OnePlus Nord CE6 বাজারে এসেছে কিছুদিন হলো, আর চারপাশে এর নিয়ে হইচই কম না। নয়া ডিজাইন, বড় ব্যাটারি, আর 1.5K ডিসপ্লে—সব শুনে মনে হয় দারুণ কিছু হবে। কিন্তু বাস্তবটা কি সেরকম? ফোনটা হাতে নিয়ে টানা কয়েকদিন ইউজ করার পর যেই অনুভূতি হয়েছে, সেটাই আজকে সোজাসাপ্টা বলে দেব। বাজেট ৪০-৪৫ হাজারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে? তাহলে এই রিভিউটি তোমার জন্য।
Design & Build Quality
OnePlus Nord CE6 হাতে নেওয়ার পর প্রথমেই চোখে পড়ে এর রিয়ার প্যানেল। ফ্রস্টেড ফিনিশ দেওয়া প্লাস্টিকের ব্যাক, যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রায় বসেই না। দেখতে অনেকটা প্রিমিয়াম ফোনের মতোই, তবে ম্যাটেরিয়াল প্লাস্টিক, গ্লাস বা মেটাল নয়। তবু ফিলটা একদম সস্তা লাগে না, বরং হালকা হওয়ায় হাতে আরামদায়ক। ফোনের পুরো বডি প্লাস্টিক হলেও ফিনিশিং অনেকটা মসৃণ। গোল্ডেন আওয়ার আলোয় ফ্রস্টেড সারফেসটা দারুণ ঝলমল করে, সামগ্রিকভাবে দেখতে কিউট লাগে।
IP68/IP69 ও মিলিটারি গ্রেডের সার্টিফিকেশন
এই সেগমেন্টে IP68 রেটিং একটু চমকে দেওয়ার মতো। শুধু IP68 না, IP69-ও আছে! অর্থাৎ পানি আর ধুলো থেকে ফোন ভয়ংকরভাবে সুরক্ষিত। জোরে পানির ছিটা, এমনকি গরম পানির স্প্রেও সহ্য করবে (IP69 মানে হাই-প্রেশার ও হাই-টেম্পারেচার ওয়াটার জেট)। সাথে আছে MIL-STD-810H মিলিটারি গ্রেডের সার্টিফিকেশন, যা বলে ফোনটা রাফ-টাফ ইউজে টিকে থাকবে। তবে মিলিটারি সার্টিফিকেশন থাকা মানেই মারামারি করা যাবে না, ভুলেও না। বাস্তব ক্ষেত্রে হাত থেকে পড়ে গেলে স্ক্রিন ভাঙতে পারে; তখন সার্টিফিকেশন বাঁচাবে না। তারপরেও এই দামে এতটা ডিউরেবিলিটি অ্যাসুরেন্স চমৎকার।
সিমেট্রিক্যাল ডিজাইন ও হ্যান্ডলিং
ফোনের ডিসপ্লের চারপাশের বেজেল প্রায় সিমেট্রিক্যাল—সামান্য নিচের দিকটা একটু মোটা, কিন্তু ডেইলি ইউজে টের পাবে না। কর্নারগুলো রাউন্ডেড, অনেকটা ফ্ল্যাগশিপ ফোনের মতো। 6.78-ইঞ্চি বড় ডিসপ্লে হওয়ায় একহাতে সবকিছু করা মুশকিল, তবে কার্ভড এজ না থাকায় গ্রিপ ভালো। বডিতে 3.5mm হেডফোন জ্যাক নেই, খানিকটা অভিমান জাগতেই পারে। অন্যদিকে ফোনের ওজন ব্যাটারির কারণে একটু বেশি (প্রায় ২০৫ গ্রাম), সেটাতে খালি হাতে দীর্ঘক্ষণ ধরে সিনেমা দেখলে হাত ব্যথা হতে পারে।
Display Experience
Nord CE6-এর ডিসপ্লে নিয়ে OnePlus অনেকটা উচ্ছ্বাস দেখিয়েছে—এবং কিছুটা যুক্তিযুক্তও। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে 6.78-ইঞ্চি AMOLED প্যানেল, যার রেজোলিউশন 1.5K (2772 × 1240 পিক্সেল)। সংখ্যাটা শুনে বোঝাই যাচ্ছে ফুল HD+ আর QHD-র মাঝামাঝি, কিন্তু চোখের আরামের জন্য দারুণ ব্যালেন্স। কনটেন্ট কনজিউম করলে বা ছবি দেখলে শার্পনেসের কোনো অভাব হয় না। 1 বিলিয়ন কালার আর HDR10+ সাপোর্ট থাকায় Netflix বা YouTube-এ HDR ভিডিও দেখার এক্সপেরিয়েন্স দারুণ, কালার পপ করে কিন্তু অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড না।
