মনে আছে সেই দিনগুলোর কথা, যখন নতুন ফোন মানেই ছিল পকেটে একটা ইট নিয়ে ঘোরা? Oppo Find X9 Ultra হাতে নেওয়ার পর ঠিক সেই অনুভূতিটাই হলো। কিন্তু ইট বললেও ভুল হবে, কারণ এটা একেবারে প্রিমিয়াম ইট—যেন মার্বেলের স্ল্যাব দিয়ে বানানো। ফোনটা দেখলেই বোঝা যায়, Oppo তাদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে এই ডিভাইসে। আর বাংলাদেশে এখন এটি পাওয়া যাচ্ছে SMS Gadget-এর মতো বড় রিটেইলারদের মাধ্যমে। তবে চলুন শুরু থেকে সব খুলে বলি।
Design & Build Quality
ফোনটা হাতে নেওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়ে, সেটা হলো এর সাইজ। এটি বেশ বড় এবং ভারী। 6.82 ইঞ্চির ডিসপ্লে আর পেছনে বিশাল ক্যামেরা মডিউল মিলিয়ে একে সত্যিই “আল্ট্রা” ফিল দেয়। কিন্তু ওজন ব্যালেন্স নিয়ে আমার একটু অভিযোগ আছে। সাধারণত ভারী ফোনগুলো হাতে ব্যালেন্সড লাগে—যেন পুরো শরীরে ওজন ছড়িয়ে আছে। কিন্তু Find X9 Ultra-এর ক্ষেত্রে ক্যামেরার দিকটা এতটাই ভারী যে ফোনটা টপ-হেভি মনে হয়। মানে, ওপরের অংশটা নিচের দিকে বেশি টানে। এটা হয়তো অনেকের পাত্তা লাগবে না, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে গেমিং বা ভিডিও দেখলে হাতের কবজিতে চাপ পড়তে পারে।
ডিজাইনের দিক থেকে, Find X9 Ultra একেবারে চৌকো বক্সি লুক নিয়ে এসেছে। চারকোণা স্ল্যাব স্ট্রাকচার, ফ্ল্যাট ফ্রেম আর ফ্ল্যাট ডিসপ্লে—বর্তমান ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে পুরোপুরি। পেছনের দিকে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়ে বড় গোল ক্যামেরা রিং। তবে ভালো খবর হলো, এটা Vivo-র কিছু মডেলের মতো পাহাড় সমান উঁচু না। Oppo এটাকে একটু আটটা রেখেছে, কিন্তু তারপরও ফোনের বডিটা বেশ চওড়া বানিয়েছে।
কালার অপশনের কথায় আসি। তিনটা ভেরিয়েন্ট আছে: একটা উজ্জ্বল কমলা, একটা Glacier White, আর শেষটা হলো Tunra Edition। Tunra Edition-টা একেবারে আলাদা—এটা লেদার ফিনিশে আসে এবং Hasselblad-এর স্পেশাল ক্যামেরা এডিশনের সাথে মিল রেখে বানানো। এই এডিশনটা আরেকটু বেশি মোটা আর চওড়া। যারা একটু ইউনিক লুক চান, তাদের জন্য এটি পারফেক্ট। তবে আমি যে কমলা ইউনিটটা টেস্ট করেছি, সেটা তুলনামূলক স্লিম এবং হাতে বেশ প্রিমিয়াম লাগে।
ডিউরেবিলিটির দিক থেকে Find X9 Ultra কোনো কমতি রাখেনি। IP68 এবং IP69 রেটিং আছে, মানে ধুলো-পানি কিছুই আটকাবে না। এমনকি গরম পানির স্প্রেও সহ্য করতে পারে। ফ্রেমটা অ্যালুমিনিয়ামের, আর ডিসপ্লে প্রটেকশনের জন্য আছে Gorilla Glass Victus 2। SGS ফাইভ-স্টার ডিউরেবিলিটি রেটিংও পেয়েছে—অর্থাৎ, ফোনটা শক্তপোক্ত, ইজি টু ব্রেক না।
