন্তু সময়ের সাথে সেই ধারটা কিছুটা ফিকে হয়েছে। তবে Narzo 90 নিয়ে হঠাৎ করেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এর ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, IP68/IP69 রেটিং আর ডিজাইন দেখে। আমি ফোনটা কিছুদিন ধরে ব্যবহার করেছি, রোজকার জীবনে কেমন পারফর্ম করলো, গেমিং, ক্যামেরা আর সফটওয়্যার নিয়ে কী অভিজ্ঞতা হলো—সবই গুছিয়ে বলব একদম সহজ বাংলায়।
Design & Build Quality
Realme Narzo 90 হাতে নেওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়ে, সেটা হলো এর পেছনের ডিজাইন। ভিক্টরি গোল্ড কালারটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। একঘেয়ে গ্রেডিয়েন্ট বা চকচকে ফিনিশের বাইরে গিয়ে রিয়েলমি এখানে একটা টেক্সচার্ড প্যাটার্ন দিয়েছে। দেখতে অনেকটা জ্যামিতিক আঁচড়ের মতো, যা আলো পড়লে চমৎকার ঝলমল করে। কার্বন ব্ল্যাক ভ্যারিয়েন্টটাও আছে, কিন্তু সোনালি রঙটাই আসল ইউনিক।
পুরো বডি আর রিয়ার প্যানেল প্লাস্টিক দিয়ে বানানো। বাজেট ফোনে এটাই স্বাভাবিক, তবে ফিনিশিংটা বেশ পরিষ্কার। হাতে ধরলে খুব একটা প্রিমিয়াম অনুভূতি আশা করবেন না—হালকা চাপ দিলে ব্যাক প্যানেল একটু নিচের দিকে দেবে যায় বলে মনে হয়। ফোনটা চিকন না হলেও খুব বেশি মোটা নয়, আর ওজন এমন জায়গায় আছে যে হাত কাটবে না। প্লাস্টিক ব্যাক হওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট তেমন একটা লাগে না, কিন্তু স্ক্র্যাচ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই কেনার সাথে সাথে একটা ভালো কেস ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এবার আসি একটা সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো ফিচারে। এই দামের ফোনে IP68 এবং IP69 রেটিং দেওয়াটা প্রায় অসম্ভব মনে হবে, কিন্তু Realme Narzo 90 সেটাই করছে। এর মানে ফোনটা পুরোপুরি ধুলো-প্রতিরোধী, এবং স্মার্টফোন পড়ে গেলে বা পানিতে ডুবে গেলে (নির্দিষ্ট গভীরতা ও সময় পর্যন্ত) কোনো ক্ষতি হবে না। এমনকি আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফির জন্যও ইউজ করতে পারবেন। বৃষ্টির দিনে বাইকে ফোন ধরা, বন্ধুদের সাথে পুল পার্টিতে ছবি তোলা, কিংবা দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে গেলে এই ফোনের ভেতরে পানি ঢোকার কোনো চিন্তা থাকবে না। ব্যক্তিগতভাবে আমার এটা বিশাল একটা প্লাস পয়েন্ট মনে হয়েছে, কারণ ১২-১৫ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের জীবন একটু এলোমেলো হয়ই, সেখানে ওয়াটারপ্রুফ ফোন ভরসা দেয়।
Fingerprint Scanner এবং বাটন পজিশনিং