144Hz রিফ্রেশ রেট: বিজ্ঞাপন ও বাস্তবতা
OnePlus দাবি করে এই ডিসপ্লেতে 144Hz পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা একটু অন্যরকম। UI, গ্যালারি, সেটিংসের মধ্যে 120Hz-ই বেশিরভাগ সময় অ্যাক্টিভ থাকে। কিছু নির্দিষ্ট গেম বা অ্যাপ (যেমন, Real Racing বা কিছু বেঞ্চমার্ক অ্যাপ) ছাড়া 144Hz চোখে পড়ে না। 90Hz থেকে 120Hz-এ অটো সুইচিং খুব স্মুথ। গেমিংয়ের সময় যদি 144Hz কাজে লাগতে পারে, তবে সেটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে; কিন্তু দৈনন্দিন স্ক্রলিংয়ে 120Hz আর 144Hz-এর তফাৎ ধরা কঠিন। সুতরাং, 144Hz সংখ্যাটা মার্কেটিং হাইপই বেশি।
PWM ডিমিং ও আউটডোর ভিজিবিলিটি
এই AMOLED প্যানেলের উচ্চ PWM ডিমিং রেট (3840Hz) চোখের জন্য আরামদায়ক। যারা লো ব্রাইটনেসে ফোন ব্যবহার করে, তাদের চোখ কম চাপ পড়বে, ফ্লিকারিং একেবারেই চোখে পড়ে না। প্রয়োজনে 3600 nits পিক ব্রাইটনেসে বাইরের কড়া রোদেও স্ক্রিন পড়া যায়। HBM (High Brightness Mode) যথেষ্ট শক্তিশালী, Nord CE5-এর তুলনায় উজ্জ্বলতা বাড়ানো হয়েছে বোঝা যায়। সরাসরি সূর্যের নিচে হোয়াটসঅ্যাপ চেক বা ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার দেখতে কোনো অসুবিধা হয় না। ডিসপ্লে রেসপন্সিভনেসও চমৎকার, টাচ ল্যাগ প্রায় নেই।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার: পজিশন একটু অসুবিধাজনক
ডিসপ্লের নিচে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দেওয়া আছে। এটি দ্রুত আর অ্যাকিউরেট, টিকটিক করে আনলক হয়। কিন্তু সমস্যা হলো এর পজিশন। স্ক্রিনের একেবারে নিচের দিকে, ডিসপ্লের বর্ডারের খুব কাছাকাছি রাখায় হাতের বুড়ো আঙুল পৌঁছাতে একটু কষ্ট হয়। যাদের হাত ছোট, তারা প্রতিবার ফোন খোলার সময় হাতের অবস্থান একটু বদলাতে পারেন। মাঝখানে বসানো আল্ট্রাসনিক স্ক্যানারের তুলনায় এটি বড়ই অস্বস্তিকর। তবু অভ্যস্ত হয়ে গেলে সমস্যা অনেকটা মিটে যায়।
Performance & Gaming
পারফরম্যান্সের জায়গাটাই Nord CE6 নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছে। ভেতরে Qualcomm-এর সদ্য আনা Snapdragon 7s Gen 4 চিপসেট কাজ করছে। নাম শুনে মনে হতে পারে “Gen 4” মানে বেশ পাওয়ারফুল হবে, কিন্তু আসল কাহিনী অন্য। এই চিপ আসলে Snapdragon 7 সিরিজেরই আন্ডারক্লকড ও কাট-ডাউন সংস্করণ। আগের Nord CE5-তে ব্যবহৃত MediaTek Dimensity 7050 বা অন্যান্য ফোনের তুলনায় কিছু জায়গায় পিছিয়ে।
Snapdragon 7s Gen 4: কেমন পারফর্মার?