একটা মজার জিনিস যোগ করেছে Oppo, যেটা আমার মতে একেবারে দরকার ছিল না। iPhone-এর মতো একটা Camera Control বাটন দিয়েছে ফোনের সাইডে। Vivo কিছুদিন এটা ট্রাই করে বাদ দিয়েছে, কিন্তু Oppo এটা ধরে রেখেছে। আবার আরেকটা শর্টকাট বাটন আছে, যেটা Action Button-এর মতো কাজ করে—বিভিন্ন টাস্কে কাস্টমাইজ করে ইউজ করতে পারবেন। আমার কাছে ব্যাপারটা একটু “গিমিক” লেগেছে, কিন্তু কারোর ভালো লাগতেই পারে।
Display Experience
Find X9 Ultra-এর ডিসপ্লে নিয়ে খুব বেশি নাটকীয়তা নেই। কিন্তু সেটাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি। Oppo শেষমেশ কার্ভড ডিসপ্লের মোহ ত্যাগ করে ফ্ল্যাট প্যানেলে এসেছে—আর তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব খুশি। কার্ভড ডিসপ্লে সুন্দর দেখালেও প্র্যাকটিকাল লাইফে টেম্পার্ড গ্লাস লাগানো, এক্সিডেন্টাল টাচ—এইসব মাথাব্যথা কম নয়।
এটা 6.82 ইঞ্চির AMOLED LTPO প্যানেল, যার রিফ্রেশ রেট 144Hz। বেজেলগুলো যথেষ্ট পাতলা, তবে আরেকটু থিন হতে পারতো—এমন ফিল হয়েছে। মার্সিডিজ-বেঞ্জের সাথে ডিজাইন করা ফোনের মতো মনে হবে না, কিন্তু দেখতে দারুণ লাগে। চারকোণা ফ্ল্যাট ডিসপ্লেতে কন্টেন্ট কনজিউম করা সত্যিই এনজয়েবল।
ব্রাইটনেস লেভেল চমৎকার। HBM (High Brightness Mode)-এ গিয়ে প্রায় 1800 থেকে 1900 নিটস পর্যন্ত হিট করতে পারে। ঢাকার দুপুরের কড়া রোদের নিচেও ডিসপ্লে পরিষ্কার বোঝা যায়, কোনো অসুবিধা হয়নি। HDR10+ সাপোর্ট আর Dolby Atmos-এর সাথে ইউটিউব বা Netflix দেখা আসলেই প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটা ঠিকঠাক জায়গায় আছে—খুব নিচে না, খুব ওপরে না। একদম ন্যাচারালি বুড়ো আঙুল যেখানে পড়ে, সেখানেই বসানো। এটা আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট, যা অপটিক্যালের চেয়ে ফাস্ট আর নিরাপদ। ভেজা আঙুলেও নির্ভুল কাজ করে। ব্যক্তিগতভাবে এই ছোট জিনিসগুলোই একটা ফ্ল্যাগশিপ ফোনকে আলাদা করে তোলে।
Performance & Gaming
পারফরমেন্সের জায়গাটা একটু মিক্সড ফিলিং দিয়েছে। পজিটিভ দিয়ে শুরু করি: Find X9 Ultra-তে আছে কোয়ালকমের সর্বশেষ Snapdragon 8 Elite চিপসেট (কেউ কেউ একে Gen 5-ও বলছে)। সাথে LPDDR5X RAM আর UFS 4.1 স্টোরেজ। বেঞ্চমার্ক অ্যাপ Antutu-তে স্কোর প্রায় 40 লাখের কাছাকাছি ওঠে। দৈনন্দিন ইউসেজে ফোন একদম তেলবিহীন মেশিনের মতো ছোটে। অ্যাপস খোলা, মাল্টিটাস্কিং, ক্যামেরা প্রসেসিং—সব নিমেষে।