ফোনটিতে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেওয়া হয়েছে। তবে সেন্সরটা ডিসপ্লের বেশ নিচের দিকে বসানো, যে কারণে প্রথম দিকে আঙুল ঠিক জায়গায় আনতে একটু অস্বস্তি হতে পারে। আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর তেমন সমস্যা থাকে না। আনলকিং স্পিড মোটামুটি ফাস্ট আর নির্ভুল, যতক্ষণ না আঙুল ভেজা থাকে। ভেজা আঙুলে সেন্সর ঠিকমতো কাজ করতে চায় না, তবে শুকনো আঙুলে একদম একুরেট। পাওয়ার বাটন আর ভলিউম রকারের প্লেসমেন্ট স্বাভাবিক, দৈনন্দিন ব্যবহারে কোনো ঝামেলা নেই।
Display Experience
Realme Narzo 90 এর সামনের দিকে তাকালেই একটা চমৎকার ডিসপ্লে চোখে পড়ে। 6.57 ইঞ্চির AMOLED প্যানেল—এই বাজেটের ফোনে এমন ডিসপ্লে একটু বেশিই ভালো অনুভূতি দেয়। পুরো ফোনের ফ্রেমগুলো বেশ সরু, আর পাঞ্চ-হোল ক্যামেরার জায়গাটাও বিরক্তিকর নয়। ২৬,৫০০ টাকার ফোনের ডিসপ্লে দেখে মনে হতে পারে দামি কোনো ফোন হাতে ধরা আছে, অন্তত ৩০ হাজার টাকার ওপরের ফোনগুলোর মতই ফিল আসে।
ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট ম্যাক্সিমাম 120Hz পর্যন্ত যায়। রিয়েলমি এখানে ডায়নামিক রিফ্রেশ রেট দিয়েছে, এবং আমার টেস্টে 90Hz থেকে 120Hz-এর মধ্যে উঠানামা করতে দেখেছি। স্ক্রোলিং, অ্যানিমেশন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং—সবকিছুই রেশমি মসৃণ। রিফ্রেশ রেট নিয়ে আমার কোনো কমপ্লেইন নেই।
উজ্জ্বলতার দিকে কোম্পানি কাগজে-কলমে 4000 nits পিক ব্রাইটনেস বললেও বাস্তব সেটা আপনি পাবেন না। কিন্তু হাই ব্রাইটনেস মোডে (HBM) 1400-1500 nits এর আশেপাশে সহজেই চলে যায়, যা আউটডোরে চড়া রোদের নিচে ফোন ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট। আমি নিজে দুপুরে বাইরে স্ক্রিন দেখতে কোনো সমস্যায় পড়িনি।
পিক্সেল ডেনসিটি প্রায় 397 PPI, তাই খুব কাছ থেকে দেখলেও ছবি বা টেক্সটের শার্পনেস নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকার কথা না। পুরো ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স হাই-রেজল্যুশনের মতোই লাগে।
কালার রিপ্রোডাকশন ও প্রোটেকশন
কালার রিপ্রোডাকশন নিয়ে একটু মিক্সড ফিলিং কাজ করে। ডিসপ্লেটা একুরেট কালারের চেয়ে একটু বেশিই ভাইব্রেন্ট। অর্থাৎ রংগুলো একটু বুস্টেড, চোখে লাগে চকচকে এবং আকর্ষণীয়। আপনি যদি একদম প্রাকৃতিক রং পছন্দ করেন, তাহলে হয়তো বলবেন একটু বেশিই ‘পপি’। কিন্তু গেমিং, ইউটিউব ভিডিও বা সিনেমা দেখার সময় এই ভাইব্রেন্ট কালার টোন খুবই ভালো লাগে। ছবিগুলো ক্রিস্প, রঙিন এবং সজীব দেখায়।
বড় একটা আক্ষেপ আছে—ডিসপ্লে প্রোটেকশনের কোনো অফিসিয়াল তথ্য রিয়েলমি দেয়নি। সাধারণত গরিলা গ্লাস বা ড্রাগনট্রেইল গ্লাস থাকলে কোম্পানি সেটা গর্ব করে বলে। এখানে সেরকম কিছু না থাকায় আমি ধরে নিচ্ছি কোনো প্রোটেক্টিভ গ্লাস নেই। তাই কেনার পর প্রথম কাজ হবে একটা ভালো টেম্পার্ড গ্লাস লাগানো। স্ক্র্যাচ পেলে পরে আফসোস করার চেয়ে আগে থেকে সাবধান থাকা ভালো।