প্রসেসিং নোড 4nm, তবু Cortex-A78 আর Cortex-A55 কোরের সমন্বয়ে তৈরি এই SoC (System on Chip) পাওয়ার এফিশিয়েন্সিতে ভালো, কিন্তু গ্রাফিক্স আর পিক প্রসেসিং পাওয়ারে দুর্বল। সঙ্গে 8GB LPDDR4X RAM (কিছু রিজিয়নে 12GB ভার্সনও আছে) এবং UFS 3.1 স্টোরেজ। বাস্তব জীবনে UI মোটামুটি স্মুথ—OxygenOS 16-এর অপটিমাইজেশন ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ভালো রাখে। ফোন ফাস্ট না, কিন্তু ল্যাগ করে না। অ্যাপ খোলা-বন্ধ করা, ব্রাউজিং, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং—সবকিছুই আরামে হয়।
দৈনন্দিন ব্যবহার ও মাল্টিটাস্কিং
আমার অবজারভেশনে, ১৫-২০টা অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে ইউজ করলেও র্যাম ম্যানেজমেন্ট খারাপ না। ফ্রি-ফায়ার বা কল অফ ডিউটি মোবাইলের মতো গেম মাঝে খেলে মাঝারি সেটিংসে ঠিকই চলে, তবে অসাধারণ কিছু না। গরমের দিনে একটানা ১ ঘণ্টা ইউটিউব দেখে সাথে WhatsApp করলেও ফোন খুব বেশি গরম হয় না। এইটুকু ঠিকই মানিয়ে নেয়। যারা সারাদিন অফিস অ্যাপ, ক্লাস নোট, আর বিনোদনের জন্য ফোন ব্যবহার করে, তাদের জন্য এটা একটা বিশ্বস্ত পার্টনার হতে পারে।
গেমিং হিটিং ও ফ্রেম ড্রপ সমস্যা
কিন্তু গেমারদের বলছি—এই ফোন একেবারেই নয়। Genshin Impact-এ হাই গ্রাফিক্স সেটিংসে ৩০ মিনিটের মাথায় ফ্রেমরেট 45 FPS-এ নেমে আসে, আর চিপের তাপমাত্রা ছাড়ায় 42°C। ফোন ধরে খেলতে বেশ অস্বস্তি হয়। PUBG/BGMI-তে Smooth+Extreme সেটিংসে 40 FPS-এর কাছাকাছি থাকে, কিন্তু তাপমাত্রা 38-40°C ঘোরাফেরা করে। আউটডোরে গেলে অবস্থা আরও খারাপ। কুলার ছাড়া দীর্ঘ সময় গেমিং করা কষ্টকর। রেকর্ডিং চালু করলে ফ্রেম ড্রপ আরও স্পষ্ট হয়। আশা করেছিলাম OnePlus সফটওয়্যার আপডেট দিয়ে এই হিটিং ঠিক করবে, কিন্তু এখনো তেমন কোনো ইম্প্রুভমেন্ট চোখে পড়েনি। গেমিংকে প্রায়োরিটি দিলে একই বাজেটে Poco X6 Pro বা Realme GT 6T খোঁজাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
স্টোরেজ ও কানেক্টিভিটি: ব্লুটুথ 5.2 পিছিয়ে
একটা অদ্ভুত বিষয়—ফোনটিতে ব্লুটুথ 5.2 ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ ২০২৪-এ ব্লুটুথ 5.3 বা 5.4 স্ট্যান্ডার্ড হওয়া উচিত। কিছু নয়া TWS ইয়ারবাড বা স্মার্টওয়াচের সাথে কানেক্টিভিটি ইস্যু হয়তো নাও হতে পারে, কিন্তু প্রুফ-ফিউচারিংয়ের অভাবে ভবিষ্যতে কিছু সমস্যা বাঁধতে পারে। Wi-Fi 6 থাকায় ব্রাউজিংয়ে গতি ঠিকই আছে। নেটওয়ার্ক রিসেপশন স্থিতিশীল, কল কোয়ালিটি স্পষ্ট। ডুয়েল সিম 5G সাপোর্টও মাথায় রাখা যায়।
Camera System
এবার আসি সবচেয়ে বিতর্কিত জায়গায়—ক্যামেরা। Nord CE6-তে পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ, বাস্তবে যার মধ্যে কাজের ক্যামেরা একটি—50MP Sony IMX896 (প্রোবেবলি) সেন্সর, OIS সহ। বাকিটা 2MP ডেপ্থ বা অক্সিলিয়ারি সেন্সর, যা ফটোতে সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখে না। আর ফ্রন্টে 32MP সেলফি ক্যামেরা।
50MP OIS ক্যামেরা: দারুণ কিন্তু...