কিন্তু যখন গেমিং আর সাসটেইনড পারফরমেন্সের কথা আসে, তখন একটু ঘাম ছুটে যায়—আক্ষরিক অর্থেই ফোনের। 3D Mark Stress Test-এ স্ট্যাবিলিটি মাত্র 55% এর আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। আর তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল 44 ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটা কিন্তু কম না। গ্রাফিক্স-ইন্টেনসিভ গেম খেলার সময় ফোনের ওপরের অংশ বেশ গরম হয়ে যায়। Oppo ভেপর চেম্বার কুলিং ইউজ করলেও, তেমন অ্যাডভান্সড কুলিং সিস্টেম ইউজ করেনি—অন্তত শুধু স্পেসিফিকেশন থেকে তেমন কিছু বোঝা যায়নি।
এখন কথা হলো, এই ফোন কি গেমিংয়ের জন্য কেনা উচিত? আমার মতে, না। এই দামে আপনি ডেডিকেটেড গেমিং ফোন পেয়ে যাবেন, যেগুলোতে আরও ভালো কুলিং আর বাটন ট্রিগার থাকে। Find X9 Ultra মূলত ক্যামেরার জন্য কেনা হয়। কিন্তু তারপরও, মাঝেমধ্যে এক-দুই ঘণ্টা গেম খেলে মন্দ হবে না—শুধু ফোনটা একটু গরম হবে, সেটা মেনে নিতে হবে।
RAM আর স্টোরেজ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। মাল্টিটাস্কিং মসৃণ, অ্যাপস ব্যাকগ্রাউন্ডে জমে থাকে। UFS 4.1 স্টোরেজের রিড-রাইট স্পিড অসাধারণ। বড় ফাইল ট্রান্সফার, ভিডিও এডিটিং—সব লাইক জলের মতো।
Camera System
এই জায়গাটার জন্যই তো পুরো ফোন কেনা! পেছনে পাঁচটা ক্যামেরা আছে—হ্যাঁ, পাঁচটা। আসলে চারটা লেন্স আর একটা কালার সেন্সর। ব্রেকডাউনটা এরকম:
- 200MP Primary Camera (Sony LYT-900 sensor): এটা মেইন লেন্স। দিনের আলোয় যে ছবি তোলে, তা এককথায় “পয়সা উসুল”। ডাইনামিক রেঞ্জ দারুণ, ডিটেইলস প্রচুর, আর ছবিগুলো বেশ ন্যাচারাল টোনের। Vivo যেভাবে ছবি ওভার-প্রসেস করে আর ওভারশার্পনিং করে, Oppo সেখান থেকে একটু দূরে থাকার চেষ্টা করে। আমার কাছে এই অ্যাপ্রোচ বেশি পছন্দের। কিন্তু একেবারে নির্ভুল না—কিছু কিছু সিচুয়েশনে ওভার-এক্সপোজিং ইস্যু দেখেছি। আর ক্যামেরা অ্যাপে মাঝেমধ্যে একটু ল্যাগ করে, যেন অপটিমাইজেশন পুরোপুরি সেটল হয়নি। পোর্ট্রেট মোডে এজ ডিটেকশনও সব সময় নিখুঁত নয়—চুল আর ব্যাকগ্রাউন্ডের সেপারেশনে একটু ঘাপলা থেকে যায়।
- 50MP Ultrawide (Sony LYT-600 sensor): ফিল্ড অফ ভিউ 123 ডিগ্রি। অনেক ওয়াইড। গ্রুপ ফটো বা ল্যান্ডস্কেপের জন্য দারুণ। কোয়ালিটি মেইন সেন্সরের মতো অত ভালো না হলেও, আল্ট্রাওয়াইড হিসেবে টপ-নচ।
- 200MP Periscope Telephoto (3x optical): Samsung-এর সেন্সর। এটা 3x অপটিক্যাল জুম দেয়, ফোকাল লেংথ 70mm ইকুইভ্যালেন্ট। পোর্ট্রেটের জন্য অসাধারণ।
- 50MP Periscope Telephoto (10x optical): এটাই Find X9 Ultra-এর সবচেয়ে বড় টেক্কা। OmniVision-এর সেন্সর। Oppo দাবি করে, এখানে আলো পাঁচটা গ্লাসে বাউন্স করে তারপর সেন্সরে পৌঁছায়। এটা এক ধরনের প্রিজম-বেজড সিস্টেম। ফলাফল? 10x জুমেও ছবি অসাধারণভাবে শার্প থাকে, ডিটেইলস ফুটে ওঠে। এমনকি 20x (460mm ইকুইভ্যালেন্ট) পর্যন্ত খুব কম লসে ছবি তোলা যায়। যারা দূরের জিনিস ক্লোজ এনে ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটা স্বপ্নের মতো।
