বাংলাদেশের স্মার্টফোন মার্কেটে যে জিনিসটা রোজকার ক্রেতার সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা, সেটা হলো ব্যাটারি লাইফ আর ডিজাইনের মধ্যে একটা অদ্ভুত ট্রেড-অফ। বড় ব্যাটারি মানেই ভারী, মোটা ফোন। আর স্লিম, সুন্দর ডিজাইন মানেই ব্যাটারি বাচ্চাদের মতো ছোট। Realme 16 এসে ঠিক এই হিসাবটাই গুলিয়ে দিয়েছে। ফোনটা হাতে নেওয়ার পর প্রথম যে কথাটা মাথায় এসেছে সেটা হলো — একে কি সত্যিই ৭০০০mAh ব্যাটারি দিয়ে বানানো সম্ভব? অথচ ওজন মাত্র ১৮৩ গ্রাম, থিকনেস ৮.১ মিলিমিটার। একদম অন্যরকম ফিল। পুরো বিষয়টা যেন Realme-র ইঞ্জিনিয়ারিং টিম একটা ম্যাজিক দেখিয়েছে। আর সেই ম্যাজিকটাই আজকের রিভিউয়ের কেন্দ্রবিন্দু। ফোনটা কি আসলেই প্রতিদিনের বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পারবে, নাকি শুধু কাগজে-কলমে বড় ব্যাটারির গল্প? চলো, একদম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি।
Design & Build Quality
Realme 16-এর ডিজাইনটা প্রথম দেখাতেই চোখ আটকে দেয়। ফোনের ব্যাক প্যানেলে যে গ্রেডিয়েন্ট টেক্সচার ব্যবহার করা হয়েছে, Realme একে বলছে Glimming Wings Gradient Texture। কথাটা শুনতে যতটা ফ্যান্সি, কাজেও ততটাই সুন্দর। আলো পড়লে কালারটা আশেপাশের পরিবেশের সাথে মিশে দারুণ একটা সিমারিং ইফেক্ট দেয়। দেখে মনে হবে যেন ফোনের পিঠে ডানা মেলে রঙ খেলছে। আর চমকটা শুধু দেখায় নয়, ফিনিশটাও পুরো ম্যাট। যারা ফোনের পিঠে আঙুলের দাগ নিয়ে পাগল, তারা একদম নিশ্চিন্ত থাকতে পারো। ফিঙ্গারপ্রিন্ট-ম্যাগনেট হওয়ার কোনো চান্সই নেই।
হালকা চেহারার ফোন মানেই মনে হয় বডি টেকসই হবে না? Realme এখানে DT Star Plus গ্লাস ব্যবহার করেছে। নামটা তেমন পপুলার না হলেও, আমার ইউজ এক্সপেরিয়েন্সে বেশ শক্তপোক্ত মনে হয়েছে। ডে টু ডে ইউজে, হাত থেকে ফসকে গেলেও মোটামুটি বাঁচিয়ে দেবে। গ্রিপটাও দারুণ। ১৮৩ গ্রাম ওজনের ফোনটা হাতে ধরলে মনে হয় না যে ৭০০০mAh-এর দানব ভেতরে ঘাপটি মেরে আছে। একহাতে ইউজ করতে মোটেই কষ্ট হয় না। ছোট পকেট, ব্যাগ সব জায়গাতেই মানিয়ে যায়।
এবার একটা সিরিয়াস ব্যাপার বলি। ফোনটা যেহেতু স্লিম, তাই ডিউরেবিলিটি নিয়ে সন্দেহ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু Realme 16-এ আছে IP69, IP68 এবং IP66 — এই তিনটা মিলিয়ে একধরনের কম্বো প্রোটেকশন। তার মানে শুধু বৃষ্টি বা স্প্ল্যাশ না, হাই প্রেশার ওয়াটার স্প্রে, পানিতে ডুবেও কিছু সময় টিকে যাবে। রোজকার জীবনে টেনশন ফ্রি। বাসায় বাচ্চা থাকলে বা বাইরে বেরোলে হুট করে পানিতে ভিজে গেলেও ফোন খারাপ হওয়ার ভয় থাকবে না। এক কথায়, স্লিম ফোনে এমন ডিউরেবিলিটি সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে।