মেন ক্যামেরাটি সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। দিনের আলোয় তোলা ছবিগুলো ভাইব্রেন্ট, শার্প, আর ডায়নামিক রেঞ্জ ভালো। OIS থাকায় হাত কাঁপলেও শাটার স্পিড কিছুটা ধীরগতি নিতে পারে, ফলে লো-লাইটে ভালো রেজাল্ট আসে। সফটওয়্যার প্রসেসিং ন্যাচারাল টোন বজায় রাখে, চায়নিজ ফোনের মতো অতিরিক্ত বিউটিফাই বা স্যাচুরেশন বাড়ায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি আপলোড দেওয়ার জন্য ছবি দারুণ। দিনের বেলা রংগুলো চোখ জুড়ায়, স্কিন টোন ন্যাচারাল।
আল্ট্রাওয়াইড নেই, টেলিফোটো নেই: বড় ক্ষতি
এই দামে একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা অনুপস্থিত থাকা মেনে নেওয়া কঠিন। Nord CE5-তে অন্তত একটি 8MP আল্ট্রাওয়াইড ছিল। এখানে তা বাদ দেওয়ায় অনেক ফোটোগ্রাফি অপশন বন্ধ। গ্রুপ ফটো, ল্যান্ডস্কেপ, আর্কিটেকচার—সবেতেই আল্ট্রাওয়াইডের প্রয়োজন হয়। ডিজিটাল জুম করে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ইমিটেট করা গেলেও কোয়ালিটি খারাপ। টেলিফোটো না থাকাটা মানা গেলেও আল্ট্রাওয়াইড না থাকাটা একেবারেই অযৌক্তিক। ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের জন্য বড় ধাক্কা।
লো-লাইট ও পোর্ট্রেট পারফরম্যান্স
রাতে কিংবা লো-লাইটে ছবি তোলার সময় নয়েজ কিছুটা বাড়ে এবং একটু গ্রেইন আসে। তবে OIS-এর কল্যাণে ডিটেইল ধরে রাখার চেষ্টা করে, তবে অনেক সময় নয়েজ কমানোর সফটওয়্যার ছবিগুলোকে একটু সফট করে ফেলে। নাইট মোড ব্যবহার করলে ব্রাইটনেস বাড়ে কিন্তু শার্পনেস কমে। পোর্ট্রেট মোডে দুটি ফোকাল লেন্থ দেওয়া আছে (1x ও 2x), কিন্তু 2x ছবি ডিজিটাল জুম করে নেওয়া হয়। ফলে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার ঠিক থাকলেও সাবজেক্টের ধার কিছুটা সফট হয়ে যায়, চুলের ডিটেইল নষ্ট হয়। বড় ডিসপ্লেতে জুম করে দেখলে ভুল ধরা পড়ে।
সেলফি ক্যামেরা: ভালোই, কিন্তু এক্সপোজার ইস্যু
32MP ফ্রন্ট ক্যামেরা সেলফি লাভারদের বেশ আনন্দ দেবে। পর্যাপ্ত আলোতে ছবি শার্প, ডিটেইলযুক্ত, স্কিন টেক্সচার ওভার-প্রসেসিং ছাড়াই সুন্দর থাকে। তবে কিছু কিছু দৃশ্যে এক্সপোজার কন্ট্রোল গোলমাল করে—উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে মুখ অন্ধকার হয়ে যায়, আবার খুব বেশি আলোতে এক্সপোজার ওভার-ব্রাইট দেখায়। বিউটি মোড অফ রেখে তোলা ভালো, তবু সফটওয়্যার কিছুটা স্মুথনিং করে। তবুও দেখতে দারুণ লাগে, বিশেষ করে দিনের আলোয়।
ভিডিও রেকর্ডিং: 4K 30fps, স্ট্যাবিলিটি মোটামুটি