- 3.2MP Color Sensor: এটা ছবি তোলার জন্য না, কালার অ্যাকুরেসি বাড়ানোর জন্য। Hasselblad-এর সাথে কলাবোরেশনের পার্ট হিসেবে এটা কাজ করে, যাতে ছবির রং যতটা সম্ভব ন্যাচারাল আর নিখুঁত আসে।
ফোকাল লেংথের অপশনগুলো এককথায় চমৎকার। আপনি 0.6x (14mm) থেকে শুরু করে 1x (23mm), 1.2x (28mm), 1.5x (35mm), 2x (47mm), 3x (70mm), 6x (139mm), 10x (230mm) — একের পর এক স্টেপ পাবেন। যেখানেই ধরবেন, ফ্রেম ঠিকঠাক পেয়ে যাবেন। এটি ফটোগ্রাফি-প্রেমীদের জন্য দারুণ সুযোগ।
আলাদা করে Hasselblad মাস্টার মোডের কথা বলতে হয়। এটা অন করলে ছবি আরও বেশি রিয়ালিস্টিক হয়, একটু ডাল (নিস্তেজ) লাগতে পারে, কিন্তু প্রাকৃতিক লাগে। ক্যামেরা অ্যাপে এত বেশি কাস্টমাইজেশন অপশন আছে যে দেখে মাথা ঘুরে যেতে পারে।
এখন বাস্তবতার নিরিখে বলি। Vivo X200 Pro বা X200 Ultra-র সাথে আমাদের স্ট্যান্ডার্ড এত উঁচুতে সেট হয়ে গেছে, Find X9 Ultra-কে দেখে তেমন “ওয়াও” ফিল আসেনি। ভিডিওর ক্ষেত্রেও একই কথা। 8K 30fps আর 4K 60fps (সব লেন্সে) শুট করতে পারে। স্ট্যাবিলাইজেশন ভালো। ভিডিও কোয়ালিটি সন্তোষজনক, কিন্তু Vivo বা Samsung যে লেভেলে LOG ভিডিও এবং pAV কোডেক সাপোর্ট দিচ্ছে, Oppo সেখানে পিছিয়ে। iPhone 17 Pro-র ProRes-এর ধারে কাছেও নেই। আমি যদি সত্যি বলি, ভিডিওর জন্য এখনো iPhone অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
Hasselblad-এর সাথে একটা এক্সটার্নাল 300mm টেলিকনভার্টার লেন্সও কিনতে পারবেন, যেটা Vivo-র মতোই আলাদা প্যাকেজে আসে। তবে বাস্তবে কতজন এটা কিনবেন বা ব্যবহার করবেন, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।
Battery Life & Charging
ফোনের ভেতর দানবীয় এক ব্যাটারি আছে— 7000mAh! সিলিকন-কার্বন টেকনোলজির এই ব্যাটারি 2025-এর ফ্ল্যাগশিপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় (যদিও কিছু কিছু জায়গায় 7500mAh-ও উল্লেখ আছে, আমার ইউনিটের ক্যাপাসিটি 7000mAh-এর কাছাকাছি মনে হয়েছে)। আর এই বিশাল ব্যাটারির সুফল আপনি টের পাবেনই।
ভারী ইউসেজে—মানে টানা গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্যামেরা, সোশ্যাল মিডিয়া—সহজেই 8 থেকে 9 ঘণ্টা স্ক্রিন-অন-টাইম (SOT) পাওয়া যায়। এটা কিন্তু ভীষণ ভালো। মানে সকালবেলা চার্জ খুলে বেরিয়ে পড়লেন, সারাদিন নির্ভয়ে ইউজ করলেন, রাতে বাসায় ফিরেও চার্জ দেওয়ার তাড়া নেই—এমন অবস্থা।
চার্জিং স্পিডও দুর্দান্ত। বক্সে 100W-এর চার্জার দেওয়া আছে (ধন্যবাদ Oppo! সবাই তো আর চার্জার দেয় না) । 50W ওয়্যারলেস চার্জিং আর রিভার্স চার্জিংও আছে—আপনার ইয়ারবাড বা বন্ধুর ফোনেও ইমার্জেন্সি চার্জ দিতে পারবেন।