ক্যামেরা মডিউলের ডিজাইনটাও আলাদা করে বলতে হয়। ক্যামেরাগুলো একটার পর একটা সাজানো, দেখে মনে হবে যেন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এলিভেটেড ক্যামেরা আইল্যান্ড না হলেও প্রিমিয়াম লুক বজায় আছে। আর ক্যামেরার পাশে যে ছোট্ট গোল মিররটা, ওটা কিন্তু শুধু সাজানোর জন্য না। ওই ছোট্ট জিনিসটার আসল কাজ পরে ক্যামেরা সেকশনে বলছি।
Display Experience
ডিসপ্লেতে Realme 16 ব্যবহার করেছে 6.57 ইঞ্চির AMOLED প্যানেল। দিনের আলোয় আমি যখন ফোনটা বের করলাম, প্রথমে একটু সন্দেহ ছিল। কিন্তু স্ক্রিন অন করতেই বোঝা গেল ব্যাপারটা পাকা। পিক ব্রাইটনেস 4200 nits, আর HBM (High Brightness Mode)-এ গিয়ে দাঁড়ায় 1400 nits। রোদের নিচে স্ক্রলিং, সোশ্যাল মিডিয়া চেক — সব একদম ক্লিয়ার। টেক্সট পড়তে কখনোই মনে হয়নি যে স্ক্রিনটা ডিম।
কালার রিপ্রোডাকশন ভাইব্রেন্ট, কিন্তু অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড হয়ে চোখের উপর অত্যাচার করে না। AMOLED-এর জাদুতে ব্ল্যাক লেভেল গভীর আর কনটেন্ট কনজিউম করা পুরোপুরি এনজয়েবল। ইউটিউব, সিনেমা বা শুধু ওয়ালপেপার দেখার মজাটাই আলাদা। স্ক্রলিং এক্সপেরিয়েন্স স্মুথ। তবে রিফ্রেশ রেট নিয়ে অফিশিয়ালি তেমন কিছু বলা না থাকলেও, প্র্যাকটিক্যালি স্ট্যান্ডার্ড 120Hz হবে বলে ধরে নেওয়া যায়, কারণ স্ক্রিনের ফ্লুইডিটি নিয়ে কোনো কমপ্লেইন নেই।
গেমিং বা হাই-রিফ্রেশ কন্টেন্টে তেমন স্টাটার চোখে পড়েনি। রেসপন্সিভনেস ভালো। গরমের দিনেও স্ক্রিনের ভিজিবিলিটি দারুণ। তবে HDR কন্টেন্ট প্লে করার সময় কালার শিফট হয় কিনা সেটা একটু দেখেছি, ভাগ্যক্রমে সুন্দর মেইনটেইন করেছে। সামগ্রিকভাবে এই দামের ফোনে এমন ডিসপ্লে পাওয়া মানে মন্দ না। অনেকেই বলে "AMOLED তো এখন কমন", কিন্তু এত উচ্চ ব্রাইটনেস আর ব্যাটারি সাশ্রয়ী অপটিমাইজড ডিসপ্লে সবার ভাগ্যে জোটে না।
Performance & Gaming
পারফরম্যান্সের অলিন্দে পা রাখলেই প্রথম যে নামটা চোখে পড়ে সেটা হলো MediaTek Dimensity 6400 Turbo। নাম শুনে অনেকে হয়তো ভাববে এটা বোধহয় গেমিং বিস্ট, কিন্তু আসল গল্পটা ভিন্ন। এই চিপসেটটা মূলত ডেইলি ইউজ, সোশ্যাল মিডিয়া, আর মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য তৈরি। সাথে আছে LPDDR4X RAM আর UFS 2.2 স্টোরেজ টাইপ। এখন র’ গেমার যদি তুমি হও, যারা পাবজি, জেনশিন ইম্প্যাক্ট হাই সেটিংসে খেলতে চাও, তাহলে এই ফোন হয়তো তোমার প্রথম পছন্দ না-ও হতে পারে। তবে যারা ক্যান্ডি ক্রাশ, মোবাইল লেজেন্ডস, বা ক্ল্যাশ অব ক্ল্যানের মতো গেম খেলো, তাদের জন্য এক্কেবারে পর্যাপ্ত।