রিয়ার ক্যামেরা 4K 30fps-এ ভিডিও তোলে, 60fps নেই। OIS আর ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলাইজেশন মিলে হাঁটাচলা অবস্থায় ভিডিও বেশ স্টেবল হয়, তবে প্যান করলে এক্সপোজার অ্যাডজাস্টমেন্ট একটু দেরিতে হয়, জায়গায় জায়গায় জিরিং প্রভাব পড়ে। শার্পনেস যথেষ্ট, কিন্তু আল্ট্রাওয়াইড ছাড়া শুধু মেন ক্যামেরায় ভিডিও কাভারেজ সীমিত। ফ্রন্ট ক্যামেরাতেও 4K 30fps সাপোর্ট, মান মোটামুটি, সেলফি ভিডিওতে কিছুটা সফটনেস, তবে ভালো আলোয় সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ঠিকঠাক। মাইক্রোফোনের সাউন্ড কোয়ালিটি স্বাভাবিক।
Battery Life & Charging
এই ফোনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ব্যাটারি। 7500mAh-এর বিশাল সেল। ভাবাই যায় না এত বড় ব্যাটারি এত স্লিম বডিতে কীভাবে রাখল! বাস্তবে এর ব্যাটারি লাইফ দারুণ।
বিশাল 7500mAh ব্যাটারি: দিন দেড়েক আরামে
সকালে ১০০% চার্জ দিয়ে দিন শুরু করলে, সারাদিন ভারী ব্যবহার—অর্থাৎ ২-৩ ঘণ্টা গেমিং, ইউটিউব স্ট্রিমিং, সোশ্যাল মিডিয়া, আর ক্যামেরা—সব মিলিয়েও রাত ১১টায় ৩৫-৪০% ব্যাটারি বেঁচে থাকে। মিডিয়াম ইউজার হলে দেড় দিন খুব সহজেই চলে যাবে। শুধু ওয়াইফাই ও ক্যাজুয়াল ব্রাউজিংয়ে দু’দিনও যেতে পারে। এটা সত্যিই রিলিফ দেওয়ার মতো; পাওয়ার ব্যাংকের চিন্তা প্রায় ভুলে যাওয়া যায়।
80W SUPERVOOC চার্জিং: গতি কেমন?
বক্সেই 80W চার্জার দেওয়া আছে। বিশাল ব্যাটারি হওয়ায় 0-100% চার্জ হতে লাগে প্রায় ৫৫-৬০ মিনিট। ৩০ মিনিটে ৫০% এর বেশি হয়ে যায়। ফাস্ট চার্জিং এভাবেও যথেষ্ট আরামদায়ক। ওয়ারলেস চার্জিং বা রিভার্স চার্জিং এখানে আশা করাই বোকামি। তবু ব্যাটারি লাইফ আর চার্জিং স্পিডের কম্বিনেশন রোজকার জীবনে বড় সুবিধা দেয়।
Software & Features
Nord CE6 চলে OxygenOS 16-তে, যা Android 16-এর ওপর বেস করা। এটা গ্লোবাল ভার্সন, অর্থাৎ চাইনিজ UI-র মতো ব্লোটওয়্যার বা নোটিফিকেশন ডিলে-র ঝামেলা নেই। ইউজার ইন্টারফেস খুব ক্লিন, ফ্লুইড, এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের বালাই নেই। OnePlus-এর সেই পুরনো “স্টক-লাইক অ্যান্ড্রয়েড” ফিল এখনো বজায়, যা অনেকের কাছেই বড় কারণ।
OxygenOS 16: ক্লিন, স্মুথ, গ্লোবাল সুবিধা
আমি নিজে কয়েক ঘণ্টা ধরে টানা স্ক্রল করেও কোনো স্টাটার বা অ্যাপ ক্র্যাশ পাইনি। অ্যানিমেশন সুন্দর, ট্রানজিশন ফাস্ট। ফোল্ডার খোলা, রিসেন্ট অ্যাপ মেনু—সব জায়গায় স্মুথনেস ধরে রাখে। গ্লোবাল রম হওয়ায় Widevine L1 সাপোর্ট সহ Netflix HD চলে। ডিসপ্লের গ্রিন লাইন ইস্যু এই মডেলে এখনো শোনা যায়নি, আশা করি বড় কোনো সমস্যা হবে না।