Performance & Gaming
এই ফোনের পারফরম্যান্স নিয়ে অনেকের আগে থেকে একটা আলাদা আগ্রহ থাকে, কারণ নার্জো সিরিজ তো আসলে ‘পারফরম্যান্স ওরিয়েন্টেড’ হিসেবে পরিচিত। Narzo 90-তে প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 64 Max চিপসেট। নাম শুনে হয়তো ভাবছেন দারুণ কিছু হবে, কিন্তু বাস্তবটা একটু আটপৌরে। এই চিপসেটটি মূলত একজন অ্যাভারেজ 5G প্রসেসর, যেটাকে পাওয়ারফুল বলা যাবে না।
রেগুলার কাজ—ফেসবুক স্ক্রল করা, ইনস্টাগ্রাম রিল দেখা, ইউটিউব ভিডিও স্ট্রিমিং, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং—এসবে তেমন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যখনই একটু ভারী কাজ করতে যাবেন, যেমন একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ ওপেন করে স্যুইচ করা, তখন একটা হালকা স্লোনেস ধরা পড়ে। অ্যাপ লোড হতে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি সময় নেয়, আর মাঝেমধ্যে টুকটাক ল্যাগ দেখা যায়। এটা র্যাম ম্যানেজমেন্ট আর ব্লোটওয়্যারের কারণে আরও প্রকট হয়।
গেমিং এক্সপেরিয়েন্স
ভারী গেমিংয়ের জন্য এই ফোন নয়। সেটা শুরুতেই মেনে নিয়ে এগোনো ভালো। PUBG বা BGMI খেলতে গিয়ে স্মুথ এক্সট্রিম গ্রাফিক্স সেটিংসে আপনারা প্লেএবল ফ্রেমরেট পাবেন, কিন্তু রেকর্ডিং অন করে গেমপ্লে করলে স্টাটারিং দেখা দেবে। এমনিতেও খেলার সময় মাঝে মাঝে মাইক্রো-ল্যাগ আর ফ্রেম ড্রপের ছোটখাটো দৃশ্য চোখে পড়েছে।
Free Fire খেলতে চাইলে তুলনামূলকভাবে ভালো অভিজ্ঞতা পাবেন। গেমটা অপেক্ষাকৃত বেশি অপটিমাইজড মনে হয়েছে, স্মুথনেসটাও একটু বেটার। আর Call of Duty: Mobile-এর সাথেও Narzo 90 বেশ মানিয়ে নিতে পারে, দীর্ঘক্ষণ খেলার সময় অতিরিক্ত গরমও হয় না। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ফোনটি ভালো—হিট জেনারেশন নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকে, তাই ব্যাটারিও হুট করে পুড়ে শেষ হয়ে যায় না।
যদি আপনি ক্যাজুয়াল গেমার হন—মানে দিনের মাঝে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা খেলবেন, বন্ধুদের সাথে টিম আপ করে কিছুক্ষণ মজা করবেন—তাহলে এই ফোন তা ঠিকঠাকই পারবে। কিন্তু যদি ভেবে থাকেন পুরোদমে গেমিং-বান্ধব একটা ফোন নিচ্ছেন, তাহলে আশা ভঙ্গ হতে পারে।
RAM ও স্টোরেজ
ফোনটি UFS 2.2 স্টোরেজ টাইপে আসে, যা এই বাজেটে একটু ধীরগতির ঠেকে। বাংলাদেশে 6/128 GB এবং 8/128 GB ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে। আমার পরামর্শ থাকবে 8 GB RAM-এর ভার্সনটাই বেছে নেওয়ার। ব্লোটওয়্যার আর ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসের চাপে 6 GB র্যাম অনেক সময় খেই হারিয়ে ফেলে। 8 জিবি হলে মাল্টিটাস্কিংয়ে সুবিধা পাবেন, কিছুটা ফিউচার-প্রুফও বটে।