আমি যখন নিয়মিত ইউজ করলাম, ফোনের একটাও জায়গায় আচমকা ল্যাগ চোখে পড়েনি। অ্যাপ ওপেন করা, ক্যামেরা রোল স্ক্রল করা, ভিডিও এডিটিংয়ের বেসিক কাজ — সব সাবলীল। এর পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছে Realme UI 7.0 এবং Flux Engine নামের অপটিমাইজেশন। Realme দাবি করছে, এই ইঞ্জিনের কারণে রেসপন্স 15% ফাস্টার, স্ক্রলিং 29% স্মুথার, আর অ্যাপ লোডিং 22% দ্রুত। নিখাদ কাগুজে অংক মনে হলেও বাস্তবে পার্থক্যটা টের পাওয়া যায়। UI ইন্টারঅ্যাকশন অনেক ফ্লুইড, ফোন যেন নিজের মনেই পরের ধাপটা বুঝে যায়।
গেমিংয়ের সময় ফোন গরম হয় না ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম বড় VC কুলিং চেম্বারের কল্যাণে। 6050mm² স্কোয়ারের বিশাল কুলিং সলিউশন আছে এতে। লম্বা গেমিং সেশনে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি দারুণ কাজ করেছে। আরেকটা ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো AI Net Pilot। নেটওয়ার্ক দুর্বল জায়গায় ফোন সিগন্যাল আপলোড-ডাউনলোড স্পিড স্টেবল রাখার চেষ্টা করে। রাস্তায় বেরিয়ে যখন ডাটা অন করলাম, বারবার কানেক্টিভিটি হারানোর বিড়ম্বনা থেকে বাঁচা গেছে।
স্টোরেজ স্পিড UFS 2.2 হওয়ায় ফাইল ট্রান্সফার বা অ্যাপ ইনস্টলের গতি আকাশ-পাতাল নয়, তবে একদম স্লোও না। ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম — সব অ্যাপ ইন্সটল করা আর লোড হওয়া দ্রুতই হয়। সব মিলিয়ে পারফরম্যান্সের জায়গায় Realme 16 একটা ব্যালেন্সড কার্ড খেলেছে। হেভি গেমিং ফোকাস না করে রোজকার স্মুথ এক্সপেরিয়েন্সে জোর দিয়েছে, যেটা অধিকাংশ ইউজারের জন্য বাস্তবসম্মত।
Camera System
এবার আসি সেই সেলফি মিরারের গল্পে। ফোনের ব্যাক ক্যামেরার পাশে যে ছোট গোল আয়নাটা আছে, সেটার নাম Realme Selfie Mirror। এই ছোট্ট জিনিসটা কিন্তু খুব কাজের। যখন রেয়ার ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলো বা গ্রুপ ফটো তোলো, তখন এই আয়নায় নিজের ফ্রেম চেক করে নেওয়া যায়। রিয়েল টাইমে নিজেকে দেখতে দেখতে পারফেক্ট শট নেওয়ার মজাটা দারুণ। বিশেষ করে পার্টি শটে এই ফিচারটা সবার পছন্দ হবে।
হার্ডওয়্যারের কথায় আসি। মেইন ক্যামেরা সেন্সর হিসেবে আছে 50MP Sony IMX852। সেলফি ক্যামেরাও 50MP, অর্থাৎ ডুয়েল 50MP AI ক্যামেরা সেটআপ। পোর্ট্রেট মোডে এজ ডিটেকশন বেশ নিখুঁত। ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার ন্যাচারাল, স্কিন টোন রিয়েলিস্টিক। Realme এখানে Lumia Color Image প্রযুক্তি দিয়েছে, যার ফলে কালার অ্যাকুরেসি ভালো, লাইটিং ব্যালেন্সড থাকে। বাইরের আলোতে ফটোগুলো সোশ্যাল মিডিয়া রেডি আউটপুট দেয়। তবে একটা বড় ঘাটতি আছে — এই ফোনে কোনো আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা নেই। ল্যান্ডস্কেপ বা গ্রুপ ফটোয় ওয়াইড এঙ্গেল দরকার হলে সেটার অভাব টের পাওয়া যাবে।