স্টেরিও স্পিকার ও হ্যাপটিক ফিডব্যাক
Nord CE5-এ স্টেরিও স্পিকার ছিল না, CE6-এ সেটি ইউনিক আপগ্রেড। সাউন্ড মোটামুটি লাউড, ক্ল্যারিটি আছে তবে অতি উচ্চ ভলিউমে ডিস্টরশন আসে। সিনেমা বা গান শোনার জন্য হেডফোন ইউজ করাই ভালো। হ্যাপটিক ফিডব্যাক যথেষ্ট টাইট ও স্ট্রং; কিবোর্ড টাইপ করার সময় ছোট ছোট ভাইব্রেশন দারুণ সন্তুষ্টি দেয়।
সংযোগ ও অন্যান্য: কোন অডিও জ্যাক নেই
3.5mm জ্যাক বাদ, যা অনেকের কাছে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। টাইপ-সি ইয়ারফোন বা অ্যাডাপ্টার কিনতে হবে। NFC, IR ব্লাস্টার নেই। সিকিউরিটির জন্য ফেস আনলক আছে, তবে তা শুধু ক্যামেরা-বেসড, নিরাপদ নয়। OnePlus-এর অ্যালার্ট স্লাইডারও বাদ, যা Nord সিরিজের দীর্ঘদিনের পরিচিতি। এত কিছু ফিচার সরিয়ে ফোনটিকে বেশ ‘ব্যাসিক’ রাখা হয়েছে, যেন শুধু ব্যাটারি আর OIS ক্যামেরাই সেলিং পয়েন্ট।
Final Verdict
OnePlus Nord CE6 আসলে একটা মিক্সড ব্যাগ। ব্যাটারি লাইফ অসাধারণ, মেইন ক্যামেরার ইমেজ কোয়ালিটি দারুণ, আর OxygenOS-এর ক্লিন এক্সপেরিয়েন্স চমৎকার। ডিজাইনও দেখতে সুদর্শন, আর IP68/IP69 রেটিং বোনাস। কিন্তু গেমিং পারফরম্যান্স, ব্লুটুথ 5.2-এর মতো পুরনো স্ট্যান্ডার্ড, আর আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরার অনুপস্থিতি—এই দামে একে সুপারিশ করা কঠিন করে তোলে।
এখন কথা হলো OnePlus Nord CE6 price in Bangladesh টা। বর্তমানে এটি ৪২,০০০ টাকায় (8GB+128GB) বিক্রি হচ্ছে। এই দামে আপনি পাচ্ছেন একটি ফোন যাতে আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা নেই, গেমিং ঠিকঠাক না, আর ব্যাটারি ছাড়া তেমন কোনো কিলার ফিচার নেই। পাশের টেবিলে রাখা Realme GT 6T বা Poco F6 প্রায় একই দামে অনেক বেশি পারফরম্যান্স, ভালো ক্যামেরা সেটআপ আর ফিউচার-প্রুফ কানেক্টিভিটি দেয়।
সত্যি বলতে, ফোনটি খারাপ নয়; বরং দামের সাথে এর জাস্টিফিকেশন মেলানো কঠিন। যদি দাম ৩৫,০০০-৩৮,০০০ টাকার মধ্যে নেমে আসে, তাহলে যারা একান্তই OnePlus-এর সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স আর দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ চান, তাদের জন্য ক্রয়যোগ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু যারা ক্যামেরা ভ্যারাইটি, গেমিং বা ওভারঅল ভ্যালু খোঁজেন, তাদের বলব—এই বাজেটে অন্যদিকে চোখ ফেরানোই ভালো। দামটা কমুক, তারপর চিন্তা করা যাবে!