Camera System
ক্যামেরা নিয়ে নার্জো ৯০-এর স্পেসিফিকেশন শুনলে প্রথমে চমকে যাওয়ার কথা। পেছনে ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ—একটা 50MP মেইন সেন্সর এবং আরেকটা অক্সিলিয়ারি ডামি সেন্সর (যেটা কার্যত কোনো কাজে আসে না, শুধু ডিজাইনের জন্য আছে)। সামনের সেলফি ক্যামেরাও 50MP! বাহ্যিকভাবে ব্যাপারটা জমকালো, কিন্তু বাস্তব ফলাফল তেমন সুবিধার না।
মেইন ক্যামেরা পারফরম্যান্স
দিনের আলোয় আউটডোরে ছবি তুললে কিছুটা আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়। কিন্তু ইনডোর কন্ডিশনে মেইন ক্যামেরার ছবিতে কন্ট্রাস্টের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। শ্যাডো অংশের ডিটেল প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়, অন্ধকার জায়গাগুলো একেবারে কালো দাগের মতো লাগে। আমার কাছে এটা মোটেও ভালো লাগেনি।
ক্যামেরা অ্যাপে দুটি মোড আছে—Vibrant এবং Crisp। Crisp মোডে আউটডোরে তুললে কিছুটা গ্রহণযোগ্য ছবি আসে, কিন্তু ইনডোরে আলো আরও কমিয়ে ফেলে এবং কন্ট্রাস্ট এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে ছবিগুলো ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। Vibrant মোডে গেলে ছবির রং ফুলেফেঁপে ওঠে, সোশ্যাল মিডিয়া-রেডি হয় ঠিকই, কিন্তু ডিটেলের জায়গাটা তবুও গড়পড়তার ওপরে ওঠে না।
ডায়নামিক রেঞ্জ বেশ সীমিত—আকাশ আর মাটির উজ্জ্বলতার পার্থক্য সামলাতে হিমশিম খায়। এক্সপোজার কন্ট্রোলিংয়েও ইস্যু আছে, কখনো কখনো ওভারএক্সপোজড হয়ে পড়ে। লো লাইট বা রাতের ছবি তোলার ক্ষেত্রে Narzo 90-এর পারফরম্যান্স একদমই সন্তোষজনক নয়। গোলমেলে আলোতে ছবিগুলো নয়েজে ভরে যায় এবং ফোকাস মিস করে।
পোর্ট্রেট ও সেলফি ক্যামেরা
পোর্ট্রেট মোডে একটা ফোকাল লেংথই দেওয়া আছে, অথচ এখন অনেক ব্র্যান্ড ডিজিটালি ২x বা তার বেশি ফোকাল লেংথ দেয়। এজ ডিটেকশন বেস্ট বলে ক্লেইম করা গেলেও ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার অনেক সময় আর্টিফিশিয়াল লাগে। স্কিন টোনও একটু উষ্ণ (ওয়ার্ম) করে প্রেজেন্ট করে, যেটা সবার পছন্দ নাও হতে পারে। ফলে পোর্ট্রেট শট নিয়ে তেমন বাহবা দেওয়ার মতো কিছু পাইনি।
সামনের 50MP সেলফি ক্যামেরা শুনে যতটা প্রত্যাশা জাগে, রেজাল্ট তার ধারেকাছেও নয়। আউটডোরে ভালো আলোয় মাঝারি মানের ডিটেইল পাবেন, কিন্তু ইনডোরে বড় সেন্সরের সুবিধা কাজে লাগেনি। একই দামের অন্য ফোনের কম মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরাও কাছাকাছি ছবি দেয়।
তবে, ফ্রন্ট ক্যামেরার একটা মজার ফিচার আছে—তিনটি ফোকাল লেংথে ছবি তোলা যায়, অর্থাৎ আপনি নরমাল, ওয়াইড এবং আল্ট্রা-ওয়াইড সেলফি তুলতে পারবেন। গ্রুপ সেলফি তোলার সময় এটা দারুণ কাজের। ওয়াইড মোডে না গিয়ে অনেক বন্ধুকে এক ফ্রেমে নিয়ে আসতে পারবেন। এটা ছোটখাটো একটা প্লাস পয়েন্ট।