ভিডিও রেকর্ডিং নিয়ে বলতে গেলে কথাটা একটু সোজা করে বলাই ভালো। এখানে OIS (Optical Image Stabilization) নেই। আর সবচেয়ে বড় কথা, সামনে বা পিছনের কোনো ক্যামেরাই 4K ভিডিও রেকর্ড করতে পারে না। সর্বোচ্চ 1080p রেকর্ডিং সাপোর্ট করে। ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশন তেমন মসৃণ না, হাত কাঁপলে ফলাফলে তার ছাপ পড়ে। যারা ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা টিকটক-রিলসের জন্য শুধু মোবাইল ইউজ করেন, তাদের কাছে এটা একটু হতাশার হতে পারে।
তবে এআই ফিচারের বাড়াবাড়িটা কিন্তু মন ভরিয়ে দেয়। AI Erase দিয়ে অযাচিত অবজেক্ট সরানো যায়, ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ, স্টাইল কপি, আর AI Instant Clip দিয়ে ফটো থেকে সরাসরি ভ্লগ বানানো যায়। মাস্টার মোডে ফেস্টিভাল, লাইফস্টাইল, সেরিমনি ইত্যাদি প্রিসেট দিয়ে দেওয়া আছে। বোঝাই যাচ্ছে, Realme ক্যামেরা দিয়ে রোজকার ব্যবহারে রেডি কন্টেন্ট তৈরি করার দিকে মন দিয়েছে। ছবির কোয়ালিটি ভালো, সেলফির ডিটেইল যথেষ্ট, আর সফটওয়্যার ট্রিকস মজার। শুধু আলট্রা-ওয়াইড আর 4K-র অভাবটা সময়ে সময়ে খোঁচাবে।
Battery Life & Charging
এতক্ষণ সবচেয়ে হাইলাইট করা জিনিসটাই বাকি রেখেছিলাম। Realme 16-এর বুকে আছে এক বিশাল 7000mAh ব্যাটারি। এই সাইজের ব্যাটারি এত পাতলা বডিতে দেওয়াটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চমৎকারিত্ব ছাড়া কিছু নয়। Realme বলছে, তারা হাই এনার্জি ডেন্সিটি টেকনোলজি ইউজ করেছে, যার ফলে ছোট ভলিউমে বেশি চার্জ ধরে রাখা যায়। আর এই ব্যাটারি নাকি ছয় বছর পর্যন্ত হেলথ ভালো থাকবে। ছয় বছর পরে ফোনটা টিকে থাকলে তখন টেস্ট করব, কিন্তু এখন যেটা বুঝলাম, তা হলো রিয়েল লাইফ ব্যাকআপ জিনিয়াস লেভেলের।
আমার মতো ইউজার, যারা সারাদিন স্ক্রিন অন করে সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, আর গেম মিক্স করে, Full Day ব্যাটারি শেষ করার কথা ভাবাই মুশকিল। আরামসে দেড় দিন চলে যায়। একদিনের জন্য কোনো টেনশন নেই। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় চার্জার পকেটে নেওয়া ভুলে গেলেও বিপদ নেই। যারা পাওয়ার ইউজার, তাদের জন্যও এটা এক কথায় দারুণ।