Software & Features
Find X9 Ultra চলে ColorOS-এর ওপরে, Android 16 বেসড (চাইনিজ ভার্সন)। Oppo প্রমিজ করছে 5 বছরের মেজর OS আপডেট আর 6 বছরের সিকিউরিটি প্যাচ। এটা ফ্ল্যাগশিপ ফোনের জন্য এখন স্ট্যান্ডার্ড হয়ে দাঁড়াচ্ছে, খুশির খবর।
কিন্তু এখানেই একটা বিশাল “কিন্তু” আছে। বাংলাদেশে এখন যে ইউনিটগুলো এভেইলেবল, সেগুলো চাইনিজ রম। আর চাইনিজ রম ইউজ করতে গেলে কিছু মাথাব্যথা সহ্য করতে হবে। নোটিফিকেশন লেট আসা, কিছু বাংলা বা ইংরেজি টেক্সট চাইনিজে শো করা, Google সার্ভিসেস নিখুঁতভাবে কাজ না করা—এইসব প্যারার সম্ভাবনা থেকেই যায়। ColorOS নিজে খুব স্টেবল আর ফিচার-রিচ। কিন্তু চাইনিজ ভার্সনের কারণে ছোটখাটো ইরিটেশন হতে পারে।
আমি সাজেস্ট করবো, এত দাম দিয়ে ফোন কিনতে গেলে একটু অপেক্ষা করুন। যদি গ্লোবাল রমের ভার্সন দাম কমে আসে, তাহলে সেটাই কিনুন। গ্লোবাল রমে এই হ্যাপা থাকবে না, আপনি একজন স্যাটিসফাইড ইউজার থাকতে পারবেন। নাহলে দেখা যায়, দামি ফোন কিনেও অনেকে পরে iPhone বা Galaxy S26 Ultra-র মতো মেইনস্ট্রীম ফ্ল্যাগশিপে চলে যায়, কারণ ওগুলোতে ঝামেলা কম আর নির্ভরতা বেশি।
Final Verdict
Oppo Find X9 Ultra নিঃসন্দেহে একটি “আল্ট্রা” ফোন—যেখানে খামতি নেই বলতে গেলে নেই। এর ডিজাইন, ডিসপ্লে, ব্যাটারি লাইফ, আর বিশেষ করে ক্যামেরা সিস্টেম, সবই টপ-টায়ার। 10x অপটিক্যাল জুম আর Hasselblad-এর সাথে কালার টিউনিং একে ফটোগ্রাফির রাজার সিংহাসনের দাবিদার করে তোলে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনার কি এটাই নেওয়া উচিত? যদি আপনি একজন হার্ডকোর ফটোগ্রাফি লাভার হন, আর Vivo ছাড়া অন্য কিছু ট্রাই করতে চান, তাহলে Find X9 Ultra দারুণ অপশন। এটি Vivo-র মতো ওভার-প্রসেসড ছবি দেয় না, বরং একটু ন্যাচারাল লুক ধরে রাখে—যা অনেকে বেশি পছন্দ করবেন।
কিন্তু বর্তমানে চাইনিজ ইউনিটের জন্য unofficially আপনাকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা। 12GB+512GB ভেরিয়েন্টের দাম প্রায় ৳.230,000 (বেস ভেরিয়েন্টও ১ লক্ষ ৪৫ হাজারের কাছাকাছি দামে মিলছে)। এত টাকা খরচ করে চাইনিজ রমের নোটিফিকেশন ইস্যু, ওভারহিটিং, আর ক্যামেরা অ্যাপের ল্যাগ সহ্য করা—আমার মতে বুদ্ধিমানের কাজ না। গ্লোবাল ভার্সনের দাম এখনও আকাশচুম্বী, কিন্তু সময়ের সাথে যদি কমে, তাহলে Find X9 Ultra সত্যিই বিবেচনা করার মতো। আপাতত, যারা শখের বসে ছুটছেন, তারা একটু থামুন। আর যারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে পারেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে বছরের সেরা ক্যামেরা ফোনগুলোর একটি।