ভিডিও রেকর্ডিং নিয়ে বড় কিছু বলার নেই, 1080p পর্যন্ত রেকর্ড করা যায়, কোয়ালিটি গড়মানের।
Battery Life & Charging
Realme Narzo 90-এর সবচেয়ে বড় স্ট্রেন্থ হলো এর ব্যাটারি। 7000mAh ক্ষমতার এই বিশাল ব্যাটারি ফোনটাকে একটা ট্যাংক বানিয়েছে। রেগুলার ইউজে—মানে কিছু গেমিং, সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, আর ফোন কল মিলিয়ে—ফোনটা আরামেই দেড় দিন চলে যায়। হেভি ইউজেও একদিন প্লাস টাইম খুব সহজেই পাওয়া যায়। আমার ব্যবহারে ৯ ঘণ্টার ওপর স্ক্রিন-অন টাইম (SOT) সহজেই চলে আসে। যারা রিচার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, তাদের জন্য এই ফোন ভরসার নাম।
চার্জিংয়ের জন্য 60W ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বিশাল ব্যাটারিটাকে শূন্য থেকে পুরো চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের কাছাকাছি, যা এই ব্যাটারির তুলনায় যথেষ্ট ফাস্ট। তবে বাইপাস চার্জিং টেকনোলজি সাপোর্ট করে না ফোনটি। অর্থাৎ গেম খেলতে খেলতে চার্জ দিলে ফোন গরম হবে এবং চার্জিং স্পিডে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাটারি লাইফের দিক থেকে ফোনটি তার দামের সীমারেখা ছাড়িয়ে ভালো, একই বাজেটের অনেক ক্লাসমেট ফোনের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।
Software & Features
Realme Narzo 90 বক্সের বাইরে Android 15 এর সাথে Realme UI 6.0 স্কিনে রান করে। UI-টা প্রথম দেখায় রঙিন, স্মুথ আর মডার্ন লাগে। অ্যানিমেশনগুলো ফ্লুইড, কাস্টমাইজেশনের সুযোগও অনেক। রিয়েলমি তিনটা মেজর OS আপডেট দেবে বলে জানিয়েছে, অর্থাৎ Android 18 পর্যন্ত এই ফোন পৌঁছাবে। যদিও চারটা হলে আরও ভালো হতো, তবে তিনটাও এই বাজেটের জন্য খারাপ না।
কিন্তু একটা বিশাল সমস্যা আছে—ব্লোটওয়্যার আর প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ্লিকেশনের বাড়াবাড়ি। রিয়েলমি নার্জো ৯০-এ এত বেশি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আর সার্ভিস চালু করে রেখেছে যে ফোন প্রথম চালু করলেই মাথা ঘুরে যাওয়ার অবস্থা। এই অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে র্যাম আর প্রসেসর নষ্ট করতে থাকে, ফলে মাঝেমধ্যে র্যাম ম্যানেজমেন্ট বাজে হয়, অ্যাপ খোলা ও স্যুইচিং স্লো লাগে। আমি স্ট্রংলি রিকোমেন্ড করব, ফোন কেনার পর অপ্রয়োজনীয় সব অ্যাপ আনইনস্টল বা ডিজেবল করে ফেলবেন। ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস ক্লিন করলে পারফরম্যান্স অনেকটা ইমপ্রুভ হবে এবং রেগুলার ইউজ অনেক স্মুথ হবে।