চার্জিং স্পিডও মন্দ না। বক্সের ভেতর পাওয়া চার্জার দিয়ে ৩০ মিনিটেই ৫০% চার্জ হয়ে যায়। আর আছে বাইপাস চার্জিং। গেম খেলার সময় বা হেভি ইউজের সময় চার্জারে লাগালে সরাসরি মাদারবোর্ডে পাওয়ার সাপ্লাই হয়, ব্যাটারি চার্জ না হয়ে গরম হওয়ার সম্ভাবনা কমে। এতে ব্যাটারির লাইফও ভালো থাকে। আরেকটা জিনিস খুব কাজে লাগে — রিভার্স চার্জিং। ফোনটাকে পাওয়ার ব্যাংক হিসেবে ইউজ করে বন্ধুর ফোন বা PDWUES (অন্যান্য ডিভাইস) চার্জ করতে পারো। বড় ব্যাটারির এটাই এক মস্ত বড় সুবিধা।
AI Smart Charging ফিচারও দারুণ। ফোন ইউজারের চার্জিং হ্যাবিট শিখে নিয়ে সেই অনুযায়ী চার্জিং প্রসেস অপটিমাইজ করে। যেমন রাতে ফোন লাগানোর পর সকালের দিকে ধীরে ধীরে শেষ ২০% চার্জ হয়, যাতে ব্যাটারি ওভারচার্জ বা হিটে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এই ছোট ছোট জিনিসগুলো ব্যাটারির লং টার্ম লাইফের জন্য বড় রকমের উপকারী। সব মিলিয়ে ব্যাটারি ডিপার্টমেন্ট পাশ করানোর মতোই, এমনকি এটা অন্য অনেক ফোনের জন্য রোল মডেল হতে পারে।
Software & Features
Realme 16 ফ্যাক্টরি থেকে চলে আসছে Realme UI 7.0 দিয়ে, যা Android 15-এর উপর ভিত্তি করে বানানো। UI এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি পলিশড। ব্লোটওয়্যার কিছুটা কমেছে, কাস্টমাইজেশন অপশন বেড়েছে। অ্যানিমেশনগুলো সিল্কি স্মুথ, আর Flux Engine সত্যিই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। অ্যাপ খোলা-বন্ধ করার সময় ল্যাগ-ফ্রি এক্সপেরিয়েন্স অনেকটা ফ্ল্যাগশিপের মতো মনে হয়।
সফটওয়্যারের বড় ক্লেম হলো 72 Months Fluency Protection। ৭২ মাস মানে ৬ বছর! অর্থাৎ এতদিন পর্যন্ত ফোন স্মুথলি চলবে বলে Realme সাহস করে বলছে। সত্যি বলতে এটা একটা বোল্ড স্টেটমেন্ট, যেটা অনেক হাই-এন্ড ফোনের বেলায়ও শোনা যায় না। তার সাথে Realme ওয়াদা করছে ৩ বছরের Android আপডেট আর ৪ বছরের সিকিউরিটি আপডেটের। এই সেগমেন্টে এটাকে স্ট্যান্ডার্ড বলা গেলেও, ৬ বছরের ফ্লুয়েন্সি প্রোটেকশন পুরো গেইম চেঞ্জার।
AI সফটওয়্যার ফিচারগুলো কিন্তু শুধু ক্যামেরাতেই সীমাবদ্ধ না। UI-তে প্রায় সব জায়গায় ছোট ছোট AI টাচ লেগে আছে। যেমন AI স্মার্ট চার্জিং তো আগেই বলেছি, সাথে আছে AI Night Charging প্রটেকশন ইত্যাদি। থার্ড পার্টি অ্যাপের স্প্যাম নোটিফিকেশন ম্যানেজমেন্টেও সিস্টেম বেশ সক্রিয়।
একটা জিনিস খুব মজার লেগেছে সেটা হলো নেটওয়ার্কের AI অপটিমাইজেশন। নেটওয়ার্ক পাইলট ফিচার কম সংকেতেও কল ক্লিয়ার রাখে আর ডাটা স্পিড তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখে। যারা গ্রামে বা নেটওয়ার্ক দুর্বল এরিয়াতে থাকেন, তাদের জন্য সুবিধাজনক। UI-র ছোট ছোট ট্রিকস, যেমন স্প্লিট স্ক্রিন, ফ্লোটিং উইন্ডো, গেম মোড সব কিছুই উপস্থিত। কোনো রকমের জটিলতা নেই। ১২-১৫ বছর বয়সী বন্ধুরা বা বয়স্ক কেউও সহজে মানিয়ে নিতে পারবে।
সবশেষে, Note: ফোনে Realme Share (রিয়েলমি শেয়ার) বা কুইক কানেক্টের মতো সুবিধা আছে, যেগুলো ইকো-সিস্টেম ডিভাইসের সাথে কানেক্ট করতে কাজে লাগে। সব মিলিয়ে সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স হলো বিরাট এক আপগ্রেডেড চমক, যেখানে ইকো-সিস্টেম আর AI মিলেমিশে একাকার।
Final Verdict
Realme 16-কে একটা লাইনে বোঝাতে চাইলে বলতে হয় — “বড় ব্যাটারির সত্যিকারের স্লিম সঙ্গী”। ফোনটা রোজকার জীবনের এক ইঞ্চও জায়গায় কনফিউশন তৈরি করে না। ডিজাইন দেখলেই মন ভরে, হাতে নিলে হালকা লাগে, অথচ ব্যাটারির পিঠে চড়ে দিব্যি দেড় দিন ঘুরে বেড়ায়। স্পেসিফিকেশনের খাতায় যেসব জিনিস নেই — যেমন আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা, 4K ভিডিও, অথবা ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট — সেগুলো হয়তো কিছু বিশেষ ইউজারের কাছে বড় ঘাটতি মনে হতে পারে। কিন্তু সাধারণ বাঙালি তরুণের চাহিদা, মানে ভালো দেখতে ফোন, সারাদিন চার্জ ছাড়া চলবে, ক্যামেরায় সোশ্যাল মিডিয়া রেডি ছবি আসবে, আর দাম খুব বেশি হবে না — এই সবকিছুর জবাব দিচ্ছে Realme 16।
বাংলাদেশের বাজারে Realme 16-এর দাম এখন BDT 35,500 (কোথাও কোথাও বেস ভ্যারিয়েন্ট অফারে আরও কমে পাওয়া যায়, তবে রিভিউ ইউনিট ছিল হায়ার ভ্যারিয়েন্ট, যার দাম প্রায় ৩৫,৫০০ টাকা)। এই মূল্যে 7000mAh ব্যাটারি, IP69 প্রোটেকশন, 50MP সেলফি ক্যামেরা সহ এমন AMOLED ডিসপ্লে আর ফ্লুইড Realme UI 7.0 সত্যি বলতে বাজারে সহজে মিলবে না। অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী আছে, যারা বড় ব্যাটারি দিচ্ছে কিন্তু ফোন ভারী আর মোটা। কেউ সুন্দর ডিজাইন দিচ্ছে কিন্তু ব্যাটারির বলিহারি। Realme 16 ওই মাঝামাঝি জায়গাটা দারুণ ভারসাম্যপূর্ণভাবে নিয়েছে।
যদি তুমি হেভি গেমার না হও, ভিডিওগ্রাফি প্রোফেশনালি করতে চাও না, আর ক্যামেরার ওয়াইড এঙ্গেল না থাকলে তোমার কিছু যায় আসে না — তাহলে Realme 16 একেবারে জমে যাবে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ-তরুণী বা যারা সবসময় বাইরে থাকে, তাদের জন্য এই ফোন যেন বিশ্বস্ত বন্ধু। আর যারা শুধুই বড় নম্বরের ব্যাটারির ফোন চান, কিন্তু গাট্টাগোট্টা ইটপাথর পছন্দ নয়, তাদের জন্য Realme 16 একদম পারফেক্ট চয়েস।
সবশেষে বলি, Realme 16 প্রমাণ করেছে যে ব্যাটারি আর ডিজাইন দুটোই একসাথে পাওয়া যায়। বাকি সব কিছু ভালো হলেও এই দামের ফোন থেকে অল-রাউন্ডার আশা করা ঠিক নয়। এটা কোনো পারফেক্ট ফোন না, কিন্তু যারা বুঝেশুনে প্রায়োরিটি ঠিক করবে, তাদের জন্য একেবারে হাতের নাগালে দারুণ একটা প্যাকেজ। Realme-র এই বাজি যে কত বড় হিট হবে, সেটা সময় বলবে, তবে আমার ব্যক্তিগত ভোটটা কিন্তু এদিকেই।