নেটওয়ার্ক রিসেপশন নিয়ে কোনো সমস্যা পাইনি। 5G সাপোর্ট আছে, কল কোয়ালিটি পরিষ্কার। স্পিকার কোয়ালিটি স্টেরিও ইফেক্ট দেয়, যদিও পুরোপুরি ব্যালেন্সড নয়, কিন্তু সাউন্ড ক্লিয়ার এবং লাউড। ইউটিউব বা সিনেমা দেখার সময় স্টেরিও সাউন্ডের ফিল পাবেন।
একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা—বাংলাদেশে রিয়েলমির ফোনগুলো সাধারণত ‘লক’ অবস্থায় আসে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক বা অঞ্চলের সাথে লক করা। কেনার সময় অবশ্যই দোকানদারকে বলবেন আনলক করা ফোন দিতে। এসএমএস গ্যাজেট বা অন্যান্য স্বনামধন্য সেলার থেকে কিনলে তারা আনলক করেই দেয় বলে জানা গেছে। তারপরও কেনার সময় একবার জিজ্ঞেস করে নেবেন, পরে যেন ক্যারিয়ার লকের ঝামেলায় পড়তে না হয়।
Final Verdict
Realme Narzo 90 ব্যবহারের পর আমার বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নার্জো সিরিজের প্রথম দিনগুলোর যে উন্মাদনা আর পারফরম্যান্স-ফোকাস ইমেজ ছিল, সেটা এই ফোন ধরে রাখতে পারেনি। ২৬,৫০০ টাকা দামে এই ফোনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল IP68/IP69 ওয়াটারপ্রুফ বডি, বিশাল 7000mAh ব্যাটারি আর সুন্দর AMOLED ডিসপ্লে। আপনি যদি এমন একজন হন যার ফোন প্রায়ই পানিতে পড়ে, সারাদিন ভারী ব্যবহারে চার্জার ছাড়া ফোন শেষ হয়ে যায়, আর ডিসপ্লে কোয়ালিটি নিয়ে আপস করবেন না—তাহলে Narzo 90 হতে পারে দারুণ পছন্দ। ডিজাইনটাও আলাদা চরিত্রের, ভিক্টরি গোল্ড কালারটি চোখ ধাঁধাঁতে বাধ্য।
কিন্তু পারফরম্যান্স আর ক্যামেরা যদি আপনার কাছে মুখ্য হয়, তাহলে এই ফোনে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। MediaTek Dimensity 64 Max চিপসেটটি একই দামের অন্য ফোনের (যেমন কিছু Poco বা Redmi মডেল) Snapdragon বা ডিমেনসিটি ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় পিছিয়ে। র্যাম ম্যানেজমেন্ট ও ব্লোটওয়্যারের জেরে ইউজার এক্সপেরিয়েন্সে ভাঁটা পড়ে। ক্যামেরা অনেকটা শুধু কাগজ-কলমেই ৫০ মেগাপিক্সেল; বাস্তবে কন্ট্রাস্ট ইস্যু, লো লাইট দুর্বলতা আর গড়পড়তা সেলফির কারণে ছবি তোলার আনন্দটা মাটি হয়ে যায়। গেমিংয়ের জন্যও এটা বাজেট গেমারদের প্রথম পছন্দ হবে না।
সংক্ষেপে বলতে গেলে—Realme Narzo 90 কে বেস্ট অলরাউন্ডার বলা যাবে না। কিন্তু এর বিশেষ কিছু শক্তি (ব্যাটারি ও ডিজাইন) এমন অনেক ইউজারকে টানবে, যারা দিনের শেষে ফোনকে বারবার চার্জ দিতে চান না এবং একটু দুর্ঘটনাপ্রবণ। এই ফোনের আনুষ্ঠানিক বর্তমান মূল্য বাংলাদেশে ২৬,৫০০ টাকা, এবং অফার বা দর-কষাকষি করে আরও কমে পেতে পারেন। এত কম দামে IP69 রেটিং আর ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ফোন পাওয়াটাই এর আসল আকর্ষণ। সেই জায়গায় নার্জো ৯০ এক অর্থে ইউনিক। কেনার আগে আপনার চাহিদা আর অগ্রাধিকার বুঝে নিন—পানির ভয়ে মুক্তি চান, নাকি ক্যামেরায় নিখুঁত ছবি চান।

